খাতুনে জান্নাত, উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার জীবনী মুবারক ৪
উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনারপবিত্র সাদী মুবারক
বিবাহের প্রস্তাব
ব্যবসা সংক্রান্ত সাফল্য ও বহু চারিত্রিক গুণাবলীর জন্য হযরত কুবরা ত্বাহিরা আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শুধু ব্যবসার অংশীদার নয়, জীবনসঙ্গী হিসেবেও কল্পনা করতে থাকেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নাফিসা নামের একজন দাসী ছিলেন। তিনি এই বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনে উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি তাকে উদ্বুদ্ধ করেন। মধ্যস্থতা ও আলোচকের ভূমিকায় ছিলেন নাফিসা বিনতে মানিয়া ও আমর ইবনে আসাদ।বসরায় উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি যে বাণিজ্য কাফেলা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তত্ত্বাবধানে গিয়েছিল তাতে জিনিসপত্রের ক্রয়-বিক্রয়ে প্রচুর মুনাফা হয়েছিল। উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে কমিশন দিয়েছিলেন, তা অন্যদের দেয়া কমিশনের চার গুণ, যদিও নিজে স্বীকার করেছিলেন অন্যদের যা পারিশ্রমিক দিবেন তা হতে দ্বিগুণ দিবেন।
বসরা হতে বাণিজ্য কাফেলা ফিরে আসার তিন মাস পর উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পিতৃব্য আমর ইবনে আসাদের মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে বিবাহের প্রস্তাব করেন। প্রথম দিকে নীরবতার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
এক রাতে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আলাইহাস সালাম তিনি স্বপ্নে দেখেন যে, সূর্য একটি আলোর পিণ্ডরূপে উনার গৃহে পতিত হয়। এ আলোতে সমগ্র পবিত্র মক্কা শরীফ আলোকিত হয়ে উঠে। এ স্বপ্নের ব্যাখ্যার জন্য তিনি স্বপ্নের তাবিরবীদগণের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, কোনো আলোকসম্পন্ন ব্যক্তির সঙ্গে উনার শুভ পরিণয় ঘটবে।
এ মধুর স্বপ্ন দেখার পরদিনই তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পুনরায় বিবাহের প্রস্তাব প্রেরণ করেন। এ প্রস্তাবে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উল্লেখ করেন যে, আমি দাম্পত্য সম্পর্কে আবদ্ধ হতে চাই এ কারণে যে, আপনি আমার বংশগত আত্মীয়, আপনার পারিবারিক ঐতিহ্য, ব্যক্তিগত বিশ্বস্ততা, আন্তরিকতা, সংযত স্বভাব, সত্যবাদিতা ইত্যাদি সকলেরই শ্রদ্ধা উৎপাদন করে।
প্রথমে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বভাবসূলভ লজ্জাবশত বিবাহে অনিচ্ছুক ছিলেন। তবে বার বার প্রস্তাব আসায় তিনি উনার পিতৃব্য আবূ তালিব ও বংশের বর্ষীয়ানদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সকলেই হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার প্রস্তাবকে একটি সৌভাগ্যের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করেন।
মুবারক বিবাহ
বিবাহের জন্য নির্ধারিত দিনে আবূ তালিব স্বীয় ভাই হযরত হামযা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুসহ হাশিমী গোত্রের নেতৃস্থানীয়দের নিয়ে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বাড়িতে গমন করেন। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বয়স মুবারক ছিল ২৫ বছর। বিবাহ মুবারক অনুষ্ঠিত হয় আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের ১৫ বছর পূর্বে।একদিকে উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন তৎকালীন আরবের শ্রেষ্ঠা মহিলা। অন্যদিকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় কুরাইশ সরদার হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস্ সালাম উনার আদরের দৌহিত্র এবং স্বীয় গুণাবলীর জন্য পবিত্র মক্কা শরীফ উনার শ্রেষ্ঠ যুবক হিসেবে পরিগণিত।
উম্মুল মু’মিনীন হযরত আলাইহাস সালাম উনার বাড়িতে বিবাহ সম্পাদিত হওয়ার পর সমবেত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হয়ে পিতৃব্য আবূ তালিব খুৎবা দান করেন। এই খুৎবায় তিনি বলেন, সমস্ত প্রশংসা সেই মহান প্রতিপালকের যিনি আমাদেরকে উনার নবী হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার বংশে সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদেরকে দিয়েছেন এক পবিত্র ভূমি। আমাদেরকে করেছেন বিশ্বের পবিত্রতম ঘরের সংরক্ষক ও খাদিম এবং মানুষের মধ্যে বিবাদ-বিসংবাদের মীমাংসাকারী।
আমার ভ্রাতুষ্পুত্র নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিও উনার প্রতি অনুগত। আমি উনাদের পরস্পরকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে দিচ্ছি। আমি আরো ঘোষণা করছি যে, এ বিবাহের মোহর যা-ই হবে তা আমি আদায় করে দিব। আমি ঘোষণা করছি, মহান আল্লাহ তায়ালার কসম! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের বংশে সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান।
এ বিবাহ সম্পাদনকালে উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার অভিভাবক ছিলেন উনার পিতৃব্য আমর ইবনে আসাদ। এ বিবাহের মোহরানা নির্ধারিত হয় ৫০০ দিরহাম। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং উনার বিশটি উট বিক্রয় করে এ বিবাহের মোহরানা আদায় করেন।


No comments