Header Ads

Islamic Quotes Urdu Facebook Cover. QuotesGram

আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খলীফা মনোনীত হওয়ার সঠিক ইতিহাস



আমীরুল মু’মিনীন আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যে দ্বিতীয় খলীফা তা সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেই সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা রয়েছে।


যেমন সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,


اِنَّ حَضْرَتْ اَبَا بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَـــلِـىْ مِنۢ بَعْدِىْ ثُـمَّ حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنۢ بَعْدِهٖ ثُـمَّ حَضْرَتْ عُثْمَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنۢ بَعْدِهٖ ثُـمَّ حَضْرَتْ عَلِـــىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنۢ بَعْدِهٖ.
আমার মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর প্রথমে খলীফা হবেন ছিদ্দীক্বে আকবর সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি, অতঃপর ফারূক্বে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি, তারপর হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি, অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। (গুনিয়াতুত ত্বলিবীন ১/১৫৯, মাকতুবাত শরীফ)


তাই খলীফাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ছিদ্দীক্বে আকবর সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি যখন খুব অসুস্থ তখন তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান যূন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে ডেকে বললেন, আপনি লিখুন আমার পরে আমি খলীফা মনোনীত করলাম.....।


এই কথা বলে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত যূন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি নিজেই সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক সংযোগ করে বাক্যটি পূর্ণ করলেন। যেহেতু সম্মানিত হাদীছ শরীফ-এ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার পর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি খলীফা হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক লিখেছেন। সুবহানাল্লাহ!


অতঃপর যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার হুঁশ ফিরলো, তখন তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যূন নূরাঈন আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, আপনি কি লিখেছেন, তা আমাকে পাঠ করে শুনান। তখন হযরত যুন নূরাঈন আলাইহসি সালাম তিনি পাঠ করে শুনালেন, “আমি ছিদ্দীক্বে আকবর সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব ইবনে কুহাফা আলাইহিস সালাম আমার পরে খলীফা মনোনীত করলাম ফারূক্বে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহি সালাম উনাকে।”


তা শুনে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি খুব খুশি হলেন এবং বললেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত যূন নূরাঈন আলাইহিস সালাম! আপনি আমার মনের কথাটাই লিখেছেন। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি দু’হাত মুবারক তুলে মুনাজাত করেন, “আয় বারে ইলাহী মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন! আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে মুসলমানদের খলীফা মনোনীত করে গেলাম। আমি এক্ষেত্রে মুসলমানদের কল্যাণ ও উন্নয়ন ছাড়া অন্য কোনো ইচ্ছা পোষণ করিনি। আপনিই এই বিষয়ে সর্বাধিক জ্ঞাত রয়েছেন যে, আমি সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তিকে মুসলমানদের খলীফা মনোনীত করে গেলাম। আমি আমার সাধ্যমত পরিপূর্ণ কোশেশ করে গেলাম। তা সত্ত্বেও আমি মুসলমানদের সমস্ত কিছু আপনার হাতে সোপর্দ করে গেলাম। হে আমার রব! আপনি গায়বী ব্যাপারে সর্বজ্ঞ। আমি এই মুহূর্তে ইহজগত থেকে পরজগতে পাড়ি জমাচ্ছি। তাই ফারূক্বে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম উনার কোনো সাহায্যে থাকতে পারলাম না। আয় বারে ইলাহী! সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি আপনারই আখাচ্ছুল খাছ মাহবূব বান্দা; আপনি উনার হাকীম এবং অভিভাবকও আপনি। আপনি উনার অসীম যোগ্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান, উনি যে খুলাফায়ে রাশিদীন আল মাহদিইয়িনের অন্যতম সেই বিষয়টিরও বহিঃপ্রকাশ ঘটান। উনি যেন নূরে মুজাসসম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার পরবর্তী নেককার উম্মতগণের পদাঙ্ক মুবারক অনুসরণ করে চলেন।
আয় বারে ইলাহী! আপনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার অধীনস্থদের পরিচালনার কাজকে সঠিক ও নির্ভুল করুন এবং উনার পরিণতি শুভ ও সুখময় করুন।” (ইযালাতুল খফা)


মুনাজাত শেষে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উনার ওসিয়তনামাকে মোহরাঙ্কিত করেন এবং তার অনুলিপি বিভিন্ন এলাকায় প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্তগণ উনাদের নিকট পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। অতঃপর তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহসি সালাম উনাকে ডাকলেন এবং উনাকে অবহিত করলেন যে, তিনি উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের উপর খলীফা মনোনীত করে গেলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি আরয করলেন, হে খলীফাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আমাকে এ দায়িত্ব দিবেন না। কারণ খিলাফত মুবারক উনার আমার কোনোই প্রয়োজন নেই। সাইয়িদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি জবাবে বললেন, কিন্তু আপনাকে সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার প্রয়োজন রয়েছে। (ইযালাতুল খফা)


এখান থেকে এই বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা কেউই সম্মানিত খিলাফত মুবারক প্রত্যাশী ছিলেন না; বরং সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার উনাদের প্রয়োজন ছিলো এবং মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের সম্মানিত নির্দেশ মুবারক ছিলো যেন উনারা খলীফা হন, তাই উনারা খলীফা হয়েছেন। তাহলে কি করে বলা যেতে পারে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা গণতন্ত্র করেছেন, ভোট-নির্বাচন করেছেন এবং ভোট-নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে খলীফা নির্বাচিত হয়েছেন। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!


অথচ কিছু মূর্খ লোক রয়েছে যারা উনাদের সম্মানিত শান মুবারক-এ এরূপ মিথ্যা তোহমত দিয়ে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! মূলত, এই সমস্ত বক্তব্য পেশ করা কাট্টা কুফরী ও চিরজাহান্নামী হওয়ার কারণ। কেননা একমাত্র কাফিররাই উনাদের প্রতি মিথ্যা তোহমত দিয়ে থাকে, উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে।


যেমন, এই প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

لِيَغِيْظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ
অর্থঃ “একমাত্র কাফিররাই উনাদের (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের) প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে।” (সম্মানিত সূরা ফাতহ শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ২৯)


সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
حُبُّ حَضْرَتْ أَبِىْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَحَضْرَتْ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَامُ إِيمَانٌ وَبُغْضُهُمَا كُفْرٌ.
সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর¡ আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহসি সালাম উনাদের প্রতি মুহব্বত হচ্ছে ঈমান আর উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা হচ্ছে কুফরী।” (ফাদ্বায়িলুছ ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম লি আহমদ ইবনে হাম্বল)


তারীখুল খুলাফাতে এসেছে, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম উনাকে ডেকে বলেছেন, লিখুন, “বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। এ ওসীয়তনামা সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ইবনে আবূ কুহাফা আলাইহিস সালাম তিনি দুনিয়ার অন্তিম মুহূর্তে এবং পরপারে যাওয়ার প্রাক্কালে লিপিবদ্ধ করেছেন, যখন কাফিরেরা ঈমানদার, দুশ্চরিত্রতা চরিত্রবান এবং মিথ্যাবাদীরা সত্যবাদী হচ্ছে। হে লোক সকল! নিশ্চয়ই আমি আমার পর ফারূক্বে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনাকে আপনাদের জন্য খলীফা মনোনীত করলাম। আপনারা উনার কথা শুনবেন এবং উনার ইতায়াত তথা অনুসরণ-অনুকরণ করবেন। আর আমি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার খিদমতে নিজের ও আপনাদের ব্যাপারে ত্রুটি করেনি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি অবশ্যই ইনসাফ করবেন।” (তারীখুল খুলাফা ৬৩ নং পৃষ্ঠা)


হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ মুহীউদ্দীন আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব “গুণিয়াতুত্ব ত্বালিবীন”-এ উল্লেখ করেন, স্বয়ং প্রথম খলীফা ছিদ্দীক্বে আকবর সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি ফারূক্বে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনাকে খলীফা মনোনীত করেন। অতঃপর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার হাত মুবারকে সম্মানিত খিলাফত উনার বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে উনাকে ‘আমীরুল মু’মিনীন’ লক্বব মুবারকে সম্বোধন করেন। সুবহানাল্লাহ!


হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকব আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে খলীফা মনোনীত করার পর কেহ কেহ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম! আপনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার জালালী তবিয়ত মুবারক উনার কথা জানা সত্ত্বেও যে উনাকে খলীফা মনোনীত করলেন, কাল ক্বিয়ামতে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কি জবাব দিবেন? তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমি জবাব দিবো যে, আয় বারে ইলাহী! আমি আপনার মাহবুব বান্দা উনাদের মধ্যে দুনিয়ার যমীনে যিনি সর্বোত্তম ছিলেন উনাকে খলীফা মনোনীত করেছিলাম।” সুবহানাল্লাহ! (গুনিয়াতুত ত্বালিবীন ১ম খণ্ড ১৬০ পৃষ্ঠা)


No comments

ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য।

  ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য। ডাল খাওয়ার ফলে কলব প্রসারিত হয় এবং চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়। পূর্ববর্তী হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উ...

Powered by Blogger.