Header Ads

Islamic Quotes Urdu Facebook Cover. QuotesGram

সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পূত-পবিত্র জবান মুবারক-এ সম্মানিত না’ত শরীফ পাঠ


সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি স্বয়ং নিজে উনার, উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার, উনার মহাসম্মানিত দাদাজান সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার সমস্ত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলের সম্মানিত শান মুবারক-এ বেমেছাল প্রশংসামূলক একখানা সম্মানিত বিশেষ ‘না’ত শরীফ পাঠ’ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আর এই ‘সম্মানিত বিশেষ না’ত শরীফখানা’ ১০ম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল হাওই লিল ফাতাওই ফিল ফিক্বহি ওয়া ‘উলূমিত তাফসীরি ওয়াল হাদীছি ওয়াল উছূলি ওয়ান নাহওই ওয়াল ই’রাবি ওয়া সায়িরিল ফুনূন শরীফ’ উনার ২য় খ-ের ২২১ পৃষ্ঠায় এবং অপর বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘মাসালিকুল হুনাফা ফী হুকমি ঈমানি ওয়ালিদাইল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার ৩৭ পৃষ্ঠায়, ইমাম মুহম্মদ ইবনে ইঊসুফ ছালিহী শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ : ৯৪২ হিজরী শরীফ) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সীরাতি খইরিল ইবাদ ওয়া যিকরি ফাদ্বায়িলিহী ওয়া আ’লামি নুবুওওয়াতিহী ওয়া আফ‘আলিহী ওয়া আহ্ওয়ালিহী ফিল মাবদা’ ওয়াল মা‘আদ শরীফ’ উনার ১ম খ-ের ২৪৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও ‘সিমতুন নুজূমসহ’ আরো অন্যান্য কিতাবেও এসেছে। ‘সিমতুন নুজূম’ গ্রন্থকার তিনি উক্ত কিতাব উনার ১ম খ-ের ২৯৮ পৃষ্ঠায় বলেন,
وَمِنْ شِعْرِ سَيِّـدِنَـا حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ وَالِدِ نَـبِـيِّـنَـا عَلَيْهِ الصَّلـٰوةُ وَالسَّلَامُ نَقَلَهُ الصَّفَدِىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِـىْ تَرْجَـمَتِهٖ وَذَكَرَهٗ خَاتـِمَةُ الْـحُفَّاظُ جَلَالُ الـدِّيْـنِ السُّيُوْطِىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِـىْ كِتَابِهٖ مَسَالِكِ الْـحُنَفَا فِـىْ حُكْمِ اِيْـمَانِ وَالِدَىِ الْمُصْطَفـٰى قَوْلُهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ
অর্থ: “আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত জবান মুবারক-এ পাঠকৃত একখানা ‘সম্মানিত শে’র বা না’ত শরীফ’ ইমাম ছফাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘তরজমাতে’ এবং খাতিমুল হুফ্ফায হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘মাসালিকুল হুনাফা ফী হুকমি ঈমানি ওয়ালিদাইল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
উক্ত সম্মানিত না’ত শরীফখানা হচ্ছেন,
لَقَدْ حَكَمَ السَّارُّوْنَ فِـىْ كُلِّ بَلْدَةٍ ۢ...بِاَنَّ لَنَا فَضْلًا عَلـٰى سَادَةِ الْاَرْضِ
وَاِنَّ اَبِـىْ ذُو الْمَجْدِ وَالسُّؤْدَدِ الَّذِىْ ...يُشَارُ بِهٖ مَا بَيْنَ نَشْزٍ اِلـٰى خَفْضِ
وَجَدِّىْ وَاٰبَاءٌ لَّهٗ اَثَّلُوا الْعُلَا ...قَدِيـْمًاۢ بِطِيْبِ الْعِرْقِ وَالْـحَسَبِ الْمَحْضِ
অর্থ: “অবশ্যই অবশ্যই আমরা বেমেছাল প্রফুল্লতার সাথে, অত্যন্ত খুশির সাথে, সীমাহীন সম্মানিত শান-শওক্বত ইতমিনান মুবারক উনার সাথে প্রতিটি শহর, নগর, গ্রাম, স্থান, জনপদে শাসনকার্য পরিচালনা করেছি। কেননা আমাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হচ্ছে সারা পৃথিবীর, সারা কায়িনাতের সকল সর্দার, নের্তৃত্বশীল ও নেতা, আমীর-উমারা, রাজা-বাদশাহ, সুলতান সকলের উপরে আর বাতিনীভাবে ওলী, কুতুব, গাউস, নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলের উপরে। সুবহানাল্লাহ!
নিশ্চয়ই আমার মহাসম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন সীমাহীন মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক ও সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক উনার অধিকারী। উনার সম্মানিত ইশারা-ইঙ্গিত মুবারক-এ, নির্দেশ মুবারক-এ পরিচালিত হয় উঁচু থেকে নিচু (সম্মানিত আরশে আযীম থেকে তাহ্তাছ ছারা পর্যন্ত) এতোদুভয়ের মাঝে (সারা কায়িনাতে) যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছু। সুবহানাল্লাহ!
আর আমার মহাসম্মানিত দাদা সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম (হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত) যাঁরা অতীত হয়েছেন উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন (যাহিরী-বাত্বিনী সর্বদিক থেকে) সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী। উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন বংশীয় শ্রেষ্ঠত্ব ও বংশীয় পবিত্রতার দিক থেকে অবিনশ্বর। অর্থাৎ উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন এতো সর্বশ্রেষ্ঠ ও পূত-পবিত্র বংশ মুবারক উনার অধিকারী এবং পূত-পবিত্র চরিত্র মুবারক উনার অধিকারী যে, উনাদের কারো মধ্যে কোনো প্রকার অপবিত্রার স্পর্শ পর্যন্ত লাগেনি। সুবহানাল্লাহ! (কেননা উনাদের মাঝে সরাসরি নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা মূল অজুদ মুবারক তিনি সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেছিলেন।)” সুবহানাল্লাহ! (‘আল হাওই শরীফ ২/২২১, মাসালিকুল হুনাফা ২৫ পৃষ্ঠা, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/২৪৭, সুমতুন নুজূম ১/২৯৮)
শাব্দিক অর্থ মুবারক : لَقَدْ حَكَمَ অবশ্য অবশ্যই শাসন করেছেন, اَلسَّارُّوْنَ প্রফুল্লকারীগণ, খুশি প্রকাশকারীগণ, আনন্দকারীগণ, فِىْ মধ্যেكُلّপ্রত্যেক, بَلْدَةٍ শহর, নগর, গ্রাম, স্থান, জনপদ, لَنَا আমাদের জন্য, فَضْلًا শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক, عَلـٰى উপর, سَادَةِ নেতাগণ, প্রভাব বিস্তারকারীগণ, নের্তৃত্বশীলগণ, সর্দারগণ। اَلْأَرْضِ পৃথিবী, কায়িনাত, وَ আর, اِنَّ নিশ্চয়ই, اَبِـىْ আমার সম্মানিত পিতা, ذُوْ অধিকারী, اَلْمَجْدِ মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক, اَلسُّؤْدَد সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক, اَلَّذِىْ যিনি, يُشَارُ ইশারা প্রাপ্ত হয়, ইঙ্গিত প্রাপ্ত হয়, আদৃষ্ট হয়, بِهٖ উনার দ্বারা, مَا যা, بَيْنَ মাঝে, نَشْزٍ উঁচু জায়গা, اِلـٰى দিকে, থেকে, خَفْضٍ নীচুস্থান, جَدِّىْ আমার দাদা, اٰبَاءٌ পূর্বপুরুষগণ, اَثَّلُوْا উনারা সম্পদশালী হয়েছিলেন, ধনী হয়েছিলেন, اَلْعُلَا সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ قَدِيـْمًا অবিনশ্বর, চিরন্তন, চিরস্থায়ী لَهٗ উনার জন্য, طِيْبٌ সুগন্ধ, সুরভী, সুবাস, শ্রেষ্ঠত্ব, الْعِرْقِ শিকড়, মূল, বংশ, বংশমূল, اَلْـحَسَبِ নসব, বংশ, اَلْمَحْض খাঁটি, নির্ভেজাল, খাঁটি বংশীয়, পবিত্র বংশীয়।
এই সম্মানিত না’ত শরীফ উনার মাধ্যমে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি স্বয়ং নিজে উনার, উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার, উনার মহাসম্মানিত দাদাজান সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার সমস্ত মহাসম্মানিত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
 তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন যে,
بِاَنَّ لَنَا فَضْلًا عَلـٰى سَادَةِ الْاَرْضِ
কেননা আমাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হচ্ছেন সারা পৃথিবীর, সারা কায়িনাতের সকল সর্দার, নের্তৃত্বশীল ও নেতা, আমীর-উমারা, রাজা-বাদশাহ, সুলতান সকলের উপরে আর বাতিনীভাবে ওলী, কুতুব, গাউস, নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলের উপরে।” সুবহানাল্লাহ!
 সেটাই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عَـلِـىٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ شَجَرَةُ النُّبُوَّةِ وَمَعْدِنُ الرِّسَالَـةِ لَيْسَ اَحَدٌ مِّنَ الْـخَلَائِقِ يَفْضُلُ اَهْلَ بَيْـتِـىْ غَيْرِىْ.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার সম্মানিত বৃক্ষ মুবারক অর্থাৎ মূল এবং সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার সম্মানিত খনি মুবারক অর্থাৎ মুল। সমগ্র সৃষ্টি জগতে আমি ব্যতীত আর কেউ আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার অধিকারী নেই। অর্থাৎ সমগ্র সৃষ্টি জগতের মাঝে আমার পর পরই আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক।” সুবহানাল্লাহ!
অর্থাৎ মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক ও সম্মানিত রিসালাত মুবারকসহ সমস্ত কিছু থেকে পবিত্র, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! উনাদের কারণেই সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, সমস্ত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা, সম্মানিত রহমত মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারকসহ সমস্ত কিছুই ফযীলতপ্রাপ্ত হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
এ কারণেই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানজুল ‘উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি)
_____________________________________________________________________
৩ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৩৯ হিজরী
২৬ রবি’, ১৩৮৫ শামসি
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ঈসায়ী
ইয়াওমুল আহাদ্‌ (রোববার)


No comments

ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য।

  ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য। ডাল খাওয়ার ফলে কলব প্রসারিত হয় এবং চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়। পূর্ববর্তী হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উ...

Powered by Blogger.