Header Ads

Islamic Quotes Urdu Facebook Cover. QuotesGram

সাইয়্যিদু উইলদে আদম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দীদার স্বপ্নযোগে লাভ আওলাদে রসূলকে মুহব্বত করার কারণে



عن عبد الله ابن مسعود رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال من رأنى فى المنام فقد رأنى فان الشيطان لا يتمثل بى.
অর্থ:- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেছেন, “যে আমাকে স্বপ্নে দেখেছে, সে প্রকৃত পক্ষে আমাকেই দেখেছে। কেননা শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না।” (তিরমিযী শরীফ)
জাগ্রত অবস্থায় যিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দর্শন লাভ তাদের পক্ষে আশা করা যায়, যারা বেশী বেশী দরূদ শরীফ পাঠ করে, পরিপূর্ণ সুন্নতের আমল করেন এবং রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আওলাদে রসূল উনার মুহব্বতে সবকিছু বিসর্জন দেন।
হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে- আল্লাহর পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,
ان اولادى كسفينة نوح من دخلها فقد نجا.
অর্থ:- নিশ্চয়ই আমার আওলাদগণ হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম উনার কিস্তির ন্যায় যে তাতে প্রবেশ (আরোহণ) করেছে, সে নাযাত বা মৃক্তি পেয়েছে। অর্থাৎ যাঁরা আল্লাহ পাক উনার রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আল আওলাদ বা বংশধরগণকে তাযীম-তাকরীম করবে, মুহব্বত করবে তারা নাযাত পাবে।
এ প্রসঙ্গে আনোয়ারুল আরেফিন নামক কিতাবে হযরত রবী বিন সুলায়মান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন যে, আমি একদা হজ্জ যাত্রীদের সাথে হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। যখন আমরা কুফা নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন প্রত্যেকেই প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ক্রয় করার জন্য বাজরে গেলাম। হঠাৎ বাাজারের পাশে একটি জঙ্গল আমার দৃস্টিগোচরে আসলো সেখানে মৃত একটি খচ্চর পড়ে আছে, আর একজন মহিলা জীর্ণ-শীর্ণ, টুটা-ফাটা কাপড় পরিহিতা অবস্থায় চাকু দিয়ে খচ্চরের গোশত কেটে কেটে তার থলিতে রাখছে। তখন আমার সন্দেহ হলো যে, এ মহিলাটি মৃত জন্তুর গোশত নিয়ে বাজরে বিক্রি করে কিনা? তা দেখার জন্য আমি অতি সংগোপনে তার পিছে পিছে যেতে লাগলাম। কিছুদূরর যাওয়ার পর মহিলাটি একটি বাড়ির দরজার করা নাড়ল, তখন জীর্ণ-শীর্ণ, টুটা-ফাটা কাপড় পরিহিতা ফুটফুটে চারটি মেয়ে দরজা খুলে দিল। তাদেরকে দেখে মনে হলো উনারা শরীফ বংশের লোক। মহিলাটি ঘরে প্রবেশ করে ক্রন্দনরত অবস্থায় তাদেরকে বললেন, এ গোশতগুলো পাক কর এবং আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় কর।
আমি এই হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখে অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে সেই  মহিলাকে ডাক দিয়ে বললাম হে আল্লাহর বান্দীরা, আপনাদের এ হারাম গোশত খওয়ার পিছনে কি কারণ রয়েছে? এর জবাবে মহিলাটি পর্দার আড়াল থেকে বললেন, “হে অপরিচিত ব্যক্তি! আপনর হয়তো জানা নেই, আমরা হলাম আওলাদে রসূল। আমাদেরকে যিনি রক্ষণাবেক্ষণ করতেন এই মেয়েদের পিতা, তিনি গত তিন বছর পূর্বে ইন্তেকাল করেছেন। তখন হতে আমাদের কোন সাহায্যকারী নেই। পরিত্যক্ত সম্পদ যা ছিল, তাা শেষ হয়ে গেছে। আমাদের জানা আছে যে, মৃত জন্তুর গোশত খাওয়া জায়িয নেই। কিন্তু আমরা আজ তিন দিন যাবত না খেয়ে রয়েছি, এখন আমাদের জন্যে মৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া মুবাহ।
হযরত রবী বিন সুলায়মান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, “আমি সম্মানিতা আওলাদে রসূলের এই হৃদয় বিদারক ও দুঃখজনক ঘটনা শুনে কাঁদতে লাগলাম এবং বাজারে গিয়ে উনাদের জন্য কাপড়-চেপড় এবং খাবার কিনে নিয়ে আসলাম। আর ছয়শত দিরহাম উনাদেরকে হাদিয়া স্বরূপ দান করলাম। যদিও এর কারণে আমার হজ্জে যাওয়ার টাকা-পয়সা শেস হয়ে গেল।
আর এগুলো পেয়ে উনারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। মহিলাটি দোয়া করলেন, হে আল্লাহ পাক, রবী বিন সুলায়মান উনার আগের এবং পরের সমস্ত গুণাহ মাফ করুন এবং উনাকে জান্নাত নছীব করুন।
বড় মেয়েটি দোয়া করলেন, হে আল্লাহ পাক! উনার গুণাহমাফ করে দ্বিগুণ সাওয়াব দান করুন।
দ্বিতীয় মেয়েটি দোয়া করলেন, হে আল্লাহ পাক! সে যা দান করেছে, তার চেয়ে বেশি দান করুন উনাকে।
তৃতীয় মেয়েটি দোয়া করলেন, হে আল্লাহ পাক! উনাকে আমাদের নানা রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে একত্রিত হওয়ার তাওফিক দান করুন। এবং সবশেষে ছোট মেয়েটি বললেন, হে আল্লাহ পাক! যে আমাদের প্রতি ইহসান করেছে, উনাকে অচিরেই উত্তম জায়গা দান করুন।
অত:পর আমি কুফাতে এসে দেখলাম হাজীদের কাফিলা হজ্জের উদ্দেশ্যে চলে গিয়েছে। তখন আমি সেখানেই রয়ে গেলাম। আর হজ্জে যাওয়ার সমস্ত টাকা আওলাদে রসূল উনার মুহব্বতে দান করে দিলাম, এটা উত্তম হলো নাকি হজ্জ করলে উত্তম হতো সে ব্যাপারে আমি দ্বিধাদ্বন্দে ভগতে লাগলাম। যথাসময়ে .... প্রত্যাবর্তনের সময় হয়ে আসল। তাদের ........ দোয়া নেয়ার জন্য আমি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে .................
হাজীদের কাফিলা পর্যায়ক্রমে .. মার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমি তাদেরকে মুবারকবাদ দিচ্ছিলাম। আর তারা প্রত্যেকেই আমাকে দেখে অবাক হয়ে বলছিলেন কেন। আমরা আপনাকে তো আরাফাতের ময়দানে, মুযদালিফায়, মিনাতে, মদীনা শরীফে, হজ্জের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখেছি বিশেস করে একজন হাজী বললেন, “আপনি রওজা শরীপে জিয়ারত করর পর বাবে জিব্রাঈল থেকে বের হওয়ার সময় হাজীদের ভীড়ের কারণে আমার কাছে আমানত স্বরূপ এই থলেটি রেখেছিলেন। এখন আপনার থলেটি আপনি গ্রহণ করুন।উক্ত হাজী সাহেব এমনভাবে বললেন যে, থলেটি আমাকে গ্রহণ করতেই হলো। আর আমি গ্রহণ করে মনে মনে চিন্তা করলাম এটি আল্লাহর দান ব্যতীত আর কিছুই নয়। কারণ ইতিপূর্বে এ থলেটি আর কখনো দেখিনি। অত:পর আমি বাড়ীতে এসে রাত্রে ঘুমিয়ে পড়লাম, ঘুমিয়ে স্বপ্নযোগে রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দর্শন লাভ করলে সালাম দিয়ে উনার হস্ত মুবারক চুম্বন করলাম। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হেসে বললেন, হে রবী! তুমি যে হজ্জ করেছ তা মেনে নিতে আশ্চর্য্যবোধ করছ? এজন্য আমি আর কতজন সাক্ষী পেশ করব যে, তুমি হজ্জ করেছে? জবাবে আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি তো এ বছর হজ্জ করিনি, বরং হজ্জে যাওয়ার পথে আপনার আওলাদের অন্তর্ভুক্ত এক অসহায় পরিবারকে আমার ছয়শত দিরহাম হাদিয়া দিয়ে এসেছি।
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যখন তুমি তাদেরকে হজ্জের সমস্ত সামানা দিয়ে হজ্জে যাওয়া মূলতবী রাখলে, আর তারা তোমার জন্য দোয়া করলেন, তখন আমি আল্লাহ পাক উনার নিকট ফরিয়াদ করলাম, যেন আল্লাহ পাক তোমাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করেন। আমার দোয়ার কারণে আল্লাহ পাক তোমার আকৃতিতে একজন ফেরেশতা সৃষ্টি করলেন, যেন সে ফেরেশতা তোমার পক্ষ হয়ে, তোমার আকৃতিতে ক্বিয়ামত পর্যন্ত প্রতি বছর হজ্জ করেন, আর তার সাওয়াব তোমার আমলনামায় পৌঁছতে থাকে। আর উক্ত থলিতে আল্লাহ পক তোমাকে তোমার ছয়শত (৬০০) স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে দিলেন। যেন তোমার মন শান্তি থাকে।
অত:পর রাউফুর রাহিম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই বাক্যটি উচ্চারণ করলেন, “যে আমাদের সাথে ব্যবসা করে সে লাভবান হয়।
আল্লাহ পাক আমাদের সকলের অন্তকরণে আওলাদে রসূলগণকে খাছ মুহব্বত করার তাওফিক দান করুন। (আমীন)


No comments

ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য।

  ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য। ডাল খাওয়ার ফলে কলব প্রসারিত হয় এবং চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়। পূর্ববর্তী হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উ...

Powered by Blogger.