Header Ads

Islamic Quotes Urdu Facebook Cover. QuotesGram

রাজারবাগ শরীফঃ যুগশ্রেষ্ঠ ওলী-আল্লাহর দরবার শরীফ


রাজারবাগ দরবার শরীফ হল আল্লাহ পাক উনার এক মহান ওলীর দরবার। 
কি হয় সেখানে?à 
-
সেখানে আল্লাহ পাকের ইবাদত বন্দেগী করা হয়, অন্তর থেকে ইবাদত বন্দেগী করার শিক্ষা দেওয়া হয়। 
 কে শিক্ষা দেন?à 
-
যামানার যিনি লক্ষস্থল ওলীআল্লাহ, তিনি সেখানে আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত, মারিফত শিক্ষা দেন; আদব শিক্ষা দেন। শরীয়তের আদেশ নির্দেশও শিক্ষা দেন। 
মানুষ কেন উনার দরবার শরীফে যায়?à 
-
সূরা ফাতিহাতে আল্লাহ পাক দোয়া করতে বলেন, “আয় বারে ইলাহী! আপনি আমাদেরকে সঠিক পথ দান করুন। এবং ঐ সমস্ত মনোনীত বান্দাগণের পথ দান করুন, যাদেরকে আপনি নিয়ামত দান করেছেন। ওলী-আল্লাহগণ হচ্ছেন সেই নিয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তি। তাই সিরাতাল মুস্তাকীমের সন্ধান পেতে মানুষ উনার দরবার শরীফে যায়। 
রাজারবাগী পীর সাহেব কিবলার এতো বিরোধিতাকারী কেন?à 
-
রাজারবাগী পীর সাহেব কিবলা আলাইহিস সালাম আল্লাহ পাক উনার ওলী বা বন্ধু। তিনি শুধু আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির জন্যই কথা বলেন, কাজ করেন, অন্য কারও মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে নয়। সেটা করতে গিয়ে অনেক ফতোয়া দিতে হয় যা দুনিয়ালোভী মৌলভীদের বিরুদ্ধে চলে যায়, ফলে তারা রাজারবাগের মহান মুর্শিদ কিবলার বিরোধিতা করে থাকে। 
রাজারবাগী পীর সাহেব কিবলা যে হক্ব এবং দুনিয়ালোভী নন, তার প্রমাণ কি?à 
-
মূলত যারা উলামায়ে ছূ, তারা দ্বীনকে বিক্রি করে দুনিয়া ক্রয় করে। যেমনঃ দুনিয়ালোভী মৌলভীরা অর্থের লোভে খেলাধুলাকে জায়িজ বলে, বেপর্দা হয়, গণতন্ত্র করে, ছবি তোলে। অথচ, ছবি তোলা হারাম। ছবি তুললে টিভিতে প্রোগ্রাম করে অনেক টাকা কামানো যায়, কিন্তু রাজারবাগী পীর সাহেব কিবলা আলাইহিস সালাম সামান্য কটা টাকার জন্য দ্বীনকে বিক্রি করেন নি, আল্লাহ পাকের আদেশের খেলাপ করেন নি। আবার, নেত্রীকে খুশি করতে গিয়ে নিজামী, সাঈদীর মত বেপর্দাও হন নি। আর টাকার লোভে, এমপি-মন্ত্রী হওয়ার বাসনায় হারাম গণতন্ত্রে মিশেও যান নি। মূলত এটাই হচ্ছে ওলী-আল্লাহদের খাছলত যে উনারা আল্লাহ পাকের অসন্তুষ্টির কাজ ভুলেও করেন না। আর সেটাই হচ্ছে উনার বিরুদ্ধে দুশমনির কারণ।
আচ্ছা ভারতীয় উপমহাদেশে পীর সাহেবেরা কেন শক্ত স্থান দখল করে ছিল?Ø 
-
অনেকে ভারতীয় উপমহাদেশে পীর-মুরিদি বেশি দেখতে পান। কিন্তু এর কারণ আছে। ইসলাম মূলত ভারতীয় উপমহাদেশে ইলিয়াস সাহেবের তাবলীগী করেও আসে নি, আবার মওদূদী-নিজামী-সাঈদীর রগ কাটা বাহিনীর জালাও পোড়াও করেও আসে নি। ইসলাম এদিকে এসেছে ওলী-আল্লাহদের হাত ধরে, পীর-মাশায়িখদের, সূফী-দরবেশদের হাত ধরে এসেছে। তাই আল্লাহর ওলীদের মাজার শরীফ বিভিন্ন স্থানেই চোখে পড়ে যায়, সুবহানাল্লাহ। ইসলাম যাদের মাধ্যমে এসেছে, যাদের মাধ্যমে কাফিরেরা কুফরী ছেড়ে দিয়ে মুসলমান হল, তাদের দেখানো পথেই তো মানুষ সিরাতাল মুস্তাকীমের পথ খুজবে, সেটাই কি স্বাভাবিক নয়! 

 কিন্তু, তার মানে কি এই যে, শুধু ভারতীয় উপমহাদেশেই পীর আছে, সারা পৃথিবীতে আর কোথাও পীর নেই?Ø 
-
আচ্ছা, ইসলামের ইতিহাস কি একটু শুনাতে পারবেন? সারা পৃথিবীতে ইসলামের ভ্রমণের ইতিহাস কি বলতে পারবেন? ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস খুব বেশি দীর্ঘকাল ছিল না। আর ইসলামের বয়সও তুলনামূলক খুব বেশি নয়। আরব মহাদেশ ছাড়িয়ে ইসলামকে সুদৃঢ়ভাবে শুধু স্পেনেই দেখতে পাওয়া যায়, যেটাও অবহেলায় মুসলমানেরা হারিয়েছে। যখন এক দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আরেক সীমানায় ইসলামের আবির্ভাব ঘটেছে, সেখানে ইসলাম পায়ে হেটে যায় নি। বরং সেখানে ইসলাম অবশ্যই কোন একজন ওলী-আল্লাহর হাত ধরেই নতুন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে। কখনও যুদ্ধের মধ্য দিয়ে, কখনও শুধু তালীম-তালকিনের মধ্য দিয়েই ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শুধু কুরআন শরীফ তো বাজারেই পাওয়া সম্ভব, তাহলে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য কেন ব্যক্তি বিশেষের প্রয়োজন? মূলত, কিতাবে ইলম পাওয়া যায়, কিন্তু পীর মাশায়িখেরা ইলমের নূর বহন করেন। তাই যুগে যুগে ইসলাম পীর-মাশায়িখদের মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়েছে। আর মুসলমান জগতে নক্ষত্রের উদাহরণ দিতে গেলে, কোন ব্যক্তির নাম বলা সম্ভব যিনি পীর বা মুরীদ ছিলেন না! মূলত হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম, হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমামে আযম আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত জুননুন মিছরি রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতি রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি কে পীর ছিলেন না! উনাদের সকলের অবস্থান তো ভারতীয় উপমহাদেশে ছিল না। মূলত পীর-মুরিদি তো ব্যবসা নয়। মুরীদকে পীর সাহেব ইসলামের নূর শিক্ষা দেন, অন্তর ইছলাহ করার তালিম দেন। আরব দেশ থেকে যে রাস্তা ধরে ইসলামের যাত্রা চলেছে সে রাস্তা পীর সাহেবদের হাতেই গড়ে ওঠা। আর সে রাস্তাগুলো যেসব এলাকা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, সেখানে স্পেনের মত দুরবস্থা বরণ করে নিতে হয়েছে। বর্তমান মুসলিম সমাজের করুণ পরিণতির জন্য সেই সূফী-দরবেশদের অনুপস্থিতি মূলত দায়ী। আর সমাজের দোষ হল, তারা ইসলামের ধারক-বাহক সেই সূফী-দরবেশদের সম্মান দিচ্ছে না। 

 সাধারণ মানুষের কি পীর শব্দের সাথে এলার্জি আছে, নাকি রাজারবাগের পীর সাহেবের সাথে বিরোধ আছে?Ø 
-
সাধারণ মানুষ তো সাধারণ। তারা স্রোতের সাথে মিলে থাকে। স্রোত যেদিকে তারাও সেদিকে চলে। তাই সাধারণ মানুষকে দোষ দেওয়ার কিছু নাই। সাধারণ মানুষ রাজারবাগী পীর সাহেবের বিরোধিতা করবে কোন দুঃখে। যদি সাধারণ মানুষের সাথে দ্বন্দ্ব থেকেই থাকে তবে সেটা পীর শব্দের সাথে। পীর শব্দ শুনলে বেশি নয়, কয়েক যুগ পূর্বেও সাধারণ মানুষেরা ভক্তি করত, শ্রদ্ধা করত। কিন্তু কি যেন একটা হল, পীর শব্দের সাথে হঠাত করেই এলার্জি ছড়িয়ে পড়ল। 

 কিন্তু পীর শব্দের সাথে কেন এই এলার্জি?Ø 
- পীর শব্দের সাথে এলার্জি হওয়ার পেছনে চারটি কারণ রয়েছে। মূলত এই এলারজি কৃত্রিম। দুই শ্রেণী এই এলারজি তৈরীর জন্য দায়ী। 
১) ওহাবী-খারিজি (যারা ওলী-আল্লাহ বিরোধী গোমরাহ) 
২) কাফিরদের প্রচারিত মিডিয়া 
আরেকটি কারণ রয়েছে- সেটা হল 
৩) ওলী-আল্লাহর অপ্রতুলতা ও নিষ্ক্রিয়তা 
৪) কিছু ভন্ড পীরের আবির্ভাব। 
ওহাবী-খারিজি-আহলে হাদিছ এই সব গোমরাহ বাতিল ফিরকা মূলত কাফিরদের ষড়যন্ত্রের অবৈধ সন্তান। নতুবা ইসলামের ধারক-বাহক ওলী-আল্লাহ, পীর, গাউছ, কুতুবদের সাথে কি করে এরা দুশমনি করতে পারে! এরা সাধারণ মুসলিম সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করছে। আরেকটি সমস্যা হল সাধারণ মানুষের মধ্যে ফাসিক-ফুজ্জারের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা নাটক-সিনেমা দ্বারা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত। হয়তবা কথাটি খারাপ শুনায়, কিন্তু এটাই বাস্তব। আর নাটক-সিনেমাতে পীর সাহেবদেরকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। মহান ওলীয়ে মুর্শিদদেরকে অসম্মানের সাথে নাটক-বিজ্ঞাপনে তুলে ধরা হচ্ছে। তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও এভাবেই সূফী-দরবেশদের ব্যাপারে সামাজিক এলার্জির কৃত্রিম বিষ তৈরী করা হয়েছে। আর এই এলারজি নতুন মাত্রা পেয়েছে ভন্ড নামধারী পীরদের কারণে। যেমনঃ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পরিপূর্ণ সুন্নতের অনুসারী ছিলেন এবং গান-বাজনা,বেপর্দা এবং মূর্তির বিপক্ষে ছিলেন।এবং ভারতীয় উপমহাদের ইসলামের আবাদ করেন।কিন্তু উনার মাযার শরীফে এখন উনার কথা বলে গান-বাজনা,বেপর্দা হয়ে থাকে। অনেক পীর মারিফতের ধুয়া তুললেও শরীয়তের নির্দেশ মানে না, তারাই মূলত ভন্ড। তবে ভন্ডদের ভন্ডামী তুলনা দিয়ে হক্বের বিরোধিতা করা নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

পীর শব্দের অর্থ কি?Ø 
-
পীর শব্দটি ফার্সি। শব্দগতভাবে এর অর্থ হল জ্ঞানবৃদ্ধ। পারিভাষিক অর্থে যিনি আল্লাহ পাককে পাইয়ে দেবার ক্ষেত্রে বা আল্লাহ পাক এর সাথে রূহানী সংযোগ করে দেয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ, উনাকেই পীর সাহেব বলা হয়। কুরআন শরীফ ও হাদিছ শরীফে যাদের আউলিয়া, মুর্শিদ ও শায়খ বলা হয়েছে, ফার্সিতে তাদের পীর সাহেব বলা হয়। 

 ফার্সি ভাষার শব্দ 'পীর' কেন বাংলায় ব্যবহার হচ্ছে?Ø 
- পাক ভারতে ইসলামের প্রচার-প্রসার তথা স্থানীয় বিধর্মীদের মুসলমান হওয়ার ক্ষেত্রে ফার্সি ভাষাভাষি আউলিয়ায়ে কিরামদের ভূমিকাই মুখ্য। যে কারণে এ স্থানে মুসলমানদের বন্দিগী জীবনে ফার্সির অনেক পরিভাষাই ব্যবহৃত হয়। আরবী সালাত, সাওম এর পরিবর্তে যেরূপ ফার্সি নামায, রোযা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাই পীর শব্দের সাথে এলার্জি থাকার আর কোন কারণ দেখছি না। 

 এবার তাহলে পীর সাহেবদের প্রসঙ্গে আসি। দ্বীন ইসলামে পীর সাহেবদের কেন প্রয়োজন?Ø 
-
কুরআন শরীফে আল্লাহ পাক বলেন, “প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য হাদী বা হেদায়েতকারী রয়েছে।” (সূরা রাদ-৭) 
এখন মানুষদেরকে হেদায়েত করার যুগে যুগে নবী রসূল আলাইহিমুস সালামগণ প্রেরিত হয়েছিলেন। কিন্তু নবী রসূল আসার পথ তো বন্ধ হয়ে গেছে। তাহলে কি হাদীগণেরও আসার পথ বন্ধ হয়ে গেছে? না, বন্ধ হয় নি; নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে যুগে যুগে আউলিয়া কিরামগণই হাদী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত রাখবেন। আর সেই আউলিয়া কিরাম, ওলী-আল্লাহগণকেই উনার মুরীদদের নিকট পীর সাহেব বলা হয়। 
 

 আচ্ছা, তাহলে যে কেউই কি পীর সাহেব দাবী করে অন্যদেরকে মুরীদ করতে পারে?Ø 
- জি না। নিজেই ওলী-আল্লাহর দরজায় না পৌঁছতে পারলে অপরকে ওলী-আল্লাহ হওয়ার পথ দেখাবে কি করে! কেউ যদি এরূপ করে, তবে সেক্ষেত্রে সে ভন্ড, প্রতারক, মুনাফিক। আর আপনি বা ভন্ডামীর জালে জড়াবেন কেন? 
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা কিরূপ লোক থেকে দ্বীন (ইলম বা নছীহত) গ্রহণ করছো, তা ভালরূপে লক্ষ্য করো।” (মুসলিম, তিরমিযী, মিশকাত শরীফ ) । 
যিনি হক্কানী পীর ছাহেব হবেন, উনাকে অবশ্যই আলিম হতে হবে। অর্থাৎ ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাসাউফ-এর অধিকারী হতে হবে এবং সে অনুযায়ী আমলও থাকতে হবে। যার তার হাতে বাইয়াত হওয়া যাবে না। 

 তাহলে পীর সাহেবের কি কি বিষয় দেখে বাইয়াত হতে হবে?Ø 
- বাইয়াত হওয়ার পূর্বে যে বিষয়গুলো তাহক্বীক বা যাচাই-বাছাই করতে হবে সেগুলো হলো, 
(
১) যার কাছে বাইয়াত হবে তিনি কোন হক্কানী পীর ছাহেবের তরফ থেকে খিলাফতপ্রাপ্ত কিনা। 
(
২) আক্বীদা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুরূপ কিনা। 
(
৩) আমলের দিক থেকে সুন্নতের পাবন্দ কিনা। 
(
৪) ইলমের দিক থেকে এতটুকু ইলমের অধিকারী কিনা- যার দ্বারা নিজেকে এবং অধীনস্থ মুরীদদেরকে বিদয়াত-বেশরা তথা কুফরী- শেরেকী থেকে ফিরিয়ে হক্ব মতে-পথে দায়িম-কায়িম রাখতে পারেন। 
মুরীদ হওয়ার পরে কোন প্রকার চু-চেরা, কিল ও কাল অর্থাৎ কোন বিষয়ে কি, কেন বলতে পারবে না। বিনা প্রশ্নে সব বিষয় মেনে নিতে হবে। কেননা, মুরীদ তাছাউফের রাস্তায় নাবালক, আর পীর সাহেব সে পথের দিশারী। তবে হ্যাঁ, কোন বিষয় বুঝে না আসলে আদবের সহিত জিজ্ঞাসা করে জেনে নিবে। মনে রাখতে হবে, বেয়াদব আল্লাহ পাকের রহমত থেকে বঞ্চিত। 

অনেক কিছুই জানলাম, তাছাউফ সম্পর্কে আরও অনেক কিছুই জানব ইনশাআল্লাহ। কিন্তু এবার রাজারবাগ শরীফের প্রসঙ্গে আসি। রাজারবাগ শরীফ কোথায় অবস্থিত?à 
-
মালিবাগ মোড়ে নেমে দক্ষিণ-পূর্ব দিকের রাস্তা ধরে ২-৩ মিনিট হাটলেই রাজারবাগ পুলিশ লাইন ৩ নং গেট চোখে পড়বে। ঠিক তার বিপরীত পাশেই রাজারবাগ শরীফ অবস্থিত (সুবহানাল্লাহ)। ঠিকানা হচ্ছে- ৫, আউটার সারকুলার রোড, রাজারবাগ, ঢাকা -১২১৭, বাংলাদেশ। অন্য কোন দরবারের মত লোক দেখানো ফুটানিনেই এখানে। আশা করি, (আপাতত) ৫ তলা সম্পন্ন বিল্ডিং মুবারকের সাদামাটা এ দরবার শরীফ দেখে কোন আদরের দুলাল পিছিয়ে যাবেন না। খুব সম্ভবত সেখানে লেখা দেখতে পাবেন 'মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা' 

 আচ্ছা, পূর্বের পোস্টে হক্কানী পীর সাহেবের যে চারটি বিষয় যাচাই এর কথা বলা হল, তা কি রাজারবাগী পীর সাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার রয়েছে?à 
-
প্রথমতঃ তিনি কোন হক্কানী পীর ছাহেবের তরফ থেকে খিলাফতপ্রাপ্ত কিনা? রাজারবাগের পীর সাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম অবশ্যই হক্কানী একজন ওলী-আল্লাহর পক্ষ থেকে খিলাফত প্রাপ্ত। উনার পীর সাহেব ক্বিবলার নাম মুবারক হচ্ছে আলহাজ্জ হযরত মাওলানা শাহ ছূফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম। তিনি যাত্রাবাড়ীর পীর সাহেব নামে মশহুর ছিলেন। 
-
দ্বিতীয়তঃ আক্বীদা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুরূপ কিনা? রাজারবাগী পীর সাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার আক্বীদা সম্পূর্ণরূপে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুরূপ (সুবহানাল্লাহ)। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই। এরপরও যারা বিরোধিতা করে থাকে, তাদেরকে বরাবরই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে যেন প্রকাশ্য ময়দানে বাহাছ করে তারা তাদের ভ্রান্ত বিষয় প্রমাণ করার চেষ্টা করে। আক্বীদার কিছু বিষয় জানতে 
-
তৃতীয়তঃ আমলের দিক থেকে সুন্নতের পাবন্দ কিনা? রাজারবাগের পীর সাহেব আলাইহিস সালাম ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত এমনকি মুস্তাহাব আমলও ছাড়েন না। আবার সামান্য মাকরূহ কাজও উনার দ্বারা হয় না। সুবহানাল্লাহ। উনার সুন্নত অনুসরণ ও সুন্নত পালনের দীক্ষা সত্যি অতুলনীয়। তিনি উনার মুরীদদের এবং সকল মুসলমানকে সুন্নতী টুপি, কোর্তা, লুঙ্গি, পাগরি, রুমাল, মোজা, চিরুনি, বালিশ, সুরমা, পেয়ালা, প্লেট, চাদর, তসবীহ, দস্তরখান ইত্যাদি অসংখ্য সুন্নতী সামগ্রী ব্যবহার করার নির্দেশ দেন (সুবহানাল্লাহ)। যে কেউ স্বশরীরে এসে তার প্রমাণ দেখে নিতে পারে। 
-
চতুর্থতঃ ইলমের দিক থেকে তিনি কি এতটুকু ইলমের অধিকারী কিনা- যার দ্বারা নিজেকে এবং অধীনস্থ মুরীদদেরকে বিদয়াত-বেশরা তথা কুফরী- শেরেকী থেকে ফিরিয়ে হক্ব মতে-পথে দায়িম-কায়িম রাখতে পারেন? রাজারবাগের পীর সাহেব উনার একখানি লক্বব মুবারক হল- ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীকত। তিনি হচ্ছেন শরীয়ত ও তরীকতের ইমাম। এখন ইমাম হওয়ার যোগ্যতা কিন্তু সবাই রাখে না। নিঃসন্দেহে বলা যায়, অবশ্যই রাজারবাগী পীর সাহেব ক্বিবলার সেই পরিমাণ ও তদপেক্ষা অধিক ইলম মুবারক রয়েছে যারা দ্বারা তিনি নিজেকে এবং অধীনস্থ মুরীদদেরকে বিদয়াত-বেশরা তথা কুফরী- শেরেকী থেকে ফিরিয়ে হক্ব মতে-পথে দায়িম-কায়িম রাখতে পারেন (সুবহানাল্লাহ)। অনেকে সন্দেহ পোষণ করে, অনেকে বিরুদ্ধাচরণ করে; তারা কি আদৌ বিষয়টিকে অসাড় প্রমাণ করার বৃথা চেষ্টা করবে! 

 রাজারবাগের পীর সাহেবের নাম মুবারক কি, আর উনার পরিচয় জানতে চাই?à 
-
জি উনার মুবারক পরিচয় সম্পর্কে আল- ইহসান শরীফে যথেষ্ট রয়েছে। লিঙ্ক দিচ্ছি, দেখে নিবেন। 
link:
 আচ্ছা রাজারবাগ দরবার শরীফে কি যে কেউ যেতে পারে? ঢুকতে গেলে টাকা-পয়সা লাগে নাকি? পরিচিত না থাকলে কি সমস্যা হবে? আর সেখানে গিয়ে কিভাবে কি করতে হয়?à 
-
মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীর দরবার শরীফ। অবশ্যই এখানে যে কেউ আল্লাহ পাকের মুহব্বতে আসতে পারে এবং তালিম গ্রহণ করতে পারে। আর টাকা-পয়সা লাগবে কেন!! এখানে তো দুনিয়াবী স্বার্থ নেই। আপনার সাথে পরিচিত কেউ না থাকলেও সমস্যা নেই। রাজারবাগ দরবার শরীফ এর ৫ তলায় মসজিদ মুবারক রয়েছে। আপনি চাইলে যে কোন একদিন ওয়াক্তিয়া নামাজ সেখানে আদায় করে দেখে আসতে পারেন। যেহেতু আল্লাহ পাক উনার ওলীর পবিত্র দরবার শরীফ। তাই আদব রক্ষা করা জরুরী। যদি কিছু বুঝে উঠতে না পারেন, তবে দরবার শরীফের গেট মুবারক দিয়ে ঢোকার পর নিচেই বামপাশে সেখানে আঞ্জুমান অফিস রয়েছে। আপনার কোন কিছু জানার থাকলে বা সাহায্যের প্রয়োজন থাকলে সেখানে দায়িত্বরত ব্যক্তির কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন। আশা করছি, বিপত্তির কোন আশংকা নেই। তবে অনুরোধ করছি, না জানলে প্রশ্ন করবেন, কিন্তু বেয়াদবী করবেন না।

রাজারবাগ দরবার শরীফে নাকি মহিলারা যাতায়াত করে। তাহলে রাজারবাগের পীর সাহেব আলাইহিস সালাম কি মহিলাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করেন?Ø 
- প্রথমেই বলছি, ইসলামটা হচ্ছে পুরুষ ও মহিলা সকলের জন্য নির্ধারিত। এখন ফরজ ইলম পুরুষকেও হাছিল করতে হবে, মহিলাদেরও হাছিল করতে হবে। তাহলে মহিলারা কার কাছে হাছিল করবে? মহিলারা তো পুরুষের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবে না। কিন্তু মহিলারা যাতে ইলম হাছিল করতে পারে, সেজন্য রাজারবাগের পীর সাহেব উনার সম্মানিতা স্ত্রী আলাইহাস সালাম তিনি মহিলাদের সরাসরিভাবে নিয়মিত তালিম দিয়ে থাকেন। আর সেজন্যই পর্দানশীন মহিলারা তালিম নিতে দরবার শরীফ যেয়ে থাকেন। জেনে খুশি হবেন যে, রাজারবাগী পীর সাহেব আলাইহিস সালাম কোন বেগানা মহিলাকে সাক্ষাৎ দেন না। তবে পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পর্দার অন্তরালে মহিলারা রাজারবাগের পীর সাহেবের ওয়াজ-নছীহত মুবারক শুনতে পারেন। আপনারা আপনাদের অধীনস্থ স্ত্রী, মেয়ে বা মাকে অবশ্যই তালিমে নিয়ে আসবেন। 

মহিলাদের তালিমের সময়সূচীঃ 
মাসব্যাপীঃ 
রবিউল আউওয়াল শরীফ ও রমাদ্বান শরীফ- দুপুর ১২ঃ০০-বিকাল৩ঃ০০ টা 
সাপ্তাহিকঃ শুক্রবার- বাদ জুম্মা  থেকে বাদ মাগরিব
সোমবার- বাদ যোহর থেকে আছর
দৈনিকঃ
বিকাল ৩ঃ৪৫-৪ঃ৪৫ মিনিট

 অনেকে তো অনেক কথাই বলে। তাহলে সরাসরি কি রাজারবাগী পীর সাহেবের কথা মুবারক শোনার কোন ব্যবস্থা আছে?Ø 
-
জি অন্যের কথা শুনে কান ভারী করার চেয়ে নিজেই সরাসরি উনার নছীহত শুনে যাচাই করতে পারেন। ভিজিট করুনঃ http://www.al-hikmah.net এছাড়া প্যালটক (http://www.paltalk.com) সফটওয়্যার ডাউনলোড করে All rooms > Asia and Pacific > Bangladesh > Noorun Alaa Noor এই রুমে ঢুকলেও সরাসরি ওয়াজ নছীহত শুনতে পাবেন। 

সরাসরি ওয়াজ-নছীহত মুবারকের সময়সূচীঃ 
শুক্রবার দুপুর ১২:৪৫ থেকে ৩টা 
অন্যান্য সাত দিন দিন- বাদ ইশা প্রায় ১০ঃ৩০ টা  

 আচ্ছা, রাজারবাগ দরবার শরীফে নাকি লাঠিয়াল বাহিনী পাহারা দেয়?Ø 
- লাঠিয়াল বাহিনী!!! কথাটা শুনে খুব হাসি পেয়েছিল। যাই হোক, শোনা কথা বিনা প্রমাণে প্রচার করতে নাই। রাজারবাগ দরবার শরীফে কিছু মুরীদ মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্বে থাকেন যাতে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। তবে উনাদের কারও হাতে আমি এখন পর্যন্ত লাঠি দেখি নি। তবে যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা উদ্দেশ্য না হয়, সেক্ষেত্রে নিরাপত্তার স্বার্থে লাঠিয়াল বাহিনী বা সৈন্য-বাহিনী থাকা মনে হয় না নাজায়িজ হবে। 

আচ্ছা, বান্দা ইবাদত করুক এটাই তো আল্লাহ পাক চান। এখন, কুরআন শরীফেই তো সব বলেই দেওয়াই হয়েছে। তাহলে আর পীর সাহেবের কি দরকার? বাজার থেকে কুরআন শরীফ কিনে নিলেই কি যথেষ্ট নয়?à 
-
জি তা তো বটেই, কুরআন শরীফ এ আল্লাহ পাক বান্দাকে সকল পথ দেখিয়েছেন কিভাবে ইবাদত বন্দেগী করতে হবে আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাছিল করার জন্য। যেমন, আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন- হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ পাক উনাকে ভয় কর এবং ছাদিক্বীন অর্থাৎ সত্যবাদী উনাদের সঙ্গী হয়ে যাও। (সূরা তওবা : আয়াত শরীফ ১১৯)অর্থাৎ শুধু কুরআন শরীফ পড়লেই হবে না, আল্লাহ পাকের ইবাদত করতে হলে ছাদিক্বীনদের সঙ্গী হতে হবে। এখন, একটু চিন্তা করে দেখুন তো- আমি বা আপনি কি সত্যিকার অর্থেই ছাদিক্বীন হতে পেরেছি। তাহলে, এই ছাদিক্বীন কারা? সহজ জবাব হল- ওলী-আল্লাহগণ। তার মানে- আমাদের কুরআন শরীফ পড়তে হবে এবং ছাদিক্বীন ব্যক্তিদের সঙ্গী হতে হবে। 
আচ্ছা, একটু চিন্তা করুন তো। মানুষকে হেদায়েত করার জন্য শুধু কিতাবই যদি যথেষ্ট হত, তাহলে আল্লাহ পাক তো শুধু কিতাব নাযিল করলেই পারতেন। কিন্তু, আল্লাহ পাক যুগে যুগে, গোত্রে গোত্রে নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম পাঠালেন লাখের উপর, অথচ কিতাব নাযিল হল মাত্র ১০৪টি। নিশ্চয় এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক আপনার আমার চেয়ে অসীম জ্ঞান রাখেন, তাই নয় কি? কিতাবে আল্লাহ পাকের আদেশ মুবারক তো রয়েছেই যা মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণকে পাঠিয়েছেন। এখন, নবী-রসূল আসার পথ বন্ধ হয়ে গেছে, এর মানে কি আমরা হেদায়েতের ব্যাপারে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছি। সেটাই যদি হত, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক ছাদিক্বীনদের সঙ্গী হতে বলতেন না। 
আবার দেখুন, আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে কোন কিছুর বর্ণনাই বাকী রাখেন নি। এখন, আমি কুরআন শরীফ বাজার থেকে কিনে পড়তেই পারি। কিন্তু কুরআন শরীফ পড়লেই কি আমি সব কিছু অনুধাবন করতে পারব, আয়ত্ত্ব করতে পারব? আল্লাহ পাক বললেন, “আর তোমাদের তো অল্প জ্ঞান ব্যতীত দেওয়াই হয় নি। ( সূরা বনী ঈসরাইল-৮৫)তাহলে, আমি যদি কুরআন শরীফের মর্ম অনুধাবনে অক্ষম হই, তবে কি আল্লাহ পাকের ইবাদত করা থেকে বঞ্চিত থাকব, আল্লাহ পাক কি সেটাই চান? জি না, সেটা নয়। আল্লাহ পাক অন্যত্র বলেন, “যদি তোমরা না জান, তবে আহলে যিকির বা আল্লাহওয়ালাগণকে জিজ্ঞেস করে জেনে নাও (সূরা নহল ৪৩ ও সূরা আম্বিয়া-৭)। 
আশা করি, কুরআন শরীফ এ স্বয়ং আল্লাহ পাকের নির্দেশ মুবারক পাওয়ার পর কেউ আর আলিম ও আহলে যিকির বা ওলী-আল্লাহগণের নিকট শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলবেন না। 

 আচ্ছা, বুঝলাম যে, না জানলে আলিমগণের কাছে জিজ্ঞাসা করতে হবে। তাহলে তো মসজিদ মাদ্রাসার মাওলানা সাহেবদের কাছ থেকে বিভিন্ন মাসয়ালা জেনে নিতে পারি। পীর সাহেব কেন জরুরী?à 
-
আচ্ছা, আমরা তো জানি যে, সুদ-ঘুষ হারাম, বেগানা মেয়েদের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হারাম, গান-বাজনা খেলাধুলা হারামসেটা কিন্তু মুখস্থ বিদ্যার ন্যায়। কিন্তু বাস্তবে কি আমরা এসব হারাম থেকে বাচতে পারি? যদি না পারি, তবে কেন পারি না। সেটাই আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে বললেন, “যারা আল্লাহ পাকের যিকির থেকে বিরত থাকে, তাদের জন্য একটি শয়তান নিযুক্ত হয়ে যায়। অতঃপর সেই শয়তান তাদের সঙ্গী হয় এবং তাদেরকে সৎ পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে অর্থাৎ পাপ কাজে লিপ্ত করে দেয়। অথচ তারা মনে করে, তারা সৎ পথেই রয়েছে (সূরা যুখরূফ-৩৬,৩৭)মূলত সাধারণ মানুষ হোক আর মাওলানা হোক যদি কেউ আল্লাহ পাকের জিকির থেকে বিরত থাকে তখনই শয়তান তাকে পাপে লিপ্ত করে। তাই তো দেখা যায়, অনেক মাওলানা ও ভন্ড-পীরেরাও হারাম কাজ স্বেচ্ছায় করে বসে। একটা বিষয় হল, জানলেই মানা যায় না। তবে মানার জন্য অবশ্যই জানা দরকার। এখন, না জানলে মাওলানা সাহেবকে জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রেও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা, মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “ঐ ব্যক্তিকে অনুসরণ কর না, যার ক্বলবে আমার যিকির জারি নেই, সে নফসের অনুসরণ করে এবং তার আমলগুলো হয় শরীয়তের খিলাফ (সূরা কাহাফ-২৮) 
এখন, অনেক মাওলানাই পাওয়া যাবে, যারা কিতাবাদি পড়ে হয়ত শরীয়ত (নামায, রোযা, ওযু, গোসল ইত্যাদি বিভিন্ন মাসয়ালা) এর কিছু জ্ঞান অর্জন করেছে। কিন্তু ক্বলবে যিকির না থাকায় অহরহ হারাম কাজ করে থাকে। তাই বাজারে যে দুই-তিনটা লেকচার দেওয়া যে কোন মাওলানাকেই অনুসরণ করা যাবে না। অনুসরণ করতে হবে আহলে যিকিরদের বা ওলী-আল্লাহদের, কেননা উনাদের ক্বলবে ও সমগ্র দেহ মুবারকে সার্বক্ষণিকভাবে যিকির জারী থাকে। সুবহানাল্লাহ
এখন প্রশ্ন হল, পীর সাহেবের দরবার শরীফে কি উদ্দেশ্যে যেতে হয়? আর সেগুলো কি খুব জরুরী?à 
-
জি হক্কানী ওলী-আল্লাহ, পীর সাহেবের দরবার শরীফে বিনা উদ্দেশ্যে যাওয়া হয় না। অবশ্যই এমন কিছু উদ্দেশ্য পূরণে যাওয়া হয়, যা পীর সাহেবের দরবার শরীফ ব্যতীত অন্য কোথাও হাছিল করা দুষ্কর ও অসম্ভব। 

প্রথমতঃ আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি, মুহব্বত, মারিফত হাছিলের উদ্দেশ্যে। আল্লাহ্‌ পাক পবিত্র কালাম পাক-এ ইরশাদ করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ পাককে ভয় করো এবং আল্লাহ পাক-এর নৈকট্য লাভ করার জন্য উসীলা তালাশ (গ্রহণ) করো। (সূরা মায়িদা/৩৫)এ আয়াত শরীফ-এর তাফসীরে বা ব্যাখ্যায় তাফ্‌সীরে রুহুল বয়ানে উল্লেখ আছে যে, “উসীলা ব্যতীত আল্লাহ পাক-এর নৈকট্য লাভ করা যায়না। আর উক্ত উসীলা হচ্ছেন, হাক্বীক্বত ও তরীক্বতপন্থী আলিম বা মাশায়েখগণ অর্থাৎ কামিল মুর্শিদগণ। 

দ্বিতীয়তঃ মুর্শিদ ক্বিবলার নেক ছোহবতের উদ্দেশ্যে, যা সূরা তওবা : আয়াত শরীফ ১১৯ তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

তৃতীয়তঃ রহমত, ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাছিলের উদ্দেশ্যে। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উনার রহমত উনার ওলীগণের নিকটে। (সূরা আরাফ-৫৬) 

চতুর্থতঃ ক্বলবে যিকির জারী করার উদ্দেশ্যে, সূরা যুখরূফ-৩৬,৩৭ ও সূরা কাহাফ-২৮ তে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। 

পঞ্চমতঃ ইখলাছ হাছিল করা ফরয। ইখলাছ ব্যতীত কোন ইবাদতই আল্লাহ পাকের দরবারে কবুল হয় না। আখিরী নবী, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক ঐ আমল কবুল করবেন না যে আমল খালিছভাবে উনার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করা না হয়। (নাসাঈ শরীফ)। ক্বলবী জিকির, নেক ছোহবত, তালিম, খিদমতের মাধ্যম দিয়ে ইখলাছ হাছিল হয়। পীর সাহেবের দরবার শরীফে উপস্থিত হতে হয় ইখলাছ হাছিল করার উদ্দেশ্যে। যে ব্যক্তি ইখলাছের সাথে পীর সাহেবের দরবারে উপস্থিত থাকতে পারে, তার ইবাদত বন্দেগীতেও ইখলাছ হাছিল হয়ে যায়। 

ষষ্ঠতঃ অন্তরের বদ খাছলত যেমনঃ পৃথিবীর মায়া, কামনা-বাসনা, লোভ, নৈরাশ্য, ধৈর্যচ্যুতি, অহংবোধ, হিংসা প্রভৃতি দূর করার উদ্দেশ্যে। 

সপ্তমতঃ অন্তরে নেক খাছলত যেমনঃ তওবা, বিনয়, তাওয়াক্কুল প্রভৃতি হাছিল করার উদ্দেশ্যে। 

অষ্টমতঃ হক্কানী ওলী-আল্লাহ মুর্শিদ উনার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার উদ্দেশ্যে। কেননা, হাদিছ শরীফে রয়েছে, যে ব্যক্তি যাকে মুহব্বত করে, তার হাশর-নশর তার সাথেই হবে। সুবহানাল্লাহ 

নবমতঃ ইলম ও তাক্বওয়া বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে। 

দশমতঃ আক্বীদা ও হুসনে যন বিশুদ্ধ রাখার উদ্দেশ্যে। হাদিছ শরীফে রয়েছে, উত্তম ধারণা উত্তম ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। 

এগারতঃ আদব শিক্ষার উদ্দেশ্যে। হযরত মাওলানা রূমী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, "বেয়াদব আল্লাহ পাক এর রহমত থেকে বঞ্চিত।"(মসনবী শরীফ)আর তাছাউফ সম্পর্কে বলা হয়েছে, “তরীক্বত বা তাছাউফের সবটুকুই আদব। (মাকতুবাত শরীফ, মাদারিজুস সালিকীন)
অনেকে বলে, ইলমে তাছাউফ হাছিল করা নাকি ফরয? এখন ফরয বলে দিলেই তো আর ফরয হয় না। ফরয হওয়ার প্রমাণ ও যুক্তি কি?à 

-
ইলমে তাছাউফ হল আত্মশুদ্ধির পথ। যা কিছু পূর্বে বলা হয়েছে, শুধু এগুলোই নয়, আরও অনেক বিষয় তাছাউফের সাথে জড়িত রয়েছে। 
আর, ইলমে তাছাউফ চর্চার মাধ্যমে কমপক্ষে সুলতানুল আযকার পর্যন্ত জারী করা ফরযে আইন। এখন, প্রশ্ন হতে পারে, ‘সুলতানুল আযকারশব্দ কুরআন শরীফে খুঁজে পেলাম না, সেটা আবার ফরয হল কি করে। জি, সে বিষয়েই আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। 
প্রথমেই বলে নেওয়া জরুরী, ইসলামে মনগড়া কথা চলবে না। কথা বললে প্রমাণ থাকতে হবে। প্রমাণ দিলে অস্বীকার করা যাবে না। তবে যুক্তি থাকলে পেশ করতে পারে। কিন্তু অনেক সময়, গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দেওয়া হলে, সেই প্রমাণটিকেই অনেকে অস্বীকার করে থাকে মনগড়া সিদ্ধান্তে। মূলত, এরা অবিশ্বাসী, অস্বীকারকারীদের মধ্যেই গণ্য হতে চায়। যাই হোক, আলোচনায় ফিরে আসি। যেসব কারণে তাছাউফ চর্চা করা ফরযঃ 

১) ক্বল্‌বী ইলমঃ 
ইলমে তাছাউফ এক প্রকার ইলম যা অর্জন করা ফরয। এ ব্যাপারে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ করেন, প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য (জরুরত আন্দাজ) ইলম অর্জন করা ফরয। (মুসলিম, ইবনে মাজাহ, বায়হাক্বী, মাছাবিহুস সুন্নাহ, মিশকাত, মিরকাত, লুময়াত, তালীকুছ্‌ ছবীহ্‌, শরহুত্‌ ত্বীবী, মোযাহেরে হক্ব, আশয়াতুল লুময়াত) 
এবং হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, “ইলম দুপ্রকার- (১) ক্বল্‌বী ইলম অর্থাৎ ইলমে তাছাউফ। আর এটাই মূলতঃ উপকারী ইলম। (২) যবানী ইলম অর্থাৎ ইলমে ফিক্বাহ্‌, যা আল্লাহ্‌ পাক-এর পক্ষ হতে বান্দার জন্য দলীল। (দারিমী, তারগীব ওয়াত তারহীব, তারীখ, আব্দুল বার, দাইলামী, বায়হাক্বী, মিশকাত, মিরকাত, শরহুত্‌ ত্বীবী, তালীকুছ্‌ ছবীহ্‌, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, মুযাহিরে হক্ব) 


২) ইখলাছঃ 
ইবাদত দুপ্রকার। ক) ইবাদতে যাহিরাহ ও খ) ইবাদতে বাতিনাহ। ইলমে ফিক্বাহ হাছিলের মাধ্যমে বান্দা সঠিক ও পরিপূরণভাবে ইবাদতে যাহিরাহ (অর্থাৎ নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, মুয়ামালাত, মুয়াশিরাত ও আক্বাইদ ইত্যাদি বাহ্যিক ইবাদতসমূহ) পালন করতে পারবে। 
আর, ইলমে তাছাউফ হাছিল করার মাধ্যমে বান্দা (ইবাদতে বাতিনাহ অর্থাৎ নিজ অন্তরসমূহকে ইবাদতে যাহিরাহ বিনষ্টকারী কুস্বভাব বা বদ খাছলত থেকে হেফাযত করে) ইখলাছের সাথে ইবাদতে যাহিরাহ পালন করে মহান আল্লাহ পাকের হাক্বীক্বী মারিফত ও মুহব্বত হাছিল করতে পারবে। 
ইখলাছের বিপরীত বস্তুর নাম হচ্ছে গায়রুল্লাহ। একমাত্র আল্লাহ পাক-এর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য হাছিলের উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে অন্য যে কোন উদ্দেশ্যে আমল করার নাম হচ্ছে গায়রুল্লাহ। অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা একথা সুস্পষ্ট যে, একমাত্র ইখলাছ না থাকার কারণে নামাযী, শহীদ, আলিম, ক্বারী, দানশীল সবাই জাহান্নামে চলে যাবে। আবার, কালামুল্লাহ শরীফে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “ঐ সকল নামাযীদের জন্য হালাক্বী- যারা গাফলতির সহিত নামায আদায় করে এবং ঐ সকল নামাযীদের জন্যও হালাক্বী যারা মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে নামায আদায় করে ইখলাছের সহিত আমল করে না ( সূরা মাউন- ৪, ৬) 
সুতরাং, ইখলাছ হাছিল করা ফরয। আর, ইখলাছ বাহ্যিক ও দৃশ্যমান বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। ইখলাছের সম্পর্ক হচ্ছে অন্তরের সাথে। তাই, ক্বলবী ইলম বা তাছাউফ চর্চা করা ফরয। 


৩) যিকিরঃ 
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “যার ক্বলবে আমার যিকির জারি নেই, সে নফসের অনুসরণ করে এবং তার আমলগুলো হয় শরীয়তের খিলাফ (সূরা কাহাফ-২৮)। যেহেতু, শরীয়তের খিলাফ আমল থেকে বেঁচে থাকা ফরয, তাই ক্বলবে যিকির জারী করাও ফরয, কেননা ক্বলবে যিকির জারী না থাকলে শরীয়ত বিরোধী কাজ হয়ে যাবে, আল্লাহ পাকের নাফরমানী হয়ে যাবে (নাউযুবিল্লাহ)। 
এখন, সেটা কি করে সম্ভব। ইলমে তাছাউফে সেটাই শিক্ষা দেওয়া হয় যে, কি করে ক্বলবসহ শরীরের সকল লতীফায় দায়িমী যিকির জারী করা যায়। ইলমে তাছাউফের একটি স্তর হল- সুলতানুল আযকারযার অর্থ হল যিকিরের বাদশাহ। পৃথকভাবে সমস্ত লতীফায় যিকির জারী হওয়ার পর একসাথে সমস্ত লতীফায় যিকির শুরু করবে-যাকে সুলতানুল আযকার বলা হয়। এর স্তর তিনটি। তার মধ্যে প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত জারি করা ফরযে আইন। কেননা, শয়তান শরীরের যে সকল লতীফায় ওয়াসওয়াসা দিয়ে থাকে, সে সকল লতীফায় যিকিরের মাধ্যমে যিকির জারী হয়ে গেলে শয়তান আর ওয়াসওয়াসা দিয়ে বিপথগামী করতে পারে না। এ ব্যাপারে সূরা যুখরূফ-৩৬,৩৭ তে বলা হয়েছে। যেহেতু, ইলমে তাছাউফের মাধ্যমেই শুধুমাত্র যিকির জারী করা সম্ভব, তাই ইলমে তাছাউফ চর্চা করা ফরয। 


৪) তাযকিয়ায়ে ক্বলবঃ 
মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম পাকে ইরশাদ করেন, “মুমিনদের প্রতি আল্লাহ পাক উনার ইহসান যে, তাদের মধ্য থেকে তাদের জন্য একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, তিনি আল্লাহ পাক এর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে শুনাবেন, তাদেরকে তাযকিয়া (পরিশুদ্ধ) করবেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবেন। যদিও তারা পূর্বে হিদায়েত প্রাপ্ত ছিল না।(সূরা আল-ইমরান-১৬৪)অনুরূপ সূরা বাক্বারা-১৫১, সূরা জুমুয়া-২ 
মুফাসসিরীনে কিরামগণ وَيُزَكِّيهِمْএর ব্যাখ্যায় প্রসিদ্ধ তাফসীরের কিতাব যেমন- তাফসীরে জালালাইন, কামালাইন, কুরতুবী, তাবারী, খাযিন, বাগবী, ইবনে কাছীর, দুররে মানছূর, আবী সউদ, মাযহারী, রুহুল বয়ান, রুহুল মায়ানী, মায়ারিফুল কুরআনসহ আরো অনেক তাফসীর গ্রন্থে তাযকিয়ায়ে ক্বলববা অন্তর পরিশুদ্ধ করাকে ফরয বলেছেন এবং তজ্জন্য ইলমে তাছাউফ অর্জন করাকে ফরয বলেছেন। 
ইলমে তাছাউফ যদি ফরয মেনে নেই, তবুও প্রশ্ন রয়ে যায়- পীর সাহেবের কাছে কেন বাইয়াত হতে হবে? ইলমে তাছাউফ অর্জনের সাথে পীর সাহেবের কি সম্পর্ক?Ø 

- ইলমে তাছাউফ হল ক্বলবী ইলম, যা ফিক্বাহ বা তাছাউফের কিতাবাদি পড়ে কখনো হাছিল হয় না। ইলমে তাছাউফ হাছিল করতে হলে ওলী-আল্লাহ, পীর-মাশায়িখের হাতে বাইয়াত হয়ে উনার নির্দেশ মুতাবিক যিকির-ফিকির ও আমল করতে হয়। আর হাদিছ শরীফ উনার ভাষ্য অনুযায়ী ইলমে তাছাউফ ই হচ্ছে উপকারী ইলম। কারণ এই ইলম মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মারিফত, মুহব্বত, নৈকট্য, হাকিকত শিক্ষা দেয় যা কিনা বই পড়ে সম্ভব নয়। আর এ পথে পথ-নির্দেশনা ব্যতীত কেউ পথের সন্ধানই পায় না, পথ পেরিয়ে গন্তব্যে পৌছানো তো অসম্ভব। 


আর তাই ইলমে তাছাউফ অর্জন করতে হলে একজন ওলী-আল্লাহ, পীর, শায়েখ উনার হাতে বাইয়াত হয়ে ছবক-যিকির আদায় করতে হয়; তখন মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছায় তার অন্তরে ইলমে তাছাউফের ভান্ডার উন্মোচিত হয়। 

ইলমে তাছাউফ অর্জন করার মাধ্যমে অন্তর পরিশুদ্ধ করত হুযূরী ক্বলব হাছিল করা তথা অন্ততপক্ষে বিলায়েতে আম হাছিল করা ফরয। এ ফরয ততোক্ষণ পর্যন্ত আদায় করা সম্ভব হবেনা, যতোক্ষণ পর্যন্ত একজন কামিল মুর্শিদ উনার নিকট বাইয়াত না হবে। তাই বাইয়াত গ্রহণ করাও ফরয। এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে মাযহারীতে উল্লেখ আছে যে, যে কাজ বা আমল ব্যতীত ফরযসমূহ আদায় করা সম্ভব হয়না, উক্ত ফরযগুলোকে আদায় করার জন্য সে কাজ বা আমল করাও ফরয। (দুররুল মুখতার) 

সুলত্বানুল আরিফীন হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সাইয়্যিদুত ত্বায়িফা হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহিসহ আরো অনেকেই বলেন যে, যার কোনো পীর বা মুর্শিদ নেই তার মুর্শিদ বা পথ প্রদর্শক হলো শয়তান। (ক্বওলুল জামীল, নূরুন আলা নূর, তাছাউফ তত্ত্ব) 

কেউ যদি কোন ওলী-আল্লাহ, পীর সাহেবের কাছে বাইয়াত না হয়ে তাছাউফের কিতাব পড়ে যিকির করে, তবে তার শুধু যিকির করাই হবে, কিন্তু ইলমে তাছাউফ হাছিল হবে না। কেননা, ইলমে তাছাউফ অর্জনের সাথে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করার সম্পর্ক রয়েছে। আর ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ শুধুমাত্র শায়েখ বা পীর সাহেবের কাছ থেকেই হাছিল হয়। এ সম্পর্কে একটি হাদিছ শরীফ পড়ুনঃ 

আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত হাদীছ শরীফ শুনে বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি সবকিছু থেকে আপনাকে বেশি মুহব্বত করি এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমার জীবন থেকে এখনও আপনাকে বেশি মুহব্বত করতে পারিনি। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আপনি এখনও মুমিনে কামিল হতে পারেননি। তখন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সবকিছু ত্যাগ করেও যদি মুমিনে কামিল না হতে পারি, তাহলে কিভাবে মুমিনে কামিল হতে পারবো? তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, হে হযরত উমর আলাইহিস সালাম! আপনি আমার কাছে আসুন। তিনি কাছে গেলেন। নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার হাত মুবারক হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার সিনা মুবারককে রাখলেন। (তাছাওউফের পরিভাষায় ফয়েজে ইত্তিহাদী দান করলেন) তখন সাথে সাথে হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি বলে উঠলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এখন আপনার খাছ ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ লাভ করার পর আমার এরূপ অবস্থা হয়েছে যে, আপনার জন্য আমি একজন কেন শত-সহস্র উমরও জান কুরবানী করতে প্রস্তুত। সুবহানাল্লাহ! 

এটাকেই বলে ফয়েজে ইত্তিহাদী যা নায়িবে নবী বা ওরাছাতুল আম্বিয়াগণ ওয়ারিছ স্বত্ব হিসেবে সিনা-ব-সিনা লাভ করেন। তাই হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “আলিমগণ নবীগণের ওয়ারিছ। 

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেরূপ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাউফ শিক্ষা দিয়েছেন ও ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ দান করেছেন, তাঁর অনুসরণে নায়িবে নবী ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া তথা হক্কানী ওলীআল্লাহগণও স্বীয় মুরীদদেরকে ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাউফ শিক্ষা দেন এবং ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ দান করে তাদের অন্তরকে ইছলাহ বা নূরানী করে থাকেন। যেহেতু হক্কানী-রব্বানী ওলীগণই হচ্ছেন- নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নায়িব বা ক্বায়িম মুকাম। 

মালিকী মাযহাবের ইমাম, ইমামুল আইম্মাহ হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি বলেন, “যে ব্যক্তি ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করলো কিন্তু ইলমে তাছাউফ অর্জন করলো না সে ফাসিক। আর যে ব্যক্তি ইলমে তাছাউফের দাবি করে অথচ ইলমে ফিক্বাহ স্বীকার করে না সে ব্যক্তি যিন্দিক, আর যিনি ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাউফ উভয় প্রকার ইলমের অধিকারী তিনিই মুহাক্কিক অর্থাৎ হাক্বীক্বী নায়িবে নবী। 

তাই আসুন, সকলে একজন খালিছ আল্লাহ পাক উনার ওলীর হাতে বাইয়াত হয়ে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাছিলের মধ্য দিয়ে ইলমে তাছাউফ হাছিল করে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক ও নৈকট্য হাছিল করার চেষ্টা করি। মহান আল্লাহ পাক আমাদের কবুল করুন। আমিন 

# রাজারবাগী পীর সাহেব আলাইহিস সালাম উনার সাথে অন্যান্য মাওলানা ও পীর সাহেবদের পার্থক্য কোথায়? 

- মানুষের সাথে মানুষের মতের পার্থক্য সর্বকালেই রয়েছে। আর মতপার্থক্যই অনেকক্ষেত্রে বিরোধ সৃষ্টি করে থাকে। তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে তিনিই সঠিক হবেন যিনি কুরআন শরীফ, হাদিছ শরীফ থেকে সঠিক ফায়সালা তুলে ধরেন। আমি বলব, রাজারবাগী পীর সাহেব হযরত মুজাদ্দিদে আ'যম আলাইহিস সালাম তিনি সম্পূর্ণরূপে কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফের অনুসরণ করে থাকেন। আর এটাই হচ্ছে অন্যান্য সকল দল-উপদল থেকে উনার একমাত্র পার্থক্য। 


কিন্তু মুখের কথায় তো আর চিড়া ভেজে না। তাই কথাগুলোর প্রমাণ থাকতে হবে। ইনশাআল্লাহ প্রমাণ দেওয়া হবে। যারা সঠিক পথের সন্ধান চায়, তারা পার্থক্য দিয়েই সহজে চিনতে পারবে। তাহলে আসুন দেখি, রাজারবাগী পীর সাহেব আলাইহিস সালাম উনার সাথে অন্যান্য মাওলানা, পীর সাহেব, মুফতি ও হুযুরদের পার্থক্য কোথায়ঃ 

[বিঃদ্রঃ যারা রাজারবাগ শরীফের ফতোয়া মেনে নিতে পারছেন না, তারা দয়া করে ফতোয়ার পিছনের দলীলগুলো ভালভাবে পড়বেন এবং চিন্তা করবেন।] 


১) ছবি তোলাঃ রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সম্মানিত পীর সাহেব আলাইহিস সালাম তিনি কুরআন শরীফ-সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে প্রাণীর ছবি আঁকা, তোলা, ক্যামেরাবন্দী করা, ভিডিও করা ইত্যদিকে হারাম ফতোয়া দিয়েছেন। 

{ যাদের সাথে পার্থক্যঃ ইসলামিক টিভি, পিস টিভি, মওদুদী জামাত-শিবির, দেওয়ানবাগী পীর, চরমোনাই পীর, কওমী-খারিজী, হেফাজতে ইসলাম, অতি সুন্নী-রেজাখানী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, আহলে হাদিছ-লামাযহাবী, জাকির নায়েক, ওহাবী, হিজবুত তাহরীর ইত্যাদি} 




২) বেপর্দা হওয়াঃ রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সম্মানিত পীর সাহেব আলাইহিস সালাম তিনি কুরআন শরীফ-সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে ফতোয়া দিয়েছেন যে, পুরুষদের পর্দা হচ্ছে তারা কোন পর্দানশীন মহিলার বোরকার দিকেও স্বেচ্ছায় দৃষ্টি দিতে পারবে না। আবার মহিলারা গায়রে মাহরাম পুরুষদের সাথে কথা বলতে পারবে না এবং শরীরের একটি পশমও দেখাতে পারবে না। পরপুরুষের সামনে তাদেরকে মুখ খোলা রাখা যাবে না। এ বিষয়ে মাসিক আল-বাইয়্যিনাত শরীফ উনার ১১২-১৩১ সংখ্যায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

{যাদের সাথে পার্থক্যঃ মওদুদী জামাত-শিবির, দেওয়ানবাগী পীর, অতি সুন্নী-রেজাখানী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, আহলে হাদিছ-লামাযহাবী, জাকির নায়েক, ওহাবী} 




৩) গণতন্ত্র করা ও নারী নেতৃত্ব করাঃ রাজারবাগী পীর সাহেব আলাইহিস সালাম তিনি ফতোয়া দিয়েছেন যে, ইসলামী শরীয়ত ব্যতীত মানবরচিত কোন গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র করা জায়িজ নেই। আর বিস্তারিত জানতে মাসিক আল-বাইয়্যিনাত শরীফ উনার ১, ২২, ২৬, ২৭, ২৯, ৩০, ৩০, ৩০, ৩১, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৪৩, ৫৪, ৫৭, ৮৪, ৯০, ৯৭, ১০৬ এই সংখ্যাগুলো পড়ুন। 

{যাদের সাথে পার্থক্যঃ মওদুদী জামাত-শিবির, চরমোনাই পীর, কওমী-খারিজী, হেফাজতে ইসলাম, জাকের-পার্টি} 




৪) খেলাধুলা করাঃ রাজারবাগী পীর সাহেব আলাইহিস সালাম তিনি ফতোয়া দিয়েছেন যে, ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, কেরাম, টেবিল-টেনিস ইত্যাদি সহ যাবতীয় সকল খেলাধুলা হারাম এবং হাদিছ শরীফ মুতাবিক তিনটি বিষয় এই খেলাধুলার অন্তর্ভুক্ত নয়। 
{যাদের সাথে পার্থক্যঃ ইলিয়াসী তাবলীগী, মওদুদী জামাত-শিবির, কওমী-খারিজী, অতি সুন্নী-রেজাখানী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, আহলে হাদিছ-লামাযহাবী, জাকির নায়েক, ওহাবী, হিজবুত তাহরীর } 




৫) মীলাদ শরীফঃ রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সম্মানিত পীর সাহেব আলাইহিস সালাম তিনি কুরআন শরীফ-সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে ফতোয়া দিয়েছেন যে, ঈদে মীলাদুননবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা এবং মীলাদ শরীফ পাঠ করা সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব।

{যাদের সাথে পার্থক্যঃ ইলিয়াসী তাবলীগী, মওদুদী জামাত-শিবির, চরমোনাই পীর, কওমী-খারিজী, হেফাজতে ইসলাম, আহলে হাদিছ-লামাযহাবী, জাকির নায়েক, ওহাবী, হিজবুত তাহরীর ইত্যাদি} 


এছাড়া আরো অসংখ্য আকিদা ও আমলগত পার্থক্য রয়েছে অন্যান্যদের সাথে। যদি সম্ভব হয় বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ। 

# অনেকেই দেখি রাজারবাগী পীর সাহেব আলাইহিস সালাম উনার বিরোধিতা করে থাকে, কিন্তু কেন? এক্ষেত্রে আমাদের কি করণীয়? 


- অনেক কারণেই কিছু নির্দিষ্ট দলের লোক উনার বিরোধিতা করে থাকে। মনে রাখবেন, নির্দিষ্ট কিছু দলের লোক। তন্মধ্যে কিছু কারণ নিম্নে দেওয়া হলঃ 


১) রাজারবাগী পীর সাহেব আলাইহিস সালাম তিনি কুরআন শরীফ, হাদিছ শরীফ, ইজমা ও কিয়াস শরীফ থেকে যে সঠিক ফায়সালা দেন, তা তাদের মনঃপূত হয় না, ফলে তারা উনার বিরোধিতা করে থাকে। (নাউযুবিল্লাহ) 

২) রাজারবাগী পীর সাহেব আলাইহিস সালাম উনার সঠিক ফায়সালার কারণে বাতিলেরা ধর্মব্যবসা করতে পারে না, ফলে তারা উনার বিরোধিতা করে থাকে। 

৩) পথভ্রষ্ট দলের বিরুদ্ধে কুরআন শরীফেই আয়াত শরীফ রয়েছে। আর রাজারবাগী পীর সাহেব কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সেই সুন্নাত মুবারক আদায় করে বাতিল দলের বিরুদ্ধে বলে থাকেন। আর কারও বিরুদ্ধে বলা হলে, সে সংশোধনের চাইতে পুনঃবিরোধিতা করে থাকে, এটাই নফসের টান। আর এ কারণেই তারা উনার বিরোধিতা করে থাকে।

এক্ষেত্রে করণীয় হচ্ছে, যেহেতু রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সম্মানিত পীর সাহেব আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন বর্তমান যামানার খালিছ ওলী-আল্লাহ। তাই উনার প্রদত্ত ফতোয়াগুলো একবারের জন্য হলেও দলীল সহকারে পড়ুন। বুঝতে না পারলে বারবার পড়ুন। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সহীহ সমঝ দান করুন। আমিন 

No comments

ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য।

  ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য। ডাল খাওয়ার ফলে কলব প্রসারিত হয় এবং চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়। পূর্ববর্তী হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উ...

Powered by Blogger.