কাযযাবগং তথা উলামায়ে সূ’দের মিথ্যাচারিতার দাঁতভাঙ্গা জবাব ৩
« পূর্ব প্রকাশের পর
আমরা দেখতে পাই
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল
মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে
মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিসহ প্রায় এক লক্ষ চব্বিশ হাজার, মতান্তরে
দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রসূল আলাইহিমুছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাদের প্রত্যেকেরই
বিরোধিতা করেছে ঐ ইবলীস শয়তানের অনুসারী ও গোলাম দাজ্জালে কাযযাবরা। শুধু তাই নয়
তারা প্রায় সত্তর হাজার নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকেও শহীদ করেছে। নাঊযুবিল্লাহ!
আর আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিরোধিতা ও মিথ্যাচারিতার মাত্রা যে কোন্ পর্যায়ের ছিল তা ভাষায় বর্ণনা করার মত নয়। বস্তুতঃ সেই বিরোধিতার নজীর ইতিহাসে দ্বিতীয় খুঁজে পাওয়া দুস্কর। উনাকে বলা হয়েছে যাদুকর, জ্বিনে ধরা, পাগল, ধর্মত্যাগী ইত্যাদি। নাঊযুবিল্লাহ!
ঠিক একইভাবে বিরোধিতার এ ধারাবাহিকতা বজায় ছিল নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরে দুনিয়াতে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম মানুষ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ উনাদের প্রতিও।
বাতিল, গোমরাহ, দাজ্জালে কাযযাব, খারিজী ও রাফিযীরা উনাদেরকে আখ্যায়িত করেছে ক্ষমতালোভী, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, দ্বীন ইসলামের ধ্বংস সাধনকারী, মুরতাদ, কাফির ইত্যাদি কুখ্যাতিতে। নাঊযুবিল্লাহি মিন যালিক!
শুধু যে মিথ্যা রচনা, অপবাদ আর অশালীন ভাষায় কুখ্যাতি করেছে তাই নয়। তারা শহীদ করেছে, ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহিস সালাম, আমীরুল মুমিনীন হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম, আমীরুল মু’মিনীন বেহেস্তের যুবকদের সাইয়্যিদ, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কলিজার টুকরা, উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার নয়নের মনি হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং ইমামুল মুসলিমীন হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদেরকে।
বাতিল, গোমরাহ দাজ্জালে কাযযাবদের বিরোধিতা এখানেই থেমে থাকেনি। তাদের বিরোধিতার এ ধারাবাহিকতা প্রলম্বিত হয়েছিল তাবিয়ীন, তাবে-তাবিয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ ও হক্কানী রব্বানী আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের প্রতিও। এরই ধারাবাহিকতায় তারা বিরোধিতা করেছে জগতখ্যাত আলিমে দ্বীন, সর্বশ্রেষ্ঠ ওলীয়ে কামিল, হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার, তারা উনার লিখিত মহামূল্যবান কিতাব কতক পর্যন্ত পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা বিরোধিতা করেছে গাউছুল আ’যম, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার। বিরোধিতা করেছে সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার। বিরোধিতা করেছে ক্বাইয়্যূমে আউয়াল হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার। বিরোধিতা করেছে আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ ব্রেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার। বিরোধিতা করেছে শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার। বিরোধিতা করেছে শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং বিরোধিতা করেছে গত শতকের মুজাদ্দিদ হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার। আর বিশেষভাবে যিনি বিরোধিতার শিকার, তিনি হলেন আমাদেরই হানাফী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমামুল মুজতাহিদীন, ইমামুল আইম্মা, বাহরুল উলুম, হাকিমুল হাদীছ, ইমামে আ’যম ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। উনার প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ আছে যে, “হযরত ইমাম ছুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমরা ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট এরূপ অবস্থায় আসতাম, যেরূপ চুড়ুই পাখি বাজ পাখীর নিকট অবস্থান করে এবং নিশ্চয়ই ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন আলিমগণ উনাদের মাথার তাজ।”
আল্লামা ইবনে খালকান তিনি তারিখে খতীব বাগদাদী উনার থেকে বর্ণনা করেন, ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনি কি ইমামে আ’যম, ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দেখেছিলেন? তদুত্তরে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, এরূপ ব্যক্তিকে দেখেছি যে, যদি তিনি এই স্তম্ভকে স্বর্ণের স্তম্ভরূপে প্রমাণ করতে চাইতেন, তবে যুক্তির মাধ্যমে তার প্রমাণ পেশ করতে পারতেন।” সুবহানাল্লাহ!
হযরত ছুফিয়ান ইবনে ওয়াইনা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি ফিক্বাহ তত্ত্ব সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা করে, তার জন্য কুফায় গমন করা ও ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরীদগণ উনাদের ছোহবত লাভ করা আবশ্যক।”
পাঠক! এমনিভাবে উলামায়ে হক্কানী-রব্বানী উনারা সকলেই ফিক্বাহ শাস্ত্রের ইমাম, হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে পিতৃতুল্য গণ্য করেছেন। অথচ সেই ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকেই উলামায়ে ‘ছু’রা তথা দাজ্জালে কাযযাবরা নানাভাবে মিথ্যা তোহমত দিয়েছে। যেমন আল্লামা হাফিয ইবনে আব্দুল বার তিনি “মুখতাদার জামায়িলে ইলম” কিতাবে লিখেন, “লোকেরা ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করত, উনার মধ্যে যা কিছু নেই, উনার উপর সে কথা আরোপ করত এবং উনার পক্ষে যা সঙ্গত নয়, এরূপ বিষয়ের মিথ্যা দোষারোপ বা তোহমত উনার প্রতি করা হত।” নাঊযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য, উনাকে মরজিয়া বলেও অভিহিত করা হত। নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক! (শরহে মাওয়াকিফ)
মু’তাজিলা মাহমূদ গাজ্জালী বলেছে, হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শরীয়তকে উল্টিয়ে তার বাহিরকে ভিতর ও ভিতরকে বাহির করে দিয়েছেন, শরীয়তের পথ বিক্ষিপ্ত করে দিয়েছেন এবং শরীয়তের কমরবন্দ কেটে দিয়েছেন। নাঊযুবিল্লাহ্ মিন যালিক!
ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে আরো মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছিল যে- তিনি ইসলামকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলেছেন। ইসলামে উনার অপেক্ষা সমধিক মনহুছ (কুলক্ষণ বিশিষ্ট) কেউ পয়দা হয়নি। নাঊযুবিল্লাহ্ মিন যালিক!
পাঠক! বলার অপেক্ষা রাখেনা, ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে উলামায়ে ‘ছু’রা এরূপ মহা জঘন্য মন্তব্য করেছে ও মিথ্যা রটনা করেছে, তোহমত দিয়েছে, উনার সুপ্রসিদ্ধ, সুচিন্তিত, অকাট্য এবং নির্ভরযোগ্য মত ও দলীল সমৃদ্ধ ফতওয়ার কারণেই।
এ প্রসঙ্গে ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবদ্দশায় ঘটিত একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কিতাবে উল্লেখ আছে যে, “আওলাদে রসূল, হযরত ইমাম বাকির আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা একবার একই বছর হজ্বে যান। হজ্ব উপলক্ষে হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন তাওয়াফ করছিলেন, তখন কোন এক ব্যক্তি আওলাদে রসূল, হযরত ইমাম বাকির আলাইহিস সালাম উনার নিকট হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দূর থেকে লক্ষ্য করে বা ইশারা দিয়ে দেখিয়ে বললো যে, হে আওলাদে রসূল, হযরত ইমাম বাকির আলাইহিস সালাম! এই সেই ইমামে আ’যম কুফী যিনি আপনার নানাজানের (হাদীছ শরীফ-এর) বিরুদ্ধে ফতওয়া দেন।” মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত খোদায়ী ইল্ম ও সূক্ষ্ম সমঝের কারণে হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিষয়টি বুঝতে বাকী রইল না। তাই হজ্বের কাজ সমাধা করে হযরত ইমাম আয’ম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আওলাদে রসূল, হযরত ইমাম বাকির আলাইহিস সালাম উনার নিকট আসলেন এবং উনাকে সালাম দিলেন। কিন্তু আওলাদে রসূল, হযরত ইমাম বাকির আলাইহিস সালাম তিনি সালামের জবাব দিলেন না বরং চেহারা মুবারক ফিরায়ে নিলেন। হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সবিনয়ে-এর কারণ জানতে চাইলেন।
জবাবে আওলাদে রসূল, হযরত ইমাম বাকির আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “আপনিই কি সেই ইমাম আবূ হানীফা কুফী রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি আমার নানাজানের (হাদীছ শরীফ-এর) বিরুদ্ধে ফতওয়া দিয়ে থাকেন। জবাবে ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “আমি যদি সত্যিই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ-এর বিরুদ্ধে ফতওয়া দিতাম, তবে হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, মেয়েদের অসুস্থতার সময় নামায কাযা করতে হয়না। কিন্তু রোযার কাযা করতে হয়। অথচ নামাযের গুরুত্ব রোযা থেকে অনেক বেশী। যদি আমি হাদীছ শরীফ-এর বিরোধিতা করতাম, তবে ফতওয়া দিতাম যে, নামায কাযা করতে হবে, রোযা কাযা করতে হবেনা কিন্তু আমি তা বলিনা। আবার সম্পত্তির ব্যাপারে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর ফতওয়া হলো- মেয়েরা সম্পত্তির একভাগ পাবে। আর ছেলেরা দু’ভাগ পাবে। যদি আমি কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর বিরুদ্ধেই ফতওয়া দিতাম, তবে ফতওয়া দিতাম, মেয়েরা সম্পত্তির দু’ভাগ পাবে, আর ছেলেরা পাবে একভাগ। কারণ মেয়েরা দুর্বলা ও অবলা। কিন্তু আমি তা বলি না। আর লটারীকে আমি নাজায়িয ফতওয়া দেই, যা শরীয়তেরই ফতওয়া। অথচ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছফরে যাওয়ার সময় উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ উনাদের থেকে একজনকে নিয়ে যেতেন, তা ফয়সালা করতেন লটারীর মাধ্যমে। আমি সে লটারীকে জায়িয ফতওয়া দেই। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে আমি হাদীছ শরীফ-এর বিরুদ্ধে ফতওয়া দিলাম কোথায়?” একথা শুনে আওলাদে রসূল হযরত ইমাম বাকির আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কপাল মুবারকে চুমু খেলেন এবং বললেন, “হে ইমামে আ’যম! আপনার গভীর ইলম ও সুক্ষ্ম সমঝ আপনাকে সকলের নিকট শত্রু বানিয়েছে।”
পাঠক! উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হলো যে, পৃথিবীতে যত হক্কানী-রব্বানী আউলিয়ায়ে কিরাম উনারা আগমন করেছেন উনাদের প্রত্যেকেরই বিরোধিতা করা হয়েছে। উনাদের প্রতি মিথ্যা তোহমত দেয়া হয়েছে। উনাদেরকে কাফির ফতওয়া দেয়া হয়েছে, এমনকি উনাদের প্রাণ নাশের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কথা হলো কেন এ বিরোধিতা?
আর আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিরোধিতা ও মিথ্যাচারিতার মাত্রা যে কোন্ পর্যায়ের ছিল তা ভাষায় বর্ণনা করার মত নয়। বস্তুতঃ সেই বিরোধিতার নজীর ইতিহাসে দ্বিতীয় খুঁজে পাওয়া দুস্কর। উনাকে বলা হয়েছে যাদুকর, জ্বিনে ধরা, পাগল, ধর্মত্যাগী ইত্যাদি। নাঊযুবিল্লাহ!
ঠিক একইভাবে বিরোধিতার এ ধারাবাহিকতা বজায় ছিল নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরে দুনিয়াতে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম মানুষ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ উনাদের প্রতিও।
বাতিল, গোমরাহ, দাজ্জালে কাযযাব, খারিজী ও রাফিযীরা উনাদেরকে আখ্যায়িত করেছে ক্ষমতালোভী, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, দ্বীন ইসলামের ধ্বংস সাধনকারী, মুরতাদ, কাফির ইত্যাদি কুখ্যাতিতে। নাঊযুবিল্লাহি মিন যালিক!
শুধু যে মিথ্যা রচনা, অপবাদ আর অশালীন ভাষায় কুখ্যাতি করেছে তাই নয়। তারা শহীদ করেছে, ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহিস সালাম, আমীরুল মুমিনীন হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম, আমীরুল মু’মিনীন বেহেস্তের যুবকদের সাইয়্যিদ, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কলিজার টুকরা, উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার নয়নের মনি হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং ইমামুল মুসলিমীন হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদেরকে।
বাতিল, গোমরাহ দাজ্জালে কাযযাবদের বিরোধিতা এখানেই থেমে থাকেনি। তাদের বিরোধিতার এ ধারাবাহিকতা প্রলম্বিত হয়েছিল তাবিয়ীন, তাবে-তাবিয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ ও হক্কানী রব্বানী আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের প্রতিও। এরই ধারাবাহিকতায় তারা বিরোধিতা করেছে জগতখ্যাত আলিমে দ্বীন, সর্বশ্রেষ্ঠ ওলীয়ে কামিল, হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার, তারা উনার লিখিত মহামূল্যবান কিতাব কতক পর্যন্ত পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা বিরোধিতা করেছে গাউছুল আ’যম, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার। বিরোধিতা করেছে সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার। বিরোধিতা করেছে ক্বাইয়্যূমে আউয়াল হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার। বিরোধিতা করেছে আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ ব্রেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার। বিরোধিতা করেছে শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার। বিরোধিতা করেছে শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং বিরোধিতা করেছে গত শতকের মুজাদ্দিদ হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার। আর বিশেষভাবে যিনি বিরোধিতার শিকার, তিনি হলেন আমাদেরই হানাফী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমামুল মুজতাহিদীন, ইমামুল আইম্মা, বাহরুল উলুম, হাকিমুল হাদীছ, ইমামে আ’যম ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। উনার প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ আছে যে, “হযরত ইমাম ছুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমরা ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট এরূপ অবস্থায় আসতাম, যেরূপ চুড়ুই পাখি বাজ পাখীর নিকট অবস্থান করে এবং নিশ্চয়ই ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন আলিমগণ উনাদের মাথার তাজ।”
আল্লামা ইবনে খালকান তিনি তারিখে খতীব বাগদাদী উনার থেকে বর্ণনা করেন, ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনি কি ইমামে আ’যম, ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দেখেছিলেন? তদুত্তরে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, এরূপ ব্যক্তিকে দেখেছি যে, যদি তিনি এই স্তম্ভকে স্বর্ণের স্তম্ভরূপে প্রমাণ করতে চাইতেন, তবে যুক্তির মাধ্যমে তার প্রমাণ পেশ করতে পারতেন।” সুবহানাল্লাহ!
হযরত ছুফিয়ান ইবনে ওয়াইনা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি ফিক্বাহ তত্ত্ব সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা করে, তার জন্য কুফায় গমন করা ও ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরীদগণ উনাদের ছোহবত লাভ করা আবশ্যক।”
পাঠক! এমনিভাবে উলামায়ে হক্কানী-রব্বানী উনারা সকলেই ফিক্বাহ শাস্ত্রের ইমাম, হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে পিতৃতুল্য গণ্য করেছেন। অথচ সেই ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকেই উলামায়ে ‘ছু’রা তথা দাজ্জালে কাযযাবরা নানাভাবে মিথ্যা তোহমত দিয়েছে। যেমন আল্লামা হাফিয ইবনে আব্দুল বার তিনি “মুখতাদার জামায়িলে ইলম” কিতাবে লিখেন, “লোকেরা ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করত, উনার মধ্যে যা কিছু নেই, উনার উপর সে কথা আরোপ করত এবং উনার পক্ষে যা সঙ্গত নয়, এরূপ বিষয়ের মিথ্যা দোষারোপ বা তোহমত উনার প্রতি করা হত।” নাঊযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য, উনাকে মরজিয়া বলেও অভিহিত করা হত। নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক! (শরহে মাওয়াকিফ)
মু’তাজিলা মাহমূদ গাজ্জালী বলেছে, হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শরীয়তকে উল্টিয়ে তার বাহিরকে ভিতর ও ভিতরকে বাহির করে দিয়েছেন, শরীয়তের পথ বিক্ষিপ্ত করে দিয়েছেন এবং শরীয়তের কমরবন্দ কেটে দিয়েছেন। নাঊযুবিল্লাহ্ মিন যালিক!
ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে আরো মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছিল যে- তিনি ইসলামকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলেছেন। ইসলামে উনার অপেক্ষা সমধিক মনহুছ (কুলক্ষণ বিশিষ্ট) কেউ পয়দা হয়নি। নাঊযুবিল্লাহ্ মিন যালিক!
পাঠক! বলার অপেক্ষা রাখেনা, ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে উলামায়ে ‘ছু’রা এরূপ মহা জঘন্য মন্তব্য করেছে ও মিথ্যা রটনা করেছে, তোহমত দিয়েছে, উনার সুপ্রসিদ্ধ, সুচিন্তিত, অকাট্য এবং নির্ভরযোগ্য মত ও দলীল সমৃদ্ধ ফতওয়ার কারণেই।
এ প্রসঙ্গে ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবদ্দশায় ঘটিত একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কিতাবে উল্লেখ আছে যে, “আওলাদে রসূল, হযরত ইমাম বাকির আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা একবার একই বছর হজ্বে যান। হজ্ব উপলক্ষে হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন তাওয়াফ করছিলেন, তখন কোন এক ব্যক্তি আওলাদে রসূল, হযরত ইমাম বাকির আলাইহিস সালাম উনার নিকট হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দূর থেকে লক্ষ্য করে বা ইশারা দিয়ে দেখিয়ে বললো যে, হে আওলাদে রসূল, হযরত ইমাম বাকির আলাইহিস সালাম! এই সেই ইমামে আ’যম কুফী যিনি আপনার নানাজানের (হাদীছ শরীফ-এর) বিরুদ্ধে ফতওয়া দেন।” মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত খোদায়ী ইল্ম ও সূক্ষ্ম সমঝের কারণে হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিষয়টি বুঝতে বাকী রইল না। তাই হজ্বের কাজ সমাধা করে হযরত ইমাম আয’ম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আওলাদে রসূল, হযরত ইমাম বাকির আলাইহিস সালাম উনার নিকট আসলেন এবং উনাকে সালাম দিলেন। কিন্তু আওলাদে রসূল, হযরত ইমাম বাকির আলাইহিস সালাম তিনি সালামের জবাব দিলেন না বরং চেহারা মুবারক ফিরায়ে নিলেন। হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সবিনয়ে-এর কারণ জানতে চাইলেন।
জবাবে আওলাদে রসূল, হযরত ইমাম বাকির আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “আপনিই কি সেই ইমাম আবূ হানীফা কুফী রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি আমার নানাজানের (হাদীছ শরীফ-এর) বিরুদ্ধে ফতওয়া দিয়ে থাকেন। জবাবে ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “আমি যদি সত্যিই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ-এর বিরুদ্ধে ফতওয়া দিতাম, তবে হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, মেয়েদের অসুস্থতার সময় নামায কাযা করতে হয়না। কিন্তু রোযার কাযা করতে হয়। অথচ নামাযের গুরুত্ব রোযা থেকে অনেক বেশী। যদি আমি হাদীছ শরীফ-এর বিরোধিতা করতাম, তবে ফতওয়া দিতাম যে, নামায কাযা করতে হবে, রোযা কাযা করতে হবেনা কিন্তু আমি তা বলিনা। আবার সম্পত্তির ব্যাপারে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর ফতওয়া হলো- মেয়েরা সম্পত্তির একভাগ পাবে। আর ছেলেরা দু’ভাগ পাবে। যদি আমি কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর বিরুদ্ধেই ফতওয়া দিতাম, তবে ফতওয়া দিতাম, মেয়েরা সম্পত্তির দু’ভাগ পাবে, আর ছেলেরা পাবে একভাগ। কারণ মেয়েরা দুর্বলা ও অবলা। কিন্তু আমি তা বলি না। আর লটারীকে আমি নাজায়িয ফতওয়া দেই, যা শরীয়তেরই ফতওয়া। অথচ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছফরে যাওয়ার সময় উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ উনাদের থেকে একজনকে নিয়ে যেতেন, তা ফয়সালা করতেন লটারীর মাধ্যমে। আমি সে লটারীকে জায়িয ফতওয়া দেই। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে আমি হাদীছ শরীফ-এর বিরুদ্ধে ফতওয়া দিলাম কোথায়?” একথা শুনে আওলাদে রসূল হযরত ইমাম বাকির আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কপাল মুবারকে চুমু খেলেন এবং বললেন, “হে ইমামে আ’যম! আপনার গভীর ইলম ও সুক্ষ্ম সমঝ আপনাকে সকলের নিকট শত্রু বানিয়েছে।”
পাঠক! উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হলো যে, পৃথিবীতে যত হক্কানী-রব্বানী আউলিয়ায়ে কিরাম উনারা আগমন করেছেন উনাদের প্রত্যেকেরই বিরোধিতা করা হয়েছে। উনাদের প্রতি মিথ্যা তোহমত দেয়া হয়েছে। উনাদেরকে কাফির ফতওয়া দেয়া হয়েছে, এমনকি উনাদের প্রাণ নাশের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কথা হলো কেন এ বিরোধিতা?
মূলতঃ এ বিরোধিতার
কারণ একটাই। আর তা হচ্ছে, হক্কানী উলামায়ে কিরাম তথা আউলিয়ায়ে
কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা শরীয়তকে পরিপূর্ণ অনুসরণ করেন, মানুষকে
কুফরী, শেরেকী
ও বিদয়াতী আক্বীদা ও আমল থেকে হিফাযতের কোশেশ করেন, ছহীহ দ্বীনের প্রচার-প্রসার করেন এবং
আক্বীদা ও আমলে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের মত ও পথকেই পূর্ণরূপে অনুসরণ করেন এবং
শরীয়তের প্রতিটি বিষয়ে কুরআন শরীফ-সুন্নাহ শরীফ-এর দলীলভিত্তিক সঠিক ফায়সালা তুলে
ধরেন। এতে বাতিল, গোমরাহ ও দাজ্জালে কাযযাব গোষ্ঠীর আঁতে
ঘা লাগে। কারণ তাদের কুফরী আক্বীদা ও বিদ্য়াতী আমলগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ পেয়ে যায়, ধর্মের
আবরণে তাদের ব্যবসায়িক কারসাজী ও যাবতীয় মন্দ আচরণ মানুষের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে উঠে, তাদের
কুফরী আক্বীদা ও বিদ্য়াতী আমলগুলো মজবুত দলীল দ্বারা সাবেত করতে ব্যর্থ হয়ে তারা
সমাজ থেকে হয় বিতাড়িত এবং তাদের দ্বীন ধ্বংস করার সকল অপচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত
হয়।
প্রেক্ষিত কারণে না হক্ব স্বার্থ রক্ষার জন্যেই তারা তখন হক্কানী উলামায়ে কিরাম তথা আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিগণ উনাদেরকে নিজেদের প্রাণের শত্রু মনে করে। উনাদের প্রতি মিথ্যা তোহ্মত, অশালীন, মনগড়া ও দলীলবিহীন যতসব আজগুবী বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে জনসাধারণকে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়।
মূলতঃ হক্ব ও নাহক্বের বিরোধিতা পূর্বেও ছিল এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। কেননা, কিতাবে উল্লেখ আছে যে,
প্রেক্ষিত কারণে না হক্ব স্বার্থ রক্ষার জন্যেই তারা তখন হক্কানী উলামায়ে কিরাম তথা আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিগণ উনাদেরকে নিজেদের প্রাণের শত্রু মনে করে। উনাদের প্রতি মিথ্যা তোহ্মত, অশালীন, মনগড়া ও দলীলবিহীন যতসব আজগুবী বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে জনসাধারণকে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়।
মূলতঃ হক্ব ও নাহক্বের বিরোধিতা পূর্বেও ছিল এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। কেননা, কিতাবে উল্লেখ আছে যে,
لكل موسى عليه السلام فرعون ولكل فرعون موسى عليه السلام
অর্থাৎ প্রত্যেক
মূসা আলাইহিস সালাম বা হাদী উনাকে তাকলীফ বা কষ্ট দেয়ার জন্য একজন ফিরআউন বা
বিরোধিতাকারী রয়েছে। তদ্রুপ প্রত্যেক ফিরআউন বা গোমরাহদেরকে হিদায়েতের জন্যে একজন
মূসা আলাইহিস সালাম তথা হাদী রয়েছেন।” (আল বাইয়্যিনাত)
এরই বাস্তবতা আমরা পরিপূর্ণভাবে লক্ষ্য করছি, বর্তমান পনের শতকের মুজাদ্দিদ ও ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ক্ষেত্রেও! তিনি যখনই হক্ব প্রকাশ ও প্রচার শুরু করলেন অর্থাৎ শরীয়তের প্রতিটি বিষয়ের দলীলভিত্তিক সঠিক ফায়সালা তুলে ধরলেন এবং উলামায়ে ‘ছূ’দের মনগড়া দলীলবিহীন ও শরীয়ত বিরোধী বক্তব্য ও আমলগুলো মজবুত দলীল দ্বারা খণ্ডন করে তা জনসম্মুখে ভুল প্রমাণ করে দিলেন। তখনই যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কাযযাব তথা ওলামায়ে ‘ছূ’রা উনার বিরোধিতা শুরু করলো। উনার বক্তব্যকে দলীল দ্বারা খ-ন করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে এবং নিজেদের মনগড়া, শরীয়ত বিরোধী বক্তব্য ও আমলগুলো দলীল দ্বারা সঠিক প্রমাণ করতে না পেরে তারা বেছে নিল সেই আবূ জাহিলের পথ “মিথ্যা অপপ্রচার।”
এরই বাস্তবতা আমরা পরিপূর্ণভাবে লক্ষ্য করছি, বর্তমান পনের শতকের মুজাদ্দিদ ও ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ক্ষেত্রেও! তিনি যখনই হক্ব প্রকাশ ও প্রচার শুরু করলেন অর্থাৎ শরীয়তের প্রতিটি বিষয়ের দলীলভিত্তিক সঠিক ফায়সালা তুলে ধরলেন এবং উলামায়ে ‘ছূ’দের মনগড়া দলীলবিহীন ও শরীয়ত বিরোধী বক্তব্য ও আমলগুলো মজবুত দলীল দ্বারা খণ্ডন করে তা জনসম্মুখে ভুল প্রমাণ করে দিলেন। তখনই যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কাযযাব তথা ওলামায়ে ‘ছূ’রা উনার বিরোধিতা শুরু করলো। উনার বক্তব্যকে দলীল দ্বারা খ-ন করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে এবং নিজেদের মনগড়া, শরীয়ত বিরোধী বক্তব্য ও আমলগুলো দলীল দ্বারা সঠিক প্রমাণ করতে না পেরে তারা বেছে নিল সেই আবূ জাহিলের পথ “মিথ্যা অপপ্রচার।”
মূলতঃ হক্ব ও
নাহক্বের বিরোধিতা পূর্বেও ছিল এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। কেননা, কিতাবে
উল্লেখ আছে যে,
لكل موسى عليه السلام فرعون ولكل فرعون موسى عليه السلام
অর্থাৎ প্রত্যেক মূসা আলাইহিস
সালাম বা হাদী উনাকে তাকলীফ বা কষ্ট দেয়ার জন্য একজন ফিরআউন বা বিরোধিতাকারী
রয়েছে। তদ্রুপ প্রত্যেক ফিরআউন বা গোমরাহদেরকে হিদায়েতের জন্যে একজন মূসা আলাইহিস
সালাম তথা হাদী রয়েছেন।” (আল বাইয়্যিনাত)
এরই বাস্তবতা আমরা পরিপূর্ণভাবে লক্ষ্য করছি, বর্তমান পনের শতকের মুজাদ্দিদ ও ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ক্ষেত্রেও! তিনি যখনই হক্ব প্রকাশ ও প্রচার শুরু করলেন অর্থাৎ শরীয়তের প্রতিটি বিষয়ের দলীলভিত্তিক সঠিক ফায়সালা তুলে ধরলেন এবং উলামায়ে ‘ছূ’দের মনগড়া দলীলবিহীন ও শরীয়ত বিরোধী বক্তব্য ও আমলগুলো মজবুত দলীল দ্বারা খণ্ডন করে তা জনসম্মুখে ভুল প্রমাণ করে দিলেন। তখনই যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কাযযাব তথা ওলামায়ে ‘ছূ’রা উনার বিরোধিতা শুরু করলো। উনার বক্তব্যকে দলীল দ্বারা খ-ন করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে এবং নিজেদের মনগড়া, শরীয়ত বিরোধী বক্তব্য ও আমলগুলো দলীল দ্বারা সঠিক প্রমাণ করতে না পেরে তারা বেছে নিল সেই আবূ জাহিলের পথ “মিথ্যা অপপ্রচার।”বাতিলপন্থিরা এ পর্যন্ত বহু মিথ্যা রটনা বা অপপ্রচারই করেছে। তবে তাদের প্রতিটি মিথ্যা অপপ্রচারেরই দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়া হয়েছে বা রয়েছে। উক্ত জবাবের কোন খণ্ডনমূলক জবাব না দিতে পেরে তারা বাধ্য হয়েছে “অপপ্রচারের জিহ্বা এবং কলম” বন্ধ করতে।
এরই বাস্তবতা আমরা পরিপূর্ণভাবে লক্ষ্য করছি, বর্তমান পনের শতকের মুজাদ্দিদ ও ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ক্ষেত্রেও! তিনি যখনই হক্ব প্রকাশ ও প্রচার শুরু করলেন অর্থাৎ শরীয়তের প্রতিটি বিষয়ের দলীলভিত্তিক সঠিক ফায়সালা তুলে ধরলেন এবং উলামায়ে ‘ছূ’দের মনগড়া দলীলবিহীন ও শরীয়ত বিরোধী বক্তব্য ও আমলগুলো মজবুত দলীল দ্বারা খণ্ডন করে তা জনসম্মুখে ভুল প্রমাণ করে দিলেন। তখনই যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কাযযাব তথা ওলামায়ে ‘ছূ’রা উনার বিরোধিতা শুরু করলো। উনার বক্তব্যকে দলীল দ্বারা খ-ন করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে এবং নিজেদের মনগড়া, শরীয়ত বিরোধী বক্তব্য ও আমলগুলো দলীল দ্বারা সঠিক প্রমাণ করতে না পেরে তারা বেছে নিল সেই আবূ জাহিলের পথ “মিথ্যা অপপ্রচার।”বাতিলপন্থিরা এ পর্যন্ত বহু মিথ্যা রটনা বা অপপ্রচারই করেছে। তবে তাদের প্রতিটি মিথ্যা অপপ্রচারেরই দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়া হয়েছে বা রয়েছে। উক্ত জবাবের কোন খণ্ডনমূলক জবাব না দিতে পেরে তারা বাধ্য হয়েছে “অপপ্রচারের জিহ্বা এবং কলম” বন্ধ করতে।
তবে ইদানিং নতুন কিছু আবূ জাহিল, মুনাফিক
আর দাজ্জালে কাজ্জাবের আবির্ভাব ঘটেছে। তাদের শিরোচ্ছেদ করার জন্যেই এ কিতাব লিখা।
হালে ঢাকার “তাঁতীবাজার
জামেয়া ইসলামিয়া ও মতিঝিল জামেয়া দীনিয়া নামক” খারিজী
মাদরাসা থেকে “স্মরণীকা’০৩ ও
‘আদ্ব
দ্বীন” নামে
দু’টি
সাময়িকী প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীতে তাঁতীবাজার জামেয়া ইসলামিয়ার তথাকথিত মুহাদ্দিছ
হেমায়েত উদ্দীন তার “…………….
ভ্রান্ত মতবাদ” নামক পুস্তিকায়ও “স্মরণীকা’০৩” হুবহু
ছাপিয়ে দেয়। সেগুলোতে যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কাযযাব গং রাজারবাগ
শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বিরোধিতা করতে গিয়ে যে সকল
মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেছে, তা তাদেরকে আশাদ্দুদ দরজার জাহিল, যুগের
আবূ জাহিল, গোমরাহ
ও দাজ্জালে কাযযাব হিসেবেই সাব্যস্ত করেছে।
পক্ষান্তরে তাদের উক্ত লেখাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হক্ব। কেননা, তারা তাদের উক্ত লিখায় রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার আক্বীদা ও আমলগত কোন ভুলই দলীল দ্বারা ছাবেত করতে পারেনি। যা লিখেছে তা সবই মনগড়া ও বানানো। কুরআন শরীফ-সুন্নাহ শরীফ-এর সাথে তার কোনই সম্পর্ক নেই।
স্মর্তব্য যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার আক্বীদা ও আমলগত কোন ত্রুটি বাতিল পন্থিরা আজ পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারেনি। ইনশাআল্লাহ কেউ পারবেও না। কেননা তিনি আক্বীদার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণরূপেই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী। যেমন তিনি বিশ্বাস করেন-
পক্ষান্তরে তাদের উক্ত লেখাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হক্ব। কেননা, তারা তাদের উক্ত লিখায় রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার আক্বীদা ও আমলগত কোন ভুলই দলীল দ্বারা ছাবেত করতে পারেনি। যা লিখেছে তা সবই মনগড়া ও বানানো। কুরআন শরীফ-সুন্নাহ শরীফ-এর সাথে তার কোনই সম্পর্ক নেই।
স্মর্তব্য যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার আক্বীদা ও আমলগত কোন ত্রুটি বাতিল পন্থিরা আজ পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারেনি। ইনশাআল্লাহ কেউ পারবেও না। কেননা তিনি আক্বীদার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণরূপেই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী। যেমন তিনি বিশ্বাস করেন-
·
মহান
আল্লাহ পাক তিনি এক ও অদ্বিতীয়,
·
উনার
কোন শরীক নেই,
·
তিনি
নিরাকার,
·
তিনি
ইলম ও কুদরতের দ্বারা সর্বত্র বিরাজমান এবং আসমা ও ছিফাত দ্বারা সর্বত্র জাহির বা
প্রকাশমান,
·
উনার
হাক্বীক্বী ছূরত কেউ পৃথিবীতে দেখবে না। তবে মেছালী ছূরত দেখা সম্ভব,
·
মহান
আল্লাহ পাক তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী,
·
তিনি
সমস্ত কিছু থেকে বেনিয়াজ,
·
উনার
সমকক্ষ কেউ নেই।
·
কুরআন
শরীফ মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম যা গায়রে মাখলূক।
·
মহান
আল্লাহ পাক তিনি মানব জাতির হিদায়াতের জন্য এক লক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুই
লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পাঠিয়েছেন।
·
নূরে
মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বশেষ নবী ও সর্বশ্রেষ্ঠ রসূল।
·
তিনি
নূরে মুজাসসাম বা নূর মুবারক দ্বারা তৈরী,
·
উনার
শরীর মুবারকের কোন ছায়া ছিলনা,
·
উনার
শরীর মুবারকের সমস্ত কিছুই পবিত্র থেকে পবিত্রতম,
·
উনার
পর আর কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম পৃথিবীতে আগমন করবেন না। কারণ তিনি “খাতামুন্
নাবিইয়ীন”।
কেউ নবী দাবি করলে সে কাট্টা কাফির হয়ে চির জাহান্নামী হবে। যেমন, কাদিয়ানী, বাহাই
সম্প্রদায়।
·
নবী-রসূল
আলাইহিমুস সালামগণ উনারা সকলেই ছিলেন মা’ছূম বা নিষ্পাপ।
·
নবী-রসূল
আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের পর পৃথিবীতে সবচেয়ে মর্যাদাবান ও সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ
হচ্ছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ। এরপর তাবেঈনগণ এবং অতঃপর
পরবর্তীগণ।
·
হযরত
ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ উনাদের বিরোধিতা ও সমালোচনা করা কুফরী,
·
উনারা
প্রত্যেকেই মি’য়ারে
হক্ব বা সত্যের মাপকাঠি,
·
উনাদের
কোন ইজতিহাদই ভুল ছিলনা।
এমনিভাবে ইসলামের প্রতিটি বিষয়েই তিনি
কুরআন শরীফ, হাদীছ
শরীফ, ইজমা
ও ক্বিয়াস তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী। যার ফলে বাতিল
পন্থিরা বা বিরোধিতাকারীরা উনার কোন একটি আক্বীদাও ভুল প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি।
অনুরূপভাবে তিনি আমলের ক্ষেত্রেও
পরিপূর্ণভাবে কুরআন শরীফ, সুন্নাহ শরীফ, ইজমা
ও ক্বিয়াসকে অনুসরণ করেন। অর্থাৎ, ফরয, ওয়াজিব, সুন্নতে
মুয়াক্কাদা, সুন্নতে
যায়িদা এমনকি মুস্তাহাব আমলগুলোও সূক্ষাতিসূক্ষ্মভাবে পালন করেন। যেমন-
·
তিনি
পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামায়াতে তাকবীরে উলার সাথে নিজে ইমাম হয়ে আদায় করেন,
·
রমাদ্বান
মাসে রোযা রাখেন,
·
বিশ
রাকায়াত তারাবীহ নামায নিজে ইমাম হয়ে জামায়াতে আদায় করেন,
·
প্রতি
বৎসর রমাদ্বান শরীফ-এর শেষ দশ দিন ই’তিকাফ করেন,
·
ছদকাতুল
ফিতর আদায় করেন,
·
যাকাত
প্রদান করেন,
·
ঈদের
নামায ছয় তাকবীরে নিজ ইমামতীতে আদায় করেন,
·
প্রতি
রাত্রে তাহাজ্জুদ নামায আদায় করেন, এমনকি সফরে থাকার সময়েও কখনো তিনি
তাহাজ্জুদ নামায তরক করেন না।
·
কুরবানী
করেন,
·
তিনি
খাছ শরয়ী পর্দা করেন, তাক্বওয়া
বা পরহেযগারীর জন্যে উনার সামনে ৫/৭ বছর বয়সের মেয়েদেরকেও আসতে দেননা এবং উনার
অন্দর মহলেও ৫ বছর বয়সের ছেলেও প্রবেশ করতে পারে না।
·
তিনি
যাচাই-বাছাই করে হাদিয়া গ্রহণ করেন।
·
বিশেষ
বিশেষ দিন ও মাসে তিনি নফল রোযা রেখে থাকেন।
·
চলা-ফেরা, খাওয়া-দাওয়া, লেবাস
বা পোষাকে তিনি পরিপূর্ণরূপে সুন্নতের ইত্তেবা করে থাকেন।
এমনিভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি কুরআন
শরীফ, সুন্নাহ
শরীফ, ইজমা
ও ক্বিয়াস মুতাবিক আমল করে থাকেন। যার ফলে বাতিল পন্থি বা বিরোধিতাকারীরা আজ
পর্যন্ত উনার একটি আমলও শরীয়ত বিরোধী বা সুন্নত পরিপন্থী প্রমাণ করতে পারেনি এবং
কস্মিনকালেও পারবেনা ইনশাআল্লাহ।
অনুরূপভাবে উক্ত সাময়িকী বা রেসালাসমূহের
লেখক যূগের আবূ জাহিল, মুনাফিক
ও দাজ্জালে কাযযাবরাও পারেনি রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম
উনার কোন আক্বীদা ও আমল শরীয়ত বিরোধী প্রমাণ করতে। পেরেছে শুধু উনার “লক্বব
মুবারক ও স্বপ্নের” মনগড়া, মিথ্যা, বানোয়াট
ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত ব্যাখ্যা দিয়ে নিজেকে যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক, দাজ্জালে
কাযযাব ও আশাদ্দুদ দরজার জাহিল হিসেবে সাব্যস্ত করতে। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ করতে হয় যে, কুমন্ত্রক
কাযযাব উদ্দীন গং তাদের সমর্থনকারী গোষ্ঠীর অজ্ঞতাকেই নিজের বড় পুঁজি মনে করে
রাজারবাগ শরীফ-এর বিরুদ্ধে তাদের কুমন্ত্রণার জাল বিস্তার করেছে।
তার উদাহরণটা মূলতঃ ঐ রকম যে, অজ্ঞ গ্রামবাসীর সামনে দু’জন শিক্ষকের যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হল, তখন অপেক্ষাকৃত কমজ্ঞানী কিন্তু চতুর শিক্ষক যখন জ্ঞানবান শিক্ষককে জিজ্ঞেস করল “I don’t know”-এর অর্থ কি? জ্ঞানী শিক্ষকের সঠিক জবাব “আমি জানিনা” বললে, অজ্ঞ গ্রামবাসী ভেবে নিল তিনি বুঝি সত্যিই এ প্রশ্নের উত্তর জানেননা।
চতুর কুমন্ত্রক কাযযাব উদ্দীন গং তাদের গোষ্ঠীর অজ্ঞতা সম্পর্কে অবগত। তাই তারা রাজারবাগ শরীফ-এর বিরুদ্ধে অপবাদ রচনা করতে গিয়ে তাদের চিরাচরিত কায়দায় লক্বব, স্বপ্ন তথা বুযূর্গী ইত্যাদি বিষয় নিয়েই অহেতুক অপপ্রচারের কলম ধরেছে, চিরদিনের জন্য হেনস্তা হওয়ার নির্ধারিত লক্ষ্যে।
নিম্নে ‘স্মারক’০৩ “আদ্ব দ্বীন” ও “…..ভ্রান্ত মতবাদ” নামক ভ্রান্ত সাময়িকী ও চটি রেসালাগুলোর মিথ্যাচারিতার দফাওয়ারী দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হলো।
তার উদাহরণটা মূলতঃ ঐ রকম যে, অজ্ঞ গ্রামবাসীর সামনে দু’জন শিক্ষকের যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হল, তখন অপেক্ষাকৃত কমজ্ঞানী কিন্তু চতুর শিক্ষক যখন জ্ঞানবান শিক্ষককে জিজ্ঞেস করল “I don’t know”-এর অর্থ কি? জ্ঞানী শিক্ষকের সঠিক জবাব “আমি জানিনা” বললে, অজ্ঞ গ্রামবাসী ভেবে নিল তিনি বুঝি সত্যিই এ প্রশ্নের উত্তর জানেননা।
চতুর কুমন্ত্রক কাযযাব উদ্দীন গং তাদের গোষ্ঠীর অজ্ঞতা সম্পর্কে অবগত। তাই তারা রাজারবাগ শরীফ-এর বিরুদ্ধে অপবাদ রচনা করতে গিয়ে তাদের চিরাচরিত কায়দায় লক্বব, স্বপ্ন তথা বুযূর্গী ইত্যাদি বিষয় নিয়েই অহেতুক অপপ্রচারের কলম ধরেছে, চিরদিনের জন্য হেনস্তা হওয়ার নির্ধারিত লক্ষ্যে।
নিম্নে ‘স্মারক’০৩ “আদ্ব দ্বীন” ও “…..ভ্রান্ত মতবাদ” নামক ভ্রান্ত সাময়িকী ও চটি রেসালাগুলোর মিথ্যাচারিতার দফাওয়ারী দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হলো।


No comments