রোযাবস্থায় ইনজেকশন, ইনসুলিন, ইনহেলার নিলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে (একটি গবেষণামূলক পোস্ট)
.
ইনজেকশন নিলে রোযা ভাঙ্গে না, এমনকি ‘স্যালাইন’ নিলেও না- কথাগুলো শুনতে বেশ চমৎকার: তবে কালামে
পাক-এর ঘোষণা- “যারা রমাদ্বান শরীফ-এ অসুস্থ কিংবা মুসাফির তারা পরবর্তীতে রোযা কাযা
উঠিয়ে নিবে” একেবারেই মূল্যহীন। কারণ অসুস্থ অবস্থায় কিংবা মুছাফির হালতে দিব্যি
ইনজেকশন বা স্যালাইন নিয়ে রমাদ্বান শরীফেই রোযা পূর্ণ করে ফেলতে পারেন। আর ফিক্বাহ্'র তো কোন প্রয়োজনই নেই এ ব্যাপারে। কারণ ফিক্বাহই তো নির্ধারণ
করেছে- যারা শায়খে ফানি, তাদের ফিদিয়া দিতে
হবে। তারাও তো বেশ স্যালাইন-ইনজেকশন নিয়ে ফিদিয়ার হাত থেকে রেহাই পেয়ে যেতে পারেন।
এমনকি ভবিষ্যতে হয়তো এও শোনা যাবে যে, ইচ্ছে করে পেট ভরে ভাত-পোলাও-বিরিয়ানী ইত্যকার মজাদার সকল খাবার খেলেও রোযা ভঙ্গ
হবে না। নাঊযুবিল্লাহ! কারণ আল্লাহ পাক তিনি রোযার দ্বারা বান্দাকে কষ্ট দিতে চান না।
ইত্যাদি! ইত্যাদি!!
.
বটে! প্রসঙ্গটি এজন্যেই এলো যে, কওমী-দেওবন্দী গোষ্ঠী যেন আদাপানি খেয়ে লেগেছে হারামকে হালাল, আর হালালকে হারাম করার জন্যে। উদাহরণত রোযা অবস্থায় ইচ্ছে করে
শরীরে কিছু প্রবেশ করালে রোযা ভঙ্গ হয়- এটি স্বতঃসিদ্ধ কথা। কিন্তু, উক্ত গোষ্ঠী জোর করেই বলছে- ভাঙ্গে না। ইনজেকশন, এমনকি স্যালাইন, ইনসুলিন নিলেও না। অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের ব্যাপার হলো যে, তারা আবার চিকিৎসকের দোহাই দিয়েই এগুলো বলছে। যেমন তারা বলছে, “ডাক্তারদের সাথে তাহক্বীক্ব ও গবেষণার পর এটাই সাব্যস্ত হলো
যে,
ইনজেকশনের দ্বারা ওষুধ শিরার ভিতরে পৌঁছান হয় এবং যে রগ দিয়ে
রক্ত চলাচল করে বা যে রগ দিয়ে রক্ত চলাচল করে না, তার ভিতর দিয়ে গিয়ে রক্তের সাথে মিশে যায়। মগজ বা পেটের মধ্যে ওষুধ প্রবেশ করে
না। অথচ রোযা ভঙ্গ হবার জন্য ওষুধ ইত্যাদি মগজ অথবা পেটের মধ্যে পৌছানো আবশ্যক।” (ইমদাদুল
ফতওয়া,
২য় জিলদ-১৫৪ পৃষ্ঠা ২১৯ নং সুওয়াল-জাওয়াব)
.
জানি না, কেমন ডাক্তারদের সাথে ফতওয়াদানকারী কওমী গোষ্ঠী আলাপ আলোচনা
করেছে,
কবিরাজ, হেকিম, হাতুড়ে নাকি ফুটপাতের ক্যানভাসার? মেডিকেল কলেজ থেকে স্নাতক যেমন এমবিবিএস ডিগ্রিপ্রাপ্ত এলোপ্যাথিক
চিকিৎসক নিশ্চয়ই নন। আর যদি হয়েও থাকে তাহলে ডাক্তার নামের কলঙ্ক ব্যতীত অন্য কিছু
নয়। কারণ একজন প্রকৃত ডাক্তার দ্বারা এরূপ আজগুবি তথ্য প্রদান কস্মিনকালেও সম্ভব নয়; কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষের যুগে এসেও
এরূপ অদ্ভুত কথা পুনরায় শুনতে হলো উক্ত ফতওয়াদানকারী দেওবন্দী গোষ্ঠীরই উত্তরসূরিদের
কাছে। এটিই আশ্চর্যজনক! পূর্ব যুগের কেউ হয়তো ভুল করে ফতওয়া দিয়েছেন, তাই বলে কি এ যুগেও সত্যাসত্য নিরূপণ করেও সেই ভুলটুকুই আঁকড়ে
ধরে থাকতে হবে? এ কেমন মানসিকতা?
ধিক্কার দিতে হয় তাদেরকে যারা মিথ্যাকে
আঁকড়ে ধরে থাকে। আল্লাহ পাক তিনি কালাম পাকে ইরশাদ করেন, “যারা গুমরাহীর উপরে দৃঢ় থাকে, তারা ওলীয়ে মুর্শিদ পাবে না।”
.
একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি যতবারই ভুল ফতওয়ার
সেই ডাক্তারী তাহক্বীকটুকু পড়েছি, মনে হয়েছে- সেই যুগে কি মানুষের দেহের গঠন অন্য রকম ছিলো? নইলে এটি কেমন করে সম্ভব যে “রক্তে ওষুধ প্রবেশ করিয়ে দিলেও
তা মগজে কিংবা পেটে পৌঁছবে না।” তবে আর ওষুধ (ইনজেকশন বা স্যালাইন যে আকারেই হোক) শিরার
ভিতরে প্রবেশ করানোর প্রয়োজন কি? ওষুধ ব্যবহারের উদ্দেশ্য
তো আর থাকছে না। বর্তমান চিকিৎসা শাস্ত্রের প্রাথমিক জ্ঞানও বলে- রক্তে ও ওষুধ প্রবেশ
করালে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তা মগজে পৌঁছে যায়। যেমন বলা হয়েছে- “Following I. V.
administration, thiopental rapidly crosses the blood-brain-barrier and if given
in sufficient dosage, produces hypnosis in one circulation time.”
অর্থাৎ শিরায় প্রবেশ করানোর পরে অত্যন্ত
দ্রুত থায়োপেন্টাল ব্লাড- ব্রেইন বেরিয়ার অতিক্রম করে যায় এবং যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে
(ডোজে) দেয়া যায় তবে এক সার্কুলেশন সময়ের মধ্যেই তা রোগীকে অজ্ঞান করে ফেলে বা ঘুম
পাড়িয়ে ফেলে।
[Basic and clinical pharmacology, Bertram G. Katzung, 6th (1995),
Edition, P-390] উল্লেখ্য, এক সার্কুলেশন টাইম (গড়ে) হলো- ১৫ সেকেন্ড [Review of
medical physiology, W.F. Ganong, 17th Ed. (1995), P-531]
.
ফিকির করার মতো ব্যাপার বটে। উক্ত ফতওয়া
দানকারী কওমী-দেওবন্দী গোষ্ঠী বলছে- ওষুধ নাকি মগজেই পৌঁছে না। আর চিকিৎসা শাস্ত্রের
জগদ্বিখ্যাত বই বলছে- শুধু যে কেবল পৌঁছে তাই নয়, মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মধ্যেই মগজে পৌঁছে যায়। চিকিৎসক হিসেবে আমি বলি উপরোক্ত তথ্যে
কারো সন্দেহ থাকলে তিনি নিজেই চিকিৎসকের সান্নিধ্যে Thiopental নিয়ে অজ্ঞান হয়ে পরীক্ষা করতে পারেন, তাহলে আর ফতওয়ায় ভুল হবে না আশা করি। কথায় বলে, ‘আক্বলমন্দ কে লিয়ে ইশারাহী কাফি হ্যায়।’
.
চিকিৎসা শাস্ত্রের তথ্য দ্বারা সন্দেহাতীতভাবে
প্রমাণিত হয় যে, “শিরায় প্রবেশ করানো
ওষুধ মগজ,
পেট, এমনকি সারা শরীরে অবশ্যই
পৌঁছে। চিকিৎসা শাস্ত্রের যথাস্থানে চোখ বুলালেই এ কথার সত্যতা প্রকটভাবে ফুটে উঠবে।”
যেমন- AtropineI
অনুরূপ ওষুধ। শিরায় প্রয়োগ করলে অনতিবিলম্বে এটি মস্তিষ্ক, পাকস্থলী, বিভিন্ন গ্রন্থি, Smooth muscle
(যেমন- অন্ত্রের পেশী, মূত্রথলির পেশী) চোখ, হৃৎপি-সহ বহু স্থানে একই সঙ্গে কাজ করতে শুরু করে। মস্তিষ্কের জটিল রোগের যেমন
চিকিৎসা করা যায় এ ওষুধ দিয়ে আবার পেপটিক আলসারসহ বিবিধ পেট ব্যথায়ও এটি কার্যকরী।
এমনি ধরনের অজস্র উদাহরণ ছড়িয়ে আছে চিকিৎসা শাস্ত্রের যত্রতত্র। [সূত্র: Clinical
Pharmacology, D. R, Laurence, 7th (Seventh) Ed. P-389-390)]
.
বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য যে, রোযা অবস্থায় পেটে যদি Ulcer -এর ব্যথা উঠে, তবে Atropine জাতীয় ওষুধ শিরা পথে প্রয়োগ করলে, তা পেটের অভ্যন্তরে যেমন ক্রিয়া করে, মস্তিষ্কেও তেমনি ক্রিয়া করে অর্থাৎ উভয় স্থানেই এটি নিশ্চিতরূপে
পৌঁছে। তবে এ কথা ঠিক, ওষুধ যদিও সারা শরীরেই
পৌঁছে থাকে তথাপি প্রত্যেক স্থানেই তার কার্যকারিতার মাত্রা এক হবে, এমন কোন কথা নেই। কোথাও একেবারেই কাজ নাও করতে পারে। এসব বিষয়
বস্তুত ওষুধের নিজস্ব গুণাবলীসহ বিভিন্ন Factor -এর উপর নির্ভরশীল।
.
ভুল ফতওয়াদানকারী কওমী-দেওবন্দী গোষ্ঠী
আরো বলেছে “ইনজেকশন রগের ভিতর দিয়ে গিয়ে রক্তের সাথে মিশে যায়।” এই মিশে যাওয়া
দিয়ে তারা কি বুঝাতে চেয়েছে, তারাই জানে আর জানে
তাদের সেই ডাক্তাররা। তবে যদি ওষুধ রক্তের সাথে মিশে তার স্বীয় অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে
বলে তারা বুঝিয়ে থাকে, তবে এটিও তাদের উর্বর
মস্তিষ্কের উদ্ভট কল্পনা মাত্র। কারণ রক্ত প্রবাহে ছড়ানো ওষুধ কখনোই তার স্বীয় অস্তিত্ব
হারিয়ে ফেলে না। তবে তো তার উদ্দেশ্যই পন্ড। ওষুধের আর প্রয়োজন কি? তবে হ্যাঁ, যা ঘটে তা হলো, রক্ত যেহেতু বাহনমাত্র (Vehich), যার জন্যেই তাকে বলা হয় Specialized Connective Tissue. ওষুধ রক্তের মধ্যে অস্তিত্ব নিয়ে থেকেই তার (ওষুধের) Target organ অর্থাৎ, নির্দিষ্ট অঙ্গে Therapeutic
effect (উদ্দিষ্ট কার্যকারিতা) প্রয়োগ করে থাকে।
রক্ত যেহেতু অত্যন্ত সচল, তাই নির্দিষ্ট সময়ের
মধ্যেই ওষুধটি তার জন্য নির্ধারিত অঙ্গে Metabolized হয়ে যায়, অতঃপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নির্দিষ্ট
পথে শরীর থেকে বের (Excretion) হয়ে যায়। মজার ব্যাপার
হলো,
যেখানে তারা বলছে, “রক্তের সাথে মিশে যায়, অর্থাৎ ওষুধের আর কার্যকারিতা
অবশিষ্ট থাকে না” আসলে কিন্তু ঠিক উল্টোটিই ঘটে। অর্থাৎ ১০০% কার্যকরী হিসেবে (Bio-availability)
প্রস্তত থাকে।
.
পাঠক! নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন উক্ত ফতওয়াদানকারী
কওমী-দেওবন্দী গোষ্ঠীর বক্তব্য এবং বাস্তবতা, অর্থাৎ চিকিৎসা শাস্ত্রের তথ্যাদির মধ্যে কত বৈপরীত্য, কত তফাৎ। আর হবেই না বা কেন, নিছক কল্পনার উপরে তারা নির্ভরশীল, আর বর্তমান চিকিৎসাশান্ত্র বাস্তবতার নিরিখে উত্তীর্ণ। এতক্ষণকার আলোচনা থেকে এটি
দিবালোকে মত স্পষ্ট ইনজেকশন বা স্যালাইন ইত্যাদি যেহেতু শিরায় প্রবেশ করলে মগজ, পাকস্থলী তথা পেটে নিশ্চিতরূপে পৌঁছে। তাই ইনজেকশন বা স্যালাইন
ইত্যাদি রোযা অবস্থায় গ্রহণ করলে রোযা ভাঙবে।
.
হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ আছে- “আল্লাহ পাক
যার ভালাই চান, তাঁকে দ্বীনের সহীহ সমঝ দান করেন।” “বাহরুর
রায়ক” গ্রন্থের লেখকের ব্যাপারে কথাটি খুবই সত্যি, খুবই প্রয়োজ্য। এ জন্যেই বলছি যে, এত যামানা পূর্বেই তিনি কিভাবে এ ধারণা দিয়ে গিয়েছেন যে, মস্তিস্কের সঙ্গে পাকস্থলীর সরাসরি রাস্তা রয়েছে, এটি ভাবতেও অবাক লাগে। মস্তিস্কের সঙ্গে পাকস্থলীর তথা সারা
শরীরের যে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে রক্ত প্রবাহের Anatom বিবেচনা করলে সহজেই তা বুঝা যায়। “Blood Vessels Are A closed System Of
Conduits That Carry Blood From the Heart To The Tissues And Back To The Heart.”
অর্থ: রক্ত সংবহনতন্ত্র কতগুলো নালীর
সমষ্টি যেগুলো পরস্পরের সঙ্গে ভিতর দিয়ে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং সম্মিলিতভাবে এরা হার্ট
থেকে টিস্যুসমূহে এবং টিস্যু থেকে হার্টে রক্ত বহন করে নিয়ে যায়। [Review Of
Medical Physiology, W,F, Gabong, 17 th Ed (1995), P-5251]
.
অতএব, মস্তিষ্কের সঙ্গে পাকস্থলীর সরাসরি রাস্তাটি আর কিছুই নয় “রক্ত-প্রবাহ” বা Blood
Circulation যার মাধ্যেমে মস্তিষ্কে সকল প্রকার প্রয়োজনীয়
Nutrients,
Oxygen ইত্যাদি পৌঁছে থাকে। আবার মস্তিষ্কের
অভ্যন্তরে প্রস্তুত অতীব প্রয়োজনীয় বিভিন্ন হরমোন (পিটুইটারী গ্রন্থি থেকে) এবং বিবিধ
বর্জ্য দ্রব্য (CO2, ইত্যাদি) মস্তিষ্কের
বাইরে শরীরে অন্যত্র বয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তাও রক্ত প্রবাহের মাধ্যমেই।
.
একটু ভেঙেই বলা যাক- মস্তিষ্কে প্রস্তুত
CO2 ফুসফুস বয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে CO2 নিয়ে রক্ত প্রবাহই ফিরে আসে মস্তিষ্কে। পিটুইটারী গ্রন্থিতে প্রায় ডজনখানেক
হরমোন তৈরি হয় যেগুলো দূরবর্তী অন্যান্য অঙ্গসমূহে কাজ করে, যেমন Thyrod Gland, Adrenal Glands, Ovaries, Testes,
Breasts, Kidnys, Uterus ইত্যাদি। কোনটি কোনটি
আবার সমস্ত শরীরেই কাজ করে, যেমন- Growth Hormone,
Melanocyte Stimulating Hormone ইত্যাদি।
[(সূত্রঃ (Review Of
Medical Physiology, W.F. Ganong, 17th Ed (1995) P-365)]
.
রক্ত প্রবাহ সম্বন্ধে উপরোক্ত আলোচনায়
এটি ফুটে উঠেছে- এ সরাসরি রাস্তা ধরেই কোন ওষুধ মস্তিষ্কে প্রবেশের পরে আবার ফিরেও
আসে,
এবং শরীরের অন্য সকল অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যত্র যেমন এও বলা
হয়েছে,
যেমন-
১)Thiopntal Rapidly Diffuses Out
gZ The Drain And Other Highly Vascular Tissues And Is Redistributed To Muscle,
fat And Eventually All Body Tissue.
অর্থ: থায়োপেন্টাল দ্রুত ব্রেইন ও অন্যান্য
অধিক রক্ত সরবরাহ লাভকারী অঙ্গ থেকে বেরিয়ে যায়, অতঃপর গোশত-পেশী, চর্বি এবং পর্যায়ক্রমে
সমস্ত শরীরে জমা হয়। Basic And Clinical pharmacology Nertram G. Katzung, 6th
Ed, (1995) P-390]
অর্থ: যা কিছু মস্তিষ্কে পৌঁছে তা অবশ্যই
পরবর্তীতে পেটে অর্থাৎ পাকস্থলীতেও পৌঁছে মস্তিষ্ক থেকে।
.
(২)“Mannitol Is rapidly distributed
in the extra cellular compartment and extracts water from the intracellular
compartment………… reduces intracellular volume, this effect is used To reduce
intracranial pressure in neurological conditions……. urine volume increases in
conjunction with mannitol excretion, অর্থাৎ ম্যানিটল
দ্রুত শরীরের E.C কম্পার্টমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেলের
ভিতর থেকে পানি শুষে নেয় (যার মধ্যে মস্তিষ্কের কোষও অন্তর্ভুক্ত)……এভাবে সেলের ভিতরের
আয়তন কমায়। কার্যকারিতার এ দিকটি নিউরোলোজির বিভিন্ন সমস্যায় (অর্থাৎ মস্তিষ্কের
টিউমার,
পানি জমা, চাপ বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি)
ব্যবহার করা হয়।…..যথা সময়ে (সাধারণত ১/২-১ ঘণ্টার মধ্যে) ম্যানিটল প্র¯্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যাবার সময় মস্তিষ্ক ও অন্যান্য স্থান
থেকে শুষে নেয়া পানি সাথে নিয়ে বেরোয় (ভাবার্থ) [Basic and
clinical pharmacology, Bertram G. Katzung, 6th (1995) Edition,-P 242-243]
.
এ রকম আরো অজস্র উদাহরণ রয়েছে চিকিৎসা
শাস্ত্রের স্থানে স্থানে। আল্লাহ তায়ালা উনার পক্ষ থেকে ইলমে লাদুন্নীপ্রাপ্ত ‘বাহরুর
রায়েক’ গ্রন্থের লেখকের এটি একটি বিশেষত্ব যে, তিনি এ রকম সঠিক ক্বিয়াস করতে পেরেছেন। কিন্তু অপরদিকে আমাদের যামানার অত্যন্ত
নিকটবর্তী হয়েও মালানা থানভী, মুফতী শফী, মালানা হোসাইন আহমদ মাদানী, মালানা আসগর হোসেন দেওবন্দী, মালানা মুহম্মদ এজাজ
আলী দেওবন্দী সাহেবরা তাদের চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বাহরুর রায়িক গ্রন্থের
লেখকের ক্বিয়াসটুকু আদৌ বুঝতে না পেরে তারা প্রত্যেকে ধরে নিয়েছে- মগজের সঙ্গে পাকস্থলির
যোগাযোগের রাস্তাটি নিশ্চয়ই মুখের সাথে পাকস্থলীর যোগাযোগের অনুরূপ, অর্থাৎ এটি ফাঁপা পাইপের মত, যার ভিতর দিয়ে খাদ্যদ্রব্যের মত বস্তুসমূহ আসা-যাওয়া করতে পারে। কিন্তু মনুষ্য
দেহে তদ্রুপ রাস্তার অস্তিত্ব কোথায়? চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোথাও তো এরূপ কোন কিছুর বর্ণনাই নেই। দুনিয়ার তাবৎ বড়-ছোট
Anatomy
বইয়েই মানবদেহের গঠন বিবৃত হয়েছে। একজন চিকিৎসক মাত্রই Dissection-এর দ্বারা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে মানবদেহকে দেখেই ডাক্তার হয়েছেন, আন্দাজে নয়। তিনি দেখেছেন- পাকস্থলীর দু’টো মুখ রয়েছে-উপরের
দিকেরটি (Cardiac orifice) দিয়ে esophagus হয়ে মুখের (Mouth) সাথে যোগাযোগ, আর নিচেরটি (Pyloric
orifice) দিয়ে duodenum হয়ে একদম শেষ মাথায় মলদ্বারের সাথে যোগাযোগ। যেমন- It is roughly
J-shaped and has two openings, the cardiac and pyloric orifices- এটি মোটামুটি J আকৃতির এবং তার দু’টো পথ বা ফুটো রয়েছে- কার্ডিয়াক এবং পাইলোরিক [Clinical
Anatomy For Medical Students, Richard S. Snell, 5th Ed. page-196] অনুরূপ কথা Anatomy-র সর্বশ্রেষ্ঠ বই Gray’s Anatomy- সহ সকল বইয়েই
রয়েছে। সে সকল বইয়ে এও রয়েছে যে, একই রক্ত সংবহনতন্ত্র শরীরের সকল অঙ্গে ছড়িয়ে আছে, অর্থাৎ দেহের প্রতিটি অঙ্গকে রক্ত সংবহনতন্ত্র তথা রক্ত প্রবাহ
পরস্পরের সাথে যুক্ত করেছে সরাসরিভাবে। এ জন্যেই রক্তকে বলা হয় Specialised
connective tissue বা বিশেষ সংযোগ কলা যার উদ্ধৃতি
পূর্বেও দেয়া হয়েছে। এতক্ষণের আলোচনা থেকে এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, মস্তিষ্কের সঙ্গে পাকস্থলীর সরাসরি যে রাস্তা প্রবাহ্, সেটি স্রেফ রক্ত সংবহনতন্ত্র বা রক্ত প্রবাহ; কাজেই মস্তিষ্ক কিছু প্রবেশ করলে এ রাস্তা ধরেই তা আবার পাকস্থলীতেও
পৌঁছে।
.
যারা রোযা ভাঙার কারণ হিসেবে ‘মূল রাস্তা’
এবং মগজ ও পাকস্থলীর শর্ত দিয়েছেন- আমাদের এ আলোচনার পরে তারা কি তাদের ভুলটুকু ধরতে
পেরেছেন?
নাকি এখনো অজ্ঞতার আঁধারেই থেকে যাবেন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? অবাক লাগে- মাসিক মদীনা, রাহমানী পয়গাম ও অনুরূপ আরো কিছু বাজারে- পত্রিকা ফতওয়ার নামে, সুওয়াল-জাওয়াবের নামে হালালকে হারাম যেমনি ঠাওড়াচ্ছে, একইভাবে হারামকেও হালাল করছে।
.
ধিক! তাদের এ অপতৎপরতার জন্যে। যদি না
বুঝে করে থাকে, তবে আলাদা কথা। কিন্তু আপাতদৃষ্টে মনে
হয়- যেন সত্যকে না মানাটাই তাদের জন্য বাহাদুরী মনে করে নিজেরা। আশা করি তারা এবার
তওবার জন্যে প্রস্তুত হবে। কিতাবে আছে- “প্রত্যেক বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি রয়েছেন।”
বর্তমানে চিকিৎসা শাস্ত্রে তো রয়েছেনই, অতীতেও অভিজ্ঞজনের অভাব ছিলনা। কিন্তু পূর্বোক্ত ফতওয়াদানকারী কওমী-দেওবন্দী গোষ্ঠী
কেমন করে ইসলামের পঞ্চ বুনিয়াদের অন্যতম রোযার মত অতীব গুরুত্বপূর্ণ ফরযে আইন বিষয়ে
চিকিৎসা শাস্ত্রের নিতান্ত প্রাথমিক জ্ঞানহীন ব্যক্তির সঙ্গেই আলোচনা করে ফতওয়া দেয়ার
সাহস করলো? ফলশ্রুতিতে করে বসলো মারাত্মক ভুল। এটি
কি তাদের কান্ড জ্ঞানহীনতারই পরিচয় বহন করে না?
“নিম হেকিম খত্রে জান, নিম মোল্লা খত্রে ঈমান”-কথাটি দেখছি তাদের ব্যাপারে হাড়ে হাড়ে সত্য। তাদের সিলসিলাভুক্ত
বর্তমানের প্রতিভূরা নিশ্চয়ই এ ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না আশা করি।
.
ইনজেকশন নিলে রোযা ভাঙে- সেটিই তো চিকিৎসা
শাস্ত্রের মতে ঠিক। কারণ, (১) মূল রাস্তা (২) মগজ
ও পাকস্থলীতে পৌঁছা- এ উভয় শর্তই তো ইনজেকশন ও স্যালাইন দ্বারা পূরণ হয়। অর্থাৎ গোশতের
মধ্যে ইনজেকশন নেয়া হলেও শীঘ্রই তা নিশ্চিতরূপে শিরায় ঢুকে এবং মূল রাস্তা ধরে মগজ
এবং পাকস্থলীর মধ্যে পৌঁছে। আর শিরার মধ্যে সরাসরি নিলে তো কথাই নেই।
.
লক্ষণীয় যে, মগজ এবং পাকস্থলীর মধ্যে সরাসরি যে রাস্তা রয়েছে, সেটি মুখ এবং পাকস্থলীর মধ্যকার রাস্তার অনুরূপ নয় বরং সে রাস্তা
হচ্ছে রক্তনালী অর্থাৎ মগজ থেকে রক্তনালীর মাধ্যমে ওষুধ, স্যালাইন ইত্যাদি পাকস্থলীতে পৌঁছে থাকে। আর সে রক্তনালী সম্পূর্ণ
শরীরেই বিরাজমান। ইনজেকশন এবং স্যালাইন ইত্যাদি এই রক্ত-নালীতেই দেয়া হয়। যে রক্তনালী
মগজ থেকে পাকস্থলীতে ওষুধ স্যালাইন ইত্যাদি পৌঁছায় সে রক্তনালীই শরীরের বিভিন্ন স্থান
থেকে সেগুলোকে রক্তের মাধ্যমে মগজে পৌঁছায়।
.
আবার মগজ থেকে একই রক্তনালীর মাধ্যমে
পাকস্থলীতে পৌঁছে। কাজেই দেখা যাচ্ছে- যে মাধ্যমে মগজ থেকে পাকস্থলীতে ওষুধ ইত্যাদি
বস্তু পৌঁছার কারণে রোযা ভঙ্গ হয়, ঠিক একই মাধ্যমে ইনজেকশন ও স্যালাইন ইত্যাদি নিলে রোযা ভঙ্গ হবে। এখানে আরো লক্ষণীয়
যে,
যদিও পূর্ববর্তী যামানায় ইনজেকশন, স্যালাইন ইত্যাদি ছিল না, তা সত্ত্বেও ‘বাহরুর রায়েক’ গ্রন্থের সম্মানিত লেখক ইনজেকশন এবং স্যালাইন ইত্যাদি
নিলে যে রোযা ভঙ্গ হবে তার উছুল বর্ণনা করে গিয়েছেন। উছুল হচ্ছে- মগজ থেকে রক্তনালী
দিয়ে কোন ওষুধ-স্যালাইন পাকস্থলীতে পৌঁছলে রোযা ভঙ্গ হবে- অর্থাৎ শরীরের মধ্যে রক্তনালীতে
যদি কোন ওষুধ-স্যালাইন ইত্যাদি প্রবেশ করে তবে তাতে রোযা ভঙ্গ হবে।
.
এ প্রসঙ্গে এটিও উল্লেখযোগ্য যে, মগজ ও পাকস্থলীর মধ্যে যে রাস্তা রয়েছে, তা মুখ এবং পাকস্থলীর মধ্যকার রাস্তার অনুরূপ নয় বিধায় হযরত
ইমামে আ’যম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং ছাহেবাইন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা
রোযা ভঙের জন্য মূল রাস্তার শর্ত দেননি। কারণ মূল রাস্তা শর্ত দিলে মগজ থেকে পাকস্থলীতে
ওষুধ-স্যালাইন পৌঁছলে রোযা ভঙ্গ হবে- এ ফতওয়া গ্রহণযোগ্য হতো না।
.
মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে সহীহ সমঝ
দান করুন। (আমীন)
-
লেখক: ডাঃ আবু মুহম্মদ ছালেহ্
নিউরো সার্জারী বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


No comments