ইমামুল আউলিয়া, হাবীবে রহীম, মাহবূবে রহমান, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক
পবিত্র নাম মুবারক ও পরিচিতি মুবারক:
ইমামুল আউলিয়া, হাবীবে ওয়া মাহবুবে রহমান, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ
ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আহলু বাইত শরীফ
উনাদের ৮ম ইমাম। সুবহানাল্লাহ! উনার মুবারক নাম হযরত আলী আলাইহিস সালাম। কুনিয়াত আবুল
হাসান। রিদ্বা উনার অন্যতম লক্বব মুবারক বা উপাধি। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ আলাইহিস
সালাম তিনি বর্ণনা করেন, আমি আমার কুনিয়াত মুবারক
হযরত ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনাকে দিয়েছি। উনার মুবারক নাম উনার পিতা ‘মামুনুর
রিদ্বা’ রেখেছিলেন এবং উনাকে বেলায়েত পদেরও ওসিয়ত করেছিলেন। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার নাম ‘আর রিদ্বা, রাখেন। কেননা, তিনি আকাশে মহান আল্লাহ
পাক উনার রিদ্বা (সন্তুষ্টি) এবং পৃথিবীতে রসূলে মকবুল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
রিদ্বা ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি এরূপ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন যে, তিনি আপন মিত্রদের ন্যায় শত্রুদের প্রতিও সন্তুষ্ট থাকতেন। উনার
সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ আলাইহিস সালাম তিনি বলতেন, আমার সম্মানিত আওলাদকে তোমরা রিদ্বা বলে ডেকো। তিনি যখন উনাকে
সম্বোধন করতেন, তখন বলতেন, হে আবুল হাসান আলাইহিস সালাম!
পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:
ইমামুল আউলিয়া, হাবীবে ওয়া মাহবুবে রহমান, যিকরানে ক্বিবলায়ে জামীয়ে আহলিল ইসলাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ
ছামিন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ সম্পর্কে- খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ,
ইমামুশ শরীয়ত
ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ,
কুতুবুল
আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত
মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র ১১ই
যিলক্বদ শরীফ ইয়াওমুল আহাদ ১৪৮ হিজরী সনে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর
এটাই হচ্ছে মু’তাবার বা নির্ভরযোগ্য মত। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত পিতা-মাতা:
ইমামুল আউলিয়া, হাবীব ওয়া মাহবুবে রহমান, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ
ছামিন আলাইহিস সালাম উনার পিতা, ইমামুল মুসলিমীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ আলাইহিস সালাম। উনার
সম্মানিত মাতা উনার অনেক নাম মুবারক রয়েছে- ওরভী, নাজমা, শাম্মানা ও উম্মুল বানীন আলাইহাস
সালাম। (শাওয়াহিদুন নুবুওয়াত-২৬১,
মিরায়াতুল আসরার-২১৫, ইকতিরাসূল আনওয়ার-১৪৮, সাফীনাতুন আউলিয়া-৪০)
বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস
সাবি’ আলাইহিস সালাম উনার মা সাইয়্যিদাতুনা হযরত হামীদা আলাইহাস সালাম উনার খাদিমাহ
অর্থাৎ মুহব্বতের পাত্রী ছিলেন হযরত নাজমা আলাইহাস সালাম। উনার মা এক রাতে নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি উনাকে বলছেন,
হযরত নাজমা
আলাইহাস সালাম উনার শাদী মুবারক আপন আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ আলাইহিস সালাম
উনার সাথে সম্পন্ন করুন। কেননা, উনার রেহেম শরীফ থেকে
এক সম্মানিত আওলাদ সন্তান পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করবেন, যিনি সমস্ত দুনিয়ার সকলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হবেন। সুবহানাল্লাহ!
উনার সম্মানিতা মাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাজমা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম তিনি আমার পবিত্র রেহেম শরীফ-এ অবস্থান
করাকালীন সময়ে আমি কোন প্রকার বোঝা বা কষ্ট অনুভব করিনি। ঘুমের সময় আমার রেহেম শরীফ
থেকে ‘সুবহানাল্লাহ’ ও ‘আল্লাহ’ আল্লাহ’ শব্দ শুনা যেত। সুবহনাল্লাহ! এতে আমি জাগ্রত
হয়ে যেতাম। কিন্তু এরপর কোন আওয়াজ শুনতাম না। যমীনে তাশরীফ আনার সময় তিনি আপন মুবারক
হাতদ্বয় মাটিতে এবং মুবারক মুখম-ল আকাশের দিকে রেখে মুবারক ঠোঁট নাড়তে থাকেন যেমন
কথা বলা ও দোয়া করার সময় নাড়া হয়। সুবহানাল্লাহ!
ইমামুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত
আছে। তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাথে সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস
সালাম উনাকে মুবারক স্বপ্নে দেখেছি। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনার আওলাদ ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক
উনার বিশেষ নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রহস্যবলী বর্ণনা করবেন।
উনার অভিমত সঠিক হবে। এতে ভুলত্রুটি থাকবে না। তিনি হাকিম বা বিজ্ঞ হবেন। উনার মজলিশে
ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরামসহ দার্শনিক উপস্থিত
থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!
আশিকে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুর
রহমান মোল্লা জামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, কিতাবসমূহে যা লেখা হয়েছে এবং মুখে মুখে যা প্রচলিত আছে, তা সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার সীমাহীন ফযীলত
ও গুণাবলীর সামান্য অংশ মাত্র। বলতে পারেন যে, মহা-সমুদ্র থেকে একটি বিন্দুমাত্র। সুবহানাল্লাহ! (শাওয়াহিদুন নুবুওওয়াত-২৬১, ইক্বতিরাসুল আনওয়ার-১৪৮, মিরায়াতুল আনওয়ার-২১৫, সাফীনাতুল আউলিয়া-৪০)
কতিপয় কারামত মুবারক:
১। আব্বাসী শাসক মামুনুর রশীদ যখন আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনাকে নিজের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন, তখন থেকে যখনই তিনি মামুনুর রশিদ-এর শাহী দরবারে যেতেন, খাদিমরা উনাকে অভ্যর্থনা জানাতেন এবং মামুনের দরজায় ঝুলন্ত পর্দা
উঠিয়ে দিতেন, যাতে তিনি সহসাই অন্দর মহলে প্রবেশ
করতে পারেন। এক পর্যায়ে কিছু ক্ষমতালিপ্সু,
লালসা পূজারী
ব্যক্তির মনে হিংসার সৃষ্টি হল। একদিন যখন আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা, হযরত ইমামুছ ছামিন আলাইহিস
সালাম তিনি আগমন করলেন, তখন সেই ব্যক্তিরা বসাবস্থায়
ছিল। তারা উনাকে দেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাঁড়াল এবং অভ্যর্থনার জন্যে পর্দা উঠালো। তিনি
যখন ভিতরে চলে গেলেন, তখন তারা পরস্পরে বলাবলি
করতে লাগলো, আমরা এরূপ কেন করলাম? এখন থেকে এরূপ করবো না।
এরপর যখন আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ
ছামিন আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন, তখন তারা উনার সম্মানার্থে
দাঁড়ালো, সালামও করল; কিন্তু পর্দা উঠানোর ব্যাপারে ইতস্তত করল। কিন্তু তাদের পর্দা
উঠানোর আগেই মহান আল্লাহ পাক তিনি পর্দা উঠিয়ে দেয়ার মত বাতাস চালালেন। তিনি ভিতরে
চলে গেলে বাতাস বন্ধ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি যখন ফিরে আসার ইচ্ছা করলেন, তখন আবার বাতাস প্রবাহিত হলো এবং পর্দা উঠে গেল। হিংসুকরা এ
দৃশ্য দেখে বলতে বাধ্য হলো যে, যাকে আল্লাহ পাক তিনি
উচ্চ করেন, তাকে খাটো করবে কে? এরপর থেকে তারা পূর্ববৎ খিদমতে আঞ্জাম দিতে থাকে। সুবহানাল্লাহ!
(শাওয়াহিদুন নুবুওওয়াত-২৬২)
২। হযরত দা’বল ইবনে আলী খুযায়ী তৎকালীন বিশিষ্ট কবিদের অন্যতম ছিলেন। তিনি বললেন, আমি একটি প্রশংসামূলক কবিতা রচনা করে আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার মুবারক খিদমতে
পেশ করলাম। তখন খোরাসানে মামুনুর রশীদের উত্তরাধিকারীও উপস্থিত ছিল। আমি তাকেও শুনালাম।
সে খুব পছন্দ করল এবং বলল এই প্রশংসামূলক কবিতাটি কারও কাছে পাঠ করবেন না। কেবল আমি
যাকে চাই তার কাছেই পাঠ করবেন। এ সংবাদ মামুন জানতে পেরে আমাকে দরবারে তলব করলেন। কুশলাদি
জিজ্ঞাসা করার পর তিনি বললেন, তোমার রচিত প্রশংসামূলক
কাব্যটি পাঠ করে শুনাও। আমি ইতস্তত করলে তিনি আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম আরজী করে বললেন, হে আবুল হাসান আলাইহিস সালাম! আমি দা’বলকে তার প্রশংসামূলক কাব্য
শুনাতে বলেছিলাম। কিন্তু সে শুনায়নি। তখন আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম আমাকে পড়তে বললে আমি
পড়ে শুনালাম। খলিফা খুব পছন্দ করলেন। তিনি আমাকে পঞ্চাশ হাজার দীনার বখশিশ দিলেন এবং
এই পরিমাণ অর্থই আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন
আলাইহিস সালাম উনার খিদমতে পেশ করলেন।
আমি আরজ করলাম, আমি চাই আপনি আমাকে নিজের
কোন কাপড় মুবারক দান করেন যা দ্বারা আমি আমার কাফন করব। তিনি আমাকে একটি মুবারক কোর্তা
ও একটি তোয়ালে দিলেন। এগুলো অত্যান্ত উৎকৃষ্ট ছিল। অতঃপর বললেন, এগুলো খুব সামলিয়ে রাখবেন। এগুলো স্বয়ং নিজেই হিফাযত করবেন।
এরপর আমি ইরাক অভিমুখে রওয়ানা হলাম। পথিমধ্যে ডাকাতরা আমাদের সর্বস্ব লুট করে নিল।
আমার কাছে কেবল একটি পুরাতন জামা অবশিষ্ট রইল। আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার প্রদত্ত মুবারক
কোর্তা ও তোয়ালের জন্য আমার আফসোসের অন্ত ছিল না। তিনি এগুলো সামলে রাখতে বলেছিলেন
এবং এগুলো বিশেষভাবে হিফাযত করতে বলেছিলেন। উনার এসব মুবারক উক্তির ব্যাপারেও আমি গভীরভাবে
চিন্তিত ছিলাম। হঠাৎ জনৈক ডাকাতকে ঘোড়ায় চড়ে ছুটে আসতে দেখলাম। সে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে
গেল এবং সঙ্গীদের জন্যে অপেক্ষা করতে লাগল। সঙ্গীরা সকলেই এসে গেল। সে আমার প্রশংসামূলক
কাব্যটি পাঠ করতে শুরু করল এবং সাথে সাথে কাঁদতে লাগল। আমি মনে মনে বললাম, অদ্ভুদ ব্যাপার,
এই ডাকাতরাও
দেখছি আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বতে বিভোর। সুবহানাল্লাহ!
এ কারণে আমার মধ্যে আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন
আলাইহিস সালাম উনার প্রদত্ত মুবারক কোর্তা ও তোয়ালে ফেরত পাওয়ার বাসনা প্রবল হয়ে গেল।
আমি বললাম, হে সরদার! এই প্রশংসামূলক কাব্য
কে রচনা করেছেন, জান? সে বললো, এতে তোমার কি? আমি বললাম, তার সম্পর্কে কিছু গোপন
কথা আছে, যা বলব। সে বলল এই কাব্যের রচয়িতা
এই কাব্যের চেয়েও সুখ্যাত। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, সে কে? সে বলল, দা’বল ইবনে আলী,
যিনি রসূলুল্লাহ
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিবার আলাইহিমুস সালাম উনাদের কবি। আমি বললাম, হে সরদার! আমি দা’বল। এই কাব্য আমিই রচনা করেছি। অতঃপর সরদার
আমাকে অনেক প্রশ্ন করল এবং কাফেলার লোকদেরকে ডেকে আমার বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করল।
সকলেই সাক্ষ্য দিল যে, ইনিই দা’বল। এরপর ডাকাতরা
কাফেলার কাছ থেকে যা যা ছিনিয়ে নিয়েছিল,
সবই ফেরত
দিল এবং কোন কিছুই নিজেদের কাছে রাখল না। শুধু তাই নয়, তারা আমাদের রক্ষক হয়ে সকল বিপদজনক স্থান অতিক্রম করতে সাহায্য
করল। এভাবে আমরা সকলেই মুবারক কোর্তা ও তোয়ালের বরকতে এই বালা মুছিবত থেকে রেহাই পেলাম।
সুবহানাল্লাহ! (শাওয়াহিদুন নুবুওওয়াত-২৬৩)
৩। জনৈক কুফাবাসী বর্ণনা করেন, আমি যখন খোরাসানের উদ্দেশ্যে
কূফা থেকে রওয়ানা হই, তখন আমার কন্যা আমাকে
একটি উৎকৃষ্ট মানের কাপড় দিয়ে বলল, আব্বাজান! এটি বিক্রি
করে আমার জন্যে ফিরোজা পাথর কিনে আনবেন। আমি মার্ভ পৌঁছলে আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার মুহব্বতকারীদের
মধ্যে একজন এসে আমাকে বললেন, আমাদের একজন সাথী মারা
গেছেন। তার কাফনের জন্য এই কাপড় আমাদের কাছে বিক্রি করুন। আমি বললাম, আমার কাছে কোন কাপড় নেই। একথা শুনে সে চলে গেল কিন্তু পুনরায়
এসে বলতে লাগল, আমাদের মনিব আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন
এবং বলেছেন যে, আপনার কাছে একটি কাপড় আছে, যা আপনার কন্যা বিক্রি করে ফিরোজা পাথর কিনে নেয়ার জন্য বলেছে।
আমি এর মূল্য নিয়ে এসেছি।
আমি কাপড় তাকে দিয়ে দিলাম এবং আমি মনে মনে বললাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন
আলাইহিস সালাম উনাকে কয়েকটি মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করব। সে মতে আমি কয়েকটি মাসয়ালা কাগজে
লিখে অতি প্রত্যুষে উনার দরবার শরীফ-এ পৌঁছে গেলাম। সেখানে অনেক জনসমাগম ছিল। এই ভিড়
ঠেলে সহজে দেখা করার সাধ্য কারো ছিল না। আমি বিস্ময়াবিষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। এমন সময়
উনার এক খাদিম বাইরে এল এবং আমার নাম নিয়ে একটি লিখিত কাগজ আমাকে দিয়ে বললেন- এগুলো
আপনার প্রশ্নের জাওয়াব। আমি দেখলাম যে,
তাতে হুবহু
আমার প্রশ্নগুলোরই জাওয়াব লিখিত ছিল। সুবহানাল্লাহ! (শাওয়াহিদুন নুবুওওয়াত-২৬৪)
৪। নাব্বাখ বাসীদের একজন বর্ণনা করেন,
আমি নূরে
মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখলাম যে,
তিনি নাব্বাখে
এসেছেন এবং হজ্জযাত্রীগণ যে মসজিদে অবস্থান করেন, সেখানে তিনি মুবারক অবস্থানরত আছেন। আমি উনার মুবারক খিদমতে উপস্থিত হয়ে সালাম
আরজ করলাম। উনার সামনে একটি খাঞ্চা মুবারক ছিল, যাতে ছায়হানী খেজুর রাখা ছিল। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
তা থেকে এক মুঠি খেজুর মুবারক আমাকে দিলেন। আমি গণনা করে সতেরটি খেজুর পেলাম। আমি এই
স্বপ্নের তা’বীর বা ব্যাখ্যা করেছি যে,
আমার বয়ঃক্রম
আর সতের বছর বাকি আছে। এ ঘটনার বিশ দিন পরে আমি শুনতে পেলাম যে, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন
আলাইহিস সালাম সেই মসজিদে মুবারক আগমন করেছেন। আমি তৎক্ষণাৎ উনার মুবারক খিদমতে হাযির
হলাম। আমি উনাকে সেই স্থানেই দেখলাম, যেখানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে
স্বপ্নে দেখেছি। উনার কাছেও তেমনি খেজুর ভর্তি খাঞ্চা রাখা ছিল। আমি এগিয়ে গিয়ে সালাম
আরজ করলে তিনি জাওয়াব দিলেন এবং আমাকে কাছে ডেকে এক মুঠি খেজুর দিলেন। আমি গণনা করে
দেখলাম সতেরটি খেজুর আছে। আমি বললাম, হে ইবনে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার তো আরও বেশি খেজুর দরকার। তিনি বললেন, যদি নূরে মুজাসসাম,
হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাকে আরো বেশি দিতেন, তবে আমিও দিতাম। সুবহানাল্লাহ! (শাওয়াহিদুন নুবুওওয়াত-২৬৪, ইক্বতিরাসুল আনওয়ার-১৪৯)
৫। জনৈক রাবী বর্ণনা করেন, রাইয়ান ইবনে ছলত আমাকে
বললেন, আমি আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার সাথে এই আশায়
সাক্ষাৎ করতে চাই যে, তিনি আমাকে নিজের কোন
কাপড় মুবারক পরাবেন এবং কয়েকটি দেরহামও দান করবেন। আপনি অনুগ্রহপূর্বক আমার জন্যে সাক্ষাতের
অনুমতি হাসিল করুন। এরপর আমি যখন আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার দরবার শরীফ-এ হাযির হলাম, তখন কোন কিছু বলার আগেই তিনি আমাকে বললেন, রাইয়ান ইবনে ছলত এখানে হাযির হতে চায়, যাতে আমি তাকে কাপড় পরিধান করাই এবং আমার নামে জারীকৃত দেরহাম
থেকে তাকে কয়েকটি দেরহাম দেই। রাইয়ানকে এখানে নিয়ে এসো। রাইয়ান ভিতরে গেলে তিনি তাকে
দু’টি কাপড় এবং ত্রিশটি দিরহাম দান করলেন। সুবহানাল্লাহ! (শাওয়াহিদুন নুবুওওয়াত-২৬৪)
৬। এক ডাকাত কোন ব্যবসায়ীকে কিরমানের পথে শীতকালে ধরে ফেলল। অতঃপর তার মুখ বরফের
মধ্যে চেপে তাকে শুইয়ে দিল। ফলে, তার জিহ্বা বিকল হয়ে গেল।
সে অনায়াসে কথা বলতে পারত না। সে খোরাসানে পৌঁছে জানতে পারল যে, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ
ছামিন আলাইহিস সালাম তিনি নিশাপুর গমন করেছেন। সে মনে মনে বলল, উনি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সদস্য। উনার
খিদমতে হাযির হলে সম্ভবত আমার চিকিৎসা সম্ভব হবে। ব্যবসায়ী রাতে স্বপ্নে দেখলো যে, সে আওলাদে রসূল,
সাইয়্যিদুনা
হযরত ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরোগ্য প্রার্থনা করছে। তিনি
বললেন, কমুনী, মরু এলাকার পুদিনা ও লবণ নিয়ে এগুলো পানিতে ভিজিয়ে দু’তিন বার
মুখে রাখ। এতে আরোগ্য লাভ করবে। জাগ্রত হওয়ার পর এ স্বপ্নের প্রতি তার তেমন বিশ্বাস
হল না। সে নিশাপুর পৌঁছে জানতে পারল যে,
আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম তিনি বাইরে কোন সরাইখানায়
অবস্থান করছেন। ব্যবসায়ী উনার খিদমতে হাযির হয়ে নিজের অবস্থা বর্ণনা করলো; কিন্তু স্বপ্নের উল্লেখ করলো না। হযরত ইমামুছ ছামিন তিনি বললেন, তোমার ঔষধ তাই,
যা আমি স্বপ্নে
তোমাকে বলেছিলাম। সে বললো, ইয়া ইবনা রসূলিল্লাহ!
অনুগ্রহপূর্বক সেটি পুনরায় বলুন। অতঃপর তিনি পূর্বের ব্যবস্থাপত্রই বলে দিলেন। ব্যবসায়ী
তদনুযায়ী আমল করে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করল। (সুবহানাল্লাহ)
৭। একদিন হযরত ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম তিনি এক ব্যক্তিকে দেখে বললেন, হে মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা! যা ইচ্ছা ওছিয়ত কর এবং যা থেকে
পলায়নের কোন পথ নেই তার জন্যে প্রস্তুত হও। একথা বলার পর তিনদিন অতিবাহিত হতেই লোকটি
মারা গেল। (সুবহানাল্লাহ)
৮। হযরত আবূ ইসমাঈল সিন্ধী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি যখন আওলাদে রসূল,
সাইয়্যিদুনা
হযরত ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাক্ষাত করতে যাই, তখন আরবী ভাষার আলিফ বা ও জানতাম না। আমি সিন্ধী ভাষায় উনাকে
সালাম করি এবং তিনি সেই ভাষায়ই জাওয়াব দেন। এরপর আমি আমার ভাষায় কয়েকটি প্রশ্ন করলাম।
তিনি একই ভাষায় সকল প্রশ্নের উত্তর দিলেন। আমি ফিরে আসার সময় আরয করলাম, আমি আরবী বলতে পারি না। আপনি দোয়া করুন, যেন মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে এ ভাষা ইলহাম করেন। তিনি নিজের
পবিত্র হাত আমার ঠোঁটের উপর বুলালেন। আর আমি তখনি আরবীতে কথা বলতে শুরু করলাম। (সুবহানাল্লাহ)
৯। এক রাবী বর্ণনা করেন, অতি উৎকৃষ্ট রেশমী বস্ত্র
দিয়ে ইহরামের চাদর তৈরী করা হলো। ইহরাম বাঁধার সময় আমার মনে রেশমী বস্ত্রের ইহরাম হালাল, না হারাম- এ বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি হলো। শেষ পর্যন্ত আমি রেশমী ইহরাম
বর্জন করে অন্য কাপড় পরিধান করলাম। পবিত্র মক্কা শরীফ-এ পৌঁছার পর আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার খিদমতে একটি পত্রসহ
সেই বস্ত্রও পাঠিয়ে দিলাম। কিন্তু রেশমী বস্তের ইহরাম জায়েয কিনা, একথা পত্রে লিখতে ভুলে গেলাম। অথচ এ সম্পর্কেই পত্র পাঠানো হয়েছিল।
অবশেষে দূত পত্রের জাওয়াব নিয়ে ফিরে এল। পত্রের শেষভাগে তিনি লিখেছিলেন, যদি কেউ রেশমী বস্ত্রে ইহরাম বাঁধে, তবে তাতে কোন দোষ হবে না।
১০। অন্য একজন বর্ণনা করেন, আমি একদিন আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার সাথে এক বাগানে
আলাপ করছিলাম। হঠাৎ একটি পাখি এসে মাটিতে পড়ে গেল এবং অস্তির অবস্থায় চিঁচিঁ করতে লাগল।
আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন
আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তুমি জান সে কি বলছে? আমি বললাম, না জানিনা। তিনি বললেন, সে বলছে, এই ঘরে একটি সাপ প্রবেশ
করেছে সে আমার বাচ্চাগুলোকে খেয়ে ফেলতে চায়। তিনি আমাকে বললেন, উঠ, এই ঘরে গিয়ে সাপটি মেরে
ফেল। আমি গিয়ে সেটি মেরে ফেললাম। সুবহানাল্লাহ! (শাওয়াহিদুন নুবুওওয়াত-২৬৮, ইকতিরাসূল আনওয়ার-১৫০)
১১। একজন রাবী বর্ণনা করেন, আমি আমার সন্তান সম্ভবা
স্ত্রী সম্পর্কে আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন
আলাইহিস সালাম উনার খিদমতে নিয়ে গেলাম এবং আরজ করলাম, হুযূর! দোয়া করুন। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন তাকে আওলাদ সন্তান
দান করেন। তিনি বললেন, তোমার আহলিয়া রেহেমে দু’টি
সন্তান রয়েছে। ফিরে আসার সময় মনে মনে সাব্যস্ত করলাম এক সন্তানের নাম রাখব মুহম্মদ
এবং অপরটি আলী। তিনি আমাকে ডেকে বললেন,
এক সন্তানের
নাম আলী রাখবে এবং অন্যজনের নাম ওমর। দুটি সন্তানই ভুমিষ্ট হওয়ার পর দেখা গেল, একটি আওলাদ এবং অপরটি কন্যাসন্তান। তাদের নাম যথাক্রমে আলী ও
উম্মে ওমর রাখা হলো। একদিন আমি মাকে জিজ্ঞাসা করলাম, উম্মে ওমর কেমন নাম? মা জাওয়াব দিলেন, আমার মায়ের নাম উম্মে উমর ছিল।
১২। আব্বাসী শাসক মামুনুর রশিদ আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনাকে খিলাফতের পদ পেশ করলে তিনি কবুল
করলেন না। খলিফার অনুরোধ এবং তাঁর অস্বীকৃতির টানাপোড়েন দু’মাস পর্যন্ত অব্যাহত রইল।
অবশেষে ব্যাপারটি সীমা ছাড়িয়ে হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন পর্যন্ত পৌঁছে গেলে তিনি কবুল
করার সম্মতি দিলেন।
১৩। আবুছ ছলত বরদরির ঘটনা থেকেও আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার কারামত মুবারক প্রকাশ পায়। ঘটনা
এরূপ- আবুছ ছলত বলেন, একদিন আমি আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার সামনে দ-ায়মান
ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, এই কবরের কাছে যাও। এটা
হারুনুর রশীদের কবর। এর চতুর্দিক থেকে মাটি তুলে আন। আমি মাটি তুলে আনলাম। তিনি এর
ঘ্রাণ নিয়ে ফেলে দিলেন। অতঃপর বললেন, সত্বরই এখানে আমার জন্যে
একটি গর্ত খনন করা হবে, যাতে একটি পাথর প্রকাশ
পাবে। খোরাসানের সকল গোর খননকারী মিলেও এটি সরাতে পারবে না। এরপর আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, অমুক জায়গা থেকে মাটি তুলে আন। আমি নিয়ে এলে তিনি বললেন, সেখানে আমার জন্যে একটি গর্ত খনন করা হবে, যা সাত হাত গভীর হবে।
এরপর তার মধ্যে কবর রচনা করবে। রাজকীয় ফরমান পূর্ণ না হলে লহদই বানাবে, যা দু’হাত হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি যতকুটু চাইবেন, একে প্রশস্ত করে দিবেন। এই গর্ত খনন করার সময় আমার শিয়রের দিক
থেকে এক প্রকার আর্দ্রতা সৃষ্টি হবে। আমি তোমাকে যা শিখিয়েছি, তুমি তাই করবে। পানি স্ফীত হবে এবং লহদ ভরে যাবে। তুমি তাতে
ছোট ছোট মাছ দেখতে পাবে। আমি তোমাকে যে রুটিটি দিব, সেটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টুকরা করে পানিতে ফেলে দিবে, যাতে মাছেরা খেয়ে ফেলে। রুটি খাওয়া শেষ হলে একটি বড় মাছ আসবে।
সে ছোট মাছগুলোকে খেয়ে ফেলবে। খাওয়া হয়ে গেলে বড় মাছটি উধাও হয়ে যাবে। উধাও হয়ে গেলে
তুমি তোমার হাত পানিতে রেখে দিবে এবং আমি তোমাকে যা বলেছি, তা বলতে থাকবে যে পর্যন্ত পানির উচ্চতা না কমে যায়। এসব কাজ
তুমি মামুনুর রশীদের উপস্থিতিতে করবে।
এরপর আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন
আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে আবুছ ছলত! কালই আমি
মামুনের সাথে দেখা করতে আসব। যদি আমি মাথায় কোন কিছু পরিধান করে না আসি, তবে আমার সাথে কথা বলবে, অন্যথায় কথা বলবে না। আবুছ ছলত বলেন,
সকাল হলে
আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস
সালাম তিনি কাপড় মুবারক পরিধান করলেন। যথাসময়ে তিনি মামুনের কাছে গেলেন। তার কাছে ফলমূলে
ভরা একটি খাঞ্চা রাখা ছিল এবং মামুন আঙ্গুরের গুচ্ছ ধরে রেখেছিল। আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনাকে দেখে মামুন নিজের
আসন থেকে লাফিয়ে উঠলেন এবং উনার সাথে কোলাকুলি করে কপাল মুবারকে চুম্বন করলেন। এরপর
আঙ্গুরের গুচ্ছ উনাকে দিয়ে বললেন, হে ইবনে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি এই আঙ্গুরের চেয়ে উৎকৃষ্ট আঙ্গুর কখনো দেখেছেন? তিনি বললেন, খান।
আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন
আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমি মা’যূর (ক্ষমার্হ)।
মামুন বললেন, বাঁধা কিসের? সম্ভবত আপনি আমাকে দোষী মনে করেন। একথা বলে তিনি আঙ্গুরের গুচ্ছটি
ফিরিয়ে নিলেন এবং কয়েকটি দানা খেয়ে পুনরায় আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনাকে দিয়ে দিলেন। তিনি
তা থেকে দু’তিনটি দানা খেলেন এবং বাকিগুলো রেখে দিলেন। এরপর প্রস্তানোদ্যত হলে মামুন
বললেন, আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি জওয়াব দিলেন,
যেখানে আপনি
পাঠিয়েছেন। অতঃপর তিনি মাথায় কোন কিছু বেঁধে বাইরে এলেন। আমি উনার সাথে কথা বললাম না।
তিনি নিজের সরাইখানায় এসে বললেন সরাইখানার দরজা বন্ধ করে দাও। এরপর তিনি নিজের বিছানায়
শুয়ে পড়লেন। আমি সরাইখানায় হতচকিত ও চিন্তিত অবস্থায় অপেক্ষমান রইলাম। হঠাৎ আমি একজন
সুশ্রী যুবককে দেখলাম। উনার মেখদাম সুবাসিত ছিল। তার আকার-আকৃতি আওলাদে রসূল, হযরত ইয়ামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার সাথে খুব সামঞ্জস্যশীল
ছিল। আমি দৌড়ে উনার কাছে গেলাম এবং আরয করলাম, আপনি কিরূপে এসে গেলেন? দরজা তো বন্ধ ছিল। যুবক
বললেন, আমাকে সেই ব্যক্তি এনেছে, যে মুহূর্তের মধ্যে যে কোন লোককে মদীনা শরীফ থেকে নিয়ে আসেন।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম আপনি কে? তিনি বললেন, আমি হুজ্জাতুল্লাহ মুহম্মদ ইবনে আলী। অর্থাৎ আমি আমার পিতা ইমামুত
তাসি’ আলাইহিস সালাম উনার কাছে এসেছি।
অতঃপর আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন
আলাইহিস সালাম উনাকে দেখে দাঁড়ালেন। উনাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে কপালে চুম্বন করলেন
এবং আপন বিছানায় নিয়ে বসতে দিলেন। যুবক উনার মুখম-ল স্বীয় পিতা উনার দিকে করে বসে গেলেন
এবং কিছু গোপন কথাবার্তা বললেন, যা আমি বুঝতে পারিনি।
এরপর আমি আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন
আলাইহিস সালাম উনার উভয় ঠোঁটে বরফের মত সাদা কিছু ফেনা দেখলাম, যা মুহম্মদ ইবনে আলী চেটে নিলেন। এরপর তিনি স্বীয় পিতার পরিধেয়
বস্ত্রের মধ্যে হাত ঢুকালেন এবং ছোট পাখির মত একটি বস্তু তার বক্ষ থেকে বের হয়ে এল
এবং মাটিতে পড়ে গেল। ঠিক তখনি আওলাদে রসূল,
সাইয়্যিদুনা
ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছাল হয়ে গেল।
মুহম্মদ ইবনে আলী আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে আবুছ ছলত ওঠ এবং বায়তুল মাল থেকে পানি এবং তক্তা নিয়ে এসো। আমি বললাম, বায়তুল মালে না পানি আছে, না তক্তা।
তিনি বললেন, আমি যা বলি, পালন কর। আমি বায়তুল মালে গিয়ে পানি ও তক্তা মওজুদ পেলাম। আমি
তা নিয়ে এলাম। আমি উনাকে সাহায্য করতে চাইলে তিনি বললেন, আবুছ ছলত। অন্য একজন আমাকে সাহায্য করতে উপস্থিত আছেন। তিনি
হযরত ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনাকে গোছল দিলেন। অতঃপর বললেন, বায়তুল মালে একটি কাপড়ের সিন্দুক আছে। তাতে কাফন ও সুগন্ধি রাখা
আছে। সেটি নিয়ে এসো। আমি গিয়ে দেখলাম যে,
সেখানে সেই
সিন্দুক মওজুদ ছিল তা আমি ইতিপূর্বে দেখিনি। সিন্দুকটি এনে রাখলে তিনি আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনাকে কাফন দিয়ে নামাযে
জানাযা আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, শবাধার নিয়ে এসে। আমি
বললাম শবাধার তৈরি করার জন্যে আমি এখনি গিয়ে কাঠমিস্ত্রি নিয়ে আসি। তিনি বললেন, বায়তুল মালে যাও। আমি গিয়ে সেখানে একটি শবাধার দেখলাম, যা পূর্বে কখনো দেখিনি। আমি সেটি নিয়ে এলে তিনি আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনাকে তাতে শুইয়ে দিলেন।
এরপর তিনি দু’রাকআত নামায পড়তে শুরু করলেন। নামায খতম না হতেই শবাধারটি নিজের জায়গা
থেকে উপরে উঠতে লাগল। গৃহের ছাদ বিদীর্ণ হয়ে গেল এবং শবাধারটি সেখান দিয়ে বের হয়ে শূন্যে
চলে গেল। আমি আরয করলাম হে ইবনে রসূলিল্লাহ! খলিফা মামুনকেও ডেকে নেয়া উচিত। তিনি বললেন, চুপ থাক। শবাধার এখনি ফিরে আসবে। অতঃপর বললেন, হে আবুছ ছলত, কোন পয়গম্বরের বিছাল শরীফ
পশ্চিম দেশে এবং উনার প্রতিনিধির বিছাল শরীফ পূর্বদেশে হলে উনাদের রুহ ও শরীর মুবারক
পরস্পরে সাক্ষাৎ করে। একথা শেষ না হতেই গৃহের ছাদ ফাঁক হয়ে গেল এবং শবাধার নিচে চলে
এল। আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন
আলাইহিস সালাম উনাকে শবাধার থেকে বাইরে বের করলেন এবং বিছানায় শুইয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি
আমাকে দরজা খুলতে বললেন আমি দরজা খুলতেই খলিফা মামুন তার গোলামসহ কান্নাকাটি করতে করতে
ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং দুঃখ ও বেদনা প্রকাশ করতে লাগলেন।
এরপর সকলেই উনার কাফন-দাফনে আত্মনিয়োগ করল। ইমাম মুহম্মদ ইবনে আলী বললেন, যাও উনার কবর খনন কর। আমি সেখানে গেলাম। আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম তিনি যা বলেছিলেন, সেখানকার অবস্থা তেমনি পেলাম। পানি ও ছোট ছোট মাছ দেখে খলিফা
বললেন, ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার
কাছ থেকে জীবদ্দশায় যেমন অত্যাশ্চর্য বিষয়াদি প্রকাশ পেত, বিছাল শরীফের পরও তেমনি প্রকাশ পায়। মামুনের এক সভাসদ একথা শুনে
বলল, হে খলিফা, আপনি জানেন এর ইঙ্গিত কোন দিকে? এটা এই সত্যের প্রতি ইঙ্গিত করছে যে আপনার রাজত্ব প্রাচুর্য
ও আনুগত্যের এই মৎস্যগুলির অনুরূপ। যখন আপনার মৃত্যুর সময় আসবে, তখন আল্লাহ পাক তিনি এক ব্যক্তিকে আপনার উপর চাপিয়ে দিবেন। সে
আপনাকে ফানা করে দিবে।
অন্য এক রেওয়ায়েতে আবুছ ছলত বলেন,
আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার দাফনকার্য সম্পন্ন
হলে খলিফা মামুন বললেন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম তিনি তোমাকে যে সকল
কথাবার্তা বলেছেন, সেগুলো বলো। আমি বললাম, আমি তো এসব কথা তখনই ভুলে গিয়েছিলাম। আমি সত্য বলেছিলাম তাই
তিনি আমাকে জেলে পাঠিয়ে দিলেন। আমি এক বছর জেলে রইলাম এবং আমার জীবিকা ভীষণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত
হলো। আমি দোয়া করলাম, হে আল্লাহ পাক! আপনার
হাবীব এবং উনার আল-আওলাদ উনাদের বরকতে আমার জীবিকা প্রশস্ত করে দিন। আমার দোয়া শেষ
হওয়ার পূর্বেই আমি আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন
আলাইহিস সালাম উনার দীদারে ধন্য হলাম। তিনি বলেছিলেন, হে আবুছ ছলত! অস্থির হয়ে গেছ? আমি আরয করলাম, হ্যাঁ, হুযূর। তিনি বললেন,
উঠ এবং বাইরে
যাও। তিনি আমার হাতের বন্ধন স্পর্শ করতেই তা খুলে গেল। এরপর তিনি আমার হাত ধরে জেলের
বাইরে নিয়ে এলেন। রক্ষী ও গোলামরা কেবল দেখল। আমার সাথে কথা বলার সাহস কারও হলো না।
তিনি বললেন, এখন মহান আল্লাহ পাক উনার আশ্রয়
ও হিফাযতে চলে যাও। এখন থেকে তুমিও মামুনের সাথে দেখা করবে না এবং মামুনও তোমার সাথে
দেখা করবে না। আবুছ ছলত বলেন, আমি তখন থেকে মামুনকে
আর দেখিনি। সুবহানাল্লাহ! (শাওয়াহিদুন নুবুওওয়াত-২৬৯)
পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:
খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ,
মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ
শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- ইমামুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন
আলাইহি তিনি ২০৮ হিজরী সনের ২১শে রমাদ্বান শরীফ জুমুয়াহ বার পবিত্র বিছালী শান মুবারক
প্রকাশ করেন। তিনি ৫৯ বছর ১০ মাস ১০ দিন দুনিয়াবী হায়াত মুবারক লাভ করেছেন। আর এটাই
হচ্ছে বিশুদ্ধ মত। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত আহাল ও ইয়াল:
‘ইকতিবাসুল আনওয়ার’ কিতাবে আছে-
ইমামুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার পাঁচজন ছেলে এবং
একজন মেয়ে ছিলেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে- চারজন ছেলে এবং একজন মেয়ে ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
(মিরায়াতুল আসরার-২১৮)


No comments