ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম খলীফা হিসেবে কায়িনাতে আসবেন
সাইয়্যিদুনা হযরত
র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন,
لَا يُصْلِحُ النَّاسَ اِلَّا اَمِيْرٌ
অর্থ: “মানুষ কখনোই একজন খলীফা ব্যতীত পরিশুদ্ধ হতে পারে না, হাক্বীক্বী কল্যাণ লাভ করতে পারে না।” (শু‘য়াবুল ঈমান ১০/১৫, কানযুল উম্মাল ৫/৭৫১)
এই সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
لَا يُصْلِحُ النَّاسَ اِلَّا اَمِيْرٌ
অর্থ: “মানুষ কখনোই একজন খলীফা ব্যতীত পরিশুদ্ধ হতে পারে না, হাক্বীক্বী কল্যাণ লাভ করতে পারে না।” (শু‘য়াবুল ঈমান ১০/১৫, কানযুল উম্মাল ৫/৭৫১)
এই সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اُمّ ِ الـْمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ اُمُّ سَلَمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكُوْنُ اخْتِلَافٌ عِنْدَ مَوْتِ خَلِيفَةٍ فَيَخْرُجُ رَجُلٌ مّـِنْ أَهْلِ الْمَدِيْــنَـةِ هَارِبًا اِلـٰى مَكَّةَ فَيَأْتِيْهِ نَاسٌ مّـِنْ أَهْلِ مَكَّةَ فَيُخْرِجُوْنَه وَهُوَ كَارِهٌ فَيُبَايِعُوْنَه بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ وَيُبْعَثُ اِلَيْهِ بَعْثٌ مّـِنَ الشَّامِ فَيُخْسَفُ بِـهِمْ بِالْبَيْدَا ءِ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِيْنَةِ فَاِذَا رَاَى النَّاسُ ذٰلِكَ اَتَاهُ أَبْدَالُ الشَّامِ وَعَصَا ئِبُ أَهْلِ الْعِرَاقِ فَيُبَايِعُوْنَه بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ ثُـمَّ يَنْشَاُ رَجُلٌ مّـِنْ قُرَيْشٍ أَخْوَالُه كَلْبٌ فَيَبْعَثُ اِلَيْهِمْ بَعْثًا فَيَظْهَرُوْنَ عَلَيْهِمْ وَذٰلِكَ بَعْثُ كَلْبٍ وَيَعْمَلُ فِى النَّاسِ بِسُنَّةِ نَبِيّـِهِمْ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُلْقِى الْاِسْلاَمُ بـِجِرَانِهٖ اِلَى الْاَرْضِ فَيَلْبَثُ سَبْعَ سِنِيْنَ ثُـمَّ يُتَوَفّٰـى وَيُصَلّـِىْ عَلَيْهِ الْمُسْلِمُوْنَ.
“উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মে সালামা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, শেষ যামানায় একজন খলীফা উনার বিছাল শরীফ মুবারক উনার সময় নেতৃস্থানীয় লোকদের মধ্যে আর একজন খলীফা মনোনীত করার ব্যাপারে ইখতিলাফ তথা মতবিরোধ দেখা দিবে। তখন এক ব্যক্তি তথা হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি নিজেকে গোপন রাখার উদ্দেশ্যে পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিবেন। এই সময় পবিত্র মক্কা শরীফ উনার সম্মানিত অধিবাসী উনারা উনাকে খুঁজে বের করবেন। কিন্তু তিনি তা পছন্দ করবেন না। (প্রকৃতপক্ষে তিনি হলেন হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম। তিনি নিজেকে গোপন রাখতে চাইবেন। কিন্তু উনার মুবারক কর্মকা্ন্ডে এবং পবিত্র চেহারা মুবরক উনার নূরানী জ্যোতির্ময় আলোকে লোকেরা চিনে ফেলবেন যে, ইনিই হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম।) অতঃপর রুকনে ইয়ামেন ও মাক্বামে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাদের মধ্যবর্তী স্থানে লোকেরা উনার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করবেন। এরপর সিরিয়া হতে একটি সৈন্যবাহিনী উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হবে। কিন্তু পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনাদের মধ্যবর্তী ‘বাইদা’ নামক স্থানে তাদেরকে ভূগর্ভে পুঁতে ফেলা হবে। অতঃপর যখন চতুর্দিকে এই খবর ছড়িয়ে পড়বে এবং লোকেরা চাক্ষুষ এই অবস্থা দেখতে পাবে, তখন সিরিয়ার আবদালগণ উনারা এবং ইরাকের একটি বিরাট জামায়াত উনার নিকট আসবেন এবং উনার মুবারক হাতে বাইয়াত হবেন। অতঃপর কুরাইশের এক ব্যক্তি যার মামার বংশ হবে ‘বনু কালব’ সেও হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার বিরুদ্ধে একদল সৈন্য পাঠাবে। উনার সেনাবাহিনী তাদের উপর বিজয়ী হবেন। এটা ‘ফিতনায়ে কালব’। আর তিনি তথা হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি মানুষের মাঝে তাদের নবী তথা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত সুন্নত মুবারক মুতাবিক কাজ-কর্ম পরিচালনা করবেন এবং পুনরায় পৃথিবীতে ইসলাম পুরাপুরিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি সাত বৎসর এই অবস্থায় অবস্থান করবেন এবং মুসলমানগণ উনার জানাযা পড়বেন।”
(আবূ দাউদ,
মুসনাদে আহমদ ৬/৩১৬,
মুসনাদে আবী ইয়ালা ১২/৩৬৯,
আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব
ত্ববারনী ১৭/২০৭, আল মু’জামুল আওসাত্ব ২/৩৫,
ইবনে আবী শায়বা, ছহীহ ইবনে হিব্বান ১৫/১৫৮, মুছন্নাফে আব্দুর রাজজাক ১১/৩৭১, আহকামুশ শরীয়াহ ৪/৫৩১, মাজমাউয যাওয়াইদ ৭/২৬২, আস সুনানুল ওয়ারিদা ফিল ফিতান ৫/১০৮৩, আখবারিল মাহদী লিছ সুয়ূত্বী ১/৫৬, আল ফাতহুল কাবীর লিস সুয়ূত্বী ৩/৪০৫, জামিউল আহাদীছ লিস সুয়ূত্বী ২৪/২২৯, জামউল জাওয়ামি’ লিস সুয়ূত্বী, জামিউল উছূল ১০/৭৪৮০, কানযুল উম্মাল ১১/১৩৫, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১০/৩৭২, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)


No comments