সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার বেমেছাল সম্মানিত তা‘য়াল্লুক-নিসবত মুবারক।
(১)
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ১লা মুর্হারমুল
হারাম শরীফ ১৪৩৯ হিজরী শরীফ ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে
সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম তিনি কোন স্থান মুবারক-এ মহাসম্মানিত বরকতময়
শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, সেই সম্মানিত স্থান মুবারকখানা দেখিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ জানতে চাইলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন সময় মহাসম্মানিত বরকতময়
শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন? তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে
একটি কাটা ওয়ালা ঘড়ি মুবারক দেখালেন। আমি দেখলাম, তখনও উক্ত সম্মানিত ঘড়ি মুবারক-এ ১২:০০ টা বাজেনি। সেকেন্ডের কাটাটি আর ৪৫ সেকেন্ড
অতিক্রম করলে ১২:০০ বাজবে। অর্থাৎ ১২:০০ টা বাজতে আর ৪৫ সেকেন্ড বাকি রয়েছে। অর্থাৎ
১১ টা বেজে ৫৯ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত
বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামতিনি ইরশাদ
মুবারক করেন, “সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস
সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
তাশরীফ মুবারক গ্রহণের ছয় বৎসর পর বা আমুল ফিলের ৬ বৎসর পর ৩ রা রবীউল আউওয়াল শরীফ
ইয়াওমুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
আর তিনি ৩৫ হিজরী সনের ১৮ই যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ জুমুয়ার নামাযের পূর্বে
১১:০০ টা বেজে ৫৯ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে মহাসম্মানিত বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ
করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
এই সম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ মুবারক উনার মাধ্যমে
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ
হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার এক অভূতপূর্ব অনন্য বেমেছাল তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত
মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সুবহানাল্লাহ! এতো গভীর তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত
মুবারক! সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম তিনি যখন মহাসম্মানিত বরকতময় শাহাদাতী
শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন তো ঘড়ি ছিলো না।
কিন্তু প্রায় দেড় হাজার বছর পরে এসে আহলু বাইতি
রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস
সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি এতো নিঁখুতভাবে বর্ণনা করে দিলেন যে, তিনি কয়টা বাজে, কতো মিনিটে এবং কতো সেকেন্ডে মহাসম্মানিত বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন
সেটাও বর্ণনা করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! প্রকৃতপক্ষে সন্দেহাতীতভাবে
পৃথিবীর ইতিহাসে এটা এক নযীরবিহীন সম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ মুবারক, যেই সম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ মুবারক উনার মেছাল আর নেই। সুবহানাল্লাহ!
চিন্তাশীল ও আক্বলমান্দ উনাদের জন্য এই
একটি ওয়াক্বেয়াহ মুবারকই যথেষ্ট নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ
হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার বেমেছাল সম্মানিত তা‘য়াল্লুক-নিসবত মুবারক
উনার বিষয়টি উপলব্ধি করার জন্য। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে ছহীহ
সমঝ দান করুন। আমীন!
(২)
মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস
সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক-এ আখাচ্ছুল খাছ বিশেষ তিনখানা সম্মানিত ও পবিত্র
হাদীছ শরীফ, যেই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফগুলো
মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ
আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি প্রায় সময় আলোচনা মুবারক করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!
১নং সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ:
اَنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
كَانَ يَقُوْلُ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ
وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ
الْعِلْمِ.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময় ইরশাদ মুবারক করতেন। আমরা মহাসম্মানিত
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক
উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক
উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর ৬/৬০৬, তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)
২নং সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ:
عَنْ حَضْرَتْ عَـلِـىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ
عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ
اَهْلُ بَيْتٍ شَجَرَةُ النُّبُوَّةِ وَمَعْدِنُ الرِّسَالَـةِ لَيْسَ اَحَدٌمِّـنَالْـخَلَائِقِ يَفْضُلُ اَهْلَ
بَيْـتِـىْ غَيْرِىْ.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু
ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত হযরত
আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমরা সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার সম্মানিত বৃক্ষ
মুবারক এবং সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার সম্মানিত খনি মুবারক। সুবহানাল্লাহ! সমগ্র
সৃষ্টি জগতে একমাত্র আমি ব্যতীত দ্বিতীয় আর কেউ নেই, যে আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব
লাভ করে। অর্থাৎ সমগ্র সৃষ্টি জগতে আমার পরেই আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ
আলাইহিমুস সালাম উনাদের শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক, ফযীলত মুবারক।” সুবহানাল্লাহ!
৩নং সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ:
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ الله تَعَالـٰى عَنْهُ
قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ
لَّايُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা
আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ
মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ
আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ!সুবহানাল্লাহ!সুবহানাল্লাহ!
(দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানজুল উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ
১/১৭,
সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি)
ইমামুল মুহাদ্দিছীন মিনাল আউওয়ালিন ইলাল
আখিরীন,
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ
হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিইরশাদ মুবারক করেন যে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি আমাকে বলেছেন যে, আলোচ্য সম্মানিত ও পবিত্র
হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে-
نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ
(আমরা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ
আলাইহিমুস সালাম) বলেÑ আমি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে
আমার নিজের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছি।” সুবহানাল্লাহ!
তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার কতো বেমেছাল
সম্মানিত তা‘য়াল্লুক-নিসবত মুবারক সেটা সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
(৩)
একবার মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ
ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি
মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ মহাসম্মানিত মক্ববূল মুনাজাত শরীফ
শেষে ইরশাদ মুবারক করেন, আমি যখন মুনাজাত শরীফ
করছিলাম,
তখন তোমরা অনেকেই গাফিল ছিলে। বিশেষ করে যখন কাফির-মুশরিকদের
বিরুদ্ধে বদদোআ করা হচ্ছিলো, তখন তোমরা জোরে জোরে
আমীন বলোনি। তোমাদের এই অবস্থা দেখে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি আমাকে বললেন, অসুবিধা নেই। কেউ ‘আমীন!’
বলুক অথবা না বলুক। আমি তো ‘আমীন! আমীন!’ বলছি। সুবহানাল্লাহ!
আরেকদিনের ওয়াক্বেয়াহ মুবারক- নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা
হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আয়োজিত বিশেষ মাহফিল মুবারক-এ মুজাদ্দিদে
আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ
ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি মহাসম্মানিত মক্ববূল মুনাজাত শরীফ-এ অন্যান্য দিনের তুলনায়
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِـىْ صَغِيْرًا
এই সম্মানিত দোআ মুবারক অনেক বেশিবার
পাঠ করেন। প্রায় ৩৫বার বা তার চেয়ে বেশি সংখ্যক বার পাঠ করেন। মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ
মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস
সালাম উনার এতো অধিক সংখ্যকবার এই সম্মানিত
দোআ মুবারক পাঠ মুবারক দেখে আমার মনে হচ্ছিলো যে, তিনি হয় তো এই সম্মানিত দোআ মুবারক পাঠ শেষ করবেন না। সুবহানাল্লাহ! তারপর মুজাদ্দিদে
আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ
ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি মহাসম্মানিত মক্ববূল মুনাজাত শরীফ শেষে ইরশাদ মুবারক করেন, আজ একখানা বিশেষ ওয়াক্বেয়াহ মুবারক সংঘটিত হয়েছে। আজকে যে মহাসম্মানিত
মক্ববূল মুনাজাত শরীফ-এ
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِـىْ صَغِيْرًا
এই সম্মানিত দোআ মুবারক অনেক বেশিবার
পাঠ করা হয়েছে, তার কারণ হচ্ছে স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি নিজে মহাসম্মানিত মক্ববূল মুনাজাত শরীফ উনার সময় যতবার এই সম্মানিত দোআ
মুবারক পাঠ করেছেন, আমিও উনার কাছ থেকে
শুনে শুনে ঠিক ততোবার এই সম্মানিত দোআ মুবারক পাঠ করেছি। সুবহানাল্লাহ! তিনি যখন এই
সম্মানিত দোআ মুবারক পাঠ করা শেষ করেছেন, আমিও এই সম্মানিত দোআ মুবারক পাঠ করা শেষ করেছি। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ মুবারক দু’খানা
থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ
ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার
কতো বেমেছাল সম্মানিত তায়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক, সেটা জিন-ইনসানের চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে হাক্বীক্বী
ছহীহ সমঝ দান করুন। আমীন!
(৪)
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ
মুবারক করেন, “হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের
মধ্যে ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুল আউওয়াল
আলাইহিস সালাম উনার এবং বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা
হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের দুজনের সম্মানিত মুশাবাহাহ (সাদৃশ্যতা)
মুবারক ছিলেন উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার
সাথে। সুবহানাল্লাহ! আর ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা
হযরত আন নূরুর রাবি’ আলাইহিস সালাম উনার এবং বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা আন নূরুর রবি‘য়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের
দুজনের সম্মানিত মুশাবাহাহ (সাদৃশ্যতা) মুবারক ছিলেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার সাথে। সুবহানাল্লাহ! আর ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার, ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছ
আলাইহিস সালাম উনার, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং বিনতু
রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস
সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের চারজনের সম্মানিত মুশাবাহাহ (সাদৃশ্যতা) মুবারক ছিলেন নূরে
মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উম্মুল মু’মিনীন
সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের সাথে।” সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি আরো ইরশাদ
মুবারক করেন, “হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনারা প্রত্যেকেই সম্মানিত জামালী ত্ববী‘য়ত মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন।
হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত
জামালী ত্ববী‘য়ত মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস
সালাম তিনি। উনার প্রায় অনুরূপ সম্মানিত জামালী ত্ববী‘য়ত মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন
সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি। সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর
রবি‘য়াহ যাহরা আলাইহাস সালামউনার সম্মানিত ত্ববীয়ত মুবারক উনার মধ্যে সম্মানিত জামালী
ও সম্মানিত জালালী উভয় প্রকার শান মুবারক মিশ্রিত ছিলেন,তবে সম্মানিত জালালী শান মুবারক উনার কিছুটা প্রাধান্য ছিলেন।আর
সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত ত্ববীয়ত মুবারক উনার
মধ্যে সম্মানিত জামালী ও সম্মানিত জালালী উভয় প্রকার শান মুবারক মিশ্রিত ছিলেন, তবে সম্মানিত জালালী ত্ববীয়ত মুবারক উনার শান মুবারক বেশি প্রকাশ
পেতেন।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি প্রায়
দেড় হাজার বছর পর তাশরীফ মুবারক এনে হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনাদের এবং হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের
সম্মানিত ছূরত মুবারক ও উনাদের সম্মানিত ত্ববী‘য়ত মুবারক বর্ণনা করলেন। সুবহানাল্লাহ!অথচ
এর আগে কোন ইমাম-মুজতাহিদ ও আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এই বিষয়ে কোনো
সুস্পষ্ট ও অকাট্য ফায়ছালা দিতেই সক্ষম হননি যে, প্রকৃতপক্ষে মহাসম্মানিত হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনারা কত জন। আর উনাদের সম্মানিত ছূরত মুবারক এবং উনাদের সম্মানিত ত্ববী‘য়ত মুবারক
বর্ণনা করার তো প্রশ্নোই উঠে না। তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের
সাথে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস
সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার কত বেমেছাল আখাচ্ছুল খাছ তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক, সেটা কি কেউ কখনো চিন্তা-কল্পনা করে মিলাতে পারবে? কস্মিনকালেও নয়। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে হাক্বীক্বী
ছহীহ সমঝ,
বিশুদ্ধ আক্বীদাহ ও হুসনে যন মুবারক দান করুন। আমীন!
(৫)
মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম
খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি (১৪৩৫ হিজরী শরীফ-এ) ইরশাদ
মুবারক করেন যে, “সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবি‘য়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিবস মুবারক তথা ২০শে
জুমাদাল উখরা শরীফ অত্যন্ত তা’যীম-তাকরীম মুবারক, সম্মান-ইয্যত মুবারক, মুহব্বত মুবারক ও সাখাওয়াতী
মুবারক উনার সাথে পালন করা হলে, এতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত
আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলে অত্যন্ত বেমেছাল খুশি ও সন্তুষ্টি মুবারক
প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
ঠিক উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন
নূরুর রবি‘য়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান
মুবারক প্রকাশের দিবস তথা সম্মানিত ৩রা রমাদ্বান শরীফ অত্যন্ত তা’যীম-তাকরীম মুবারক, সম্মান-ইয্যত মুবারক, মুহব্বত মুবারক ও সাখাওয়াতী মুবারক উনার সাথে পালন করা হলে ওই তারীখে মুজাদ্দিদে
আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ
ছলাতু ওয়াস সালাম উনার একখানা মহাসম্মানিত বিশেষ শান মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ মুবারক
ঘটে। ওই তারিখে মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ
আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার এক আখাচ্ছুল খাছ বিশেষ সম্মানিত
দীদার মুবারক হয়। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম তিনিও অত্যন্ত বেমেছাল খুশি ও সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ করতে করতে বিশেষ
শান মুবারক প্রকাশ করে সেখানে যাহির মুবারক হন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর সাথে সাথে হযরত
উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাসহ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু
বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাও অত্যন্ত খুশি ও সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ করতে করতে
উনাদের বিশেষ শান মুবারক প্রকাশ করে সেখানে যাহির মুবারক হন। উনারা সকলে অত্যন্ত বেমেছাল
খুশি ও সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ করতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! উনারা সকলেই নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ
আরজি মুবারক পেশ করতে থাকেন যে, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া
হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর
রবি‘য়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক
প্রকাশের দিবস মুবারক (২০শে জুমাদাল উখরা শরীফ) এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময়
বিছালী শান মুবারক প্রকাশের দিবস মুবারক (৩রা রমাদ্বান শরীফ) যেভাবে সীমাহীন আদব মুবারক, শরাফত মুবারক, মুহব্বত মুবারক, মা’রিফত মুবারক, খুলুছিয়ত মুবারক ও সাখাওয়াতী মুবারক উনার সাথে পালন করা হয়েছে, আমাদের তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস
সালাম উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল দিবস মুবারকগুলোও যেন ঠিক একইভাবে পালন করা হয়। সুবহানাল্লাহ!
অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও অত্যন্ত খুশি ও সন্তুষ্টি মুবারক উনার সাথে
মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ
আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হে আমার মহাসম্মানিত লখতে জিগার মুবারক, মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম! আপনি, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবি‘য়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিবস মুবারক (২০শে জুমাদাল
উখরা শরীফ) এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের দিবস মুবারক
(৩রা রমাদ্বান শরীফ) যেভাবে সীমাহীন আদব মুবারক, শরাফত মুবারক, মুহব্বত মুবারক, মা’রিফত মুবারক, খুলুছিয়ত মুবারক ও সাখাওয়াতী মুবারক উনার সাথে পালন করেছেন, এতে আমরা অত্যন্ত খুশি ও সন্তুষ্ট হয়েছি। সুবহানাল্লাহ! আপনি
আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলের মহাসম্মানিত
ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিবস মুবারক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের
দিবস মুবারক এবং উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল দিবস মুবারকগুলোও ঠিক একইভাবে পালন করবেন।”
সুবহানাল্লাহ!
মূলত, মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার যে বেমেছাল
আখাচ্ছুল খাছ তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক তা সর্বকালের সর্বযুগের সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ, সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার কোটি কোটি গুণ উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
যারা আকলমান্দ উনাদের জন্য এই সম্মানিত
ওয়াক্বেয়া মুবারক উনার মধ্যে সীমাহীন ইবরত-নছীহত মুবারক নিহিত রয়েছে। নিহিত রয়েছে রূহানী
খোরাক মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে হাক্বীক্বী
ইছলাহী,
বিশুদ্ধ আক্বীদা, হুসনে যনও ছহীহ সমঝ দান করুন। আমীন!
(৬)
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামতিনি ২৯ শে
সফর ১৪৩৪ হিজরী শরীফ এবং ২রা সাইয়্যিদুশ শুহূর, শাহরুল আ’যম পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ ১৪৩৭ হিজরী শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন,একখানা সম্মানিত ঘটনা মুবারক রয়েছে। অনেক দিন আগের কথা। একদিন
আমাকে দেখানো হলো- দেখলাম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস
সালাম উনাদের, হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনাদের, হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের, হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার, হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিমাস সালাম উনার এবং হযরত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত
আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যেখানে সম্মানিত ও পবিত্র ঘর-বাড়ী মুবারকগুলো, সম্মানিত ও পবিত্র হুজরা
শরীফগুলো কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদ্বীনদের কারণে
এবং অন্যান্য কারণে মনে হচ্ছে সব কিছু গায়েব হয়ে গেছে। গায়িব হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে থাকার
কোনো ব্যবস্থা নেই। এখন উনাদের সম্মানিত ও পবিত্র সম্মানিত ও পবিত্র ঘর-বাড়ী মুবারকগুলো, সম্মানিত ও পবিত্র হুজরা শরীফগুলো তৈরী করতে হবে। এখন কারা তৈরী
করবে?
কে তৈরী করবে? তৈরী করার তো অনেক লোক আছে। যিনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার
হাবীব,
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনাদের ফায়ছালা-ইখতিয়ার মুবারক। এখন বিষয়টা তো আমভাবে করা সম্ভব না। এরপর অনেক
বিষয় রয়েছে। ঐ জায়গায় করাটা অনেক কঠিন। কিন্তু উনাদের সম্মানিত ও পবিত্র হুজরা শরীফগুলো, সম্মানিত ও পবিত্র বাড়ী-ঘর মুবারকগুলো তৈরী করতে হবে। পরে দেখা
গেলো যে,
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা আমাকে মনোনীত করলেন। সুবহানাল্লাহ! এখন এটা করতে হবে। এখন
করতে হবে। সম্মানিত ও পবিত্র সুন্নতী কায়দা মুবারক-এ করতে হবে। সম্মানিত ও পবিত্র সুন্নতী
কায়দা মুবারক-এ করতে হলে, সম্মানিত ও পবিত্র মাটি
মুবারক দিয়ে করতে হবে। আমি বললাম, ঠিক আছে। তারপর আস্তে
আস্তে সম্মানিত ও পবিত্র মাটি মুবারক দিয়ে আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস
সালাম উনাদের, হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনাদের, হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের, হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার, হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিমাস সালাম উনার এবংহযরত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত
আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের থাকার জন্য যত সম্মানিত ও পবিত্র ঘর-বাড়ী মুবারক, সম্মানিত ও পবিত্র হুজরা শরীফ মুবারক যা প্রয়োজন উনাদের সকলেরগুলো
তৈরী মুবারক করলাম ইনশাআল্লাহ। সুবহানাল্লাহ! তৈরী মুবারক করার পর, সব ব্যবস্থা হলো। এখন বাধা ছিলো, অনেক দূর। বাধায় কোন কাজ হয় নাই। ইনশাআল্লাহ। তরতীব মত হয়েছে।
যা হোক,
পরে উনাদেরকে দিলাম। বুঝিয়ে দিলাম। উনারা খুব খুশি হলেন। সুবহানাল্লাহ!
যিনি খ¦ালিক মালিক রব মহান
আল্লাহ পাক তিনি এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনারা খুব খুশি হলেন।” সুবহানাল্লাহ!
এই সম্মানিত ওয়াক্বেয়া মুবারক থেকে স্পষ্ট
হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ
হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার কতো বেমেছাল সম্মানিত তা‘য়াল্লুক-নিসবত
মুবারক। সুবহানাল্লাহ! যেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
(৭)
মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি আরো ইরশাদ
মুবারক করেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক বিশেষ নূরানী কুদরতী
মাহফিল মুবারক উনার মধ্যে সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের, সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের, সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি
আলাইহিম উনাদের এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের অর্থাৎ উনাদের প্রত্যেকের
সম্মুখে স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক-এ
সাইয়্যিদুল খুলাফা, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ
মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস
সালাম উনার সম্মানিত সের বা মাথা মুবারক-এ সাদা, কালো ও সবুজ এ তিন ধরণের তিনখানা সম্মানিত পাগড়ী মুবারক পড়িয়ে, একখানা সম্মানিত আছা বা লাঠি মুবারক হাদিয়া মুবারক করে যাহিরী
এবং বাতিনী উভয় প্রকার সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনাদের সর্বোচ্চ পন্থায় সম্মানিত খিলাফত
মুবারক হাদিয়া মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
উপস্থিত সকলের সামনে উনার সর্বশ্রেষ্ঠ আওলাদ, উনার সর্বশ্রেষ্ঠ খলীফা, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু
ওয়াস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে বললেন, “হে আমার যোগ্যতম মহাসম্মানিত আওলাদ! আপনাকে যেরূপ সর্বোচ্চ পন্থায় সম্মানিত খিলাফত
মুাবরক হাদিয়া মুবারক করা হলো, এরূপ সর্বোচ্চ পন্থায়
আর কাউকে সম্মানিত খিলাফত মুবারক দেয়া হয়নি।” সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, উক্ত বিশেষ মজলিসে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
উপস্থিত সবার সম্মুখে পুণরায় এক মুবারক ই’লান দিলেন যে, “বর্তমানে জাহিলিয়াতের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, ফিতনা-ফাসাদ চরমভাবে প্রকাশ পেয়েছে, পুরো দুনিয়া যুলুম-নির্যাতন, অত্যাচার-অবিচার, কুফরী-শিরকী হারাম-নাজায়িয
কার্যকলাপে ভরে গেছে। পৃথিবীর কোথাও সম্মানিত ইনসাফ মুবারক উনার লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই।
এমনি এক কঠিন পরিস্থিতে, এমনি এক কঠিন সময়ে আমার
এই সুযোগ্য মহাসম্মানিত আওলাদ উনার মুবারক তাশরীফ। তিনি সমস্ত কাফির-মুশরিক, ইহুদী-নাছারা, গোমরাহ-পথভ্রষ্ট, মুনাফিক্ব ও উলামায়ে
সূ’দেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত ইনসাফ মুবারক প্রতিষ্ঠা করবেন, সম্মানিত খিলাফত মুবারক জারি করবেন। (সুবহানাল্লাহ!) আমার এই
সুমহান মহাসম্মানিত আওলাদ তিনি হচ্ছেন আমার পক্ষ থেকে একজন আখাছ্ছুল খাছ মহাসম্মানিত
খলীফা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম। দুনিয়ার যমীনে উনার যারা বিরোধীতা করবে, উনার সাথে যারা শত্রুতা পোষণ করবে, তারা প্রত্যেকেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, ধ্বংস হয়ে যাবে, তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।” সুবহানাল্লাহ! এছাড়াও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
সম্মানিত খিলাফত মুবারক হাদিয়া মুবারক করার আগে ও পরে উক্ত মুবারক মাহফিল উনার মধ্যে
সকলের সম্মুখে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ
হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার আরো অনেক সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক
বর্ণনা করেন। সুবহানাল্লাহ!
পরিশেষে যাঁরা বড় বড় হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম
রহমাতুল্লাহি আলাইহিম রয়েছেন, উনারা প্রত্যেকেই সাইয়্যিদুল
খুলাফা,
আবুল খুলাফা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ
হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আরজী পেশ করলেন
যে,
“আপনার সাথে পেরে উঠা আমাদের পক্ষে আর সম্ভব হবে না।
কেননা আপনার বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান মুবারক স্বয়ং যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই বর্ণনা মুবারক
করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
(৮)
এটা চিরন্তন সত্য কথা যে-
قدر نعمت بعد زوال
অর্থ: “সম্মানিত নিয়ামত মুবারক উনার ক্বদর
সম্মানিত নিয়ামত মুবারক হস্তচ্যুত হলেই বুঝা যায়।”
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি যে আমাদের
জন্য,
এই উম্মাহর জন্য, সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর
জন্য কতো বড় সম্মানিত নিয়ামত মুবারক, সেটা সকলের চিন্তা-কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত নিয়ামত মুবারক পেয়ে
সম্মানিত নিয়ামত মুবারক উনার ক্বদর করা এবং সেই সম্মানিত নিয়ামত মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা
করা যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত নিয়ামত মুবারক পেয়ে সম্মানিত নিয়ামত মুবারক উনার গুরুত্ব উপলব্ধি করা আবশ্যক।
অন্যথায় প্রাপ্ত সম্মানিত নিয়ামত মুবারক উনার ক্বদর করা সম্ভব নয়। আর প্রাপ্ত সম্মানিত
নিয়ামত মুবারক উনার গুরুত্ব উপলব্ধি করার জন্য প্রাপ্ত সম্মানিত নিয়ামত মুবারক সম্পর্কে
বর্ণনা করা ফরয এবং এটা সম্মানিত নিয়ামত মুবারক প্রাপ্তির একটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশও বটে।
এই জন্য যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ
অর্থ: “আপনার রব মহান আল্লাহ পাক তিনি
আপনাকে যেই সম্মানিত নিয়ামত মুবারক দিয়েছেন, সেই সম্মানিত নিয়ামত মুবারক সম্পর্কে আপনি বর্ণনা করুন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত
ও পবিত্র সূরা দ্বুহা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১১)
আর সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার
মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَلنُّعْمَانِ بْنِ بَشِيْرٍ رَضِىَ
اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
اَلتَّحَدُّثُ بِنِعْمَةِ اللهِ شُكْرٌ وَّتَرْكُهَا كُفْرٌ وَّمَنْ لَّا يَشْكُرِ
الْقَلِيْلَ لَا يَشْكُرِ الكَثِيْرَ وَمَنْ لَّا يَشْكُرِ النَّاسَ لَا يَشْكُرِ اللهَ.
অর্থ: “হযরত নু’মান ইবনে বশীর রদ্বিয়াল্লাহু
তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সম্মানিত নিয়ামত মুবারক
সম্পর্কে বর্ণনা করা শুকরিয়া হিসেবে গণ্য এবং বর্ণনা না করা কুফরী। যে ব্যক্তি সামান্য
সম্মানিত নিয়ামত মুবারক পেয়ে শুকরিয়া আদায় করে না, সে অধিক সম্মানিত নিয়ামত মুবারক পেয়েও শুকরিয়া আদায় করবে না। যে ব্যক্তি মানুষের
শুকরিয়া আদায় করে না, সে মহান আল্লাহ পাক
উনারও শুকরিয়া আদায় করতে পারবে না।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (শু‘য়াবুল ঈমান শরীফ, মুসনাদে আহমদ, আত ত্ববারনী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, মুসনাদে বাযযার, কাশফুল খফা, আল ফাতহুল কাবীর ইত্যাদি)
সেটাই আমরা দেখতে পাই যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
সম্মানিত হিজরত মুবারক করে সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন, তখন সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনার অধিবাসীগণ উনারা নূরে
মুজাসসাম,
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে
স্বাগত মুবারক জানিয়ে পাঠ করেছিলেন-
طَلَعَ الْبَدْرُ عَلَيْنَا ... مِنْ ثَنِيَّاتِ
الْوَدَاعْ
وَجَبَ الشُّكْرُ عَلَيْنَا ... مَا دَعَا لِلّٰهِ
دَاعْ
اَيُّهَا الْمَبْعُوْثُ فِيْنَا... جِئْتَ بِالْاَمْرِ
الْمُطَاعْ
অর্থ: “ছানিয়াতুল বিদা হতে আমাদের উপর
পূর্ণচন্দ্র উদিত হয়েছেন। আমাদের উপর শুকরিয়া আদায় করা ফরয-ওয়াজিব হয়ে গেছে এজন্য যে, দায়ি’ তথা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার
জন্য আমাদেরকে সম্মানিত আহ্বান মুবারক করছেন। সুবহানাল্লাহ! হে মহান আল্লাহ পাক উনার
পক্ষ থেকে প্রেরিত রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি
আমাদের মাঝে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন অনুসরণীয় বিষয়বস্তু তথা সম্মানিত দ্বীন
ইসলাম উনাকে নিয়ে।” সুবহানাল্লাহ! (বিদায়াহ-নিহায়াহ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, রযীন ইত্যাদি)
আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে এবং তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত
ও রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক লাভের প্রত্যাশায় একখানা বিশেষ ওয়াক্বেয়াহ মুবারক বর্ণনা
করবো। যা মহাসম্মানিত ‘ফালইয়াফরহূ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের শামিল। সুবহানাল্লাহ!
তাওফীক্ব ভিক্ষা চাচ্ছি সহজ-সরল, সুন্দর ও সুস্পষ্টভাবে
বর্ণনা করার। আমীন!
তবে উক্ত বিশেষ ওয়াক্বেয়াহ মুবারক বর্ণনা
করার পূর্বে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করার লক্ষ্যে প্রাসঙ্গিক একখানা ওয়াক্বেয়াহ মুবারক
উনার অবতারণা- হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে চিনেন না, এমন কোন আলিম পৃথিবীর বুকে নেই। উনারই জীবনী মুবারক-এ ঘটে যায়
জগতবাসীর জন্য একটি শিক্ষনীয় ঘটনা। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনার গভীর তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত
মুবারক। হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রতিদিন বা’দ
‘ইশা মুরাকাবায় বসে হিন্দুস্থান থেকে চলে যেতেন সুদূর সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র দীদার মুবারক-এ। সুবহানাল্লাহ! নিয়মিতভাবে এই তরতীবে
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতেন তিনি। এভাবে বেশ কয়েক
বছর অতিবাহিত হলো। একদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ
তিনি আরজী পেশ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার
আরো অধিক সম্মানিত তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে চাই। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘যদি তাই হয়, তাহলে আপনি শায়েখ আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দী মুজাদ্দিদে আলফে ছানী
রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট যান, উনার হাত মুবারক-এ বায়াত হন এবং উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করুন। তাহলে আপনি আমার
আরো অধিক মুহব্বত-মা‘রিফত, নিসবত-কুরবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হছিল করতে পরবেন।’ সুবহানাল্লাহ!
এই সম্মনিত নির্দেশ মুবারক শুনে হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি
তিনি চুপ হয়ে গেলেন। তিনি আর কিছু বললেন না। তিনি প্রতিদিনের মতো আজও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
সম্মানিত ও পবিত্র ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার শেষে উনার বাসগৃহে চলে আসলেন। উনার মাথা চক্কর
খেতে লাগলো। কারণ, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
‘যেই শায়েখ আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দী মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার
নিকট যেতে, উনার হাত মুবারক-এ বায়াত হতে এবং উনার
ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতে’ হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি
উনাকে নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন তিনি তো উলামায়ে সূ’দের কথায় ‘সেই শায়েখ আহমদ ফারূক্বী
সিরহিন্দী মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি’ উনাকে কাফির ফতওয়া দিয়ে উনার বিরুদ্ধে
একখানা কিতাব লিখেছেন! হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
সকালে উঠে তাড়াতাড়ি লিখিত সেই বইখানা স্বহস্তে ছিড়ে টুকরো টুকরো করে আগুনে পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন
করে দিলেন। রওয়ানা হলেন সিরহিন্দ শরীফ পানে। যদিও তিনি তখন ক্বাদেরীয়া ত্বরীক্বাহ উনার
একজন বিশিষ্ট বুযূর্গ এবং খিলাফতপ্রাপ্ত খলীফা। তারপরেও তিনি সিরহিন্দ শরীফ গেলেন এবং
হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাত মুবারক-এ বায়াত গ্রহণ করে উনার
ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার মাধ্যম দিয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
আরো অধিক সম্মানিত তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করলেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি
আলাইহি উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক বলার অপেক্ষাই রাখে না। তিনি হচ্ছেন
মুজাদ্দিদে আলফে ছানী তথা দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মুজাদ্দিদ। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, তিনি হচ্ছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম
উনাদের পর থেকে ১৪শ’ হিজরী পর্যন্ত যত হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম এবং
যত হযরত মুজাদ্দিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা
অতীত হয়েছেন উনাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ওলীউল্লাহ, সবচেয়ে বড় মুজাদ্দিদ। সুবহানাল্লাহ! তাহলে তিনি কতো সীমাহীন
মর্যাদা-মর্তবা, শান-শুয়ূনাত, মাক্বামত মুবারক উনাদের অধিকারী, সেটা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! উনার শান মুবারক-এ
স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ
মুবারক করেন-
يُبْعَثُ رَجُلٌ عَلـٰى اَحَدَ عَشَرَ مِائَةَ سَنَةٍ
وَّهُوَ نُوْرٌ عَظِيْمٌ اِسْـمُهٗ اِسْـمِىْ بَيْنَ السُّلْطَانَيْنِ الْـجَابِرَيْنِ
يَدْخُلُ الْـجَنَّةَ بِشَفَاعَتِهٖ رِجَالٌ اُلُوْفًا.
অর্থ: “একাদশ হিজরী সনে একজন মহান ব্যক্তিত্ব
মুবারক উনার আবির্ভাব ঘটবে, তিনি হচ্ছেন ‘নূরুন
আযীম তথা মহান নূর’। সুবহানাল্লাহ! উনার নাম মুবারক হবে আমার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম
বা নাম মুবারক-এ। তিনি দুই যালিম বাদশাহর মাঝে তাশরীফ মুবারক নিবেন। উনার মুবারক শাফায়াতে (সুপারিশে) হাজার হাজার
লোক সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবে।” সুবহানাল্লাহ! (জামউল জাওয়াম, জামিউদ দুরার)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
يَكُوْنُ فِـىْ اُمَّتِـىْ رَجُلٌ يُّقَالُ لَهٗ
صِلَةُ يَدْخُلُ الْـجَنَّةَ بِشَفَاعَتِهٖ كَذَا وَكَذَا مِنَ النَّاسِ.
অর্থ: “আমার উম্মতের মাঝে একজন মহান ব্যক্তিত্ব
মুবারক উনার আবির্ভাব ঘটবে। উনাকে ‘ছিলাহ’ বলা হবে। উনার মুবারক শাফায়াতে অসংখ্য মানুষ
সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবে।” সুবহানাল্লাহ! (জামউল জাওয়াম, জামিউদ দুরার, জামিউল আহাদীছ, যুহুদ, ইবনে সা’দ, বাইহাক্বী)
মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত
মুবারক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
সম্মানিত ও পবিত্র মু’জিযা শরীফ যে কতো হিকমতপূর্ণ তা জিন-ইনসান কখনো চিন্তা-কল্পনা
করে মিলাতে পারবে না। সুবহানাল্লাহ! মূলত, উনারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিশেষ ওয়াক্বিয়াহ মুবারক দ্বারা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীকে শিক্ষা মুবারক দিয়ে থাকেন। হযরত আব্দুল
হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ন্যায় হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি
আলাইহি উনার ক্ষেত্রেও একখানা বিশেষ বরকতময় ওয়াক্বেয়াহ মুবারক সংঘটিত হয়। সেই সম্মানিত
ওয়াক্বিয়াহ মুবারক উনার মধ্যে সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য সীমাহীন বিশেষ ইবরত-নছীহত মুবারক নিহিত রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
আর সেই সম্মানিত বিশেষ বরকতময় ওয়াক্বেয়াহ মুবারকখানা হচ্ছেন- হযরত মুজাদ্দিদে আলফে
ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আরজি মুবারক পেশ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার আরো অধিক সম্মানিত
রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক, তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত
মুবারক হাছিল করতে চাই, আরো অধিক নৈকট্য অর্জন
করতে চাই। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, যদি তাই হয়, তাহলে আপনি আমার আখাচ্ছুল খাছ মাহবূব, মহাসম্মানিত আওলাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম, সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার যিনি মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু
ওয়াস সালাম রয়েছেন উনার নিকট যান, উনার নিকট যেয়ে উনার
সম্মানিত ও পবিত্র হাত মুবারক-এ বায়াত হন এবং উনার থেকে সম্মানিত বিশেষ নিয়ামত মুবারক
হাছিল করুন। তবেই আপনি আমার আরো অধিক সম্মানিত রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক, তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক হাছিল করতে পারবেন, আরো অধিক নৈকট্য মুবারক অর্জন করতে পারবেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
সুবহানাল্লাহ!
অতঃপর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক-এ
হযরত শায়েখ আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দী মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি
সম্মানিত রাজারবাগ দরবার শরীফ এসে মুজাদ্দিদে আ’যম, সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ
হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ বায়াত হওয়ার
জন্য বিনীতভাবে আরজি মুবারক পেশ করেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা ইরশাদ মুবারক করেছেন তা ব্যক্ত করেন। তখন মামদূহ মুর্শিদ
ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি
দয়া করে উনার সম্মানিত আরজি মুবারক কবূল করে উনাকে সম্মানিত বায়াত মুবারক করিয়ে স্বীয়
মুরীদ হিসেবে কবূল করে নেন। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ মুবারক মুজাদ্দিদে
আ’যম,
সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উানর মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা
ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ১৪৩৮ হিজরী সনের ২২শে
জুমাদাল ঊলা শরীফ সম্মানিত বিশেষ মাহফিল মুবারক-এ বর্ণনা মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে এই সম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ মুবারক
থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ
মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস
সালাম উনার কত বেমেছাল সম্মানিত তা‘য়াল্লুক-নিসবত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! যেটা সমস্ত
জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী কস্মিনকালেও চিন্তা-কল্পনা
করে মিলাতে পারবে না। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, সম্মানিত ও পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার রাতে যেমন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক-এ এসে সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে
মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে সম্মানিত
বিশেষ নি‘য়ামত মুবারক হাছিল করেছিলেন, ঠিক তেমনিভাবে ১৩শ’ বছরের মধ্যে সবচেয়ে
বড় মুজাদ্দিদ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ পৃথিবীর ইতিহাসে
এই পর্যন্ত যত হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম এবং হযরত মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি
আলাইহিম অতীত হয়েছেন, উনারা প্রত্যেকেই আহলু
বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস
সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ, সম্মানিত ও পবিত্র ছোহবত মুবারক-এ বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে এসে
সম্মানিত বিশেষ নি‘য়ামত মুবারক হাছিল করেছেন এবং হাছিল করে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ!
শুধু তাই নয়, উনারা প্রত্যেকেই হচ্ছেন মুজাদ্দিদে আ’যম
মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু
ওয়াস সালাম উনার সম্মানিত মুরীদ উনাদের অন্তর্ভুক্ত, আর আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ
হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি হচ্ছেন উনাদের প্রত্যেকেরই মহাসম্মানিত
শায়েখ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম। সুবহানাল্লাহ! কেউ যদি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার
হাবীব,
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের আখাচ্ছুল
খাছ সম্মানিত তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি
মুবারক হাছিল করতে চায়, তাহলে তার জন্য ফরযে
আইন হচ্ছে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ
হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র হাত মুবারক-এ বায়াত
গ্রহণ করা। সুবহানাল্লাহ! এই দ্বার সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্যই উন্মুক্ত। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
সুবহানাল্লাহ!
তাহলে ফিক্বির করতে হবে যে, আমরা কতো বড় মহাসম্মানিত নিয়ামত মুবারক লাভ করেছি! আমরা কি কস্মিনকালেও
তা চিন্তা-কল্পনা করে মিলাতে পারবো! হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম
উনারা ব্যতীত পৃথিবীর ইতিহাসে আর কেউ কি এতো বড় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিয়ামতে ‘উযমা
মুবারক লাভ করতে পেরেছেন! তাহলে আমাদের কি করা উচিত! আমাদের কতোটুকু সম্মানিত খুশি
মুবারক প্রকাশ করা এবং শুকরিয়া আদায় করা উচিত! উনার সম্মানার্থে শুকুরগুযারীর সাথে
সম্মানিত খুশি মুবারক প্রকাশ করে কতটুকু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়ারহূ’ সাইয়্যিদুল
আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা উচিত!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি আমাদের
সবাইকে হাক্বীক্বী ছহীহ সমঝ দান করুন এবং উনার সম্মানার্থে শুকুরগুযারীর সাথে সম্মানিত
খুশি মুবারক প্রকাশ করে হাক্বীক্বীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়ারহূ’ সাইয়্যিদুল
আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন! আমীন! আমীন!


No comments