Header Ads

Islamic Quotes Urdu Facebook Cover. QuotesGram

ছহেবে কা’বা কাওসাইন আও আদ্না, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মি’রাজ শরীফ



سبحان الذى اسرى بعبده ليلامن المسجد الحرام الى المسجد الاقصى الذى بركنا حوله لنريه من ايتنا.
অর্থঃ- পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্ত্বা তিনি, যিনি স্বীয় হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করায়েছিলেন, মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আক্সা পর্যন্ত। যার চারদিক আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি, যাতে আমি উনাকে কুদ্রতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। (সূরা বণী ইসরাঈল/১)
মহান আল্লাহ্ পাক তাঁর প্রিয়তম বান্দা তথা সাইয়্যিদুল কাওনাইন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সীমাহীন কুদরতের অপূর্ব নিদর্শন এবং দীদার বা দর্শন দানের লক্ষ্যে  উনার পবিত্র সান্নিধ্য পানে নিয়ে যান। এ সান্নিধ্য পথের দু’টি দিক পরিলক্ষিত হয় একটি ইস্রা অপরটি মি’রাজ। মক্কা শরীফ থেকে বাইতুল মোকাদ্দাস পর্যন্ত,  এ অংশটিকে ইস্রা বা রাত্রিকালিন সফর বলা হয়। যা কুরআন শরীফ উনার অকাট্য আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। কাজেই ইহাকে অস্বীকার করা কুফরী। আর বাইতুল মোকাদ্দাস হতে উর্দ্ধালোকে গমনের এ অংশটিকে আভিধানি দৃষ্টিকোন থেকে মি’রাজ শরীফ নামে অভিহিত। ইহা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শ্রেষ্ঠত্বের একক বৈশিষ্ট্য। মি’রাজ শরীফ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হায়াতে তাইয়্যেবায় সর্বমোট তেত্রিশবার সংঘটিত হয়। তম্মধ্যে হিজরতের পূর্বে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৫১ বৎসর বয়স মোবারকে রজব মাসের ২৭ তারিখে যে মি’রাজ শরীফ সংঘটিত হয়েছিল তা ছিল স্ব-শরীরে এবং জাগ্রতাবস্থায়। এ সম্পর্কে চল্লিশটিরও বেশী সহীহ্ ও মোতাওতির হাদীস শরীফ বিদ্যমান আছে। কাজেই ইহাকে অস্বীকার করা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল প্রদর্শন করা চরম ফাসেকী ও কুফুরীর অন্তুর্ভক্ত।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি মক্কা শরীফে অবস্থান করা কালিন সময়ে একদা আমার ঘরের ছাদ উন্মুক্ত হলো এবং তা দিয়ে হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম অবতরণ করলেন। অতঃপর আমার সীনা মোবারক চাক (বক্ষ বিদীর্ণ) করে আমার ক্বাল্বকে বের করে ফেললেন। তারপর ঈমান ও হিক্বমতে পরিপূর্ণ স্বর্ণ নির্মিত একটি পাত্র নিয়ে আসলেন এবং আমার ক্বাল্বকে তার মধ্যে রেখে জমজমের পবিত্র পানি দ্বারা ধৌত করলেন। অতঃপর তা পুণরায় আমার সীনা মোবারকের মধ্যে রেখে দিয়ে বক্ষ মোবারককে সংযুক্ত করে দিলেন।” (বোখারী শরীফ)
উল্লেখ্য যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীনা মোবারক চাক করে আল্লাহ্ পাক-এর নিয়ামত তথা ঈমান, ইল্ম ও হিকমত দ্বারা ক্বাল্ব পূর্ণ করা হয়। এ প্রসঙ্গে মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে,
ثم ملئ ايمانا وحكمة
অর্থঃ- “অতঃপর তার মধ্যে ঈমান, ইল্ম ও হিকমত (জ্ঞান-বিজ্ঞান) ভরিয়ে দেয়া হলো।” (মেশকাত শরীফ)
কিন্তু আজকাল  কিছু লোক বলে যে, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনার সীনা মোবারক চাক করে সেখান থেকে কু-প্রবৃত্তিসহ অন্যান্য খারাপ জিনিসগুলো বের করে ফেলে দেয়া হয়েছে।”
অথচ এরূপ আক্বীদা পোষণ করা সম্পূর্ণরূপে কুফরী। কেননা আল্লাহ্ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শরীর মোবারকে খারাপ বা নাপাক বলতে কিছুই ছিলনা। যা ছিল, তা সম্পূর্ণ পুত পবিত্র ও বরকতময়।
স্মর্তব্য যে, বক্ষ মোবারক বিদীর্ণের পর বোরাকে আরোহণ করে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বায়তুল মোকাদ্দাসে পৌঁছেন। সেখানে পূর্বেকার সকল নবী-রাসূল  আলাইহিমুস সালাম গণ উপস্থিত হয়ে উনার পিছনে ইক্তেদা করে দু’রাকায়াত নামাজ পড়েছিলেন। কার্যতঃ এটা ছিল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নেতৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ।
তৎপর সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে সাত আকাশ পরিভ্রমণ করেন এবং প্রত্যেক আকাশে অবস্থানরত পয়গম্বর আলাইহিমুস সালাম গণের সাক্ষাৎ ও পরিচয় গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি পয়গম্বর আলাইহিমুস সালাম গণের স্থান অতিক্রম করে এক ময়দানে পৌঁছেন, সেখানে ভাগ্যলিপি লেখার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। পরে তিনি সিদ্রাতুল মুন্তাহার নিকট গেলেন, তথায় হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম কে স্ব-আকৃতিতে দেখেন। এরপর বেহেশ্ত ও দোযখ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে জান্নাতী এবং জাহান্নামীদের অবস্থা অবলোকন করেন। তৎপর আল্লাহ্ পাক-এর দীদার লাভ করতঃ তাঁর নিকটবর্তী হলেন। কোরআন শরীফের ভাষায়- ثم دنا فتدلى - فكان قاب قوسين او ادنى.
অর্থঃ- “তিনি ঝুঁকে পড়ে নিকটবর্তী হলেন, এমনকি ধনুকের দু’প্রান্তের যে ব্যবধান থাকে কিংবা তার চেয়েও কম।”
অতঃপর সালাম বিণিময়ান্তে আল্লাহ্ পাক স্বীয় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হাদীয়া স্বরূপ দান করেন। ঐ নামাজকেই হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতে মুহম্মদীর জন্য মি’রাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

No comments

ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য।

  ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য। ডাল খাওয়ার ফলে কলব প্রসারিত হয় এবং চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়। পূর্ববর্তী হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উ...

Powered by Blogger.