Header Ads

Islamic Quotes Urdu Facebook Cover. QuotesGram

তারাবীহ নামায ২০ রাকায়াত এর দলিল পর্ব-২





দলিল-২


حدثنا يزيد بن هارون قال- اخبر نا ابراهيم ابن عشمان، عن الحكم عن مقسم عن ابن عباس- ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان سصلى فى رمضان عشرين ركعة والوتر- (اخرجه فى مصنف بن ابى شيبة= وكذا فى مسندالكشى= معجم لليغوى= الكبير للطبرانى= سنن الكبرى للبيهقى التعليق الحسن= مسند عدى= مسند عبد بن حميد= المطالب العلية= فتح الملهم شرح صحيح المسلم= مر قاة المفاتيح شرح مشكوة المصابيح= مرأة المناجيح شرح المشكوة= درس مشكوة= اوجز المسالك شرح مؤطا امام المالك- وصححه فى العلاء السنن= ومعارف مدنيةشرح ترمذى)


অর্থঃ- হযরত ইয়াযীদ ইবনে হারুন বলেন, হযরত ইব্রাহীম ইবনে ওসমান আবূ শাইবা, হিকাম হতে তিনি মুকসিম হতে তিনি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণনা করেন, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, নিশ্চয় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রমযান মাসে বিশ রাকায়াত (তারাবীহ) ও বিতর(আলাদা) পড়েছেন।”


(
দলীলঃ ইবনে আবী শায়বা ২/১৬৪: হাদীস শরীফ- ৭৬৯২, তিবরানী মুজামুল কবীর ১১/৩৯৩ : হাদীস ১২১০২, বায়হাক্বী সুনানে কুবরা ২/৪৯৫ : হাদীস ৪৩৯২, তাবরানী জামুল আওসাত ১/২৪৩: হাদীস ৭৯৮, মুন্তাখাব মিনাল মুসনাদ, তারিখে বাগদাদ ৬/১১৩, ফতহুল বারী শরহে বোখারী ৪/২৫৪: হাদীস ২১৩, আত তামহীদ ৮/১১৫, মাযমাউয যাওয়াইদ ৩/১৭২, তাহযীবুল কামাল ২/১৪৯, তালীকুল হাসান)

কেউ কেউ বলে থাকে যে, বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামাজের স্বপক্ষে কোন ছহীহ্ হাদীছ শরীফ-এর প্রমাণ নেই। মূলতঃ হাদীছ শরীফ ও তার উসূল সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবেই তারা একথা বলে থাকে। কারণ বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামাযের স্বপক্ষে যে হাদীছ শরীফগুলো পেশ করা হয়, তার প্রায় প্রত্যেকটিই ছহীহ্ ও নির্ভরযোগ্য সনদে বর্ণিত। কেউ কেউ হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হাদীছ শরীফকে জঈফ বলে থাকে, অথচ এটা সম্পূর্ণই ভুল। কারণ হাদীছ শাস্ত্রের উসূল মোতাবেক হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা ছহীহ্ প্রমাণিত হয়।

বাতলিপন্থীরা উক্ত হাদীস শরীফরে একজন রাবী "হযরত ইব্রাহমি ইবনে ওসমান আবি শায়বা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দ্বয়ীফ বলে থাক। আসুন আমরা দেখি  রিজালবাদী গন উক্ত রাবী সর্ম্পকে কি মতামত দিয়েছেঃ-

اس حديث كو راوي ابراهيم بن عثمان كي وجه سے ضعيف كهنا بوجه ذيل صحيح نهين (١) قال ابن عدي وهوخير من ابراهيم بن ابي حية اس سے ثابت هوا كه ابراهيم بن عثمان ابراهيم بن ابي حية سے زياده ثقه هيه

হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত- হাদীছ শরীফকে, রাবী ইব্রাহীম ইবনে ওসমান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জন্যে নিম্নোক্ত কারণে দ্বয়ীফ বলা শুদ্ধ হবেনা।
(
) রাবী ইব্রাহীম ইবনে ওসমান রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে, আল্লামা ইবনে আদ্দী বলেন, তিনি (ইব্রাহীম ইবনে ওসমান) ইব্রাহীম ইবনে আবী হাইয়্যাহ হতেও উত্তম রাবী। (আল কামেল -/২৪১)

এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইব্রাহীম ইবনে ওসমান রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইব্রাহীম ইবনে আবী হাইয়্যাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হতেও অধিক ছেক্বাহ্ রাবী। (তাহ্যীব, লোময়াতুল মাছাবীহ্)

অর্থাৎ ইব্রাহীম ইবনে আবী হাইয়্যা তো অবশ্যই ছেক্বাহ্ রাবী, তার চাইতেও উত্তম ছেক্বাহ্ রাবী হলেন- ইব্রাহীম ইবনে ওসমান রহমতুল্লাহি আলাইহি। অতএব, বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ সামাজ সম্পর্কিত হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হাদীছ শরীফকে, রাবী ইব্রাহীম ইবনে ওসমান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কারণে জইফ বলার কোন অবকাশ নেই। কারণ প্রমাণিত হয়েছে যে, হযরত ইব্রাহীম ইবনে ওসমান রহমতুল্লাহি আলাইহি জঈফ নন বরং ছেক্বাহ্ রাবীর অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানাও ছহীহ্ হাদীছ শরীফের অন্তর্ভূক্ত।

ইমাম ইবনে আদী বিশুদ্ধ হাদীস বর্ণনা করেন বলে সত্যায়ন করলেন । সাথে সাথে তাকে ইবনে আবূ হাইয়্যাথেকে উত্তম বলে অভিহিত করলেন । অথচ ঐ ইবনে আবূ হাইয়্যা সম্পর্কে হাদীস শাস্ত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ ইমাম ইবনে মাঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন আবূ হাইয়্যা হলো হাদীস শাস্ত্রের শায়খ , নির্ভরযোগ্য উচ্চমাপের বর্ণনাকারী(লিসানুল মীযান ১/৫৩)

ইবরাহীম বিন উসমান আবূ শাইবা রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে ইমাম ইয়াযীদ বিন হারুন রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখেন ,
আবু শাইবার সময়কালে তাঁর চেয়ে ন্যায়পরায়ন বিচার মানুষের মধ্যে অপর কেউ করেনি(তাহযীব-/১৪৫)

বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামাজের স্বপক্ষে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা যে সহীহ্, তা নিন্মোক্ত কিতাবের বর্ণনা দ্বারাও প্রমাণিত হয়। এ প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ করা হয় যে,
حضرت ابن عباس اور حضرت عمر رضي الله عنهما دونون صحابي هين انگے درميان كوءي ضعيف راوي نهين جس سے حديث ابن عباس كو ضعيف كهه سكے كيونكه خلفاء راشدين و غيره صحابة كا بيس ركعات پر عمل ومواظبت اسكے معتبر هونے کی دليل هے - علامه بحرالعلوم رحمة الله عليه فرماتے ھے -ومواظبة اصحابة علي عشرين قرينة صحة هذه الرواية

অর্থঃ- হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ও হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উভয়েই (জলীলুল ক্বদর) ছাহাবী। ওনাদের মধ্যখানে কোন জঈফ রাবী নেই, যার কারণে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাদীছ শরীফকে জঈফ বলা যেতে পারে এবং এটা বুঝা যেতে পারে যে, ছাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের আমলের ভিত্তি জঈফ হাদীছ শরীফের উপর। কেননা খোলাফা--রাশেদীন ও অন্যান্য সাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের বিশ রাকায়াতের উপর নিয়মিত আমল ও ঐক্যমত হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা সহীহ্ ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার অকাট্য দলীল। আল্লামা বাহ্রুল উলূম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামাজের উপর হযরত ছাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণের মুয়াযেবাত (নিয়মিত আমল) ও ঐক্যমত, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা সহীহ্ হওয়ার ক্বরীনা বা স্পষ্ট দলীল। (রাসায়েলুল আরকান)

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত, এর স্বপক্ষে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা মোটেও জঈফ নয়, বরং তা সম্পূর্ণই সহীহ্। অতএব, সহীহ্ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- রমযান মাসে বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামায পড়তেন। আর এ বিশ রাকায়াতের উপরই পরবর্তীতে হযরত ছাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের মধ্যে ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়।

আরো ইরশাদ হয়েছে,
نقل حافظ الحديث ابن حجرا لعسقلانى- انه صلى الله عيه وسلم- صلى بالناس عشرين ركعة ليلتين- فلما كان فى الليلة الثالثة اجتمع الناس فلم يخرج اليهم ثم قال من الغد انى خشيت ان تفرض عليكم فلا تطيقونها- متفق على صحته (لا مع الدرارى شرح سحيح البخارى)
অর্থঃ- হাফিজুল হাদীছ, আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- দুই রাত্র হযরত সাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণকে নিয়ে বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামায জামায়াতের সাথে আদায় করেন। তৃতীয় রাত্র যখন আসলো, হযরত ছাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ একত্রিত হলেন, কিন্তু হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নামায পড়ার জন্যে উনাদের নিকট বের হয়ে আসলেন না। অতঃপর বললেন, আমার ভয় হচ্ছে, এটা তোমাদের উপর ফরজ হয়ে যায় কিনা। আর ফরজ হয়ে গেলে তোমরা তা আদায় করতে সক্ষম হবেনা।এটা সহীহ্ হওয়ার ব্যাপারে সকলেই একমত। (লামিউদ্ দুরারী শরহে বুখারী, তাল্খীছুল হাবীর ফি তাখরীজে আহাদীসির রাফিয়িল কাবীর ২য় জিঃ পৃষ্ঠা-১১৯, মিরকাত শরহে মিশকাত, আল এনায়া আলা মুস্তাখ্লাছিল হাক্বায়েক, আল্ কেফায়া মায়াল হিদায়া, আল হাবী লিল্ ফতওয়া লিস্ সুয়ূতীতে উল্লেখ আছে)


এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত মুহাদ্দিস, রঈসুল মুহাদ্দিসীন, তাজুল ওলামা ওয়াল মাশায়েখ, হযরত শাহ্ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিসে দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
فالظاهر انه نبت عندهم صلوة النبى صلى الله عليه وسلم عشرين ركعة كماجاء فى حديث ابن عباس فاختاره عمر رضى الله عنه. (فتح المنان)
 অর্থঃ- প্রকাশ থাকে যে, বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামায হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত। যেমন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হাদীছ শরীফে এসেছে। আর আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এটাই গ্রহণ করেন। (ফাতহুল মানান)
আর আল্লামা তাহ্তাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তারাবীহ্ নামায সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার পর রায় দেন যে,
فعلى هذا يكون عشرون ثابتا من فعله صلى الله عليه وسلم. (طحطاوى، درالمختار)
অর্থঃ- (তাহ্তাবী কিতাবে বর্ণিত) বিস্তারিত আলোচনার ভিত্তিতে প্রমাণিত হলো যে, বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামায, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফেল বা আমল দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত। (তাহ্তাবী, দুররুল মুখ্তার)

হাফেজ ইবনে হাজার রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখেন,
যে হাদীস অনুযায়ী আমল করা উম্মতের নিকট গৃহীত হয়েছে এবং যে বিষয় অনুযায়ী আমল করার প্রতি উম্মতের ঐক্য (ইজমা) চলে আসছে, নি:সন্দেহে তা গ্রহণ করার মতো অনেক কারণ ও বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হাদীস শরীফ অপেক্ষাও শক্তিশালী।” (তাদরীবুর রাবী সুয়ূতী -/৬৭, আন-নুকাত আলা কিতাবে ইবনে ছালাহ/আসক্বলানী -/৪৯৪)


ইমাম বদরুদ্দীন যারকাশী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
দুর্বল হাদীস যদি উম্মত ব্যাপকভাবে গ্রহণ করে , তখন এর উপর আমল করা হবে। এটাই হলো বিশুদ্ধ নীতিএমনকি তখন ঐ দুর্বল হাদীসটি মুতাওয়াতির বা বিপুল সংখ্যক সনদে বর্ণিত সর্বাপেক্ষা বিশুদ্ধ হাদীসের পর্যায়ে পরিণত হবে(আন-নুকাত আলা কিতাবে ইবনে ছালাহ/যারকাশী -/৩৯০)

হাফেজ ইবনে হাজার রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখেন,
হাদীস গ্রহণযোগ্য হওয়ার নিদর্শন সমূহের একটি হলো , উলামায়ে কিরামের এই হাদীসের বিষয় বস্তু অনুযায়ী আমল করতে একমত হওয়া। তখন ঐ হাদীসটি গ্রহণ করা হবে । এমনকি এর উপর আমল করা ওয়াজিব হবে । উসূলে হাদীসের ইমামগণ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা ব্যক্ত করেছেন। (আন-নুকাত আলা কিতাবে ইবনে ছালাহ /আসক্বলানী -/৪৯৪)

অতএব, বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামাযের উপর হযরত ছাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণসহ সকল উম্মতের ইজমা এ কথাই প্রমাণ করে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামায পড়তেন ও হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা সহীহ্।

এ প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে,
وذكر فى الاختيار- ان ابايوسف سئل ابا خيفة رحمهما الله تعالى- وما فعله عمر رضى الله عنه- فقال التراويح سنة مؤكدة ولم يتخرجه عمر من تلقاء نفسه ولم يكن فيه مبتدعا ولم يامر به الاعن اصل لديه وعهد من رسول الله صلى الله عليه وسلم. (بحرالرأئق)
অর্থঃ- ইখতিয়ারকিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত ইমাম আবূ ইউসূফ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমামে আযম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে, আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কর্তৃক বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামাযের জামায়াত প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন। তখন ইমামে আযম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, (বিশ রাকায়াত) তারাবীহ্ নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা, হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ওটা নিজ হতে উদ্ভাবন করেননি এবং এ ব্যাপারে তিনি বিদ্য়াত উদ্ভবকও নন। আর তিনি বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামাযের আদেশ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে কোন ভিত্তি বা দলীল না পেয়ে দেননি।  অর্থাৎ তিনি বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামাযের দলীল পেয়েছেন বিধায় বিশ রাকায়াত পড়ার আদেশ দিয়েছেন। (বাহ্রুর রায়েক)

উক্ত আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই প্রমাণিত হলো যে, হযরত ছাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামায মনগড়া উদ্ভাবন করেননি বরং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমল ও সহীহ্ হাদীছ শরীফ-এর ভিত্তিতে করেছেন। আর তাই সকল ছাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ বিনা বাক্যে তা মেনে নিয়েছেন ও এর উপর ইজমা বা ঐক্যমতে পৌঁছেছেন।

বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামাযের উপর যে, হযরত ছাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণসহ সকল উম্মতের ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, নিম্নে তার প্রমাণ পেশ করা হলো-
قال ابن حجر المكى الشا فعى اجمعت الصحابة رضى الله عنهم على ان الترايح عشرون ركعة. (مر قاة المفاتيح)
অর্থঃ- হযরত ইবনে হাজর মক্কী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত, ব্যাপারে হযরত ছাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণের ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ্)
এ প্রসঙ্গে কিতাবে আরো উল্লেখ রয়েছে যে,
التراويح سنة مؤكدة وهى عشرون ركعة با جماع الصحابة رضى الله تعالى عنهم. (مراقى الفلاح)
অর্থঃ- বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামায হযরত ছাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণের ইজমা দ্বারা সুন্নতে মুয়াক্কাদা সাব্যস্ত হয়েছে।” (মারাক্বিউল ফালাহ্)

যারা ৮ রাকায়াত তাররাবীহ দাবি করে তাদের জেনে রাখা উচিতো, উসূল হলো- যদি কোন বিষয়ে দুই বা ততোধিক মত যুক্ত হাদীছ শরীফ পাওয়া যায়, তবে দেখতে হবে হযরত ছাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ উনাদের আমল কোন্ হাদীছ শরীফ-এর উপর। উনাদের আমল যে হাদীছ শরীফ-এর উপর হবে, সে হাদীছ শরীফ অনুযায়ীই আমল করতে হবে। যেমন এ প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ করা হয়-
হযরত ইমাম আবূ দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
اذا تناوع الخبر ان عن النبى صلى اللهعليه وسلم ينطر بما اخذيه اصحابه. (ابودود شريف)
অর্থঃ- যখন দুই হাদীছ শরীফের মধ্যে বিরোধ দেখা দিবে, তখন লক্ষ্য করতে হবে হযরত ছাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ কোন্ হাদীছ শরীফ-এর উপর আমল করেছেন। অর্থাৎ হযরত ছাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ যে হাদীছ শরীফ মুতাবেক আমল করবেন, ওটাই গ্রহণযোগ্য হবে। (আবূ দাউদ)
হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে উল্লেখ করেন ,
اذاجاء عن النبى صلى الله عليه وسلم- حديشان مختلفان وبلغنا ان ابابكر وعمر عملا با حد الحديثين وتركا الاخر كان ذالكدليلا على ان الحق فيما عملابه. (التعليق الممجد على مؤظا امام محم)
অর্থঃ- যখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হতে কোন বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়, আর এর মধ্য হতে একটির উপর হযরত আবূ বকর সিদ্দীক আলাইহিস সালাম ও হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহিস সালাম উনাদের আমল প্রমাণিত হয়, তখন উক্ত হাদীছ শরীফখানার উপর ওনাদের আমল থাকবে, এটাই দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে।
ইমামুল মুজ্তাহীদীন হযরত আবূ বকর জাসসাস রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
متى روى عن النبى صلى الله عليه وسلم- خبران متضادان وظهر عمل السلف با حدهما كان الذى ظهر عمل السلف به اولى لا لاثبات.(احكام القران للجصاص)
অর্থঃ- যখন কোন বিষয়ে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হতে দুটি বিরোধপূর্ণ হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়, আর এর মধ্যে কোন একটির উপর সল্ফে সালিহীনগণ আমল করেছেন বলে যদি প্রমাণিত হয়, তবে উক্ত হাদীছ শরীফ-এর উপর সল্ফে সালেহীনগণ উনারা আমল করেছেন, এটাই উত্তম দলীল হিসাবে সাব্যস্ত হবে। (আহ্কামুল কুারআন)

আর এখন আপনারাই নিজেই দেখে নিন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং পরবর্তী উম্মতের অমল কি ছিলো। যেমন এ প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ করা হয়-
كانوا يقومون على عهد عمر رضى الله تعالى عنه- بعشرين ركعة وعلى عهد عشمان وعلى مثله. (رواه البيهقى با سناد صحيح)
অর্থঃ- লোকেরা হযরত ওমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার খিলাফতকালে বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামায পড়তেন। অনুরূপ হযরত ওসমান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার খিলাফতকালেও বিশ রাকায়াত নামায পড়া হতো। (এটা বায়হাক্বী সহীহ্ সনদে বর্ণনা করেন)

ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

قال الترمذى واكثر اهل العلم على ماروى عن عمر وعلى وغير هما من اصحاب النبى صلى الله عليه وسلم عشرين ركعة وهو قول الثورى وابن المبارك والشافعى وقال هكذا ادركت الناس بمكة يصلون عشرين ركعة. (فقه النسنة ج صفه ২০৬.

ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ উনাদের মধ্য হতে হযরত ওমর ইব্নুল খাত্তাব আলাইহিস সালাম, হযরত আলী আলাইহিস সালাম ও অন্যান্যগণ উনাদের হতে তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত হওয়ার যে বর্ণনা পাওয়া যায়, অধিকাংশ আলেমগণ উহাই গ্রহণ করেন। আর ইমাম সুফিয়ান ছাওরী, ইবনুল মোবারক, শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহিগণের এটাই অভিমত, অর্থাৎ তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত। তিনি আরো বলেন, আমি মক্কা শরীফে লোকদেরকে বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামায পড়া অবস্থায় পেয়েছি। (তিরমিযী শরীফ- কিতাবুছ ছিয়াম, বাবু কিয়ামী শাহরি রমাদ্বান : হাদীস ৮০৬, ফিক্বহুস্ সুন্নাহ্ ১ম জিঃ পৃষ্ঠা-২০৬)

উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে এটাই সাব্যস্ত হয় যে, তারাবীহ্ নামাযের পক্ষে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানাই দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য। কারণ একমাত্র বিশ রাকায়াত সম্পর্কিত হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাদীছ শরীফ-এর উপরই খুলাফা--রাশেদীন, হযরত ছাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, সল্ফে সালিহীন, খল্ফে সালিহীন, ইমাম, মুজতাহিদ প্রত্যেকেরই আমল রয়েছে। অর্থাৎ উল্লিখিত সকলেই বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামায পড়তেন।

ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
وبهذا ناخذ .................... لان المسلمين قد اجمعوا على ذالك وروه حسنا- وقدروى عن النبى صلى الله عليه وسلم انه قال مارأه المسلمون حسنا فهو عند الله حسن. (مؤطا امام محمد)
অর্থঃ- আমরা বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামাযের মতকেই গ্রহণ করেছি। কেননা সকল মুসলমানগণ বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামাযের ব্যাপারে ইজমা বা ঐক্যমতে পৌঁছেছেন এবং ওটাকে উত্তম বলেছেন। আর হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “যেটাকে মুসলমানগণ ভাল বা উত্তম মনে করেন, সেটাকে মহান আল্লাহ পাক তিনিও ভাল বা উত্তম মনে করেন।” (মুয়াত্তায়ে ইমাম মুহম্মদ)

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা স্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামায যেরূপ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমল দ্বারা সুন্নত প্রমাণিত, তদ্রুপ হযরত ছাহাবা--কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণসহ সকল উম্মতের ইজমায়ে আযীমত দ্বারাও প্রমাণিত। অতএব, তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত, এটাকে অস্বীকার করা মূলতঃ হাদীছ শরীফ ও ইজমায়ে আযীমতকে অস্বীকার করারই নামান্তর। যেটা শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণই কুফরী।




আরো দলিলঃ
দলিল-৩

ইয়াহইয়া আমার (ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি)   কাছে মালেক হতে বর্ণনা করেন যে এয়াযীদ ইবনে রুমান বলেছেন, খলীফা হযরত উমর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার শাসনামলে মুসলমানবৃন্দ রমযান মাসের (প্রতি) রাতে ২৩ রাকআত (তারাবীহ ২০ ও বিতর ৩) নামায পড়তেন।
[ ইমাম মালেক প্রণীত মুয়াত্তা মালেক’, সালাত অধ্যায়, মা জাআ ফী কায়ামে রমযান, ১ম খণ্ড, ১৫৯



দলিল-৪
হযরত আবদুল আযীয বিন রাফিরহমাতুল্লাহি আলাইহি  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: হযরত উবাই ইবনে কাআব রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মদীনা মুনাওয়ারায় রমযান মাসে ২০ রাকআত (তারাবীহ) নামাযের জামাতে ইমামতি করতেন।
[ মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ৫ম খণ্ড, ২২৪ পৃষ্ঠা, ৭৭৬৬ নং হাদীস]

দলিল-৫
আবদুর রহমান সুলামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি  বর্ণনা করেন যে হয়রত আলী কাররামাল্লাহুওয়াযহাহু আলাইহিস সালাম রমযান মাসে কুরআন মজীদ তেলাওয়াতকারী হাফেযদের ডেকে তাদের মধ্যে একজনকে ২০ রাকআত (তারাবীহ) নামায পড়াতে বলেছিলেন এবং নিজে বিতরের নামাযে ইমামতি করতেন।
[ ইমাম বায়হাকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি  কৃত সুনান আল-কুবরা’, ২য় খণ্ড, ৬৯৯ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৪৬২০]
দলিল-৫
হযরত হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি   বলেন: খলীফা উমর ফারূক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রমযান মাসের (তারাবীহ) নামাযে হযরত উবাই ইবনে কাব রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনার ইমামতিতে মানুষদেরকে জামাতে কাতারবদ্ধ করেন এবং তিনি (ইবনে কাব রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা) ২০ রাকআত নামায পড়ান।
[সিয়ার আল-আলম ওয়াল নুবালাহ’, ১ম খণ্ড, ৪০০-১ পৃষ্ঠা, হযরত উবাই ইবনে কাব রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা এর জীবনী]
ইমাম নববী রহমাতুল্লাহি আলাইহি  ওপরের বর্ণনা সম্পর্কে বলেন, “হাদীসটির  সনদ সহীহ
[আল-খুলাসাত আল-আহকাম’, হাদীস নং ১৯৬১]

দলিল-৭
হযরত আবূল হাসনা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন যে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাহিস সালাম জনৈক ব্যক্তিকে রমযান মাসে ২০ রাকআত (তারাবীহ) নামাযে ইমামতি করার নির্দেশ দেন।
 [মোসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা’, ৫ম খণ্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৭৭৬৩]

দলিল-৮
হযরত নাফেইবনে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে ওয়াকীবর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হযরত ইবনে আবি মুলাইকা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম রমযান মাসে আমাদের জামাতের ২০ রাকআত (তারাবীহ) নামাযে ইমামতি করতেন।
[ মসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ৫ম খণ্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৭৭৬৫]

দলিল-৯ 
হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন যে নূরে মুজাসসাম ,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে (প্রতি রাতে) নিজে নিজে ২০ রাকআত (তারাবীহ) নামায আদায় করতেন এবং এরপর ৩ রাকআত বেতরের নামাযও পড়তেন।
[সুনান আল-বায়হাকী, হাদীস নং ১২১০২]

দলিল -১০
হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন যে নূরে মুজাসসাম ,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযান মাসে ২০ রাকআত (তারাবীহ) নামায আদায় করতেন এবং এরপর ৩ রাকাত বেতরের নামাযও আদায় করতেন।
[মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা’, ২য় খণ্ড, হাদীস নং ৭৬৯২]

দলিল ১১ 
হযরত আয়েশা সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম ,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই রাতে ২০ রাকআত নামায মানুষের সাথে আদায় করেন; কিন্তু তিনি তৃতীয় রাতে আর বের হননি। তিনি বলেন, আমি আশংকা করি যে এটি তোমাদের (সাহাবা-এ-কেরামের) প্রতি আবার বাধ্যতামূলক না হয়ে যায়।
[ ইবনে ইবনে হাজার আসকালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি  কৃত আল-তালখীস আল-হাবীর’, ২য় খণ্ড, হাদীস নং ৫৪০][
দলিল-১২ 
আল-হারিস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন যে তিনি রমযান মাসে ২০ রাকআত তারাবীহ নামায আদায় করতেন, আর ৩ রাকআত বেতরের নামাযেও ইমামতি করতেন এবং রুকূর আগে কুনুত পড়তেন।
[মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাহ, ৫ম খণ্ড, ২২৪ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৭৭৬৭]

দলিল ১৩
হযরত আবূ আল-বখতারী রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত যে তিনি রমযান মাসে জামাআতে ৫ তারভিয়াত’ (অর্থাৎ, ২০ রাকআত তারাবীহ) নামাযের এবং ৩ রাকাত বেতরের নামাযের ইমামতি করতেন।
[ মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাহ, ৫ম খণ্ড, ২২৪ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৭৭৬৮]
[বি:দ্র: তারাবীহ নামাযে প্রতি ৪ রাকআতে এক তারভিহ’ (বিশ্রামের সময়)। পাঁচ তারভিহাতহলো ৫*৪=২০ রাকআত।]

দলিল ১৪ 
হযরত আতাইবনে রুবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন: আমি সব সময়-ই মানুষদেরকে ২৩ রাকআত (তারাবীহ) পড়তে দেখেছি, যাতে অন্তর্ভুক্ত ছিল বেতরের নামায।
[ মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাহ, ৫ম খণ্ড, ২২৪ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৭৭৭০]

দলিল ১৫ 
হযরত শায়তার ইবনে শাকী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে প্রমাণিত যে তিনি রমযান মাসে ২০ রাকআত তারাবীহ নামাযের জামাআতে এবং বেতরের নামাযেও ইমামতি করতেন।
[ মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ৫ম খণ্ড, ২২২ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৭৭৬২]

দলিল ১৬
হযরত সাঈদ বিন উবাইদ বর্ণনা করেন যে হযরত আলী বিন রাবিয়াহ রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাঁদেরকে ৫ তারভিহাত (২০ রাকআত তারাবীহ) নামাযে এবং ৩ রাকআত বেতরের নামাযেও ইমামতি করতেন।
[মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাহ, ৫ম খণ্ড, ২২৪ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৭৭৭২]

দলিল ১৭ 
ইবনে কুদামাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি  ২০ রাকআত তারাবীহ নামাযের পক্ষে যে এজমাহয়েছে, সে সম্পর্কে প্রমাণ পেশ করতে গিয়ে লিখেন:
আবূ আবদিল্লাহ (ইমাম আহমদ হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি০ উনার দৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠিত দলিল হলো ২০ রাকআত (তারাবীহ); এ ব্যাপারে একই মত পোষণ করেন সর্ব-হযরত সুফিয়ান সাওরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি   ইমাম আবূ হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি  ও ইমাম শাফেঈ রহমাতুল্লাহি আলাইহি  ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি  -এর মতে এটি ৩৬ রাকআত। তিনি মদীনাবাসীর রীতি অনুসরণ করেন। কেননা, সালেহ বলেন তিনি সেখানকার মানুষকে দেখেছিলেন ৪১ রাকআত কেয়ামুল্ লাইল (তারাবীহ) পালন করতে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল ৫ রাকআত বেতরের নামায। কিন্তু আমাদের প্রামাণ্য দলিল হচ্ছে খলীফা হযরত উমর ফারূক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মানুষদেরকে সমবেত করে হযরত ইবনে কাব রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ইমামতিতে ২০ রাকআত তারাবীহর নামায জামাআতে আদায় করিয়েছেন। হযরত হাসসান রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সূত্রে এও বর্ণিত হয়েছে যে খলীফা হযরত উমর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এভাবে ২০ রাত হযরত উবাই ইবনে কাব রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ইমামতিতে মানুষদেরকে জামাআতে নামায আদায় করিয়েছিলেন; আর তিনি (হযরত কাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) রমযানের নিসফে (ওই সময়) শেষ দশ দিন তারাবীহ নিজের ঘরে পড়তেন। এই বর্ণনা ইমাম আবূ দাউদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি  ও হযরত সাইব ইবনে এয়াযীদ রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর প্রদত্ত। ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি  এয়াযীদ ইবনে রুমান থেকে এও বর্ণনা করেছেন যে, খলীফা হযরত উমর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর শাসনামলে মানুষেরা ২৩ রাকআত তারাবীহ আদায় করতেন, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল ৩ রাকআত বিতর।
ইবনে কুদামাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি   আরও লিখেন:
হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে এও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি জনৈক ব্যক্তিকে ২০ রাকআত তারাবীহর জামাআতে ইমামতি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। অতএব, ২০ রাকআত তারাবীহর ব্যাপারে এজমাপ্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে। অধিকন্তু, সালেহ যে মদীনাবাসীদেরকে ৪১ রাকআত নামায পড়তে দেখেছিলেন, সে সম্পর্কে বলবো, সালেহ দুর্বল এবং আমরা জানি না ৪১ রাকআতের এই বর্ণনা কে দিয়েছিলেন। হতে পারে যে সালেহ কিছু মানুষকে ৪১ রাকআত পড়তে দেখেছিলেন, কিন্তু এটি তো হুজ্জাত (প্রামাণ্য দলিল) হতে পারে না। আমরা যদি ধরেও নেই যে মদীনাবাসী ৪১ রাকআত তারাবীহ (বেতরের ৫ রাকআত-সহ) পড়তেন, তবুও হযরত উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)-এর নির্দেশ, যা তাঁর সময়কার সকল সাহাবা-এ-কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন) অনুসরণ করেছিলেন, তা-ই অধিকতর অনুসরণযোগ্য। কয়েকজন উলামা বলেন যে মদীনাবাসী মুসলমানগণ ৩৬ রাকআত তারাবীহ পড়তেন যাতে মক্কাবাসী মুসলমানদের সাথে তা মিলে যায়; কেননা, মক্কাবাসীরা প্রতি রাকআত পড়ার পর তাওয়াফ করতেন এবং এভাবে তাঁরা ৭ বার তাওয়াফ করতেন। মদীনাবাসী মুসলমানগণ ওই সময়ের মধ্যে (অর্থাৎ, একেক তওয়াফে) ৪ রাকআত আদায় করে নিতেন (নওয়াফিল)। কিন্তু আমরা যেহেতু জানি যে সাহাবা-এ-কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ২০ রাকআত তারাবীহ পড়েছেন, সেহেতু আমাদের তা-ই মান্য করা আবশ্যক।
[আল-মুগনী, ২য় খণ্ড, ৬০৪ পৃষ্ঠা]

দলিল ১৮ 
ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার আল-কুনাপুস্তকে রেওয়ায়াত করেন:
হযরত আবূ আল-খুসাইব রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন যে হযরত সুওয়াইদ বিন গাফালাহ রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  সব সময়-ই রমযান মাসে আমাদেরকে নিয়ে জামাআতে ২০ রাকআত তারাবীহ নামাযে ইমামতি করতেন।
[আল-কুনা, ২য় খণ্ড, হাদীস নং ২৩৪]

দলিল ১৯ 
ইয়াজিদ ইবনে রুমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ- হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার যুগে সাহাবারা বিতির সহ তেইশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন ।
[মুয়াত্তা ইমাম মালেক খঃ ১পৃঃ ১১৫]

মসজিদে নববীতে বিশ রাকাত তারাবীহঃ
মদীনা তায়্যিবাহর মাঝে হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  , হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  , হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  উনাদের শাসনামলে বিশ রাকাত তারাবীহই পড়া হতো। আজো মদীনা মুনাওয়ারায় বিশ রাকাত তারবীহই পড়া হয়। হযরত আয়শাসিদ্দিকা আলাইহাস সালাম ও মদীনা মুনাওয়ারায় অবস্থান করতেন। তিনিই রাসূল সাঃ এর এ ফরমান বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার দ্বীনের মাঝে বেদআত বের করবে, তার কাজটি পরিত্যাজ্য। যদি বিশ রাকাত তারাবীহের নামায বিদআত ও নাজায়েজ হতো, তাহলে হযরত আয়শা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু   বছরের পর বছর এর উপর চুপ করে বসে থাকতেন না।
হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু   ও মদীনায় অবস্থান করছিলেন। তিনি ঐ হাদীসের রাবী। যাতে বলা হয়েছে যে, প্রত্যেকটি বিদআত গোমরাহী আর প্রত্যেক গোমরাহী জাহান্নামে নিক্ষেপকারী।
অথচ তারই সামনে অর্থ শতাব্দী পর্যন্ত মসজিদে নববীতে বিশ রাকাত তারাবীহ জামাতের সাথে পড়া হচ্ছিল, অথচ তিনি এর বিরুদ্ধে কোন কথা বলেন নি। এটা হতে পারে না।
বাইতুল্লাহ শরীফে বিশ রাকাত তারাবীহ
মক্কা মুকাররমায় হযরত আতা বিন আবী রাবাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি [বিছাল ১১৪হিজরী] বলেনঃ ادركت الناس وهم يصلون ثلاثة وعشرون ركعة بالوتر তথা আমি লোকদের [সাহাবা ও তাবেয়ীগণ] বেতের নামাযসহ ২৩ রাকাত পড়তে দেখেছি। {মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-২/৩৯৩}
আর ইমাম ইবনে আবী মালিকাহ রহ্মাতুল্লাহি আলাইহি [বিছাল ১১৭হিজরী] লোকদের মক্কায় বিশ রাকাত তারাবীহ পড়াতেন। {মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-২/৩৯৩}
ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি  [বিছাল ২০৪হিজরী] বলেনঃ আমি স্বীয় শহর মক্কায় লোকদের বিশ রাকাত তারাবীহ পড়া অবস্থায়ই পেয়েছি। {তিরমিজী-১/১৬৬}
আর আজ পর্যন্ত মক্কা মুকাররমায় বিশ রাকাত তারাবীহই পড়া হচ্ছে।
কুফায় বিশ রাকাত তারাবীহ
কুফায় হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  বিশ রাকাত তারাবীহ এবং তিন রাকাত বিতির পড়াতেন। {মুখতাসার কিয়ামুল লাইল-১৫৭}
ইমাম ইবরাহীম নাখয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি [বিছাল-৯৬হিজরী] বলেনঃ লোকেরা [সাহাবীগণ ও তাবেয়ীগণ] রমাদ্বান মাসে পাঁচ তারাবীহ [বিশ রাকাত] পড়তেন। {কিতাবুল আসার লিআবী ইউসুফ-৪১}
বসরায় বিশ রাকাত তারাবীহ
হযরত ইউনুস রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবুল আশআস  এর ফেতনার পূর্বে জামে মসজিদ বসরাতে দেখেছি যে, হযুরত আব্দুর রহমান বিন আবী বাকরা রহ্মাতুল্লাহি আলাইহি হযরত সাঈদ বিন আবীল হাসান রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত ইমরানুল আব্দী রহমাতুল্লাহি আলাইহি লোকদের পাঁচ তারাবীহ [বিশ রাকাত] পড়াতেন। {কিয়ামূল লাইল-১৫৮}
মোটকথা, পুরো খাইরুল কুরুনের মাঝে বিশ রাকাত তারাবীহকে অস্বিকারকারী একজনও ছিল না। কোন ইসলামী রাজত্বে এটাকে অস্বিকার করা হয়নি। এটাকে অস্বিকার করে সর্ব প্রথম ইংরেজরা উপমহাদেশে আসার পর কতিপয় নামধারী আহলে হাদীস গায়রে মুকাল্লিদ গ্রুপ।
চার ইমাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাদের বক্তব্য
শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেনঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত চার মাযহাবে সীমাবদ্ধ।
ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও বিশ রাকাত তারাবীহের প্রবক্তা। [ফাতাওয়া কাজীখান-১/১১২}
ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর একটি বক্তব্য বিশ রাকাতের পক্ষে, দ্বিতীয় বক্তব্য ৩৬ রাকাতের পক্ষে। [যাতে বিশ তারাবীহ আর ১৬ রাকাত নফল] হেদায়াতুল মুজতাহিদ-১/১৬৭}
ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বিশ রাকাতের প্রবক্তা। {আলমুগনী-২/১৬৭}
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার মুখতার বক্তব্যও বিশ রাকাতের পক্ষে। [আলমুগনী-২/১৬৭}
চার মাযহাবের ফিক্বহের ইবারতের মাঝে কোন একটি ইবারতেও শুধু আট রাকাত তারাবীহকে সুন্নত আর বিশ রাকাততে বিদআত বলা হয়নি।
উম্মতে মুসলিমার ইজমা
১২৮৪ হিজরীর ইংরেজ আমলের আগে পৃথিবীর কোন মসজিদে রমজানের পুরো মাস মসজিদে আট রাকাত তারাবীহ জামাতের সাথে পড়ার কোন নজীর নেই। একটি মসজিদের নাম কোন কথিত আহলে হাদীস দেখাতে পারবে না। না মসজিদে নববীতে কোনদিন আট রাকাত তারাবীহ পড়া হয়েছে। না বাইতুল্লায়। না পৃথিবীর কোন মুসলিম পল্লিতে। রানী ভিক্টোরিয়ার আমলে সর্বপ্রথম এ বিদআতের সূচনা হয়।
এর আগে সমগ্র উম্মতে মুসলিমা ঐক্যমত্বের ভিত্তিতে ২০ রাকাত ও এর চেয়ে তারাবীহ পড়ে আসছেন। দেখুন-
১- মিরকাত-৩/১৯৪।
২- ইতহাফুল সাদাতিল মুত্তাকীন-৩/৪২২।
৩- আনারাতুল মাসাবীহ-১৮।
৪- হাশিয়ায়ে শরহে বেকায়া মাওলানা আব্দুল হাই লৌক্ষèবী রহঃ।
৫- উমদাতুল কারী-৫/২৬৭।
৬- ফাতাওয়ায়ে কাজীখান-১১০।
৭- আলমুগনী-১/৮০৩।
৮- শরহে মুকান্না’-১/৮৫২।
৯- শরহুল বুখারী লিল কাসতাল্লানী।
১০- আওযাজুল মাসালেক-১/৩৯০।
১১- শরহে নুকায়া-১০৪।
১২- আউনুল বারী-২/৩০৭।
১৩- কিতাবুল আজকার-৮৩।
১৪- ফাতহুল কাদীর-১/৪০৭।
১৫- আরফুশ শাজী-২৩০।
১৬- আলবাহরুর রায়েক-২/৬৬।
১৭- ফাতাওয়ায়ে শামী-১/৫১১।
১৮- বাদায়েউস সানায়ে-১/২৮৮।
১৯- আলমাসাবীহ-১৬।
২০- হালবী শরহে মুনিয়্যা-৩৮৮।



এতএব উপরের এতসব দলিল-আদিল্লাহ দ্বারা প্রমানিত হলো যে তারাবির নামাজ ২০ রাকাত ই পড়া সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতামত তাই এখন যদি কেউ ৮ রাকাত পড়ে তাহলে আল্লাহু রাব্বুল আলামিন ই ভালো জানেন তার ফায়ছালা তিনি কিভাবে করবেন। নিশ্চই যারা সাহাবা-এ-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম গন উনাদের বিপক্ষে নিজের মনগড়া মতামত নূরে মুজাসসাম ,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করবেন না আর যা তিনি অপছন্দ করবেন তা আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন ও অপছন্দ করেন।

৩য় পর্বে লা মাজহাবীরা ৮ রাকায়াত নিয়ে যে সকল দলিল আদিল্লাহ পেশ করে তার খন্ডন করা হবে ইনশাআল্লাহ।



No comments

ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য।

  ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য। ডাল খাওয়ার ফলে কলব প্রসারিত হয় এবং চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়। পূর্ববর্তী হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উ...

Powered by Blogger.