তারাবীহ নামায আট রাকায়াত হওয়ার দাবী খণ্ডন।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
১ম দলিলঃ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
প্রথমত যারা
বলে তারাবীহ্ নামায আট রাকায়াত পড়া সুন্নত, তারা দলীল হিসাবে নিম্নোক্ত হাদীছ শরীফ পেশ করে থাকে।
যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফে আছে,
عن أبي سلمة بن عبد
الرحمن أنه أخبره : أنه سأل عائشة رضي الله عنها كيف كانت صلاة رسول الله صلى الله
عليه و سلم في رمضان ؟ فقالت ما كان رسول الله صلى الله عليه و سلم يزيد في رمضان ولا
في غيره على إحدى عشرة ركعة يصلي أربعا فلا تسل عن حسنهن وطولهن ثم يصلي أربعا فلا
تسل عن حسنهن وطولهن ثم يصلي ثلاثا . قالت عائشة فقلت يارسول الله أتنام قبل أن توتر
؟ . فقال يا عائشة إن عيني تنامان ولا ينام قلبي (صحيح البخارى- أبواب التهجد، باب
قيام النبي صلى الله عليه و سلم بالليل في رمضان وغيره1/154)
অর্থ : হযরত
আবূ সালমাহ্ ইবনে আব্দুর রহমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম
উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার
মধ্যে কত রাকায়াত নামায পড়তেন? তখন উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস ও পবিত্র রমাদ্বান
শরীফ মাস ব্যতীত অন্য মাসে এগার রাকায়াতের অধিক নামায পড়তেন না। তিনি
৪ রাকাত পড়তেন তুমি এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জানতে চেওনা। তারপর পড়তেন ৪
রাকাত তুমি এর
সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা বিষয়ে জানতে চেওনা, তারপর পড়তেন ৩ রাকাত। হযরত আয়েশা সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম বলেন-তখন
আমি বললাম-হে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম! আপনি কি বিতর পড়ার পূর্বে শুয়ে যান? তিনি বললেন-হে আয়েশা সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম! নিশ্চয় আমার দু’চোখ ঘুমায় আমার ক্বলব ঘুমায়না।” (পবিত্র বুখারী শরীফ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫৪)
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
খণ্ডনমূলক
জবাবঃ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
কয়েকটি কারণে উপরোক্ত হাদীছ শরীফ দ্বারা কখনোই তারাবীহ্ নামায আট রাকায়াত প্রমাণিত হয়না।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
১নং কারণ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
উপরোক্ত
হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে فى رمضان (অর্থাৎ পবিত্র রমাদ্বান শরীফ
মাস উনার মধ্যে) এর সাথে সাথে ولا فى غيره (অর্থাৎ পবিত্র রমাদ্বান শরীফ
মাস ব্যতীত অন্য মাসে) একথাও উল্লেখ আছে। অর্থাৎ বলা হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অন্য মাসে এরূপ এগার রাকায়াত নামায পড়তেন
তদ্রুপ পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার মধ্যেও এগার রাকায়াত নামায পড়তেন।
এখন প্রশ্ন
হলো- পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার মধ্যে না হয় তারাবীহ্ নামায পড়েছেন কিন্তু
গায়রে রমাদ্বান শরীফ অর্থাৎ পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস ব্যতীত অন্য মাসে তারাবীহ্
নামায পড়বেন কিভাবে? তারাবীহ নামায তো শুধু পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার মধ্যে পড়তে হয়।
মূলত এ হাদীছ
শরীফ উনার মধ্যে তারাবীহ্ নামাযের কথা বলা হয়নি বরং তাহাজ্জুদ নামাযের কথা বলা
হয়েছে। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
তিনি সারা বছরই তাহাজ্জুদ নামায আদায় করতেন।
এ প্রসঙ্গে
বিখ্যাত মুহাদ্দিছ, আল্লামা শায়খ শামসুদ্দীন কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
اما الـمراد بـها صلوة الوتر- والسوال والـجواب واردان عليه.
অর্থ : “উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার উক্ত হাদীছ শরীফ দ্বারা তাহাজ্জুদ নামাযকে বুঝানো হয়েছে। হযরত আবূ সালমাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার প্রশ্ন ও উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার জবাব তাহাজ্জুদ নামাযের সাথে সম্পৃক্ত ছিল।” (কাওকাবুদ্ দুরারী শরহে বুখারী শরীফ)
اما الـمراد بـها صلوة الوتر- والسوال والـجواب واردان عليه.
অর্থ : “উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার উক্ত হাদীছ শরীফ দ্বারা তাহাজ্জুদ নামাযকে বুঝানো হয়েছে। হযরত আবূ সালমাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার প্রশ্ন ও উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার জবাব তাহাজ্জুদ নামাযের সাথে সম্পৃক্ত ছিল।” (কাওকাবুদ্ দুরারী শরহে বুখারী শরীফ)
উক্ত হাদীছ
শরীফ উনার ব্যাখ্যায় হযরত শাহ্ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি
বলেন-
رصیح انست کہ انپہ انحضرت صلی اللہ علیہ وسلم گزارد ھمہ تھجدوے بود کہ یازدہ رکعت باشد
অর্থ : “বিশুদ্ধ বা সহীহ্ মত এটাই যে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিতরসহ যে এগার রাকায়াত নামায পড়েছেন, সেটা তাহাজ্জুদ নামায ছিল।” (আশয়াতুল লুময়াত)
এ প্রসঙ্গে শাহ্
আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
ان زوایت محمول بر نماز تھجداست کہ در رمضان وغیر رمضان یکسان بود
অর্থ : “উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার হতে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা তাহাজ্জুদ নামাযের সাথে সম্পর্কিত, যা পবিত্র রমাদ্বান শরীফ ও গায়রে রমাদ্বান শরীফ-এ একই সমান ছিল।” (মুজমুয়ায়ে ফতওয়ায়ে আযীযী)
ان زوایت محمول بر نماز تھجداست کہ در رمضان وغیر رمضان یکسان بود
অর্থ : “উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার হতে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা তাহাজ্জুদ নামাযের সাথে সম্পর্কিত, যা পবিত্র রমাদ্বান শরীফ ও গায়রে রমাদ্বান শরীফ-এ একই সমান ছিল।” (মুজমুয়ায়ে ফতওয়ায়ে আযীযী)
আর হুজ্জাতুল
ইসলাম ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উহার ব্যাখ্যায় বলেন,
وقد او تر رسول الله صلى الله عليه وسلم- بر كعة وهلاث وخـمس وهكذا با لاو تار الى احدى عشر ركعة والرواية مترودة فى ثلاث عشرة وفى حديث شاذ سبع عشرة وكان هذه الر كعات اعتسى ما سـمينا جـملتها وترأ صلاة لا لليل وهو التهجد.
অর্থ : “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক, তিন, পাঁচ, সাত, নয় এবং এগারো রাকায়াত বিতর আদায় করতেন। তেরো রাকায়াতের বর্ণনাটি (مترود) পরিত্যাজ্য, আর একখানা (شاذ) হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সতরো রাকায়াতের কথাও উল্লেখ আছে। আর এসকল নামাযের রাকায়াত যার সাথে আমি বিতর শব্দটি ব্যবহার করেছি, তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রাত্রি বেলায় আদায় করতেন। আর এটাই হলো তাহাজ্জুদ নামায।” (ইহ্ইয়াউ উলুমুদ্দীন)
উপরোক্ত
নির্ভরযোগ্য আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, হযরত আবূ সালমা রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা
আনহু উনার থেকে বর্ণিত বুখারী শরীফ উনার উক্ত হাদীছ শরীফখানা তারাবীহ্ নামাযের
পক্ষে মোটেও দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়, বরং ওটা
তাহাজ্জুদ নামাযের দলীল হিসাবেই গ্রহণযোগ্য।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
২নং কারণ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
তাছাড়া উক্ত হাদীছ শরীফখানা যে তাহাজ্জুদ নামায সম্পর্কিত, তার আরো একটি অকাট্য দলীল হলো এই যে, হাদীছ শাস্ত্রের ইমামগণ উক্ত হাদীছ শরীফখানা উনাদের স্ব স্ব কিতাবে তাহাজ্জুদের অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। যেমন-
* হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘মুয়াত্তায়ে মালিক’ উনার ৪৭ পৃষ্ঠায়
* হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘মুসলিম শরীফ’ উনার ১ম খণ্ড ২৫৪ পৃষ্ঠায়
* হযরত ইমাম আবূ দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘সুনানে আবূ দাউদ’ উনার ১ম খণ্ড ১৯৬ পৃষ্ঠায়
* হযরত ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘তিরমিযী শরীফ’ উনার ১ম খণ্ড ৫৮ পৃষ্ঠায়
* হযরত ইমাম নাসায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘নাসায়ী শরীফ’ উনার ১ম খণ্ড ১৫৪ পৃষ্ঠায়-
উক্ত হাদীছ শরীফকে তাহাজ্জুদের অধ্যায়ে বর্ণনা করেন।
আর যদি কোন
কিতাবে উক্ত হাদীছ শরীফকে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার ইবাদত হিসাবে তারাবীহর
অধ্যায়ে বর্ণনা করেও থাকে, তথাপিও ওটা তারাবীহ নামাযের স্বপক্ষে দলীল হিসাবে পেশ করা শুদ্ধ বা
গ্রহণযোগ্য হবেনা। কারণ উছূল রয়েছে-
لـماجاء الا حتمال بطل الاستد لال.
অর্থাৎ যখন কোন (হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে) সন্দেহ্ বা মতবিরোধ দেখা দিবে, তখন ওটা দলীল হিসাবে পরিত্যাজ্য হবে।
لـماجاء الا حتمال بطل الاستد لال.
অর্থাৎ যখন কোন (হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে) সন্দেহ্ বা মতবিরোধ দেখা দিবে, তখন ওটা দলীল হিসাবে পরিত্যাজ্য হবে।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
৩নং কারণ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
তাছাড়া উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত উক্ত হাদীছ শরীফকে হযরত মুহাদ্দিছীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা (مضطرب) সন্দেহযুক্ত বলেছেন। এ প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ আছে-
اشكلت روايات حضرة عائشة عليها السلام على كثير من اهل العلم حتى نسب بعضهم حديثهاالى الاصطراب.
অর্থ : “অধিকাংশ আলিমগণ উক্ত হাদীছ শরীফ উনার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। এমন কি কেউ কেউ উক্ত হাদীছ শরীফকে (مضطرب) সন্দেহযুক্ত বলে আখ্যায়িত করেন।” (ফতহুল বারী শরহে বুখারী শরীফ)
কারণ, স্বয়ং উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে ছহীহ্ সনদে তেরো
রাকায়াতের বর্ণনাও রয়েছে। কাজেই مضطرب
সন্দেহযুক্ত হওয়ার কারণে উক্ত হাদীছ শরীফকে তারাবীহ নামাযের দলীল হিসাবে পেশ করা
হাদীছ শরীফ উনার উছূল মুতাবিক সম্পূর্ণই অশুদ্ধ ও অগ্রহণযোগ্য। কারণ, উছূল হলো (مضطرب) সন্দেহযুক্ত হাদীছ শরীফ উনার (اضطراب) বা সন্দেহ যতক্ষণ পর্যন্ত দূর করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত উক্ত হাদীছ শরীফ দলীল
হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবেনা। অতএব, উক্ত হাদীছ শরীফকে দলীল
হিসাবে পেশ করতে হলে, প্রথমে উহার (اضطراب) বা সন্দেহ দূর করতে হবে।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
৪নং কারণ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার কর্তৃক বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা যে তাহাজ্জুদ নামায সম্পর্কিত, তার আরো একটি প্রমাণ হলো, উক্ত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে (يصلى اربعا) অর্থাৎ তিনি তা চার চার রাকায়াত করে পড়তেন, একথা উল্লেখ আছে। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সেটা তারাবীহ্ নামায নয়। কারণ তারাবীহ্ নামায দুই-দুই রাকায়াত করে আদায় করা হয়।
মূলকথা হলো, উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটাই সাব্যস্ত
হলো যে, ওহাবীরা তাহাজ্জুদ ও তারাবীর নামাযকে এক মনে করে
দেখে আট রাকায়াত তারাবীহ্ নামাযের স্বপক্ষে এরা মূল দলীল হিসাবে ‘পবিত্র বুখারী শরীফ’ এর যে হাদীছ শরীফখানা পেশ
করে থাকে, ওটা মোটেও তারাবীহ্ নামাযের দলীল নয় বরং ওটা তাহাজ্জুদ
নামাযের দলীল। কাজেই আট রাকায়াতের ব্যাপারে তাদের উক্ত দলীল মনগড়া, বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসূত। সাথে সাথে এটাও প্রমাণিত হলো যে, ছিহাহ্ সিত্তাহ এর মধ্যে আট রাকায়াত তারাবীহ্ নামাযের কোন বর্ণনা বা
প্রমাণ নেই।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
৫ নং কারণঃ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
হাদিস শরীফ উনার শেষাংশে এই
শব্দ আছে যে قالت عائشة فقلت يارسول الله أتنام قبل أن توتر ؟ (তারপর
হযরত আয়েশা
সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম বলেন-তখন আমি বললাম-হে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম! আপনি কি বিতর পড়ার আগে ঘুমান?) এই বিষয়টি
তারাবীহ এর ক্ষেত্রে কল্পনাতীত যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
তারাবীহ নামায পড়ে ঘুমিয়ে পড়েন আর সাহাবীরা বিতর পড়ার জন্য উনার জন্য অপেক্ষমাণ থাকেন। বরং এটি
তাহাজ্জুদ এর ক্ষেত্রে হওয়াটাই যুক্তিসঙ্গত নয়কি?
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
৬নং কারণঃ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
মুহাদ্দিসীনে কিরাম এই হাদিসকে তারাবীহ এর
রাকাত সংখ্যার অধ্যায়ের পরিবর্তে তাহাজ্জুদের অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।
যেমন ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রণিত বুখারী শরীফে এই হাদিসটি নিম্ন বর্ণিত
অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন-
(ক) বিতর অধ্যায়-(১/১৩৫)
(খ)হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রাতে (নামাযের উদ্দেশ্যে) দান্ডয়মানতা রমাদ্বানে ও রমাদ্বান ছাড়া-(১/১৫৪)
(গ)রমাদ্বানে (নামাযের উদ্দেশ্যে) দান্ডয়মানতার ফযীলত অধ্যায়-(১/২৬৯)
(ঘ)হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দু’চোখ ঘুমায় মন ঘুমায়না-(১/৫০৩)
প্রথম অধ্যায়ে বিতরের রাকাত সংখ্যা আর দ্বিতীয় অধ্যায়ে তাহাজ্জুদ রমাদ্বানে বেশি পড়তেন কিনা তা জানা আর তৃতীয় অধ্যায়ে রমাদ্বানে বেশি নামাযের ফযীলত আর চতুর্থ অধ্যায়ে নবীজী ঘুমালে যে উনার অযু ভাঙ্গেনা তার কারণ বর্ণনা জন্য হাদিস আনা হয়েছে। তারাবীহের রাকাত সংখ্যা বুঝানোর জন্য কোথায় এসেছে এই হাদিস???
(ক) বিতর অধ্যায়-(১/১৩৫)
(খ)হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রাতে (নামাযের উদ্দেশ্যে) দান্ডয়মানতা রমাদ্বানে ও রমাদ্বান ছাড়া-(১/১৫৪)
(গ)রমাদ্বানে (নামাযের উদ্দেশ্যে) দান্ডয়মানতার ফযীলত অধ্যায়-(১/২৬৯)
(ঘ)হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দু’চোখ ঘুমায় মন ঘুমায়না-(১/৫০৩)
প্রথম অধ্যায়ে বিতরের রাকাত সংখ্যা আর দ্বিতীয় অধ্যায়ে তাহাজ্জুদ রমাদ্বানে বেশি পড়তেন কিনা তা জানা আর তৃতীয় অধ্যায়ে রমাদ্বানে বেশি নামাযের ফযীলত আর চতুর্থ অধ্যায়ে নবীজী ঘুমালে যে উনার অযু ভাঙ্গেনা তার কারণ বর্ণনা জন্য হাদিস আনা হয়েছে। তারাবীহের রাকাত সংখ্যা বুঝানোর জন্য কোথায় এসেছে এই হাদিস???
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
৭নং কারনঃ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺৭নং কারনঃ
আল্লামা হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন-আর আমার কাছে এটি প্রকাশিত হয়েছে যে, ১১ রাকাতের থেকে না বাড়ানোর রহস্য এটি যে, নিশ্চয় তাহাজ্জুদ ও বিতরের নামায রাতের নামাযের সাথে খাস। আর দিনের ফরয যোহর ৪ রাকাত আর আসর সেটাও ৪ রাকাত আর মাগরীব হল ৩ রাকাত যা দিনের বিতর। সুতরাং সাযুজ্যতা হল-রাতের নামায দিনের নামাযরের মতই সংখ্যার দিক থেকে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিতভাবে। আর ১৩ রাকাতের ক্ষেত্রে সাযুজ্যতা হল-ফযরের নামায মিলানোর মাধ্যমে কেননা এটি দিনের নামাযই তার পরবর্তী নামাযের জন্য।(ফাতহুল বারী শরহুল বুখারী-৩/১৭)
ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার এই রহস্য বা হিকমত বর্ণনা কি বলছেনা এই হাদিস দ্বারা তাহাজ্জুদ উদ্দেশ্য তারাবীহ নামায নয়? এই বক্তব্যে তাহাজ্জুদের কথা স্পষ্টই উল্লেখ করলেন ইবনে হাজার আস্কালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
তাহাজ্জুদ ও তারাবীহের মাঝে পার্থক্যঃ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
কথিত আহলে হাদিসরা বলেন “তাহাজ্জুদ আর তারাবীহ একই” তাদের এই দাবিটি ভুল নিম্নবর্ণিত কারণে
১. তাহাজ্জুদের মাঝে ডাকাডাকি জায়েজ নয় তারাবীহতে জায়েজ।
২. তারাবীহের সময় ঘুমানোর আগে তাহাজ্জুদের সময় নির্ধারিত নয় তবে উত্তম ঘুমের পর।
৩. মুহাদ্দিসীনে কিরাম তাহাজ্জুদ ও তারাবীহের অধ্যায় ভিন্ন ভিন্ন লিখেছেন।
৪. তাহাজ্জুদ নামাযের হুকুম কুরআন দ্বারা প্রমাণিত যথা সূরা ইসারার ৭৯ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তায়ালা وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ عَسَى أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا অর্থাৎ আর রাতে তাহাজ্জুদ পড়ুন এটি আপনার জন্য নফল, অচিরেই আপনাকে আপনার রব প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন।
আর তারাবীহের ব্যাপারে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা রমাদ্বানের রোযা তোমাদের উপর ফরয করেছেন আর আমি তোমাদের উপর এতে কিয়াম করাকে সুন্নত করেছি (সুনানে নাসায়ী-১/৩০৮)
সুতরাং বুঝা গেল তাহাজ্জুদ আল্লাহর আয়াত আর তারাবীহ উনার বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত।
৫. তাহাজ্জুদের হুকুম মক্কায় হয়েছে আর তারাবীহের হুকুম মদীনায় হয়েছে।
৬. ইমাম আহমদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও তারাবীহ তাহাজ্জুদ আলাদা বিশ্বাস করতেন(মাকনা’-১৮৪)
৭. ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর ক্ষেত্রে বর্ণিত তিনি রাতের প্রথমাংশে তার সাগরীদদের নিয়ে তারাবীহ পড়তেন আর শেষ রাতে একাকি তাহাজ্জুদ পড়তেন। (ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনী)[১ম কমেন্টে ছবি দেখুন]
৮. তাহাজ্জুদ এর নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত অর্থাৎ বিতরসহ বেশি থেকে বেশি ১৩ রাকাত আর কমপক্ষে ৭ রাকাত। আর তারাবীহ এর রাকাত সংখ্যার ক্ষেত্রে খোদ আহলে হাদিস ইমামদের স্বাক্ষ্য যে এর কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নবীজী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত নয়।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
২ নং দলিল
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
عن جابر بن عبد الله قال : صلى بنا رسول الله صلى الله عليه و سلم في رمضان ثمان ركعات والوتر فلما كان من القابلة اجتمعنا في المسجد ورجونا أن يخرج إلينا فلم نزل في المسجد حتى أصبحنا فدخلنا على رسول الله صلى الله عليه و سلم فقلنا له : يا رسول الله رجونا أن تخرج إلينا فتصل بنا فقال : كرهت أن يكتب عليكم الوتر (قيام الليل-90)
হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত তিনি বলেন-হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সাথে রমাদ্বানে ৮ রাকাত নামায ও বিতর নামায পড়লেন, তারপর যখন পরদিন হল আমরা মসজিদে একত্রিত হলাম এবং আকাংখা করলাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে আসবেন। আমরা মসজিদে অবস্থান করতে লাগলাম। প্রভাত হয়ে গেল। তখন আমরা গেলাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে। তাকে বললাম-হে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমরা আকাংখী ছিলাম আপনি আমাদের কাছে যাবেন এবং আমাদের নিয়ে নামায পড়বেন, তখন তিনি বললেন-আমি এটি পছন্দ করছিলামনা যে, তোমাদের উপর বিতর ফরয হয়ে যাক।(কিয়ামুল লাইল-৯০)
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
জবাবঃ
জবাবঃ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
এই হাদিসটি নিয়ে কথিত আহলে হাদিসরা সবচে’ বেশি খুশি হতে দেখা যায়। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হল এই হাদিসটি দুর্বল। শুধু একজন নয় এই হাদিসের তিনজন রাবীর ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসীনে কিরাম বলেছেন তারা গ্রহণযোগ্য নয়। দেখুন মুহাদ্দিসীনে কিরাম কি বলে এই হাদিসের বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
১ম রাবীঃইবনে হুমাইদ রাজী সম্পর্কেঃ
১ম রাবীঃইবনে হুমাইদ রাজী সম্পর্কেঃ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
১. হাফিয জাহাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-তিনি দুর্বল
২. ইয়াকুব বিন শি’বা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-তিনি অনেক অগ্রহণীয় হাদিস বর্ণনা করেন।
৩. ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-এতে আপত্তি আছে।
৪. আবু জুরআ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-তিনি মিথ্যাবাদী।
৫. ইসহাক কু’সজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি তিনি মিথ্যাবাদী।
৬. সালেহ জাযরাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-প্রত্যেক বিষয়ে সে হাদিস বর্ণনা করে। আল্লাহপাক উনার উপর অধিক অপবাদ আরোপকারী আমি তাকে ছাড়া কাউকে দেখিনি। সে লোকদের হাদিস পরিবর্তন করে ফেলে।
৭. আল্লামা ইবনে খারাশ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-আল্লাহ পাক উনার কসম সে মিথ্যাবাদী
৮. ইমাম নাসায়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-সে গ্রহণযোগ্য নয়। (মিযানুল ই’তিদাল-৩/৪৯-৫০)
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
২য় রাবীঃইয়াকুব বিন আব্দুল্লাহ আশআরী সম্পর্কেঃ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
ইমাম দারা কুতনী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-সে শক্তিশালী নয় (মিযানুল ই’তিদাল-৩/৩২৪)
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
১. আল্লামা ইয়াহইয়া বিন মায়ীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-তার কাছে অগ্রহণীয় হাদিস আছে।
২. ইমাম নাসায়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-তার হাদিস অগ্রহণীয়।
৩. ইমাম নাসায়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-তার হাদিস পরিত্যাজ্য।
৪. আবু দাউদ রহমাতুল্লাহি আলাইহিবলেন-তার হাদিস অগ্রহণীয়।
৫. আল্লামা জাহাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-তিনি দুর্বলদের মাঝে শামীল (মিযানুল ই’তিদাল-২/৩১১)
এছাড়া এ হাদিসটি “বুলুগুল মারাম” কিতাবে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকেই বর্ণিত কিন্তু সেখানে রাকাত সংখ্যার কথা উল্লেখ নেই।(বুলুগুল মারাম-৪২-৪৩)
এছাড়াও এ হাদিসে আরেকটি সমস্যা আছে, তাহলো এই হাদিসে বিতর ফরয হবার আশংকার কথা বলা হয়েছে অথচ অন্য সহীহ হাদিসে তারাবীহ ফরয হয়ে যাবার আশংকা উল্লেখে করা হয়েছে। (মিযানুল ই’তিদাল-২/৪২-৪৩)
প্রিয় পাঠক/পাঠিকাদের হাতেই ছেড়ে দিলাম এই হাদিস দিয়ে হুকুম প্রমাণিত করার ভার। এরকম দুর্বল হাদিস দিয়ে যেখানে তারা নিজেরাই সহীহ হাদীস বলে সারাদিন চিল্লাচিল্লি করে এরকম মতবিরোধপূর্ণ বিষয় কি প্রমাণিত হয়? এটা তো তাদের নিজেদেরই মতের বিপরীত।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
৩ নং দলিল
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
و حدثني عن مالك عن محمد بن يوسف عن السائب بن يزيد أنه قال أمر عمر بن الخطاب أبي بن كعب وتميما الداري أن يقوما للناس بإحدى عشرة ركعة ( موطأ مالك-98)
মুহম্মদ বিন ইউসুফ সায়েব বিন ইয়াজীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয় ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম ওবাই বিন কাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও তামীমে দারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কে মানুষের সাথে ১১ রাকাত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।(মুয়াত্তা মালিক-৯৮)
এই হাদিস দিয়েও দলিল দেয়া ঠিক নয়। কারণ-
১. হাদিসটির শব্দে পরস্পর বিরোধীতা রয়েছে। যেমন এই হাদিসের সূত্রের একজন বর্ণনাকারী মুহম্মদ বিন ইউসুফ তার সাগরীদ ৫ জন। তার মধ্যে ৩জন ১১ রাকাত আর ১জন ১৩ রাকাত ও ১জন ২১ রাকাতের বর্ণনা নকল করেন। এছাড়া যারা ১১রাকাতের কথা বর্ণনা তাদের বর্ণনার শব্দেও রয়েছে বিস্তর ফারাক। যথা-
ক. ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি এনেছেন ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম ওবাই বিন কাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও তামীমে দারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কে মানুষের সাথ ১১ রাকাত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
খ. হযরত ইয়াহইয়া আল কাত্তান রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন-ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম ওবাই বিন কাব ও তামিমে দারী এর কাছে লোকদের একত্র করেন আর তারা দু’জন ১১ রাকাত নামায পড়াতেন।
গ. আব্দুল আজীজ বিন মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর বর্ণনায় এসেছে-আমরা হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম উনার আমলে ১১ রাকাত নামায পড়তাম।
বর্ণনাকারীর বর্ণনার ঠিক নেই, সাথে সাথে যারা এক কথা বলেছেন তাদের বক্তব্যটিও পরস্পর বিরোধী এমন বর্ণনা পরিত্যাজ্য। (ইলাউস সুনান-৭/৪৮)
২. এই বর্ণনাটি হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম থেকে আরেকটি সহীহ ও শক্তিশালী বর্ণনার বিপরিত। হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম থেকে ২০ রাকাত তারাবীহের কথা ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার মুয়াত্তার ৪০ নং পৃষ্ঠায় ও হাফেজ ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি ফাতহুল বারীর ৪ নং খন্ডের ২১৯ নং পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেন। সুতরাং বুঝা গেল এই বর্ণনাটি আমলযোগ্য নয়।
৩. ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি নিজেই এই বর্ণনাটি আমলযোগ্য মনে করেননি, তাই তিনি নিজে ৮ রাকাতের কথা বলেননা।
৪. যদি হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম থেকে ১১ রাকাতের বর্ণনাটি সহীহ হত তাহলে পরবর্তীতে হযরত যুন্নূরাইন আলাইহিস সালাম ও আলী কাররামাল্লাহ ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম থেকে এরকম বর্ণনা ও আমল প্রমাণিত হত, অথচ তাদের থেকে এরকম বর্ণনা প্রমাণিত নয়।
৫. এটাও হতে পারে যে, প্রথমে হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম উনার কাছে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ৮ রাকাতের বর্ণনা এসেছিল কিন্তু পরবর্তীতে ২০ রাকাতের বর্ণনাটি পৌঁছলে তিনি ৮ রাকাতের বর্ণনাটি পরিত্যাগ করেন।
এই সকল কারণে এই হাদিসটি আমলযোগ্য হিসেবে বাকি থাকেনা।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
আহলে হাদিস ইমাম ও অন্যান্য অনুসরণীয়
ইমামদের বক্তব্য তারাবীহের রাকাত সংখ্যার ব্যাপারেঃ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
১ .শায়েখ ইবনে তাইমিয়া বলেন-আর যারা ধারণা করে যে, নিশ্চয় রামযানের দন্ডায়মানতার নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রমাণিত আছে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যার উপর বাড়ানো কমানো যাবেনা সে ভুলের মাঝে আছে।(ফাতওয়া ইবনে তাইমিয়া-২/৪০১)
২. আল্লামা ইবনে সুবকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন -জেনে রাখ! নিশ্চয় রাসূল কি বিশ রাকাত তারাবীহ পড়েছেন না তার চেয়ে কম পড়েছেন তা তার থেকে বর্ণিত নেই (শরহুল মিনহাজ)
৩. আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-নিশ্চয় ওলামায়ে কিরাম মতান্যৈক্য করেছেন এর সংখ্যার ক্ষেত্রে, যদি তা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত বিষয় হত তাহলে তাতে মতবিরোধ হতনা।(আল মিসবাহ-৭৪)
৪. মালানা ওয়াহীদুজ্জামান বলেন-তারাবীহ নামাযের নির্দিষ্ট রাকাত নেই।( নাজলুল আবরার-১/১২৬)
৫. আবুল খায়ের নুরুল হাসান খাঁ বলেন-মোটকথা হল নির্দিষ্ট সংখ্যা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়।( আল উরফুল জাদি-৮৪)
৬. নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান বলেন-নিশ্চয় তারাবীহ নামায সুন্নত মৌলিকভাবে। যেহেতু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা রাতে পড়তেন তার পর তা ছেড়ে দিয়েছেন উম্মতের প্রতি দরদে যেন তা ফরয না হয়ে যায়, আর এর কোন নির্দিষ্ট রাকাতের কথা সহীহ হাদিসে নেই, কিন্তু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একথা জানা যায় যে, তিনি রমাদ্বানে এত ইবাদত করতেন যা অন্য সময়ে করতেননা।(আল ইনতিকাদুর রাজী’-৬১)
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
তারাবীহ
নামায আট রাকাত দাবিদারদের কাছে কয়েকটি প্রশ্নঃ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
১।হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সারা দুনিয়াবী জীবনের মাঝে শুধুমাত্র তিন রাত এবং তাও
রমাদ্বানের শেষ দশদিনের মাঝে জামাতের সাথে তারাবীহ নামায পড়েছেন। এরপর আর পড়েননি।আর তোমরা রমাদ্বানের চাঁদ উঠা থেকে নিয়ে প্রতি
বছর পুরো রমাদ্বান মাস তারাবীহ নামায আদায় করে থাক,, এটাতো হাদীসের খেলাফ। এ বিষয়েতো
তোমরা মুহম্মদী রইলে না। কারণ, এর উপর সর্বদা আমল করার বিষয়টি
সাহাবায়ে কেরাম থেকে প্রমাণিত। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে নয়। তাই তোমরা জীবনে শুধু তিন রাত তারাবীহ
জামাতের সাথে পড়ে সারা জীবন ঘরে আরামে বসে থাক।। যেন বাকি লোকেরা শান্তির সাথে রমজানের বরকত হাসীল করতে পারে। কিন্তু তোমরা এক্ষেত্রে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ ছেড়ে দেও কেন?
২।তোমরা প্রত্যেক বছর
পুরো মাস মসজিদে এসে তারাবীহ নামায পড়ে থাকো। এটাতো তোমাদের তরীকা
অনুযায়ী মুহম্মদী পদ্ধতি নয়। কেননা, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তারাবীহ নামায তিন দিন পড়ার পর তৃতীয়
দিন বলেছেনঃ
অর্থাৎ
লোকেরাঃ তোমরা নিজেদের ঘরে নামায পড়, নিশ্চয় ফরজ নামায ছাড়া বাকি নামায স্বীয় ঘরে পড়া উত্তম।
{বুখারী-১/১০১, মুসলিম-১/২৬৬}
তাই ঘর রেখে
তোমরা মসজিদে কেন?
৩।এ নামাযের
নাম তারাবীহ বলে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রেখেছেন না সাহাবায়ে কেরাম? এ নামাযকে তারাবীহ যারা বলে থাকেন,
তারা কি মুহম্মদী না অন্য কিছু?
৪।তোমরা সারা
মাস ইশার নামাযের পরপরই তারাবীহ নামায পড়ে থাক। এর কোন প্রমাণতো হাদীসে নেই। এ আমলের দ্বারাও
তোমরা না মুহম্মদী থাক, না আহলে হাদীস থাক। তাহলে তোমরা কি?
৫।পুরো রমজান
মাসে তোমরা তারাবীহ নামাযের পর জামাতের সাথে বিতির নামায পড়ে থাক,এক্ষেত্রেওতো
তোমরা না মুহম্মদী না আহলে হাদীস। কারণ কি?
৬।হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তারাবীহ নামাযে না নিজে পুরো কুরআন খতম করেছেন, না অন্যদের হুকুম দিয়েছেন। তোমাদের
কিছু মসজিদে যে, তারাবীহের মাঝে পুরো কুরআনের খতম হয়,
শুধু তাই নয়, কিছু মসজিদেতো কুরআন খতমের
জন্য নামাযে কুরআন শরীফ উঠিয়ে দেখে দেখে পর্যন্ত পড়া হয়, এ
আমলের ক্ষেত্রে না তোমরা মুহম্মদী, না আহলে হাদীস। কারণ
কি?
৭।তোমরা যে
রমজানের সারা মাস আট রাকাত তারাবীহ আর এক রাকাত বিতির পড়ে থাক এই নয় রাকাতের কোন
হাদীস আছে?
৮।তোমরা
যেহেতু বলে থাক যে, তারাবীহ আর তাহাজ্জুদ একই নামাযের দু’টি নাম। এ
দুই নাম মূলত এক নামাযের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এরকম বক্তব্য নির্ভর একটি সহীহ হাদীস
পেশ কর।
এক্ষেত্রে
তোমরা না কোন হাদীস পেশ কর, না রমজান ছাড়া এ তারাবীহ/তাহাজ্জুদ নামায এতটা গুরুত্ব দিয়ে পড়ে থাক। রমজান ও রমজান ছাড়া
একই নামাযের এ পার্থক্য কোন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত?
৯।তোমরা যে
বলে থাকেন যে, এগার মাস এ নামায নফল থাকে। আর বারতম মাস তথা রমজানে এসে সেটা সুন্নতে
মুআক্কাদা হয়ে যায়। এগার মাস এ নামাযের সময় হল শেষ রাত, আর
বারতম মাসে এর সময় শুরু রাতেও হয়।
এগার মাস
এটাকে ঘরে পড়া উত্তম, আর বারতম মাসে এসে এটাকে মসজিদে পড়া উত্তম। এগার মাসে এ নামায একা একা
পড়া উত্তম আর রমজান মাসে এসে তা জামাতের সাথে পড়া উত্তম।
এসব বক্তব্য
কি তোমাদের মনগড়া হাদীস থেকে প্রমাণিত না হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার হাদীস থেকে?
এসব বক্তব্যকে
যখন তোমরা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীস থেকে প্রমাণ করতে পার না, তাহলে তোমরা না মুহম্মদী, না আহলে হাদীস। বরং আহলে নফস সাব্যস্ত হচ্ছ না?
১০।তোমরা আট
রাকাত তারাবীহকে জামাতের সাথে পুরো মাসে মসজিদের মাঝে ইশার পরপর পড়াকে যে সুন্নতে
মুআক্কাদা বলে থাক, আর বিশ রাকাত তারাবীহকে বেদআত ও হারাম বলে থাকেন, এ ব্যাপারেও তোমাদের কাছে কোন হাদীস নেই। বরং আজ পর্যন্ত ‘সুন্নতে মুআক্কাদা’, ‘বিদআত’, ‘হারাম’, ‘সহীহ’, ‘হাদীসে
সহীহ’, ‘হাদীসে জঈফ’ এর কোন
পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা তোমরা কুরআন ও হাদীস থেকে দেখাতে পারোনি। প্রয়োজনের সময়
উম্মতীদের থেকে ঊসুলে ফিক্বহ বা উসুলে হাদীস থেকে চুরি করে নিয়ে থাক। তারপরও তোমরা
কি করে মুহম্মদী আর আহলে হাদীস বাকি থাক?
যদি একথা
মেনেও নেই যে, তোমাদের কাছে বিশ রাকাত তারবীহ আদায় করা বেদআতি কর্ম ও হারাম কাজ হওয়ার
উপর কোন দলীলও থাকে, তবুও প্রশ্ন হল, তোমরা যেখানে তারাবীহ বিষয়ে ৯/১০টি পয়েন্টে মুহম্মদী নয়, ৯/১০টি পয়েন্টে আহলে হাদীস নয়। এ দশ দশটি বিষয়ে তোমরা নিজেরা মুহম্মদী বা
আহলে হাদীস বাকি থাক না, সেখানে নিজেদের নাম আহলে হাদীস
রাখা বা হাদীসের উপর আমলকারী বলাটা একটি মিথ্যাচার হিসেবেই প্রকাশ পায়। হ্যাঁ,
তবে তোমাদের যদি নফসের হাদীসের পূজারী বলা হয়, তবে একথা অবশ্য সঠিক হয়।
এই সকল ১০টি
বিষয়ে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে একটি সহীহ হাদীস পেশ করে নিজেদের খাঁটি আহলে হাদীস
হিসেবে প্রমাণ কর।
যদি না পার, তাহলে ২০ রাকাত তারাবীহকে বিদআত বলার
মিথ্যাচার থেকে বিরত থাক।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
সবার শেষে আপনাদের অবাক করার মত এক তথ্যঃ
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
প্রায় ১৫০
বছর আগে এই ৮ রাক’আত তারাবীর দাবী যখন প্রথম উঠে তখন খোদ ওহাবীদের এক নেতাই প্রতিবাদ করেছিল
১২৮৪হিজরীতে দিল্লীর আকবারাবাদের জনৈক আলেম সর্বপ্রথম আট রাকাআত তারাবীর পক্ষে
ফতোয়া প্রদান করে। তখনকার হক্কানী ওলামায়ে কিরামের প্রতিবাদের মুখে ফতোয়াটি বাতিল
হয়ে যায়। পুনঃরায় ১২৮৫ হিজরীতে মাওলানা হুসাইন বাটালবী নামক আলেম ৮ রাকাত তারাবীর
ফতোয়া প্রদান করে। তার প্রতিবাদে আহলে হাদীস ফেরকার প্রসিদ্ধ আলেম মাওলানা গোলাম
রসূল সাহেব রিসালাতুত তারাবীহ নামক একটি পুস্তক রচনা করে এবং ১২৯০ হিজরীতে প্রকাশ
করে। ঐতিহাসিক এ আলোচনার দ্বারা প্রমাণ হল তথাকথিত আহলে হাদীসরাও প্রথমে বিশ রাকাত
তারাবীর পক্ষে ছিলেন। পরবর্তীতে তারা কোন স্বার্থে আট রাকাতে মত অবলম্বন করলেন তা
তারাই ভাল জানেন।
[রাসায়েলে আহলে হাদিস ৬/২৮]
[রাসায়েলে আহলে হাদিস ৬/২৮]
১৩৭৭ হিজরীতে
আরবে শায়েখ নসীব রেফায়ী ও শায়েখ নাসীরুদ্দীন আলবানী সর্বপ্রথম আট রাকাত তারাবীর মত
প্রকাশ করেন। তখন শায়েখ আতিয়্যা সালিমসহ আরবের জমহুর উলামায়ে কেরাম তাদের উক্ত
রায়কে প্রত্যাখ্যান করেন এবং সাহাবায়ে কেরাম উনাদের যুগ থেকে চলে আসা হারামাইন শরীফাইন
তথা বাইতুল্লাহ শরীফ ও মসজিদে নববীতে বিশ রাকাত তারাবীর আমলকে অব্যহত রাখেন। যা
আজো অব্যাহত রয়েছে।
আল্লাহ পাক
আমাদেরকে উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম ,হাবীবুল্লাহ ,হূযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনার উছিলায় সহীহ সমঝ দান করুন।আমিন।
পরবর্তি
পর্বে দলিল-আদিল্লাহর সাহায্যে প্রমাণ করে দেখাবো যে,৮ রাকায়াত তারাবীহ প্রমানের
জন্য আহলে হাদীস তথা লা মাজহাবীরা কিভাবে হাদীস শরীফকে বিকৃত করেছে।


No comments