Header Ads

Islamic Quotes Urdu Facebook Cover. QuotesGram

পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার উসুল(পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ)-৪



=========================================

শরীয়তের কোন বিষয়ের মীমাংসা বা ফায়সালা করতে হলে তা কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের দৃষ্টিতেই করতে হবে, এর বাইরে কোন কথা বা কাজ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, শরীয়তের ভিত্তি বা দলীলই হলো উপরোক্ত চারটি। এ প্রসঙ্গে উসূলের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে যে,
“মূলতঃ শরীয়তের ভিত্তি হলো তিনটি। কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা এবং চতুর্থ হলো- ক্বিয়াস।” (নুরুল আনোয়ার)
(ধারাবাহিক)

(৪) ক্বিয়াসঃ
--------------
পূ্র্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেসকল ইজতিহাদকৃত মাসয়ালা এককভাবে রয়েছে তাই ক্বিয়াস। আমাদের আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের মতে ক্বিয়াস শরীয়তের অকাট্য দলীল।
ক্বিয়াসের দলীল হলো- কুরআন শরীফ-এর এ আয়াত শরীফ-
فا عتبروا يا اولى الابصار
অর্থঃ- “সুতরাং হে চক্ষুস্মান ব্যক্তিগণ! তোমরা গবেষণা কর।”
ক্বিয়াসের উপরোক্ত আয়াত শরীফ-এর ভিত্তিতে শরীয়তের দলীল সাবিত করা হয়েছে। তাড়াছা হাদীস শরীফ-এর বহুস্থানে ক্বিয়াসকে শরীয়তের দলীল হিসাবে সমর্থণ করা হয়েছে।
যেমন হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়, সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে ইয়েমেনের গভর্ণর করে পাঠানোর প্রক্কালে বলেছিলেন, “হে মুয়ায, তোমার নিকট কোন মুকাদ্দমা আসলে কিভাবে তা ফায়সালা করবে? হযরত মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আল্লাহ্ পাক-এর কিতাবের দ্বারা। যদি ওটাতে না পাও তাহলে? আল্লাহ্ পাক-এর রসূলের সুন্নাহ্ দ্বারা। অতঃপর জিজ্ঞেস করলেন, যদি ওটাতেও না পাও তাহলে? আমি কিতাব ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ইজতিহাদ করে রায় দেবো। এ উত্তর শুনে রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লাহ্ পাক-এর, যিনি তাঁর রসূলের দূতকে এ যোগ্যতা দান করেছেন, যাতে তাঁর রসূল সন্তুষ্ট হন।” (মিশকাত শরীফ)

উপরোক্ত হাদীস শরীফ দ্বারাও প্রমাণিত হয় যে, ক্বিয়াস শরীয়তে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য এবং শরীয়তের অকাট্য দলীল। ক্বিয়াস মূলতঃ নতুন কোন বিষয় নয়, বরং স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ক্বিয়াস করেছেন। তার প্রমাণ নিম্নোক্ত হাদীস শরীফ, “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একব্যক্তি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বললো- হুযূর। আমার ভগ্নি হজ্জ করার মানত করেছিলো কিন্তু আদায় করার পূর্বেই সে ইন্তেকাল করেছে। রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার ভগ্নির উপর কারো ঋণ থাকলে তুমি তা আদায় করতে কি?” সে বললো হ্যাঁ। হুযূর (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তাহলে আল্লাহ্ পাক-এর হক্ব আদায় কর। কেননা এটা আদায় করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।” (বুখারী শরীফ, মুসলীম শরীফ)

হুযূরে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পর সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণও ক্বিয়াস করে সমস্যার সমাধান করতেন। যেমন হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়, “হযরত আবু বকর সিদ্দিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিকট যখন কোন মুকাদ্দমা আসতো, প্রথমে কুরআন-সুন্নাহর প্রতি নজর দিতেন, সেখানে যদি কোন নিদর্শন না পেতেন, তাহলে নিজের রায় অনুযায়ী ক্বিয়াস করে নিতেন, যদি সঠিক মতে পৌছতেন, তাহলে আল্লাহ্ পাক-এর পুরস্কার আশা করতেন, আর যদি ভুল হতো, তাহলে ক্ষমা চাইতেন।” (তাবাকাতে ইবনে সাদ)
হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত কাজী সরীহ রহমতুল্লাহি আলাইহিকে যা লেখেন তাতে ফায়সালা করার ক্ষেত্রে কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমার পর ক্বিয়াস করে ফায়সালা করার ফরমান ছিল।” (মসনদে দারেমী)

অনুরূপ হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নীতি ছিল যে তিনি ফায়সালা করার ক্ষেত্রে কিতাবুল্লাহ্ ও সুন্নাহর পর হযরত আবু বকর সিদ্দিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর রায়ের প্রতি নজর দিতেন, সেখানেও না পাওয়া গেলে বলতেন,
فيهبرانى (অর্থাৎ নিজের রায় মোতাবেক ফায়সালা করতেন)। (মসনদে দারেমী, মোসতাদরেকে হাকেম)

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটা বুঝা যাচ্ছে যে, ক্বিয়াস শুধু শরীয়তের অকাট্য দলীলই নয় বরং ক্বিয়াসের মাধ্যমে মাসয়ালা সাবিত করা সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণের খাস সুন্নতেরও অন্তর্ভূক্ত।
আর এ প্রসঙ্গেই হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
فعليكم بسنتى وسنة خلفاء الرا شدين الهدين
“তোমরা আমার ও আমার হিদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফা-ই-রাশেদীন-এর (উদ্ভাবিত) সুন্নাতকে আঁকড়িয়ে ধর।”

সুতরাং ক্বিয়াসের অনুসরণ করাও আমাদের জন্য অবশ্য কর্তব্য। শুধু তাই নয়, ক্বিয়াসের প্রতি সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে উৎসাহিতও করেছেন। নিম্নের হাদীস শরীফ থেকে তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন কোন ফায়সালাকারী ফায়সালা করবে, সে যদি কামিয়াব হয়, দ্বিগুণ সাওয়াব পাবে। আর যদি সে ভুল করে, তাহলে একগুণ সাওয়াব পাবে।” (বুখারী শরীফ)

উক্ত হাদীস শরীফে উম্মতের ইমাম মুজতাহিদগণের প্রতি ক্বিয়াসের অনুমতির সাথে সাথে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ‍অনুমতি তো বটেই, হুকুমও রয়েছে।
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, ক্বিয়াস কুরআন শরীফ-সুন্নাহ্ শরীফ সমর্থিত ও ফযীলতের কারণ এবং তা শরীয়তের অকাট্য দলীলরূপে পরিগণিত।

সুতরাং ক্বিয়াস অনুসরণ করার অর্থই হলো- কুরআন শরীফ-সুন্নাহ্ শরীফকে অনুসরণ করা। আর ক্বিয়াসের বিরোধিতা করা, কুরআন শরীফ-সুন্নাহ্ শরীফ অস্বীকার করারই নামান্তর।




No comments

ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য।

  ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য। ডাল খাওয়ার ফলে কলব প্রসারিত হয় এবং চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়। পূর্ববর্তী হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উ...

Powered by Blogger.