খাছ সুন্নতী খাবার গরুর গোশত খাওয়া নিয়ে নাস্তিকদের আপত্তির জবাব।
গরুর গোশত খেলে নাকি যক্ষ্মা হয়? নাউজুবিল্লাহ!
হাল জামানার কিছু হাতুড়ে ডাক্তার ও ফেসবুক
গবেষক (আসলে নাস্তিক , ইহুদী, ছুপা মুশরিক ও তাদের এজেন্ট) এরা
বলে থাকে যে গরুর গোশতে এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া আছে আর এজন্য গরুর গোশত খেলে নাকি
যক্ষা হয়। নাউজুবিল্লাহ!
তাই এই পোস্টের
মাধ্যমে দেখাবো যে আসলে প্রকৃত সত্য কী? আসুন দেখি তাদের দাবী আদৌ সত্য কিনা?
আগে আমরা দেখবো
মুসলমান হিসেবে যে গরুর গোশত সম্পর্কে কুরআন সুন্নাহ শরীফে কি বলা আছে।কারণ কুরআন-সুন্নাহ
শরীফে যদি জায়িজ বলা হয় আর উপকারিতা আছে বলা হয় সেখানে বিজ্ঞানের দাম নাই।যদিও কুরান
সুন্নাহতে যা জায়িজ ,সুন্নত, উপকারী তা তো কখনোই ক্ষতির কারণ
হতে পারে না।
#গরুর_গোশত_খাওয়া_নবীজিপাক_ﷺ_উনার_সুন্নত-
মহান আল্লাহ পাক
তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا
تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّـهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ
اللَّـهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ.
وَكُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّـهُ حَلَالًا طَيِّبًا وَاتَّقُوا
اللَّـهَ
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের জন্য যা হালাল করেছেন তোমরা সেসকল সুস্বাদু বস্তুগুলোকে
হারাম করো না। আর তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করো না। কেননা
মহান আল্লাহ পাক তিনি সীমা অতিক্রমকারীদেরকে মুহব্বত করেন না। মহান আল্লাহ পাক তিনি
তোমাদেরকে যেসব হালাল ও পবিত্র বস্তু রিযিকস্বরূপ দিয়েছেন তা থেকে খাও। আর এ ব্যাপারে
মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮৭, ৮৮)
মহান আল্লাহ পাক
তিনি যেসব চতুষ্পদ জন্তুকে হালাল করেছেন তন্মধ্যে উট দুই প্রকার। আর গরুর মধ্যে দুই
প্রকার নর ও মাদী।
পবিত্র কালামুল্লাহ
শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَمِنَ الْإِبِلِ اثْنَيْنِ وَمِنَ
الْبَقَرِ اثْنَيْنِ
অর্থ: “উটের মধ্যে
দুই প্রকার এবং গরুর মধ্যে দুই প্রকার (নর ও মাদী)।” (পবিত্র সূরা আনআম শরীফ: পবিত্র
আয়াত শরীফ ১৪৪)
#নূরে
মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজে গরু
কুরবানী করেছেন। গরুর গোশত খেয়েছেন
‘বুখারী শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
وَضَحَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه
وسلم عَنْ نِسَائِهِ بِالْبَقَرِ.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন
আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পক্ষ হতে গরু কুরবানী দিয়েছেন।” (বুখারী শরীফ, হা/১৭০৯, ১৭২০, ২৯৫২, ৫৫৪৮, ৫৫৫৯, মুসলিম শরীফ, হা/২৮০৮, ২৮০৯, ২৮১৫, নাসায়ী শরীফ, হা/২৯০, আবু দাউদ শরীফ, হা/১৭৫১, ১৭৮২)
উম্মুল মু’মিনীন
আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন-
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ
مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ
الْمُثَنَّى، وَابْنُ بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ
إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، وَأُتِيَ النَّبِيُّ، صلى الله
عليه وسلم بِلَحْمِ بَقَرٍ فَقِيلَ هَذَا مَا تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ .
فَقَالَ " هُوَ لَهَا صَدَقَةٌ وَلَنَا هَدِيَّةٌ " .
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে গরুর গোশত
পেশ করা হলো। সাথে সাথে ইহাও বলা হলো যে, ইহা হযরত বারীরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার পাওয়া ছদক্বার গোশত। (যেহেতু নূরে
মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কখনো ছদকা গ্রহণ
করতেন না) তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, সেটা উনার জন্য ছদকা। আমার জন্য হাদিয়া। অর্থাৎ তিনি তো আমাকে হাদিয়া দিয়েছেন।”
[বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, হা/২৩৭৫, ২৩৭৬, ২৩৭৭, ২৩৭৮, ২৩৭৯]
কাফির-মুশরিকরা সবসময়
চেষ্টা কোশেশ করে মু’মিন মুসলমানদেরকে তাদের দলভুক্ত তথা মতাদর্শ গ্রহণকারী, চিরজাহান্নামী বানাতে। তারা জায়িয ও উপকারী বিষয়-বস্তুগুলোকে
অপকারী বা ক্ষতিকর বলে মিথ্যা প্রচারণা চালায়। কল্যাণকর বিষয়-বস্তুকে অকল্যাণকর, অকল্যাণকরকে কল্যাণকর বলে প্রচারণা চালিয়ে মুসলমানগণকে
ক্ষতিসাধন করতে সদা তৎপর। তাদের এহেন ঘৃণ্য ও হীন ষড়যন্ত্রের কবল থেকে মুক্ত রাখার
জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিন-মু’মিনাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক
করেন-
وَلَا
تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ
অর্থ: “তোমরা মুশরিকদের
অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।” (পবিত্র সূরা রুম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)
অর্থাৎ তোমরা মুশরিকদের
রীতি-নীতি, তর্জ-তরীক্বা, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি কোনোকিছুই গ্রহণ করবে না। কেননা
যারা তাদের রীতি-নীতি, তর্জ-তরীক্বা, নিয়ম-কানুন, আচার-অনুষ্ঠান গ্রহণ করবে তারা সকলেই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর মুশরিকরা সেটাই
চায়। এভাবে মুসলমানদেরকে মুশরিক বানিয়ে তাদের গোলামে পরিণত করতে।
#গরুর_গোশতের_পুষ্টিমান_জানার_দরকার_আগে_আমাদেরঃ
১০০ গ্রাম গরুর
গোশতে-
ক্যালরি- ২১৭,
পানি- ৬১% , আমিষ/প্রোটিন- ২৬.১ গ্রাম , ফ্যাট- ১১.৮ গ্রাম ,ভিটামিন এবং খনিজ- ভিটামিন বি
১২, ভিটামিন বি ৩, ভিটামিন বি ৬, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, লৌহ, ফসফরাস ইত্যাদি।
অন্যান্য উপাদান-
ক্রিয়েটিনিন , টরিন(যা হার্টের কাজের জন্য খুবই উপকারী), গ্লু্টাথিয়োন, কনজুগেটেড লিনোলিয়িক এসিড, কোলেস্টেরল। (এগুলো সামান্য পরিমাণে থাকে)
বিদ্রঃ ভিটামিন বি ৩ কম খেলে হার্ট ডিজিজ হয়।
#শরীর_রক্ষায়_গরুর_গোশতের_উপকারিতাঃ
১। গরুর গোশত থেকে উচ্চমাত্রায় প্রোটিন পাওয়া যায়। গোশত ছাড়াও
হাড়, কলিজা,
মগজ ইত্যাদি থেকেও প্রোটিন চলে আসে। গরুর
গোশতের প্রোটিন থেকে যে অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়, তা হাড় ও পেশির কাজে অনেক সাহায্য করে
থাকে।
২।গরুর গোশতের জিংক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৩। গরুর গোশতের ফসফরাস মজবুত হাড় ও দাঁতের জন্য জরুরি।
৪। গরুর গোশতের আয়রন রক্তস্বল্পতা সমস্যা দূর করতে এবং শরীরের
সব কোষে অক্সিজেন সরবরাহে সাহায্য করে।
#এখন_আমরা_জানবো_গরুর_গোশত_খেলে_হার্টের_সমস্যা_হয়_কিনা?
গরুর গোশত খেলে
হার্টের সমস্যা হয় এটা এখনো ক্লিয়ার নয়।কেও
বলেছে প্রক্রিয়াজাত গরুর গোশত খেলে হার্টের সমস্যা হয়।(http://archive.is/TyucB) আবার কেও বলেছে প্রক্রিয়াজাত বা অপ্রক্রিয়াজাত দুটো খেলেই সমস্যা হয়।(http://archive.is/41Lke) (http://archive.is/PO21O) আবার কিছু গবেষণা বলছে এরকম কোন ঝুকি ই নাই।(http://archive.is/lpCqY) অর্থাৎ
বিষয়টা এখনো গবেষণার মধ্যেই আছে।
কেও কেও দাবী করে যে গরুর গোশতের স্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে
দেয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
যাইহোক, সাম্প্রতিক উচ্চ মানের গবেষণায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহন এবং
হৃদরোগের মধ্যে কোন উল্লেখযোগ্য লিংক খুঁজে পায়নি। (http://archive.is/XySYE), (http://archive.is/OUROK), (http://archive.is/q38mq)
কম ফ্যাট
সম্বলিত গোশত খাওয়াতে ভয়ের কিছু নেই, বরং কোলেস্টেরল মাত্রার উপর এর ইতিবাচক প্রভাব আছে দেখানো
হয়েছ। (http://archive.is/mALfi), (http://archive.is/g4I7t), (http://archive.is/x32mV)
#গরুর_গোশত_খেলে_কি_মানুষের_বোভাইন_যক্ষ্মা_(গরুর_যক্ষ্মা)_হয়?
মাইকোব্যাক্টেরিয়াম বোভিস দ্বারা
বোভাইন যক্ষ্মা হয়।
কুরবানী করা হয় সাধারনত সুস্থ সবল গরু। রোগাক্রান্ত পশু কুরবানী করা
হয় না।সুস্থ গরু থেকে
বোভাইন যক্ষ্মা মানুষের দেহে হয়ার কোনই সম্ভাবনা নেই। আর বোভাইন যক্ষ্মা বাংলাদেশে নাই বললেই চলে। কিন্তু বাইরের দেশ থেকে আমদানী
করা গরুতে থাকার সম্ভাবণা বেশি।(http://archive.is/65jSw)
#ইন্ডিয়াতে_পশুর_যক্ষ্মার_ছোট্ট_ পরিসংখ্যান-
১৯৭৩ এ বেঙ্গালোরে এর পরিমাণ ছিল ২০%, উত্তর প্রদেশে ১৯৮৫ তে ছিল ১৩.২৫%, কলকাতায়
১৯৬৯ এ ছিল ১.৬-১৬%, নর্দার্ণ ইন্ডিয়াতে ২০০৬ সালে ১৫.৭৬%, হিমাচল প্রদেশে ১৬.৬৭%, তামিলনাড়ু তে ১৯৯১ সালে
৩৪.৫৮%, কর্ণাটক রাজ্যে ১৯৯১ সালে ৩০-৩৫%। (http://archive.is/KhfqT)
বুঝলেন তো? দেশী গরু কিনুন।
মাইকোব্যাক্টেরিয়াম
এভিয়াম-মাইকোব্যাক্টেরিয়াম ইন্ট্রাসেলুলার কমপ্লেক্সের তুলনায় ৬-৭ ডিগ্রি কম
তাপমাত্রায় মাইকোব্যাক্টেরিয়াম বোভিস মারা যায়।
৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১০
মিনিট গোশত রান্না করলে গোশতে উপস্থিত ৯০%
Mycobacterium
bovis ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। (Merkal and
Whipple, 1980)
তাহলে ১০০ ডিগ্রি বা তার বেশ
তাপমাত্রায় ১ ঘন্টা রান্না করলে কী আর ব্যাকটেরিয়া থাকবে? যদিও বাংলাদেশে এই ঝুকি অনেক কম।
আর সচেতনতার খাতিরে ভারতীয় বিষাক্ত
পলিথিন খাওয়া রোগাক্রান্ত গরুগুলো ক্রয় করা যাবে না। দেশী গরু কিনলেই যথেষ্ঠ।
সবাই বেশি করে পরিমানমত গরুর গোশত
খান।


No comments