পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং অশেষ ফযীলত লাভের কারণ।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ
মুবারক করেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ
মাস উনার রোযা রাখার পর পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার ৬টি রোযা রাখলো, সে যেন সারা বৎসরই রোযা রাখলো।’ সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং অশেষ ফযীলত লাভের
কারণ। উল্লেখ্য, পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস
উনার ছয়টি রোযা এবং পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার ক্বাযা রোযা এক সাথে আদায় করার নিয়ত
করলে শুধুমাত্র পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার ক্বাযা রোযা আদায় হবে; পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার সুন্নত রোযা আদায় হবে না। এটাই
ছহীহ এবং ফতওয়াগ্রাহ্য মত।
এর বিপরীত ফতওয়া দানকারী এবং মত পোষণকারীরা বিভ্রান্ত ও গুমরাহ।
- ক্বওল শরীফ: সাইয়্যিদুনা হযরত
ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম
৬ মাহে শাওওয়াল শরীফ,
১৪৪১
যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ,
মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান,
জাব্বারিউল
আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর,
হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব,
আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র হাদীছ-এ কুদসী
শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “বান্দা-বান্দীরা নফল বা
সুন্নত মুবারক পালনের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করে থাকে।” সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল
উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে
ছয়টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত এবং বহু ফযীলত লাভের কারণ। এ প্রসঙ্গে
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম,
হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার রোযা রাখার পর পবিত্র
শাওওয়াল শরীফ মাস উনার ছয়টি রোযা রাখলো,
সে যেন সারা
বৎসরই রোযা রাখলো।” সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল
উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, কেউ কেউ অজ্ঞতা বা জিহালতীর
কারণে বলে থাকে যে- ‘পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার ছুটে যাওয়া বা ক্বাযা রোযা এবং
শাওওয়াল শরীফ উনার রোযা এক সাথে এক নিয়তে আদায় করলে উভয়টিই আদায় হয়ে যায়।’ নাঊযুবিল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল
উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলত তাদের এ বক্তব্য
সম্পূর্ণই ভুল, দলীলবিহীন ও মনগড়া। সম্মানিত হানাফী
মাযহাব উনার ছহীহ, গ্রহণযোগ্য ও -দলীলসম্মত
ফতওয়া হলো- পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার ক্বাযা রোযা ও পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার
রোযা এক সাথে আদায় করলে ক্বাযা আদায় হবে;
পবিত্র শাওওয়াল
শরীফ মাস উনার রোযা আদায় হবে না।
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল
উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র রমাদ্বান শরীফ
উনার ক্বাযা রোযার সঙ্গে পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার নফল রোযা আদায় হওয়া তো দূরের
কথা, এমনকি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস
উনার ক্বাযা রোযার সঙ্গে যদি মান্নতের রোযার নিয়ত করা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রেও পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার ক্বাযা রোযাই আদায়
হবে। মান্নতের রোযা আদায় হবে না। যেমন,
‘ফতওয়ায়ে
আলমগীরী’ কিতাবের ১ম খ-ের ১৯৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে, “যদি কেউ একই রোযার মধ্যে পবিত্র রমাদ্বান
শরীফ উনার ক্বাযা রোযা এবং মান্নতের রোযার নিয়ত করে তবে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার
ক্বাযা রোযা আদায় হবে।”
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল
উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এমনিভাবে যদি কেউ পবিত্র
রমাদ্বান শরীফ উনার ক্বাযা রোযার সঙ্গে জিহারের কাফফারার রোযার নিয়ত করে এক্ষেত্রেও
রমাদ্বান শরীফ উনার ক্বাযা রোযাই আদায় হবে,
জিহারের
কাফফারার রোযা আদায় হবে না।
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল
উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- পবিত্র শাওওয়াল
শরীফ মাস উনার ছয় রোযা এবং পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার ক্বাযা রোযা এক সাথে আদায় করার
নিয়ত করলে শুধুমাত্র পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার ক্বাযা রোযা আদায় হবে; পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার সুন্নত রোযা আদায় হবে না। শাওওয়াল
শরীফ মাস উনার রোযা আলাদাভাবে রাখতে হবে। এটাই ছহীহ এবং ফতওয়াগ্রাহ্য মত। এর বিপরীত
ফতওয়া দানকারী এবং মত পোষণকারীরা বিভ্রান্ত ও গুমরাহ এবং চরম স্তরের কাজ্জাব বা মিথ্যাবাদী।
আর মিথ্যাবাদীদের উপর যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত।
-০-

No comments