নিজের যাকাত ফিতরা নিজেরাই বিতরণ করাটা শরীয়তসম্মত নয়
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
মাসয়ালাটি শুনে নতুন মনে হতে পারে কিন্তু এটাই সত্য ও সঠিক মাসয়ালা যে, নিজের যাকাত ফিতরা নিজেরাই বিতরণ করাটা শরীয়ত সম্মত নয়। কেবল
যাকাত-ফিতরার ক্ষেত্রেই নয় অনেক মাসয়ালাই মানুষ মনগড়াভাবে এবং সম্মানিত শরীয়ত উনার
খিলাফ আমল করে থাকে। যেমন বাজার থেকে একটা টুপি কিনে মাথায় দেয় কিন্তু কখনই এটা যাচাই
করে না যে, এ ধরনের টুপি পরিধান করাটা কি
সুন্নত? অর্থাৎ এ ধরনের টুপি নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পরেছেন কিনা?
তদ্রুপ যাকাতদাতা গরীব আত্মীয়-স্বজন,
প্রতিবেশী, ফকীর-মিসকীন পরিচিত অপরিচিত নিজের ইচ্ছা মুতাবিক যাকাত-ফিতরার
টাকা বণ্টন করে দিয়ে থাকে। কিন্তু কখনোই কেউ চিন্তা করে না যে, নিজেরাই নিজেদের যাকাত ফিতরার টাকা গরীব-মিসকীনদের মাঝে বিতরণ
করে দিতে পারবে কিনা বা প্রকৃতপক্ষে বিতরণ করার দায়িত্ব কার? চিন্তা-ফিকির করলে কিন্তু সে জাওয়াব পেয়ে যাবে। যিনি খালিক্ব
মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনিই উনার সম্মানিত কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে
ইরশাদ মুবারক করে জানিয়ে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার শ্রেষ্ঠতম রসূল নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন করে ইরশাদ মুবারক
করেন-
خُذْ مِنْ
أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ ۖ
إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ
ۗ
অর্থ:- “আপনি উম্মতদের নিকট থেকে ছদকা অর্থাৎ যাকাত-ফিতরা গ্রহণ করার মাধ্যমে তাদেরকে
(যাহির-বাতিন) পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করুন এবং তাদের জন্য রহমত বর্ষনের দু
আ করুন। নিশ্চয় আপনার দুআ মুবারক তাদের জন্য প্রশান্তির কারণ।”
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের বর্ণনাসমূহের মধ্যে দেখা যায় যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সরাসরি
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে
যাকাত ফিতরা ইত্যাদি দান-ছদকা পৌঁছাতেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেগুলো গ্রহণ করতেন এবং উনাদের জন্য রহমত বর্ষণের দুআ মুবারক
করতেন। সুবহানাল্লাহ!
আবার তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে যাকাত ফিতরা
সংগ্রহ করার জন্য আমিল নিয়োগ করে যাদের উপর যাকাত-ফিতরা ফরয-ওয়াজিব হতো উনাদের নিকট
প্রেরণ করতেন।
এতএব, দেখা যাচ্ছে যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কিন্তু
নিজের যাকাত নিজেরাই গরীব-মিসকীনদের মধ্যে বিতরণ করতেন না। বরং উনারা নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পৌঁছাতেন। উনার বিদায়
বা বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের
নিকট পৌঁছানো হতো। উনারা সেটা বিতরণ করতেন।
কাজেই, খিলাফতের অধীনস্থ এলাকায় খলীফাগণের
নিকট যাকাত ফিতরা ইত্যাদি দান ছদকা পৌঁছানো কর্তব্য। আর যদি খিলাফত ব্যবস্থা না থাকে
সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্বায়িম-মক্বাম
তথা স্থলাভিষিক্ত খলীফা বা প্রতিনিধি উনাদের নিকট যাকাত-ফিতরা ইত্যাদি পৌঁছাতে হবে।
উনারাই যাকাতের প্রকৃত খাতসমূহে শরীয়তসম্মতভাবে তা বিতরণ করবেন। কোনোভাবেই নিজের যাকাত
নিজে বিতরণ করা যাবে না। নিজের যাকাত ফিতরা নিজে বিতরণ করলে সে রিয়া থেকে মুক্ত থাকতে
পারবে না। ফলে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারকের বিপরীতে গইরুল্লাহ’র সন্তুষ্টি
প্রাধান্য পাওয়ার কারণে তা শিরক হয়ে যাবে। যার কারণে সে জাহান্নামী হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ!


No comments