দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে পবিত্র যাকাত উনার গুরুত্ব-তাৎপর্য
পবিত্র যাকাত উনার সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
خُذْ
مِنْ اَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ
عَلَيْهِمْ اِنَّ صَلوتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ وَاللهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
অর্থ: (ইয়া রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি তাদের ধন-সম্পদ থেকে (যাকাত
ও) ছদকা গ্রহণ করুন, (আপনার এই) ছদকা (গ্রহণ
করাটা) তাদের (জাহেরকে) পাক সাফ করবে- আর (আপনার এই) ছদকা (গ্রহণ করাটা) তাদের (বাতেন
বা অন্তরকে) পরিশোধিত করে দেবে, আপনি তাদের জন্য দোয়া
করুন। কেননা আপনার দোয়া তাদের জন্যে শান্তির কারণ হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি সব কিছু
শোনেন এবং সব কিছু জানেন। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)
এ প্রসঙ্গে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
وَالَّذِينَ
يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلا يُنفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللهِ
فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ اَلِيمٍ. يَوْمَ يُحْمَىٰ عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ
فَتُكْوَىٰ بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ ۖ هٰذَا مَا
كَنَزْتُمْ لاَنفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنتُمْ تَكْنِزُونَ.
অর্থ: “যারা সোনা-রূপা জমা করে, অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার
রাস্তায় তা খরচ করে না (অর্থাৎ তার যাকাত দেয় না) তাদেরকে সংবাদ দিন কষ্টদায়ক আযাবের, যে দিন গরম করা হবে সেগুলোকে দোযখের আগুনে, অতপর দাগা দেয়া হবে সেগুলো দ্বারা তাদের ললাটে, তাদের পার্শ্বদেশে ও তাদের পৃষ্ঠদেশে (এবং বলা হবে) এখন তার
স্বাদ গ্রহণ কর যা তোমরা (দুনিয়াতে) জমা করেছিলে।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র
আয়াত শরীফ ৩৪, ৩৫)
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অসংখ্য পবিত্র আয়াত শরীফ ও অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের
মাধ্যমে পবিত্র যাকাত আদায়ের সীমাহীন গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়িল-ফযীলত এবং পবিত্র যাকাত অনাদায়ের ভয়ানক আযাব-গযব ও শাস্তির
কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কাজেই পবিত্র ইসলাম উনার মধ্যে যাকাত উনার গুরুত্ব
অপরিসীম। পবিত্র যাকাত যদিও মালি ইবাদত,
মূলত তা
হক্কুল্লাহ ও হক্কুল ইবাদ উভয়ের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। যা আদায়ের মাধ্যমে মহান আল্লাহ
পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের
সাথে গভীর থেকে গভীরতম নিসবত, মুহব্বত, মা’রিফাত ও প্রশান্তি হাছিল করার সর্বোত্তম উপায় এবং অবলম্বন।
সুবহানাল্লাহ! পক্ষান্তরে পবিত্র যাকাত যথাযথভাবে আদায় না করলে মহান আল্লাহ পাক উনার
এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনাদের মুহব্বত-মা’রিফাত হতে বঞ্চিত হয়ে নানাবিধ কঠিন আযাব-গযবে পাকড়াও হতে হবে। নাউজুবিল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের
পাক দরবারে তার কোন ইবাদত-বন্দেগীও কবুল হয় না।
মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব,
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা
যাকে যে সম্পদ দান করেছেন তার যথাযথ হক্ব আদায় করার তাওফীক দান করুন। আমীন।


No comments