Header Ads

Islamic Quotes Urdu Facebook Cover. QuotesGram

মহামারীর কারণে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সিরিয়া থেকে প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত হাদীছ শরীফ খানা সম্পর্কে, যে সমস্ত কাঠমোল্লারা অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়িয়ে থাকে, সেই হাদীছ শরীফখানার সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যা



কতিপয় গণ্ডমুর্খ, জাহিল-ব-কলম, গোমরাহ, নীম মোল্লারা মু’মিন-মুসলমানদেরকে গোমরাহ করার লক্ষ্যে একটি পবিত্র হাদীছ শরীফ খানার উদ্ধৃতি দিয়ে বলে থাকে যে, মহামারি একটি সংক্রামক তথা ছোঁয়াচে রোগ। তাই যে এলাকায় মহামারী দেখা দিবে সে এলাকায় পবিত্র মসজিদে নামাযে যাওয়ার ব্যাপারে লোক সীমিত রাখতে হবে। নাউযুবিল্লাহ! 

সম্মানিত নামাযের কাতারে দাঁড়ানোর সময় কাতার ফাঁকা-ফাঁকা করে দাঁড়াতে হবে। নাউযুবিল্লাহ! সেখানকার লোকদের পরস্পর মিলামেশা বন্ধ করে দিতে হবে। নাউযুবিল্লাহ!  লক ডাউন-শাট ডাউন করতে হবে। নাউযুবিল্লাহ! তাদের উক্ত বক্তব্যগুলো সম্পূর্ণরূপে মনগড়া, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, দলীল বিহীন, কল্পনাপ্রসূত ও কুফুরীমূলক। তা নি¤œর হাদীছ শরীফ খানা পড়লেই আপনারা সহজেই বুঝতে পারবেন যে, তাদের উক্ত বক্তব্যগুলোর কোন অস্তিত্বই নেই।
পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ حضرت عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رضى الله تعالى عنه، أَنَّ حضرت عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عليه السلام، خَرَجَ إِلَى الشَّامِ حَتَّى إِذَا كَانَ بِسَرْغَ لَقِيَهُ أُمَرَاءُ الأَ جْنَادِ حضرت أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ رضى الله تعالى عنه وَأَصْحَابُهُ، فَأَخْبَرُوهُ أَنَّ الْوَبَأَ قَدْ وَقَعَ بِأَرْضِ الشَّامِ ، قَالَ ابْنُ عَبَّاس رضى الله تعالى عنه: فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ادْعُ لِي الْمُهَاجِرِينَ الأَ وَّلِينَ فَدَعَاهُمْ فَاسْتَشَارَهُمْ، وَأَخْبَرَهُمْ أَنَّ الْوَبَأَ قَدْ وَقَعَ بِالشَّامِ فَاخْتَلَفُوا، فَقَالَ بَعْضُهُمْ : قَدْ خَرَجْتَ لأَمْرٍ وَلاَ نَرَى أَنْ تَرْجِعَ عَنْهُ ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ مَعَكَ بَقِيَّةُ النَّاسِ وَأَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَلاَ نَرَى أَنْ تُقْدِمَهُمْ عَلَى هَذَا الْوَبَإِ، فَقَالَ عُمَرُ: ارْتَفِعُوا عَنِّي، ثُمَّ قَالَ : ادْعُ لِي الأَ نْصَارَ، فَدَعَوْتُهُمْ فَاسْتَشَارَهُمْ فَسَلَكُوا سَبِيلَ الْمُهَاجِرِينَ، وَاخْتَلَفُوا كَاخْتِلاَفِهِمْ، فَقَال: ارْتَفِعُوا عَنِّي ثُمَّ قَالَ: ادْعُ لِي مَنْ كَانَ هَاهُنَا مِنْ مَشْيَخَةِ قُرَيْشٍ مِنْ مُهَاجِرَةِ الْفَتْحِ، فَدَعَوْتُهُمْ فَلَمْ يَخْتَلِفْ عَلَيْهِ مِنْهُمُ رَجُلاَنِ، فَقَالُوا: نَرَى أَنْ تَرْجِعَ بِالنَّاسِ، وَلاَ تُقْدِمَهُمْ عَلَى هَذَا الْوَبَإِ ، فَنَادَى عُمَرُ فِي النَّاسِ: إِنِّي مُصْبِحٌ عَلَى ظَهْرٍ فَأَصْبِحُوا عَلَيْهِ، فَقَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ: أَفِرَارًا مِنْ قَدَرِ اللَّهِ ؟ فَقَالَ عُمَرُ: لَوْ غَيْرُكَ قَالَهَا يَا أَبَا عُبَيْدَةَ ؟ نَعَمْ نَفِرُّ مِنْ قَدَرِ اللَّهِ إِلَى قَدَرِ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ لَكَ إِبِلٌ فَهَبَطَتْ وَادِيًا لَهُ عُدْوَتَانِ إِحْدَاهُمَا خَصِبَةٌ، وَالأَخْرَى جَدْبَةٌ، أَلَيْسَ إِنْ رَعَيْتَ الْخَصِبَةَ رَعَيْتَهَا بِقَدَرِ اللَّهِ ، وَإِنْ رَعَيْتَ الْجَدْبَةَ رَعَيْتَهَا بِقَدَرِ اللَّهِ، فَجَاءَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ، وَكَانَ غَائِبًا فِي بَعْضِ حَاجَتِهِ، فَقَالَ: إِنَّ عِنْدِي مِنْ هَذَا عِلْمًا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: إِذَا سَمِعْتُمْ بِهِ بِأَرْضٍ فَلاَ تَقْدَمُوا عَلَيْهِ، وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلاَ تَخْرُجُوا فِرَارًا مِنْهُ، قَالَ: فَحَمِدَ اللَّهَ عُمَرُ، ثُمَّ انْصَرَفَ.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত: একদা সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সিরিয়ার দিকে রওনা করলেন। অতঃপর যখন তিনি সার্গ (আরব ও সিরিয়ার সীমান্ত) এলাকায় গেলেন, তখন উনার সাথে সৈন্যবাহিনীর প্রধানগণ হযরত আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও উনার সাথীগণ সাক্ষাৎ করেন। উনারা উনাকে জানান যে, সিরিয়া এলাকায় (প্লেগ) মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, তখন সাইয়্যিদুনা ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে বললেন, আমার কাছে প্রাথমিক পর্যায়ে যাঁরা হিজরত করেছিলেন সেই সমস্ত মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে ডেকে আনুন। আমি উনাদেরকে ডেকে আনলাম। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাদেরকে সিরিয়ায় প্রাদুর্ভূত মহামারীর কথা জানিয়ে উনাদের কাছে সু-পরামর্শ চাইলেন। তখন উনাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হল। কেউ বললেন, আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে বের হয়েছেন। তাই তা থেকে ফিরে যাওয়াকে আমরা পছন্দ করি না। আবার কেউ কেউ বললেন, আপনার সাথে রয়েছেন অবশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ। কাজেই আমাদের কাছে ভাল মনে হয় না যে, আপনি উনাদেরকে এই মহামারীর মধ্যে ঠেলে দেবেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনারা আমার নিকট থেকে উঠে যান। তারপর তিনি বললেন, আমার নিকট আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে ডেকে আনুন। সুতরাং আমি উনাদেরকে ডেকে আনলাম এবং তিনি উনাদের কাছে পরামর্শ চাইলেন। কিন্তু উনারাও মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পথ অবলম্বন করলেন এবং উনাদের মতই উনারাও মতামত পেশ করলেন। সুতরাং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনারা আমার নিকট থেকে উঠে যান। তারপর আমাকে বললেন, এখানে যে সকল বয়োজ্যেষ্ঠ কুরাইশী ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আছেন, যাঁরা পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের বছর হিজরত করেছিলেন উনাদেরকে ডেকে আনুন। আমি উনাদেরকে ডেকে আনলাম। তখন উনারা পরস্পরে কোন মতবিরোধ করলেন না। উনারা বললেন, আমাদের রায় হল, আপনি লোকজনকে নিয়ে ফিরে যান এবং উনাদেরকে এই মহামারীর কবলে ঠেলে দেবেন না। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম লোকজনের মধ্যে ঘোষণা দিলেন যে, আমি ভোরে সওয়ারীর পিঠে (ফিরে যাওয়ার জন্য) আরোহণ করবো। অতএব আপনারাও তাই করুন। হযরত আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আপনি কি মহান আল্লাহ পাক উনার নির্ধারিত তকদীর থেকে পলায়ন করার জন্য ফিরে যাচ্ছেন? সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে হযরত আবূ উবাইদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! যদি আপনি ছাড়া অন্য কেউ কথাটি বলতেন। আসলে সাইয়্যিদুনা ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার বিরোধিতা করতে অপছন্দ করতেন। বললেন, হ্যাঁ। আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার তকদীর থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার  তকদীরের দিকেই ফিরে যাচ্ছি। আপনি বলুন তো, আপনি কিছু উটকে যদি এমন কোন উপত্যকায় দিয়ে আসুন, যেখানে আছে দু’টি প্রান্ত। তার মধ্যে একটি হল সবুজ-শ্যামল, আর অন্যটি হল বৃক্ষহীন। এবার ব্যাপারটি কি এমন নয় যে, যদি আপনি সবুজ প্রান্তে চরান, তাহলে তা মহান আল্লাহ পাক উনার  তকদীর অনুযায়ীই চরাবেন। আর যদি আপনি বৃক্ষহীন প্রান্তে চরান তাহলেও তা মহান আল্লাহ পাক উনার  তকদীর অনুযায়ীই চরাবেন। বর্ণনাকারী (ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) বলেন, এমন সময় সাইয়্যিদুনা আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এলেন। তিনি এতক্ষণ যাবৎ উনার কোন প্রয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, এ ব্যাপারে আমার নিকট একটি তথ্য আছে, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা যখন কোন এলাকায় (প্লেগের) প্রাদুর্ভাবের কথা শুনবে, তখন সেখানে যেও না। আর যদি কোন এলাকায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব নেমে আসে আর তোমরা সেখানেই অবস্থান করতে থাকো, তাহলে তোমরা সেখানেই অবস্থান করতে থাকো। কখনো মৃত্যুর ভয়ে পলায়ন করে সেখান থেকে বেরিয়ে যেও না।” সুতরাং (এ পবিত্র হাদীছ শরীফ শুনে) সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার  প্রশংসা করলেন এবং (পবিত্র মদীনা শরীফে) ফিরে গেলেন। (বুখারী শরীফ ৫৭২৯, মুসলিম শরীফ ৫৯১৫)

উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে স্পষ্ট হলো যে, যে এলাকায় মহামারী তথা খোদায়ী গযবে ব্যাপকহারে মৃত্য পতিত হয়। সেখানে  নতুন করে মু’মিন-মুসলমানদেরকে প্রবেশ না করার জন্য বলা হয়েছে। কেননা, মহামারী কবলিত এলাকায় প্রবেশ করলে খোদায়ী গযবে পতিত হতে পারে- এ কারণেই- মহামারী কবলিত স্থানে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এটা ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগের কারণে কিংবা মৃত্যুর ভয়ে পলায়নের কারণে নয়। যেমনটি হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি করেছেন।

মহামারী একটি খোদায়ী মহাগযব তথা মহাশাস্তি। কাজেই, যে এলাকায় মহামারী দেখা দিবে মহামারীর ভয়ে- মৃত্যুর ভয়ে প্রাণে বাঁচার চিন্তা-ভাবনায় সেখান থেকে পলায়ন করা হারাম। তবে অন্য কোন প্রয়োজনে তাদের সেবামূলক কাজে তথায় অবাধে চলাচল করতে কোন বিধি-নিষেধ নেই।

যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-

حضرت أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رضى الله تعالى عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الطَّاعُونُ رِجْسٌ، أُرْسِلَ عَلَى ظَائِفَةٍ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، أَوْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، فَإِذَا سَمِعْتُمْ بِهِ بِأَرْضٍ فَلاَ تَقْدَمُوا عَلَيْهِ وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلاَ تَخْرُجُوا فِرَارًا مِنْهُ (وَفِي رِوَايَةٍ) لاَ يُخْرِجُكُمْ إِلاَّ فِرَارًا مِنْهُ.

অর্থ: হযরত উসামাহ্ বিন যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার  রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্লেগ তথা মহামারী একটি আযাব তথা মহাগযব। যা বনী ইসরাঈলের এক সম্প্রদায়ের উপর পতিত হয়েছিল অথবা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল। তোমরা যখন কোন স্থানে প্লেগের তথা মহামারীর ছড়াছড়ি শুনতে পাও, তখন তোমরা সেখানে যেয়ো না। আর যখন প্লেগ তথা মহামারী এমন জায়গায় দেখা দেয়, যেখানে তুমি অবস্থান করছো, তখন সে স্থান হতে পালানোর লক্ষ্যে বের হয়ো না। অপর বর্ণনায় আছে পলায়নের লক্ষ্যে এলাকা ত্যাগ করো না। তবে অন্য কোন কারণে তথা অন্য যে কোন প্রয়োজনে যেতে পার, তাতে বাধা নেই। (বুখারী শরীফ পর্ব ৬০ অধ্যায় ৫৪ হাদীছ শরীফ নং ৩৪৭৩; মুসলিম শরীফ ৩৯/৩২ হাদীছ শরীফ নং ২২১৮)

মহামারি থেকে প্রাণ রক্ষার লক্ষ্যে পলায়ন করা কিংবা দূরে সরে যাওয়া বে-ঈমান, মুনাফিক ও মুরতাদ হওয়ার শামীল। যেমন সম্মানিত জিহাদ থেকে পলায়ন করার কারণে বে-ঈমান, মুনাফিক ও মুরতাদ হতে হয় ঠিক অনুরুপই। নাউযুবিল্লাহ! তবে মহামারী কবলিত স্থানে যারা আছে তারা সেখানেই ছবর-ইখতিয়ারের সাথে অবস্থান করবে। এ অবস্থায় কোন মু’মিন-মুসলমান উক্ত মহামারীর কবলে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করলে তাঁরা সম্মানিত শাহাদতী মর্যাদা লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ: ্রالْفَارُّ مِنَ الطَّاعُونِ كَالْفَارِّ مِنَ الزَّحْفِ وَالصَّابِرُ فِيهِ لَه أَجْرُ شَهِيدٍগ্ধ . رَوَاهُ أَحْمَدُ

 অর্থঃ হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিতঃ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেনঃ প্লেগ রোগ তথা কোন মহামারী ছড়িয়ে পড়লে ওখান থেকে ভেগে যাওয়া তথা পলায়ন করা সম্মানিত জিহাদের ময়দান থেকে ভেগে যাওয়ার তথা পলায়ন করার মতো (যা মুনাফিকের আলামত)। নাউযুবিল্লাহ! প্লেগ বা মহামারী কোন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সেখানেই ধৈর্য সহকারে সে এলাকায় অবস্থানকারী শহীদের ছাওয়াব লাভ করবে। অর্থাৎ এই অবস্থায়ও ইন্তিকাল করলেও শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করবে। (মসনদে আহমদ ইবনে হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি)

অতএব, উপরোল্লিখিত পবিত্র হাদীছ শরীফগুলো থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা গেল যে, যারা মহামারীকে ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বলে থাকে কিংবা সে এলাকা থেকে মৃত্যুর ভয়ে পলায়ন করতে হবে বলে প্রচার করে এ অযুহাতে পবিত্র মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়তে বাধা প্রদান করে, লোক সীমিত হওয়ার কথা বলে, নামাযের কাতারে ফাঁকা ফাঁকা করে দাঁড়াতে বলে, মাস্ক পড়ার কথা বলে থাকে এবং লোক থেকে কমপক্ষে দুই হাত দুরে থাকতে বলে-তাদের উক্ত কথাগুলো সম্পূর্ণ রুপে মনগড়া, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, দলীলবিহীন, কল্পনাপ্রসূত, সর্বোপরি হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মুল মাফহুমের পরিপূর্ণ খিলাফ আকীদাহ পোষণ করার কারণে কাট্টা কূফরীমূলক হয়েছে।
মূলত: ইহুদী নাসারা, কাফির মুশরিকদের একটি গভীর ষড়যন্ত্র ও মহাচক্রান্ত হলো যে,  কথিত করোনা ও মহামারীকে ছোঁয়াচের অযুহাতে মুসলমানদেরকে ঈমানহারা করে কাফির-মুশরিকে পরিণত করা- এবং সম্মানিত মসজিদগুলো বন্ধ করে দেয়া। নাউযুবিল্লাহ!  একই সাথে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করাসহ অন্যান্য পিপিআই ব্যবহার করার নিদের্শনা দিয়ে ফুসফুস ক্যান্সারসহ অন্যান্য নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক জটিলতা সৃষ্টির কঠিন ষড়যন্ত্র চলছে।

কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, মহামারী যে এলাকায় হবে-  সে এলাকায় ঘন্টায় কমপক্ষে ২০ হাজার উপরে ৭০ হাজার লোক মারা যায়। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ভাষ্য অনুযায়ী এমন মহামারীর কোন আলামত বাংলাদেশে হয়নি এবং পাওয়া যায় নি। এটা একটা মহা ষড়যন্ত্র। এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। সম্মানিত খিলাফতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সম্মানিত মসজিদ। আর সম্মানিত মসজিদ থেকেই সারা বিশ্ব পরিচালিত হয়েছে। কাজেই সম্মানিত মসজিদ বন্ধ থাকলে বা সীমিত রাখলে মুসলিম জাতি কখনোই চলতে পারে না। সম্মানিত মসজিদ বন্ধ রেখে আজকে গণভবন, সংসদভবন, বঙ্গভবন, শাসন ব্যবস্থা, অফিস আদালত, মিল কলকারখানা, হাটবাজার, পদ্মাসেতু নির্মাণ সহ  টোল আদায়  সকল কাজ কিভাবে চলতে পারে? অতএব, তাদের এহেন কুফরীমূলক বক্তব্য এবং গভীর ষড়যন্ত্র ও মহা চক্রান্ত থেকে বেঁচে থাকা প্রতিটি মু’মিন-মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য। 

No comments

ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য।

  ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য। ডাল খাওয়ার ফলে কলব প্রসারিত হয় এবং চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়। পূর্ববর্তী হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উ...

Powered by Blogger.