Header Ads

Islamic Quotes Urdu Facebook Cover. QuotesGram

মুসলমানদের সমৃদ্ধির একমাত্র উপায় “সম্মানিত যাকাত ব্যবস্থা”



সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণযুগের মুসলমানদের দুনিয়া কাঁপানো প্রভাব-প্রতিপত্তির মূল কারণ ছিল সম্মানিত যাকাত ব্যবস্থার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন। যার বদৌলতে মুসলমানরা সমৃদ্ধির চূড়ান্ত সোপানে উপনিত হয়েছিলেন। দুই একটি ঘটনা উল্লেখ করলেই সম্মানিত মুসলমানদের সমৃদ্ধির মাত্রা কিঞ্চিত উপলদ্ধি করা যাবে। হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত মুবারক গ্রহনের অব্যবহতি পরেই বেশ কিছু ফেৎনা প্রকাশ পেল। এর মধ্যে একটি হলো কিছু লোক সম্মানিত যাকাত দিতে অস্বীকার করলো। হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি দীপ্তকন্ঠে ঘোষণা করলেন- যারা উটের একটি রশিও যাকাত দিতে অস্বীকার করবে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবো। উটের রশির কথা বলে তিনি সম্মানিত যাকাত উনার গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। তখন অনেকেই বললেন- এখন আমাদের সামনে পাহাড়সম সমস্যা, এখন যদি যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করা হয়, তাহলে কি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম দুনিয়ার যমীনে টিকে থাকবে? কিন্তু হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উনার সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলেন। পরবর্তীতে অনেক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বলেছেন, হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি যদি সম্মানিত যাকাত উনার ব্যাপারে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত না নিতেন তাহলে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম দুনিয়ার যমীনে টিকে থাকতেন না। হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনিও হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার অনুসরণে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাকাত ব্যবস্থা কায়েম করলেন। হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত উনার মাঝামাঝি সময়ে মুসলমানদের আর্থিক অবস্থা এমন উন্নত হলো যে, হযরত আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু- যিনি একসময় অনেক সহ্য করেছেন। তিনি নিজেই বলেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কাত্তানের কাপড় দ্বারা উনাদের নাক মুবারক পরিষ্কার করেছেন। তাহলে বাকী বিষয়গুলো কত উন্নত ছিল তা বলাই বাহুল্য। কাত্তান কাপড়ের নমুনা এখনো তুরস্কের টপকাপি মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। উল্লেখ্য, কাত্তানের কাপড় হলো আমীর-ওমরা ও রাজা-বাদশাহদের পোশাক। কাত্তান কাপড়ের কিছু কিছু সুতা সোনার তৈরি। তাহলে বুঝুন কত দামী পোশাক! এখন চিন্তা ও ফিকিরের বিষয় মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে মুসলমানরা সমৃদ্ধির চূড়ান্ত সোপানে উপনিত হলেন। সম্মানিত যাকাত ব্যবস্থা সফলতার চূড়ান্ত রুপ পরিগ্রহ করলো। এখন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের ৯৮% অধিবাসী মুসলমান। আর মুসলমান মাত্রই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার হুকুম-আহকামের প্রতি স্বভাবসুলভ মুহব্বত রয়েছে। আর বাংলাদেশের মুসলমানরা বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী ইসলামপ্রিয়। এখানে খুব সহজেই যাকাত ব্যবস্থা কায়েম করা যেত। কিন্তু কাফির-মুশরিকদের দ্বারা বিভ্রান্ত ও প্রতারিত গণতান্ত্রিক সরকারগুলো সম্মানিত যাকাত ব্যবস্থা কায়েমের কোশেশ না করে কাফির-মুশরিকদের দ্বারা প্রবর্তিত হাজার রকম করের বোঝা মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। ফলে মানুষের তৈরী আইনে ফাঁক-ফোঁকর থাকায় মুসলমানরাও কর প্রদানে স্বতঃফূর্ত ও নিবেদিত নয়। করের পরিবর্তে সরকার যদি ৯৮% মুসলমানদের সম্মানিত যাকাত প্রদানের ব্যাপারে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতো তাহলে ইসলামপ্রিয় মুসলমানরাও তাতে স্বতঃফূর্তভাবে সাড়া দিত। সম্মানিত যাকাত খোদায়ী বিধান হওয়াতে এর সুফলও সবাই উপভোগ করতে পারতো। অর্থাৎ বাংলাদেশ বিশ্বের এক নম্বর সম্মৃদ্ধিশীল দেশ হতো। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, সরকারের পাশাপাশি নামধারী আলেম-উলামারাও মুসলমানদেরকে সম্মানিত যাকাত উনার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। শুধুমাত্র একজন মাত্র ব্যক্তিত্ব উনাকে সম্মানিত যাকাত ব্যবস্থা কায়েমের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ দেখা যায়। তিনি হচ্ছেন ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। তিনি আবার মুসলমানদের সমৃদ্ধির চূড়ান্ত সোপানে ওঠানোর জন্য গঠন করেছেন ‘বায়তুল মাল’। এই বায়তুল মালের টাকা দিয়েই সারা পৃথিবীব্যাপী কোটি কোটি মসজিদ, মাদরাসা, গবেষণাকেন্দ্র এবং অন্যান্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে একটি মসজিদ তৈরি করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে সম্মানিত জান্নাতে একটি বালাখানা হাদিয়া করবেন’। একজন মুসলমানের পক্ষে কোটি কোটি মসজিদ, মাদরাসা, গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু যামানার সম্মানিত ইমাম ও মুজতাহিদ উনার পক্ষেই সম্ভব এমন ইতিহাসসৃষ্টিকারী ঘোষণা দেয়া এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।
তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতিষ্ঠিত “বায়তুল মালে” সম্মানিত যাকাত উনার টাকা প্রদান করে বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মসজিদ, মাদরাসা, গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজে শরীক থাকা। 

No comments

ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য।

  ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য। ডাল খাওয়ার ফলে কলব প্রসারিত হয় এবং চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়। পূর্ববর্তী হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উ...

Powered by Blogger.