হাঁচিতে আতংকিত না হয়ে শুকরিয়া আদায় করুন, কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি হাঁচির মধ্যে রেখেছেন আশ্চর্যজনক রোগ নিরাময়ক
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ
حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى
اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلِ الْحَمْدُ
لِلَّهِ وَلْيَقُلْ لَهُ أَخُوهُ أَوْ صَاحِبُهُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ فَإِذَا
قَالَ لَهُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ فَلْيَقُلْ يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ
بَالَكُمْ
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনার থেকে বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয়, তখন সে যেন বলে, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং তার ভাই অথবা সাথী যেন (উত্তরে)
বলে, ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ অতঃপর সে যেন (তার উত্তরে) বলে, ‘ইয়াহদীকুমুল্লাহু ওয়া ইউছলিহু বালাকুম’।” (ছহীহ বুখারী শরীফ, হা/নং ৬২২৪)
উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফে বলা হচ্ছে, যখন তোমরা হাঁচি দিবে
তখন মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করতঃ আলহামদুলিল্লাহ! বলবে। এই শুকরিয়া কেন
আদায় করতে হবে তার লক্ষ কোটি কারণ রয়েছে তবে এ বিষয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ গবেষণা করে
যতটুকু বুঝতে পেরেছে তা তারা বর্ণনা করেছে। তা থেকে কিছু নি¤েœ উল্লেখ করা হলো:
> কোনো মানুষ যখন হাঁচি দেয়, তখন তার শরীর থেকে হাঁচির সাথে এক লক্ষ জীবাণূ বেরিয়ে যায়।
> মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
এমন রোগ হাঁচির সঙ্গে বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়। যাতে মানুষ এ ব্যাধিগুলো থেকে মুক্তি
পায় এবং মাথায় আরামবোধ করে থাকে। যা মাথা ব্যাথা থেকেও মুক্তি দেয়।
> মানুষের শরীরের অনেক ক্ষতিকর উপাদান
শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে নাকে এসে জমা হয়। যার মাধ্যমে মানুষের হার্ট ও ফুসফুস আক্রান্ত
হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চোখের পলকেই হাঁচির সঙ্গে মানুষের নাকে জমে থাকা জীবাণূগুলো বেরিয়ে
যায়।
> যাদের নাক ও মাথা সর্দির কারণে
পেরেশান থাকে তখন একটি হাঁচিই তাদেরকে শারীরিকভাবে পরিপূর্ণ প্রশান্তি এনে দেয়।
> হাঁচি মানুষকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন
বায়ু প্রবাহে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। যার ফলে পরিচ্ছন্ন বায়ুতে ফুসফুস সতেজ হয়ে
ওঠে।
> সাধারণতই মানুষ যখন হাঁচি দেয়
তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের চোখ বন্ধ হয়ে যায়। এটি রক্ত চলাচল সহজ করে, ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস থেকে মানুষের চোখ ও শরীরকে সংরক্ষণ করে।
মনে রাখতে হবে, মানুষ যখন হাঁচি দেয় তখন মানুষের দেহ থেকে অনেক ক্ষতিকর
জীবাণূ বেরিয়ে যায়। যে কারণে মুসলমাকে হাঁচির পর ক্ষতি থেকে বাঁচার কারণে মহান আল্লাহ
পাক উনার প্রশংসা করতঃ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে শুকরিয়া আদায় করতে হয়।
উল্লেখ্য অনেকে মনে করে থাকে, কেউ হাঁচি দিলে তার থেকে
জীবাণূ বের হয়ে অন্যকে আক্রান্ত করে। নাউযুবিল্লাহ! এটা হচ্ছে, একটা কুফরী আক্বীদাহ। কেননা সম্মানিত দ্বীন ইসলামে ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই। যারা
এটা বিশ্বাস করবে তারা কুফরী করার কারণে কাফির হবে। আর হাঁচির সাথে যেই জীবাণূ বের
হয়, সেটা মহান আল্লাহ পাক তিনি কুদরতীভাবেই মিটিয়ে দেন। সেটা দ্বারা
অন্য কেউ আক্রান্ত হয় না। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি সবাইকে ছহীহ বুঝ দান
করুন। আমীন!


No comments