আমাদের কি জানা আছে- যামানার মহান ইমাম ও মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আযম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে?

মুবারক নছব বা বংশ পরিচয়:
মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক বংশ পরম্পরা সাইয়্য্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,
খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম,
হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পৃক্ত। সম্মানিত পিতা-মাতা
উভয়ের দিক থেকে তিনি যথাক্রমে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদু শাবাবি
আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ
আলাইহিস সালাম উনাদের সাথে সম্পৃক্ত। এ কারণে তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,
খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম,
হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত। রক্ত মুবারকের ধারাবাহিকতায়
সঙ্গতকারণেই তিনি আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাইশী। অর্থাৎ তিনি আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!
পথভ্রষ্ট ও গুমরাহীতে নিমজ্জিত মানুষকে হিদায়েত দানের লক্ষ্যে সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চীশতি আজমিরী সানজিরী রহমতুল্লাহি
আলাইহি তিনি বিভিন্ন দেশ হিজরত ও সফর শেষে খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম,
হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন,
ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন,
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের
সদয় নির্দেশে ছয়শত হিজরীর মাঝামাঝি সময়ে আজমীর শরীফ তাশরীফ আনেন। উনারই অন্তরঙ্গ সঙ্গী
ওই যামানায় খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ লক্ষ্যস্থল মাদারযাদ ওলী, আওলাদুর রসূল, হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ
আবূ বকর মুজাদ্দিদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও আজমীর শরীফ তাশরীফ আনেন। হিদায়েত দানের
কাজে নিমগ্ন হয়ে তিনি আজমীর শরীফ উনার মধ্যেই থেকে যান এবং সেখানেই পবিত্র বিছালী শান
মুবারক প্রকাশ করেন। উনার অধস্তন আওলাদ পাক (সন্তান) মাদারযাদ ওলী, আওলাদুর রসূল, হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ
আলাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এগারশত হিজরীর শেষার্ধে হিদায়েতের আলো নিয়ে আজমীর
শরীফ থেকে চট্টগ্রাম অতঃপর সোনারগাঁও হয়ে বর্তমান নূরানীগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) জেলার আড়াইহাজার
থানাধীন প্রভাকরদী শরীফ গ্রামে হিদায়েতের কেন্দ্র (মারকাজ) গড়ে তোলেন। সুবহানাল্লাহ!
উনারই আওলাদ পাক (সন্তান) মাদারযাদ ওলী,
আওলাদুর
রসূল হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মালাউদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার আওলাদ পাক (সন্তান)
মাদারযাদ ওলী, আওলাদুর রসূল সাইয়্যিদ মুহম্মদ
ইলাহী বখশ রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার আওলাদ পাক (সন্তান) মাদারযাত ওলী আওলাদুর রসূল
সাইয়্যিদ মুহম্মদ ওলী বখশ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আওলাদ পাক (সন্তান) মাদারযাদ ওলী, আওলাদুর রসূল সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি
এবং উনারই আওলাদ পাক (সন্তান) মাদারযাদ ওলী,
আওলাদুর
রসূল আলোচ্য মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি।
ইলম, আমল ও কামিয়াবী:
সূক্ষ্ম মননশীলতা, অনাবিল অনুসন্ধিৎসা, মুরাকাবার নিবিষ্টতা,
পরিচ্ছন্ন
ধ্যান-ধারণা, ইলম অর্জনের আকুলতা, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন,
ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন,
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
প্রতি মা’রিফাত ও মুহব্বতের অতলান্ত গভীরতা এবং মুজাদ্দিদে আ’যম সুলভ মানসিকতা তিনি
পবিত্র বিলাদত সূত্রেই লাভ করেছেন। তিনি আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায়
পরিপূর্ণ বিশ্বাসী। ইসলামবিরোধী পুঞ্জীভূত তমসা দূর করে হিদায়েতের নূরে দুনিয়া আলোকিত
করার জন্য খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মাঝে সকল সর্বোত্তম গুণ-বৈশিষ্ট্যের
অনুপম সমাবেশ ঘটিয়েছেন। বিশ বছর বয়স মুবারকের মধ্যেই তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ,
পবিত্র তাফসীর
শরীফ, পবিত্র ফিক্বাহ, পবিত্র উছূল, পবিত্র মানতিক, পবিত্র বালাগাত,
পবিত্র ফাছাহাত, পবিত্র নাহু, পবিত্র ছরফ, সাহিত্য, কাব্য, ইতিহাস, ভূগোল, দর্শন, বিজ্ঞানসহ ইসলামী ইলম
উনার সকল শাখায় অতুলনীয় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার জীবনের আয়োজন, ইলম, আমল ও কামিয়াবীর পরিধি
ব্যাপকতর। ইলম, আমল, সমঝ ও মুহব্বত-মা’রিফাত নিজস্ব সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও খালিক্ব
মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার উদ্দিষ্ট ব্যবস্থায় তিনি আত্মকেন্দ্রিক হতে পারেন না।
মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার দায়িত্ব অপার। ইলমে তাছাওউফ অর্জনের শরয়ী কারণে
তিনি কুতুবুল আলম, আমীরুশ শরীয়ত ওয়া রাহনুমায়ে
তরীক্বত, সুলত্বানুল আরিফীন, শাইখুল মাশায়িখ,
উস্তাযুল
আসাতিযা, নাজমুল আউলিয়া, জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত, লিসানুল উম্মত,
রঈসুল মুহাদ্দিছীন, তাজুল মুফাসসিরীন,
ফখরুল ফুক্বাহা, আল্লামাতুল আইয়াম,
মুফতিউল
আ’যম, আশিকু রসূলিল্লাহ (ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শাহ ছূফী, আলহাজ্জ, হযরত আল্লামা আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপুরী আলাইহিস
সালাম উনার নিকট বাইয়াত হয়ে প্রধান খলীফার মর্যাদাপূর্ণ আসনে সমাসীন হন এবং পরিপূর্ণ
কামিয়াবী উনার ক্বদম মুবারক চুম্বন করে। সুবহানাল্লাহ!
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ,
ইমামুশ শরীয়ত
ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ,
কুতুবুল
আলম, গাউছুল আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম,
বাহরুল উলূম, আশরাফুল আউলিয়া,
ছহিবু সুলত্বানিন
নাছীর, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, আল্লামা সায়্যিদুনা ইমাম
হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ,
পবিত্র ইজমা
শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের পরিপূর্ণ অনুসারী। তিনি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে
পবিত্র সুন্নত উনার অনুসরণ ও অনুকরণ করেন। একটি মুস্তাহাব আমলও তিনি কখনো তরক করেন
না। সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদ কাকে বলা হয়:
পবিত্র দ্বীন ইসলাম মানুষের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। পবিত্র দ্বীন ইসলাম খালিক্ব
মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত,
নিয়ামত ও
সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত পরিপূর্ণ একমাত্র দ্বীনি ব্যবস্থা। এতে মানুষকে হাক্বীক্বীভাবে প্রশিক্ষিত
ও নিবিষ্ট করার কাজে পৃথিবীতে যুগে যুগে নিয়োজিত থাকেন ওয়ারাছাতুল আম্বিয়াগণ। খালিক্ব
মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মত এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন,
ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন,
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
প্রদর্শিত পথে যাঁরা আমরণ ইস্তিক্বামত থাকেন এবং মানুষকে ইস্তিক্বামত করেন- উনারাই
ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া। অবুঝ, লক্ষ্যভ্রষ্ট ও বিপথগামী
মানুষের আক্বীদা, অনুভব ও অনুসরণকে পবিত্র
সুন্নত উনার বিধানে আল্লাহমুখী করে দেয়ার জন্য এমন মহান ওলী দুনিয়ায় সব সময়ই মওজুদ
থাকেন। এ মহান ও আয়াসসাধ্য দায়িত্বপালনের জন্য প্রতি শতাব্দীতেই সংস্কারকের আবির্ভাব
ঘটে। এমন সংস্কারককে বলা হয় মুজাদ্দিদ। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক
হয়েছে, “নিশ্চই খালিক্ব মালিক রব মহান
আল্লাহ পাক তিনি এই উম্মতের হিদায়েতের জন্য প্রত্যেক হিজরী শতকের শুরুতে এমন একজন ওলী
পাঠিয়ে থাকেন, যিনি উম্মতের জন্য পবিত্র দ্বীন
ইসলাম উনার সংস্কার সাধন করে থাকেন।” সুবহানাল্লাহ!
পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদে আ’যম উনার মুবারক তাশরীফ (আগমন) এবং তাজদীদ উনার প্রকৃতি
ও পরিধি:
শতাব্দীর পর শতাব্দী অতিক্রমণে তাওহীদ ও রিসালত পরিপন্থী ঈমান, আক্বীদা ও আমলে মানুষ গুমরাহীতে নিমজ্জিত হয়। কালের প্রবাহে
পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সম্পর্কে মানুষের ভ্রান্ত উপলব্ধি, নৈতিক অবক্ষয় ও বিরূপ জীবনাচরণের মধ্যে বিদয়াতের জন্ম হয় এবং
পবিত্র সুন্নাহ শরীফ ও সম্মানিত শরীয়তবিরোধী কাজের প্রসার ঘটে। ক্রমান্বয়ে মানুষ শিরক
ও কুফরীর তমসায় আচ্ছন্ন হয়। বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে এমন অবস্থাই বিরাজমান।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন,
ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন,
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের
মত মুবারক ও পথ মুবারক উনাদের বিপরীত ও সাংঘর্ষিক যাবতীয় আক্বীদা, আমল, আখলাক ও রসম-রিওয়াজের
মূলোৎপাটন করে হাক্বীক্বী পবিত্র দ্বীন ইসলাম আবাদের অনূকুল ক্ষেত্র তৈরির প্রয়োজনে
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার উদ্দিষ্ট ব্যবস্থায় এবং রউফুর রহীম, রহমাতুল্লিল আলামীন,
হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদয় ইহসানে পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদে
আ’যম উনার প্রয়োজন অনিবার্য হয়ে উঠে। রিসালতের ধারায় পবিত্র ইসলামী রেনেসাঁ (তাজদীদ)
এবং আধ্যাত্ম চিন্তা ও ইলমে তাছাওউফ উনার সুষ্ঠু বিন্যাস ও প্রয়োগে নিরন্তর নিয়োজিত
থাকায় মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মর্যাদা সমধিক। দুনিয়ার প্রতিকূল পরিবেশ-প্রতিবেশে
উনার তাজদীদের পরিধি ব্যাপক ও ভিন্নতর।
পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদে আ’যম উনার পরিচিতি:
বর্তমান প্রতিকূল প্রেক্ষাপটে মানুষের পরিত্রাণের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত
এবং কুল-কায়িনাতের মুবারকবাদ সিক্ত খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ,
মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত,
কুতুবুল
আলম, হুজ্জাতুল ইসলাম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, ক্বইয়্যূমে আ’যম, হাবীবুল্লাহ, গাউছুল আ’যম, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, ইমামুল উমাম, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ দিল্লুর রহমান আল হাসানী
ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাইশী আলাইহিস সালাম উনিই হলেন পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদে
আ’যম। যিনি রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা হিসেবে সারা বিশ্বে মশহুর।
উনার মর্যাদা, মর্তবা, শান-মান, ইজ্জত ও ঐতিহ্যের অত্যুচ্চ
সোপান কেবল খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন,
ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন,
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই
সম্যক অবহিত। অগণিত লক্বব মুবারক উনার মধ্যে উনার একখানি মূল লক্বব মুবারক হলো “মুজাদ্দিদে
আ’যম”। সুবহানাল্লাহ!
মুবারক তাজদীদ উনার ক্ষেত্র:
মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার তাজদীদ মুবারক উনার মূল লক্ষ্য ও ক্ষেত্র কোনো
জনপদের ভৌগোলিক সীমানা অথবা অবকাঠামো নয়। লক্ষ্য হলো মানুষের অন্তরের নোংরা অনুভব, অনৈতিক আচরণ ও শরীয়ত গর্হিত কাজ। সম্মানিত ইসলামী পরিভাষায় যার
নাম পবিত্র ঈমান, আক্বীদা, ইলম, আমল ও ইখলাছ। একটি সুনির্দিষ্ট
ভূখ-ের মধ্যে জনগণ, সরকার ও সার্বভৌমত্বের
সমন্বিত রূপকে রাষ্ট্র বলা হয়। পবিত্র দ্বীন ইসলাম এমন রাষ্ট্র সমর্থন করে না। কারণ
পবিত্র দ্বীন ইসলাম নির্দিষ্ট কোনো সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়। পবিত্র দ্বীন ইসলাম সার্বজনীন
এবং এর আবেদন বিশ্বব্যাপী। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার কাজ হলো, জগৎময় মানুষের অন্তরকে শাণিত করে তোলা এবং তাঁদের মন ও মননে
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনার সমন্বয়ে সৃষ্ট ইলমে তাছাওউফ উনার নির্যাস
প্রবেশ করিয়ে দেয়া। অর্থাৎ মানুষকে পরিপূর্ণরূপে আল্লাহওয়ালা করে তোলা এবং পৃথিবীব্যাপী
“খিলাফত আলা মিন হাজিন নুবুওওয়াহ” প্রতিষ্ঠিত করা।
এলক্ষ্যে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার তাজদীদের ক্ষেত্র গোটা বিশ্বের সকল
মানুষ। বিপন্ন ও পথহারা মানুষের হিদায়েতের জন্য তিনি বেমেছাল রূহানী কুওওয়াত সম্পন্ন
আলোকবর্তিকা। অন্যসব ধর্ম ও জাতি, গোত্র, বর্ণ নির্বিশেষে আপামর মানুষের জন্যও তিনি মনোনীত হাদী। পরিপূর্ণরূপে
ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ উনাদের অনুসরণে মানুষকে আল্লাহওয়ালা করে তোলা এবং জগৎব্যাপী
ইনসানিয়াত প্রতিষ্ঠায় পঞ্চদশ হিজরী শতকে তিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার
এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,
খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম,
হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের শ্রেষ্ঠতম উপহার। সুবহানাল্লাহ!ৎ
মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন,
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
আহকামের প্রতি জগৎব্যাপী মানুষের অনীহা,
ভ্রান্ত
আক্বীদা, পবিত্র সুন্নত উনার প্রতি অবজ্ঞা
এবং ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করে তিনি বেদনাক্লিষ্ট হয়ে পড়েন। এ বেদনাবোধই
উনার অপ্রতিরোধ্য তাজদীদের ভিত রচনা করে।
তাজদীদের প্রণালী:
বিপর্যস্ত আক্বীদা, কুফরী ও নাস্তিকতার ঘোর
দুর্দিনে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন,
ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন,
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের
খাছ লক্ষ্যস্থল মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হাক্বীক্বী হিদায়েতের জন্য বিশ্ববাসীকে
ডাক দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত মাসিক “আল বাইয়্যিনাত”
ও দৈনিক “আল ইহসান” পত্রিকার সঠিক দিক নির্দেশনায় বিশ্বময় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বাতিলের
মুখোশ উম্মোচন ও বাতিলকে পর্যুদস্ত করে হক্ব মত ও পথ প্রতিষ্ঠায় এ দুটি পত্রিকার অমীয়
আহ্বানে মানুষ দুনিয়াদার আলিম তথা উলামায়ে সূ’, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার শত্রু ও বাতিলকে চিনতে ও বুঝতে শিখেছে। মানুষের ইছলা’র
জন্য এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন কিতাব রচনা করে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার হক্ব বক্তব্য
তুলে ধরছেন। একইভাবে সহজ-সরল এবং হৃদয়গ্রাহীভাব ও ভাষায় নিয়মিতভাবে তিনি দেশের প্রত্যন্ত
অঞ্চল পর্যন্ত ওয়াজ-নছীহত ও তা’লীম তালক্বীন উনার মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের মনে ইসলামী
জযবা সৃষ্টি করছেন। দেশ-বিদেশের অগণিত মানুষ উনার মুরীদ হচ্ছে। অসংখ্য বিধর্মী ইসলাম
ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে। উনার যিকির-ফিকিরের তা’লীমে লক্ষ লক্ষ মুরীদের অন্তর ইছলাহ হচ্ছে।
ইলমে তাছাওউফে দীক্ষিত হয়ে অগণিত মানুষ সত্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অবলুপ্ত সুন্নত যিন্দায়
মানুষকে হক্ব মত-পথে ফিরিয়ে আনতে উনার বিশ্বময় অতুলনীয় অবদান ইতোমধ্যেই মানুষ জেনে
ফেলেছে।
কতিপয় তাজদীদের বিষয়:
মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার তাজদীদের মূল বিষয় হলো, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী বদ আক্বীদা, আমল, অন্যায়, অবিচারের মূলোৎপাটন। ইসলামবিরোধী যাবতীয় বিশ্বাস ও কার্যকলাপই
উনার তাজদীদের ক্ষেত্র। দুনিয়ালোভী আলিমদের মনগড়া ফতওয়ার কারণে বর্তমানে অনেক মানুষ
সরাসরি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ বিরোধী আক্বীদা ও আমলে লিপ্ত। মুজাদ্দিদে
আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি শরীয়ত উনার মূল দলীল, অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের ভিত্তিতে সঠিক
আক্বীদা ও আমল তুলে ধরছেন এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রবেশকৃত সকল কুফরী, শিরক ও বিদয়াত অপসারণের কাজে সর্বক্ষণ নিয়োজিত রয়েছেন।
যেসব হারাম ও নাজায়িয বিষয়ের মূলোৎপাটনে তিনি নিয়োজিত, তাঁর কতিপয় নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
বেপর্দা, ছবি, গণতন্ত্র, খেলাধুলা, নারী নেতৃত্ব, মুসলমানের মৌলবাদ দাবি, ব্লাসফেমী আইন;
হযরত নবী-রসূল
আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহুম এবং হযরত আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদেরকে দোষারোপ করা; টিভি, ভিসিআর, ভিডিও, হরতাল, লংমার্চ, জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা; সুদ-ঘুষ, রোযা রেখে ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ইত্যাদি নেয়া, মাযহাব অস্বীকার,
বিজাতীয়
ও বিধর্মী যাবতীয় আমল ইত্যাদি।

No comments