Header Ads

Islamic Quotes Urdu Facebook Cover. QuotesGram

পবিত্র ১৯শে শাওওয়াল শরীফ ওলীআল্লাহগণ উনাদের স্মরণে থাকার পথ যেদিন উন্মোচিত হয়েছে



হযরত যায়িদ ইবনে হারেছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জীবনী মুবারক আমরা অনেকেই জানি। ছোটবেলা ইয়েমেন থেকে উনার সম্মানিত মা উনার সঙ্গে মামার বাড়ি যাবার পথে একটি ডাকাত দলের আক্রমণের শিকার হন এবং উনাকে পবিত্র মক্কা শরীফ-এ ওকাজ মেলায় বিক্রি করে দেয়া হয়। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ভাইয়ের ছেলে তিনি উনাকে কিনে নেন এবং পরে উনার ফুফু অর্থাৎ হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক খিদমতে পাঠিয়ে দেন।
পরবর্তীতে হযরত কুবরা আলাইহিস সালাম তিনি হযরত যায়িদ ইবনে হারেছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে পেশ করলে তিনি উনাকে আযাদ করেন দেন এবং হযরত যায়িদ ইবনে হারেছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পালকপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!
অনেক বছর পর হজ্জ যাত্রীদের মাধ্যমে হযরত যায়েদ ইবনে হারেছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাবা-চাচারা খবর পেয়ে উনাকে নিতে আসেন। পবিত্র কা’বা শরীফ উনার পাশে হযরত যায়িদ ইবনে হারেছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দেখতে পেয়ে উনার বাবা-চাচা বিনিময়ের মাধমে উনাকে নিয়ে যেতে চাইলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “কোনো বিনিময় প্রয়োজন নেই; বরং তিনি স্বেচ্ছায় যেতে চাইলে কোনো সমস্যা নেই।” তখন হযরত যায়িদ ইবনে হারেছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেছিলেন, “আমি যাবো না।” এবং তিনি আরো বলেছিলেন, “আমার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে এমন কিছু পেয়েছি যা আর কারো মাঝে নেই এবং তিনি ছাড়া দ্বিতীয় কাউকে আমি পছন্দ করতে পারিনা।” সুবহানাল্লাহ!
যুগে যুগে সেই একই ঘটনার (একই সুন্নত মুবারক উনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে) ওলীআল্লাহগণ উনাদের জীবনে।
খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত ত্বরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি যেহেতু নূরে মুজসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ মিছদাক; তাই উনার নেক ছোহবত মুবারকে এসে উনার অনুপম ছীরত-ছূরত মুবারক দেখে অনেকেই থেকে গেছেন উনার সান্নিধ্য মুবারকে। সুবহানাল্লহা!
অনেকেই আছেন যারা বাবা-মাকে ছেড়ে স্বীয় শায়েখ আলাইহিস সালাম উনার মুহব্বতে। কেউ কেউ দেশের বাড়ি যাওয়ার কথা কালে-ভদ্রে মনে করেন। যারা পবিত্র দরবার শরীফে প্রথমে এসেছিলেন উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকে থাকতেন। দৈনিক পাঁচ বেলাতো অবশ্যই এছাড়াও আরও অনেকবারই ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতেন, উনার স্মরণে থাকতেন, মুহব্বতে থাকতেন। সুবহানাল্লাহ!
সুমহান সম্মানিত ও পবিত্র ১৯শে শাওওয়াল শরীফ সংঘটিত হওয়ার পূর্বে খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত ত্বরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ছোহবতে থাকা অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন আমরা আগের মতো ছোহবত মুবারক পাবো কিনা? উনার স্মরণে আগের মতো থাকবো কিনা? ইত্যাদি ইত্যাদি। অবশ্য মুহব্বত থেকেই এই পেরেশানির জন্ম হয়েছিলো। কারণ, সাইয়্যিদুনা রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম যিনি কায়িনাতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, যিনি সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, তিনি কোনো মুরীদকে চেনেন, বা কখনো তাকে খোঁজেন অথবা কেবল উনার মুরীদ হিসেবে নাম লিখিয়েছেন- এটা একজন মুরীদের জন্য চরম পাওয়া।
এই যে আমরা বলি, “আমার জন্য দোয়া করবেন।” কিন্তু উর্দ ভাষা-ভাষীরা বলে, “দোয়া মে ইয়াদ রাখনা।” অর্থাৎ যেন দোয়া করা হয় বা দোয়ার মধ্যে স্মরণ রাখা হয়।
সুমহান সম্মানিত ও পবিত্র ১৯শে শাওওয়াল শরীফ সংঘটিত হওয়ার পর ঘটলো ভিন্ন ঘটনা।
প্রথমে মুরীদগণের সুযোগ ছিল শুধু সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র স্মরণে থাকার আর এখন এই পবিত্র ১৯শে শাওওয়াল শরীফ উনার পর মুরীদগণের সুযোগ হয় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের দু’জনের পবিত্র স্মরণে থাকার। সুবহানাল্লাহ!
বরং বলা যায়, এই দিনের সূচনার জন্য আজকে আমাদের সুযোগ হয়েছে সম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সবার স্মরণে থাকার। তাহলে মুরদীগণের জন্য এই দিন কত খুশীর দিন তা বলার অপেক্ষাই রাখেনা।
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের জীবনী মুবারকে অনেক সুক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সুন্নত মুবারকের আমল মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছাতেই সংঘটিত হয়। এরকম আরও একটি ঘটনা এবার উল্লেখ করা হলো।
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আনাছ বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যিনি সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে সবার শেষে পৃথিবী থেকে গিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক দীদারে মিলিত হন। উনার সম্মানিত আম্মাজান ছিলেন আনসার মহিলা উনাদের মধ্যে প্রথম সম্মানিত ইসলাম কবুলকারিনী। উনার নাম মুবারক হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। তিনি যখন ইসলাম কবুল করেন তখন হযরত আনাছ বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাবা মালিক বিন নযর পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বাইরে ছিলো। সে যখন জানলো তার স্ত্রী সম্মানিত ইসলাম কবুল করেছেন সে খুব বিরক্ত হলো। বরং সে যখন ঘরে ফিরলো তখন তার সামনেই ছোট্ট শিশু হযরত আনাছ বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পবিত্র কলেমা শরীফ শুনালেন তিনি বিড়বিড় করে তাই পাঠ করলেন। সুবহানাল্লাহ!
কিন্তু মালিক বিন নযর পাঠ না করে মনের দুঃখে সিরিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো। এবং পথে ডাকাত দলের হাতে মারা যায়। তখন একজন ছাহাবাী হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (তিনিও সম্মানিত ইসলাম কবুল করেননি।) তিনি হযরত আনাছ বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাকে শাদী করতে চাইলেন। জবাবে হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি স্বেচ্ছায় হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দুখ ছাড়াবো না। যেদিন দুধ খাওয়া ছাড়বেন, বড় হবেন তখন যদি আমার সন্তান আমাকে শাদী করতে বলেন তখন আমি শাদী করবো। হযরত আনাছ বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন বড় হলেন মসজিসে আসা-যাওয়া করেন তখন হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আবার এসে বললেন, আপনার সন্তান বড় হয়েছে, এখন আপনি আমাকে বিয়ে করতে পারেন। হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বললেন, আমি আমার কথা ভুলে যাইনি; কিন্তু আমি মু’মিনা আর আপনি মুশরিক কি করে বিয়ে করবো? আপনাকে সম্মানিত ইসলাম কবুল করতে হেব। তখন হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার নববী শরীফ সেখানে গিয়ে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম কবুল করলেন। আর সম্মানিত ইসলম কবুলই ছিলো মোহরনা। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে এরকম মুবারক সুন্নত কি বেঁচে থাকবে না?
বর্তমান সময় অনেক পুরুষ রয়েছে যাদের আহলিয়া প্রথমে দরবার শরীফ উনার মাঝে এসেছেন, উনারা বাইয়াত গ্রহণ করেছেন, হক্ব বুঝেছেন- পরে সন্তান, স্বামী হক্ব পেয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে কোনো মহিলা প্রথমে আসতে হলেন কার কাছে আসবেন? মহিলাগণ নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, সাইয়্যিদাতুন নিসা, উম্মুল উমাম, হাবীবাতুল্লাহ হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক কদমে আসার পথ পেয়ে হক্ব জানতে পারছেন আর সেই আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন কায়িনাতের বুকে।
তাহলে মহিলা-পুরুষ সবার কাছেই এই সুমহান সম্মানিত ও পবিত্র ১৯শে শাওওয়াল শরীফ উনার গভীর তাৎপর্য রয়েছে যা বলার অপেক্ষা রাখে না।

No comments

ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য।

  ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য। ডাল খাওয়ার ফলে কলব প্রসারিত হয় এবং চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়। পূর্ববর্তী হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উ...

Powered by Blogger.