দেওবন্দীদের কাছে নবিজি হাজির-নাজির শিরক কিন্তু মালানা কাশেম নাওতুবী মরার পর হাযির নাজির!!! নাউজুবিল্লাহ
দেওবন্দী আক্বীদা প্রতিদিন বারবার বলার প্রয়োজন মনে করি না | সংক্ষেপে তাদের মতে , কোন নবী রসূল -ওলী আল্লাহ উনারা কেউ ইলমে গায়েব জানেন না, হাজির নাজির হতে পারেন না, ইন্তেকালের পর কাউকে সাহায্য করতে পারেন না ,ইত্যাদি !!
দলীল--
√ ফতোয়ায়ে রশীদীয়া
√ বরাহীনুল কাতেয়
√ ফতোয়ায়ে এমদাদিয়া
√ হিফজুল ঈমান , সহ দেওবন্দী খারেজীদের সকল বই পুস্তক ও ওয়াজের ক্যাসেট !
------------------------------
এখন আসুন দেখা যাক তাদের মুরুব্বী দের ব্যাপারে তাদের আক্বীদা ও চিন্তা ভাবনা কেমন !
দেওবন্দী জামাতের অন্যতম মওলভী মুনাজির আহসান গিলানী তার " সাওয়ানেহ কাসেমী " কিতাবে একটা ঘটনা বর্ননা করছে | এই ঘটনা দেওবন্দী জামাতের আরেক মওলোভী মাহমুদুল হাসানের বরাত দিয়ে দেওবন্দী মাদ্রাসার এক ছাত্রের ঘটনা বর্ননা করা হয়েছে | দেওবন্দী সেই ছাত্রের ঘটনা --
সেই ছাত্র পাঞ্জাবের কোন এক এলাকায় গিয়ছিলো ,এবং গ্রামের লোকেরা তাকে তাদের মসজিদে ইমামতি করার সুযোগ দেয় | গ্রামবাসীও তার সাথে ভালো ব্যবহার করতে লাগলো | হঠাৎ ঐ এলাকায় ঘুরতে ঘুরতে এক ওয়ায়েজী মওলবী আগমন করলো ,এবং ওয়াজ নসিহত করতে লাগলো | এবং এলাকার লোকেরা তার ভক্ত হয়ে গেলো |
একদিন ওয়ায়েজ মওলবী জানতে চাইলো এই এলাকার মসজিদের ইমাম কে ? সবাই বললো, দেওবন্দী মাদ্রাসায় পড়ুয়া ওক মওলবী সাহেব !!
দেওবন্দী মাদ্রাসার নাম শুনে ওয়ায়েজ সাহেব খুব রেগে গেলেন, এবং ফতোয়া প্রদান করলেন, এ পর্যন্ত যত নামাজ তোমরা দেওবন্দীর পিছনে পড়েছ ওগুলো মোটেও আদায় হয় নাই, এরপর দেওবন্দীদের বদ আক্বীদার বিভিন্ন বর্ননা দিলেন |
গ্রাম বাসী মুসলমানগন খুবই মর্মাহত হলো | কারন দেওবন্দীকে অনর্থক ইমাম বানিয়ে টাকা পয়সা বর্বাদ হলো সেই সাথে নামাজও নষ্ট হলো |
তারপর একদিন গ্রামবাসী সেই দেওবন্দী মৌলভীর কাছে গেলেন, বললেন, ওয়ায়েজ মওলবী আপনাদের নামে যে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন , পারলে আপনি তা খন্ডন করুন আর না পারলে বলুন আপনার সাথে কি আচরন করতে পারি ?
দেওবন্দী খুব চিন্তায় পরে গেলো , সে ধরেই নিলো তার চাকরীটা গেছে ! কারন ওতবড় ওয়ায়েজ মৌলবীর সাথে মুনাজিরার যোগ্যতা তার নাই, কিন্তু মুনাজিরা না করেও উপায় নাই ! তাই বাধ্য হয়ে ভয়ে ভয়ে মুনাজিরা করতে রাজি হলো |
বাহাসের জন্যে তারিখ, স্থান সময় সব ঠিক হয়ে গেলো | নির্ধারিত সময় ওয়ায়েজ মওলবী কিতাবের বড় বড় পুটলি নিয়ে হাজির হলো , অন্য দিকে দেওবন্দী মৌলবীও ভীতু সন্ত্রস্ত নীরুপায় হয়ে এগিয়ে এলো !
এরপর দেওবন্দী মৌলবী নিজের বর্ননা---
আমি ওয়ায়েজ মৌলবীর সামনে বসে গেলাম , এখনো তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় নাই ! হঠাৎ আমার পাশে একজন লোকের উপস্থিতি অনুভব করলাম , তাকে আমি চিনতে পারলাম না | সে আমার পাশে বসলো এবং বললো , আলোচনা শুরু করো এবং কোন ভয় করো না | এরপর আমার ভিতর অসাধারণ শক্তি সৃষ্টি হলো | এরপর দেওবন্দী মৌলবী বলতেছে, আমার মুখ থেকে এমন সব শব্দ বের হতে লাগলো, আর এমন ভাবে বের হতে লাগলো যে আমি জানতাম না যে আমি কি বলছি | ওয়ায়েজ মওলবী প্রথম দুই একটা কথার জবাব দিয়েছিলেন , কিন্তু প্রশ্ন উত্তরের সিলসিলা বেশি দুর অগ্রসর হলো না | হঠাৎ দেখা গেলো ওয়ায়েজ মৌলবী আমার পায়ের উপর মাথা রেখে কাঁদতেছিলো | আর বলতে ছিলো, আপনি এতবড় আলেম আমি জানতাম না ! আমাকে মাফ করে দিন ইত্যাদি !
এ দৃশ্য দেখে এলাকাবাসী হতবাক, তারা কি দেখতে এসেছিলো আর কি দেখছে !!
দেওবন্দী মৌলবী বলে, হঠাৎ সেই আবির্ভূত ব্যাক্তি যিনি আমাকে সাহায্য করলেন তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন | আমি উপলব্ধি করতে পারলাম না যে , তিনি কে ছিলেন এবং কিধরনের ঘটনা ঘটলো !
উক্ত ঘটনা ওই দেওবন্দী মৌলবী দেওবন্দীদের গুরু মাহমুদুল হাসানকে বলছিলো | মাহমুদুল হাসান জিজ্ঞাসা করলেন, হঠাৎ আবির্ভূত ব্যক্তির আকৃতি কিরকম ছিলো ??
মৌলবী যে বর্ননা করছিলো, মাহমুদুল হাসান বলেন,- তার বর্ননা শুনে আমার ওস্তাদ কাসেম নানুতুবীর এক একটা আকৃতি আমার সামনে ভেসে উঠছিলো | যখন সে বর্ননা শেষ করলো , মাহমুদুল হাসান বললো আরে এতো আমার ওস্তাদ কাসেম নানুতুবী যিনি তোমাকে সাহায্য করার জন্য সেখানে আবির্ভূত হয়েছিলেন !"'
{ অথচ কাশেম নানতুবী অনেক আগেই মারা গিয়েছিলো }
দলীল--
√ সাওয়ানে কাসেমী ১ম খন্ড ৩৩০,৩৩১,৩৩২ পৃষ্ঠা [ প্রকাশনা- দারুল উলুম দেওবন্দ

No comments