Header Ads

Islamic Quotes Urdu Facebook Cover. QuotesGram

কুরবানির টাকা দান করা নিয়ে নাস্তিকদের অপপ্রচারের জওয়াব বনাম কুরবানির অর্থনৈতিক গুরুত্ব

সম্পর্কিত চিত্র
নাস্তিক ইসলামবিদ্বেষিরা বলে থাকেকুরবাণীর টাকা পশুর পিছনে খরছ না করে দান করে দেওয়ার জন্য”! নাউযুবিল্লাহ। নাস্তিক-ইসলামবিদ্বেষীদের অজ্ঞতা,মুর্খতা তাদের বিবেক, আক্বলকে সংকীর্ন করে দিয়েছে।
কোরবানির উদ্দেশ্যটা বাণিজ্যিক না হলেও কর্মসংস্থান এবং গতিশীলতা তৈরির মাধ্যমে অর্থনীতির পালে সুবাতাস দিয়ে এর প্রত্যেকটি খাত বা সেক্টরকে গতিশীল করে তোলে। ঘূর্ণায়মান অর্থনীতির গতিপ্রবাহে মুদ্রা সরবরাহ, লেনদেন ও আর্থিক প্রসারই আয়।
১.বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) দেশের বিভিন্ন পশু হাটের তালিকা করে সেগুলোতে হিসাব করে  বলেছে, গেল বছর ২০১৬ সালে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ পশু প্রায় ৫০ হাজার কোটির অধিক বেচাকেনা হয়।
২. এই হাজার হাজার কোটি টাকা যাচ্ছে কোথায়? যাচ্ছে গরিবদের ঘরে। প্রায় ৯৯ শতাংশ  কোরবনির পশুই কেনা হয় গরিবের কাছ থেকে। গরিব মানুষ সারা বছর গরু লালন-পালন করে কোরবানির হাটে নিয়ে আসে। হাটে গরু বিক্রি করে ধনীদের হাতে তুলে দেয়। আর তারা ঘরে নিয়ে যায় মোটা অঙ্কের টাকা। কোরবানির পুরো টাকাটাই তাদের ঘরে যায়। একসঙ্গে এতগুলো টাকা পেয়ে তারা তাদের বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণ করে। গরিবের অর্থনৈতিক চাকা সচল হয়। তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। গ্রামগঞ্জের বাজারগুলো সচল হয়ে ওঠে।
৩. কোরবানির গোশতেরও সিংহভাগ চলে যায় গরিবের ঘরে। সারা বছর যেসব গরিব পরিবার ভালোভাবে গোশত খেতে পারে না কোরবানি তাদের তৃপ্তিভরে গোশত খাওয়ার সুযোগ করে দেয়।
৪. পশুর হাট ইজারা দিয়ে শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনেরই আয় হওয়ার কথা প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
৫.কোরবানির পশুর ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর  গোসম্পদ পালনের পরিমাণও বাড়ছে। এবার শুধু কুষ্টিয়া জেলায় ৮২ হাজার গরু পালন করা হয়েছে। খামারিরা ৪০০ কোটি টাকা আয়ের আশা করছেন গরু পালনের মাধ্যমে। (প্রথম আলো : ২৩-০৮-২০১৬)। এভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় গড়ে ওঠা খামারগুলোতে কর্মসংস্থান হচ্ছে লক্ষাধিক মানুষের। তাছাড়াও কোরবানির পশু পরিবহন, টোল, বখশিশ, বাঁশ-খুঁটির ব্যবসা, পশুর খাবারেও লেনদেন হয় কোটি কোটি টাকা। 
৬.কোরবানির চামড়ার মূল্য দরিদ্রদের অধিকার। কোরবানি হওয়া ৯০ লাখ গরুর প্রত্যেকটি চামড়ার মূল্য গড়ে ১ হাজার টাকা ধরলেও এর মূল্য হয় ৯০০ কোটি টাকা। আবার ৩৫ লাখ ছাগলের প্রত্যেকটির চামড়ার মূল্য ১০০ টাকা ধরলেও এ বাবদ হয় ৩৫ কোটি টাকা। গরু এবং ছাগলের চামড়া মিলিয়ে এই ৯৩৫ কোটি টাকা চলে যাচ্ছে সরাসরি গরিবদের হাতে।
৭.বাংলাদেশে রফতানি খাতে চামড়ার অবস্থান তৃতীয়। কোরবানির ওপর ভর করেই টিকে আছে বিপুল সম্ভাবনার এ খাতটি। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই (জুলাই-আগস্ট) বাংলাদেশ থেকে ৯ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের জুতা রফতানি করা হয়। (আলোকিত বাংলাদেশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪)।
৮.কোরবানি উপলক্ষে মশলার বাজার সগরম হয়। প্রতি বছর দেশে ২২ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ, ৫ লাখ মেট্রিক টন রসুন আর ৩ লাখ টন আদার চাহিদা থাকে। এর উল্লেখযোগ্য অংশই ব্যবহার হয় কোরবানিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে ২০১৪-১৬ অর্থবছরে ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন এলাচ, ৭ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন  দারুচিনি, ১৭০ মেট্রিক টন লবঙ্গ এবং ৩৭০ মেট্রিক টন জিরা আমদানি করা হয়েছে। কোরবানির বাজারে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হবে এসব পণ্যের। (যুগান্তর : ২১-০৮-২০১৬)।
৯. দেশে প্রতিবছর শুধু কোরবানির ঈদেই প্রায় ৪০ লাখ ছাগলের চাহিদা রয়েছে। এত সংখ্যক ছাগল পালন করতে গিয়ে সারাদেশে প্রায় ৪০ লক্ষ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়।

নাস্তিক-ইসলামবিদ্বেষিদের বিবেকে মোহর পড়ার কারণে তারা কুরবানির বিরুদ্ধাচরণ করে থাকে। যার কারণে কুরবানির যে অর্থনৈতিক অসীম গুরুত্ব রয়েছে তা তারা উপলব্ধি করতে পারেনা। তারা শুধু গরীব দুঃখীদের কথা বলে থাকে কিন্তু কুরবানী যে শুধু গরীব দুঃখীর কষ্ট লাঘব করে তা নয় , সারা দেশের অর্থনীতিকে নতুন করে চাংগা করে তা হৃদয়ঙ্গম করার শক্তি তাদের নেই। তারা কুরবানীর টাকা দান করার কথা বলে কিন্তু পূজার সময় যে কোটি কোটি টাকা পানিতে ফেলা হয় তার বিরুদ্ধে কিছু বলেনা। নাস্তিক-ইসলামবিদ্বেষির যদি এতই গাত্রদাহ হয় তাহলে তারা এদেশ ছেড়ে চলে যাক। কিন্তু মুসলিম দেশে বাস করে কুরবানির বিরুদ্ধে বলা কিছুতেই বরদাস্ত করা হবেনা।

No comments

ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য।

  ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য। ডাল খাওয়ার ফলে কলব প্রসারিত হয় এবং চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়। পূর্ববর্তী হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উ...

Powered by Blogger.