Header Ads

Islamic Quotes Urdu Facebook Cover. QuotesGram

কারবালার হৃদয় বিদারক ইতিহাস-১


মুক্বাদ্দিমাতুল কিতাব

الحمد لله رب العلمين والصلاة والسلام على سيد الانبياء والمرسلين محمد وعلى اله الطيبين وازواجه المتطهرين واصحابه المرضين وعلى اولاده الشيح المجدد الاعظم وامام الشريعة والطريقة والاولياء الكاملين. ولاتحسبن الذين قتلوا فى سبيل الله امواتا بل احياء عند ربهم يرزقون.

অর্থ: যাঁরা আল্লাহ তায়ালার রাস্তায় শহীদ হন তাঁদেরকে কখনও মৃত মনে করো না। বরং তাঁরা নিজেদের রব তায়ালার নিকট জীবিত ও রিযিকপ্রাপ্ত।’ (সূরা আলে ইমরান-১৬৯)

হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাত নিঃসন্দেহে মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে হৃদয় বিদারক ঘটনা। নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হায়াত মুবারকে ও উনার বিছাল শরীফ-এর পরে আরো অনেক মর্মবিদারক শাহাদাতের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাতের ন্যায় এত দীর্ঘস্থায়ী ও এত ব্যাপক শোক, কান্না ও আহাজারি মুসলিম জাতি আর কোন শাহাদাতের জন্য করেনি।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হায়াত মুবারকে হযরত হামযা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার শাহাদাত, উনার কলিজা চিবানো, হযরত ইয়াসার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পরিবারের মর্মান্তিক শাহাদাত, বীরে মাঊনায় ৭০ জন এবং ইয়ামামার যুদ্ধে ৩০০ জন কুরআনে হাফিযের শাহাদাত, হযরত খুবাইব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও উনার সঙ্গীদের শাহাদাত তৎকালীন মুসলিম সমাজের বুকে শেলের মত বিঁধেছিল। স্বয়ং আখিরী রসূল, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত হামযা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার শাহাদাতে নিদারুণভাবে শোকাহত হয়েছিলেন। তারপর চারজন খলীফার মধ্যে হযরত আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুসহ তিনজন খলীফাই শহীদ হয়েছেন মর্মান্তিকভাবে। জামাল (উষ্ট্রের) যুদ্ধ ও সিফ্ফীন যুদ্ধের ন্যায় দুটি গৃহযুদ্ধে বহু মূল্যবান প্রাণ, বিশেষতঃ আশারায়ে মুবাশ্শারার অন্তর্ভুক্ত কয়েকজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমও শহীদ হয়েছেন। এসব শাহাদাতে মুসলমানদের শক্তি ও প্রভাব-প্রতিপত্তির অপূরণীয় ক্ষতি হলেও শোক ও আবেগের দিক দিয়ে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাত ঐসব শাহাদাত থেকে অধিক মর্মান্তিক। এমনকি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার বড় ভাই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকেও বিষ প্রয়োগে শহীদ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই শাহাদাত নিয়েও সারা দুনিয়াব্যাপী এত দীর্ঘস্থায়ী শোক ও বিলাপ হয়নি, যেমনটি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাতে হয়েছিল এবং এখনও হচ্ছে।

মোট কথা, হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাত এমন এক অসাধারণ ও অদ্বিতীয় শাহাদাত এবং এমন এক হৃদয় বিদারক ঘটনা, আগের এবং পরের যুগে যার কোন নজীর নেই।

আহলে বাইত ও আওলাদে রসূলগণের পরিচয়
আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বমোট সন্তান ছিলেন আটজন। চার ছেলে এবং চার মেয়ে। ছেলে সন্তানগণের প্রত্যেকেই অল্প বয়সেই বিছাল শরীফ লাভ করেন। উনারা হলেন-
১. হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম
২. হযরত ত্বইয়্যিব আলাইহিস সালাম
৩. হযরত ত্বাহির আলাইহিস সালাম
৪. হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম
আর মেয়েরা হলেন-
১. হযরত যয়নাব আলাইহাস সালাম।
২. হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম
৩. হযরত উম্মু কুলছুম আলাইহাস সালাম
৪. হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম

স্মরণীয় যে, আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার বংশ জারী থাকবে আমার মেয়ে হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম-উনার মাধ্যমে। অর্থাৎ উনার দুই ছেলে হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের মাধ্যমে। উনারা উভয়েই জান্নাতের যুবকগণের সাইয়্যিদ। উনাদের বংশোভূত সন্তানগণই সাইয়্যিদ বা আওলাদে রসূল নামে পরিচিত।
আর হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম-উনার অন্যান্য সন্তানের দ্বারা যে বংশ জারী রয়েছে, উনারা ফাতিমী নামে পরিচিত। আর হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার অন্যান্য আহলিয়াগণের সন্তানদের মাধ্যমে যে বংশ জারী রয়েছে উনারা আলূবী নামে পরিচিত।

সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম
সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম চতুর্থ হিজরীর শাবান মাসের ৫ তারিখ মদীনা শরীফ-এ বিলাদত শরীফ লাভ করেন। বিলাদত শরীফ-এর পর সরকারে মদীনা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কানে আযান দিয়ে দুআ করেছিলেন। সাতদিন পর আকীকা করে উনার নাম মুবারক হুসাইনরাখা হয়েছিল।
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে-
الحسن والحسين اسمان من اهل الجنة
অর্থ: হাসান ও হুসাইন জান্নাতী নামসমূহের দুটি নাম।এর আগে আরবের জাহিলিয়াত যুগে এ দুনামের প্রচলন ছিল না।
হযরত ইমাম হাসাইন আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খুবই প্রিয় ছিলেন। আপন সন্তান থেকেও উনাদেরকে অধিক ভালবাসতেন
হযরত আল্লামা জামী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, একদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে ডানে ও স্বীয় ছাহেবজাদা হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে বামে বসিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আল্লাহ তায়ালা উনাদের দুজনকে আপনার কাছে এক সঙ্গে থাকতে দেবেন না। উনাদের মধ্যে একজনকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। অতএব আপনি উনাদের দুজনের মধ্যে এ ব্যপারে যিনাকে ইচ্ছা পছন্দ করুন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যদি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি বিদায় নেন, তাহলে উনার বিরহে হযরত ফাতিমাতুয যাররা আলাইহসা সালাম ও হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের খুবই কষ্ট হবে এবং আমার মনটাও ক্ষুণ হবে। আর যদি হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম উনি বিছাল শরীফ লাভ করেন, তাহলে সবচে দুঃখ একমাত্র আমিই পাবো। এজন্য নিজে দুঃখ পাওয়াটাই আমি পছন্দ করি। এ ঘটনার তিন দিন পর হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম বিছাল শরীফ লাভ করেন।
এরপর থেকে যখনই হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমীপে আসতেন তিনি উনাকে মুবারকবাদ দিতেন এবং উনার কপাল মুবারকে চুমু দিতেন এবং উপস্থিত লোকদেরকে সম্বোধন করে বলতেন, আমি হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য আপন সন্তান ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) উনাকে কুরবানী দিয়েছি।’(শাওয়াহিদুন্ নুবুওওয়াত)
হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন অবস্থায় বাইরে তাশরীফ আনলেন যে, উনার এক কাঁধের উপর হযরত ইমাম হাসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে এবং অন্য কাঁধের উপর হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে বসিয়ে ছিলেন। এভাবে আমাদের সামনে তাশরীফ আনলেন এবং ইরশাদ করলেন-
من احبهما فقد احبنى ومن ابغضهما فقد ابغضنى
অর্থ: যে উনাদের দুজনকে মুহব্বত করলো, সে আমাকে মুহব্বত করলো। আর যে উনাদের সাথে দুশমনী করলো, সে আমার সাথে দুশমনী করলো।
হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার বিলাদত শরীফ-এর কিছু দিন পরই উনার শাহাদাতের কথা সবার কাছে জানাজানি হয়ে গিয়েছিল। হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম, অন্যান্য ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম-উনাদের সংশ্লিষ্ট সকলেই হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শৈশবাবস্থায় জানতে পেরেছিলেন যে, উনাকে একান্ত নির্মমভাবে শহীদ করা হবে এবং কারবালার ময়দান উনার রক্তে রঞ্জিত হবে। এ ব্যাপারে অনেক হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে।
হযরত উম্মুল ফজল বিনতে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা (হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আহলিয়া) বলেন, আমি একদিন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে উপস্থিত হয়ে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালামকে উনার কোলে দিলাম। এরপর আমি দেখলাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চোখ মুবারক থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। আমি আরয করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, এর কারণ কী ? ইরশাদ করলেন, আমার কাছে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম এসে এ খবর দিয়ে গেলেন-
ان امتى ستقتل ابنى هذا
নিশ্চয়ই আমার উম্মত আমার এ শিশুকে শহীদ করবে।হযরত উম্মুল ফজল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এ শিশুকে শহীদ করবে? হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘হ্যাঁ, হযরত জিব্রীল আলাইহিস সালাম শাহাদাত স্থলের লাল মাটিও এনেছেন।
হযরত ইবনে সাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত শাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেছেন, হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জঙ্গে সিফফীনের সময় কারবালার পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দাঁড়িয়ে গেলেন এবং সেই জায়গার নাম জানতে চাইলেন। লোকেরা বললেন, এ জায়গার নাম কারবালা। কারবালার নাম শুনামাত্র তিনি এত কান্নাকাটি করলেন যে, চোখের পানিতে মাটি ভিজে গিয়েছিল। অতঃপর ফরমালেন, আমি একদিন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে হাজির হয়ে দেখতে পেলাম, তিনি কাঁদছেন। আমি আরয করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কেন কাঁদছেন? ইরশাদ করলেন, এইমাত্র হযরত জিবরীল আলাইহিস্ সালাম এসে আমাকে খবর দিয়ে গেলেন-
ان ولدى الحسين يقتل بشاطئ الفرأت بموضع يقال له كربلا
আমার ছেলে (দৌহিত্র) হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালামকে ফোরাত নদীর তীরে যে জায়গায় শহীদ করা হবে, সে জায়গার নাম কারবালা।’ (সাওয়ায়িকে মুর্হারাকাহ)
আর সত্যি সত্যিই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভবিষ্যদ্বাণী মুতাবিক হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত বরণ করেন।
কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর বর্ণনায় আহলে বাইত ও আওলাদে রসূলগণের ফযীলত
قل لا اسئلكم عليه اجرا الا المودة فى القربى
অর্থ: হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট নুবুওওয়াতের দায়িত্ব পালনের কোন প্রতিদান চাইনা। তবে আমার নিকটজন তথা আহলে বাইতগণের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।” (সূরা শূরা-২৩)
এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত তাফসীর তাফসীরে মাযহারী৮ম জিঃ ৩২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে-
لا اسئلكم اجرا الا ان تودوا اقربائى واهل بيتى وعترتى وذلك لانه صلى الله عليه وسلم كان خاتم النبين لا نبى بعده.
অর্থ: আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাইনা তবে তোমরা আমার নিকটাত্মীয়, আহ্লে বাইত ও বংশধরগণের (যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক) হক্ব আদায় করবে। কেননা, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন শেষ নবী। উনার পরে কোন নবী নেই।
আহলে বাইতের ফযীলত সম্পর্কে বহু হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। তন্মধ্যে কতিপয় হাদীছ শরীফ বর্ণনা করা হলো:
عن عائشة رضى الله تعالى عنها قالت خرج النبى صلى الله عليه وسلم غداة وعليه مرط مرحل من شعر اسود فجاء الحسن بن على فادخله ثم جاء الحسين فدخل معه ثم جاءت فاطمة فادخلها ثم جاء على فادخله ثم قال انما يريد الله ليذهب عنكم الرجس اهل البيت ويطهركم تطهيرا.
অর্থ” “হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, একদা ভোরবেলা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একখানা কাল বর্ণের পশমী নকশী কম্বল শরীর মুবারকে জড়িয়ে বের হলেন। এমন সময় হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সেখানে আসলেন, তিনি তাঁকে কম্বলের ভিতরে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। তারপর হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম আসলেন, তাঁকেও ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সহিত প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা আসলেন তাঁকেও তাতে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। তারপর হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আসলেন, তাঁকেও তার ভিতরে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন শরীফ-এর এই আয়াত শরীফখানা পড়লেন, ‘হে আমার আহলে বাইত! আল্লাহ তায়ালা আপনাদেরকে সকল প্রকার অপবিত্রতা থেকে মুক্ত রেখে পবিত্র করার মত পবিত্র করবেন।” (মুসলিম শরীফ)
عن سعد بن ابى وقاص رضى الله تعالى عنه قال لما نزلت هذه الاية فقل تعالوا ندع ابناءنا وابناءكم دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم عليا وفاطمة وحسنا وحسينا فقال اللهم هؤلاء اهل بيتى.
অর্থ: হযরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, যখন ندع ابناءنا وابناءكم الاية (আসো আমরা আহবান করি আমাদের সন্তানগণকে ও তোমাদের সন্তানগণকে) আয়াত শরীফ নাযিল হলো, তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ও হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালামকে ডাকলেন এবং বললেন, আয় আল্লাহ পাক! এরা সকলে আমার আহলে বাইত।” (মুসলিম শরীফ)
عن المسور بن مخرمة رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فاطمة بضعة منى فمن اغضبها اغضبنى.
অর্থ: হযরত মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা আমার (দেহ মুবারকেরই) একটি টুকরা। যে তাঁকে রাগান্বিত করবে, সে আমাকেই রাগান্বিত করলো। ” (বুখারী, মুসলিম)
عن زيد بن ارقم رضى الله تعالى عنه قال قام رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما فينا خطيبا بماء يدعى خما بين مكة والمدينة فحمد الله واثنى عليه ووعظ وذكر ثم قال اما بعد الا ايها الناس انما انا بشر يوشك ان ياتينى رسول ربى فاجيب وانا تارك فيكم الثقلين اولهما كتاب الله فيه الهدى والنور فخذوا بكتاب الله واستمسكوا به فحث على كتاب الله ورغب فيه ثم قال واهل بيتى اذكركم الله فى اهل بيتى اذكركم الله فى اهل بيتى.
অর্থ: হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, একবার রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ-এর মধ্যবর্তী খোমনামক পানির নালার নিকট দাঁড়িয়ে আমাদেরকে খুৎবা দান করলেন। প্রথমে আল্লাহ পাক উনার হামদ ও ছানা বর্ণনা করলেন, এরপর ওয়ায ও নছীহত করলেন, অতঃপর বললেন, সাবধান! হে লোক সকল! নিশ্চয়ই আমি একজন বাশার, অচিরেই আমার নিকট আল্লাহ পাক উনার দূত (হযরত মালাকুল মউত আলাইহিস্ সালাম) আসবে, তখন আমি আমার রব তায়ালার আহবানে সাড়া দিব। আমি তোমাদের মাঝে দুটি মূল্যবান সম্পদ রেখে যাচ্ছি। তন্মধ্যে প্রথমটি হল, আল্লাহ পাক উনার কিতাব, এর মধ্যে রয়েছে হিদায়েত ও নূর। অতএব, তোমরা আল্লাহ পাক উনার কিতাবকে খুব মজবুতভাবে আঁকড়ে ধর এবং দৃঢ়তার সাথে তার বিধি-বিধান মেনে চল। (বর্ণনাকারী বলেন,) আল্লাহ পাক উনার কিতাবের নিদের্শাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য তিনি খুব বেশী উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করলেন। অতঃপর বললেন, আর দ্বিতীয়টি হলো; আমার আহলে বাইত। আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইত সম্পর্কে আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে বিশেষ নছীহত করছি। আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইত সম্পর্কে আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে বিশেষ নছীহত করছি।” (মুসলিম শরীফ)
عن البراء رضى الله تعالى عنه قال رايت النبى صلى الله عليه وسلم والحسن بن على على عاتقه يقول اللهم انى احبه فاحبه
অর্থ: হযরত বারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি যে, তিনি হাসান ইবনে আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে নিজের কাঁধের উপর রেখে বলছেন, হে আল্লাহ পাক! আমি তাঁকে মুহব্বত করি, আপনিও তাঁকে মুহব্বত করুন।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)
عن جابر رضى الله تعالى عنه قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم فى حجته يوم عرفة وهو على ناقته القصواء يخطب فسمعته يقول يا ايها الناس انى تركت فيكم ما ان اخذتم به لن تضلوا كتاب الله وعترتى اهل بيتى.
অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি, তিনি (বিদায়) হজ্জে আরাফাতের দিন তাঁর কাসওয়ানামক উষ্ট্রীর উপর সওয়ার অবস্থায় খুৎবা দান করছেন। আমি শুনেছি, তিনি খুৎবায় বলেছেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি তাকে শক্তভাবে ধরে রাখ, তবে কখনও গোমরাহ হবেনা। তা হলো আল্লাহ পাক উনার কিতাব ও আমার ইতরত বা আহলে বাইত।” (তিরমিযী শরীফ)
عن زيد بن ارقم رضى الله تعال عنه قال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لعلى وفاطمة والحسن والحسين انا حرب لمن حاربهم وسلم لمن سالمهم.
অর্থ: হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, নিশ্চয়ই রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা, হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছেন, যারা তাঁদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করবে, আমি তাদের শত্রু। পক্ষান্তরে যে তাঁদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবো।” (তিরমিযী শরীফ)
عن ابى سعيد رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الحسن والحسين سيدا شباب اهل الجنة.
অর্থ: হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম দুজনই জান্নাতী যুবকগণের সাইয়্যিদ।” (তিরমিযী শরীফ)
عن ابن عمر رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الحسن والحسين هما ريحانى من الدنيا.
অর্থ: হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, হযরত হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাঁরা দুজনেই দুনিয়াতে আমার দুটি ফুলস্বরূপ। (তিরমিযী শরীফ)
عن يعلى بن مرة رضى الله تعلى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم حسين منى وانا من حسين احب الله من احب حسينا حسين سبط من الاسباط.
অর্থ: হযরত ইয়ালা ইবনে মুররাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, হযরত হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আমার থেকে আর আমি হযরত হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে। যে ব্যক্তি হযরত হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে মুহব্বত করবে আল্লাহ পাক তাকে মুহব্বত করবেন। হযরত হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বংশসমূহের মধ্যে একটি বংশ। (তিরমিযী শরীফ)
عن على رضى الله تعالى عنه قال الحسن اشبه رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بين الصدر الى الرأس والحسين اشبه النبيى صلى الله عليه وسلم ما كان اسفل من ذلك.
অর্থ: হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেছেন, হযরত হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হলেন (চেহারা-আকৃতি-অবয়বে) মাথা মুবারক হতে বক্ষ মুবারক পর্যন্ত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদৃশ। আর হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম হলেন বক্ষ মুবারক হতে নীচ পর্যন্ত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদৃশ। (তিরমিযী শরীফ)
عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم احبوا الله لما يغذوكم من نعمة واحبونى لحب الله واحبوا اهل بيتى لحبى.
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা আল্লাহ পাককে মুহব্বত কর। কেননা, তিনি তোমাদের প্রতি খাদ্যসামগ্রীর মাধ্যমে অনুগ্রহ করে থাকেন। আর আমাকে মুহব্বত কর আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে, যেহেতু আমি আল্লাহ পাক উনার হাবীব। আর আমার আহলে বাইতকে মুহব্বত কর আমার মুহব্বতে।” (তিরমিযী শরীফ)
عن ابى ذر رضى الله تعالى عنه انه قال وهو اخذ بباب الكعبة سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول الا ان مثل اهل بيتى فيكم مثل سفينة نوح من ركبها نجا ومن تخلف عنها هلك.
অর্থ: হযরত আবূ যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি কাবা শরীফ-এর দরজা ধরে বলেছেন, আমি নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, সাবধান! আমার আহলে বাইত হলো তোমাদের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম-এর নৌকার ন্যায়। যে তাতে আরোহন করবে, সে রক্ষা পাবে। আর যে তা হতে পশ্চাতে থাকবে সে ধ্বংস হবে। (মুসনাদে আহমদ শরীফ)
হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত রয়েছে, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে একবার হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম বসা ছিলেন এমতাবস্থায় হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে আসলেন।
হযরত দাহইয়াতুল কলবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ঈমান আনার পর হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম সাধারণত তাঁর ছূরত মুবারকে আসতেন। আর হযরত দাহইয়াতুল কলবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আদত (অভ্যাস) ছিল তিনি যখন আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে আসতেন তখন হযরত হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জন্য কিছু হাদিয়া নিয়ে আসতেন। উনাদেরকে কোলে নিতেন। যার কারণে তাঁর সাথে উনাদের আলাদা একটা মুহব্বত পয়দা হয়েছিল। উনারা দুজন উনাকে দেখলেই তাঁর কাছে চলে যেতেন। হযরত দাহইয়াতুল কলবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে খাছভাবে মুহব্বত করতেন যে কারণে উনারাও উনাকে মুহব্বত করতেন।
যখন হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আসলেন হযরত দাহইয়াতুল কলবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ছূরত মুবারকে। সাধারণত: হযরত দাহইয়াতুল কলবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আসলে হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তাঁর কাছে যেতেন। তাই হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম আসা মাত্র উনারা তাঁর কাছে যেতে চাচ্ছিলেন।
হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে জরুরী কিছু আলোচনা করছিলেন আর এ দিকে হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার কাছে যেতে চাচ্ছিলেন। আর আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে ফিরিয়ে রাখছিলেন। এমনিভাবে একবার, দুবার তিনবার হয়ে গেল। হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারছি না। হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা আমার কাছে আসতে চাচ্ছেন, আপনি উনাদেরকে ফিরিয়ে রাখছেন, ব্যাপারটি কি?
আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে ভাই হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম! আপনি তো হযরত দাহইয়াতুল কলবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ছূরত মুবারকে এসেছেন। হযরত দাহইয়াতুল কলবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার একটা আদত রয়েছে, তিনি আমার নিকট যখনই আসেন তখনই উনাদের জন্য কিছু হাদিয়া নিয়ে আসেন, উনাদেরকে কোলে নেন, মুহব্বত করেন, উনারাও তাঁর কাছে যান। আপনাকে দেখে উনারা মনে করেছেন, আপনি হয়তো হযরত দাহইয়াতুল কলবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, সেহেতু উনারা আপনার কাছে যেতে চাচ্ছেন। তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার বেয়াদবী ক্ষমা করবেন, আমাকে একটু সময় দেন, আমি এখনই আসছি। এটা বলে তিনি বের হয়ে গেলেন, কিছুক্ষণ পর আবার আসলেন এক থোকা আঙ্গুর নিয়ে, আঙ্গুরগুলো পেশ করলেন, হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার খিদমতে। উনারা সেটা গ্রহণ করলেন। আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম! আপনি এগুলো এতো তাড়াতাড়ি কোথা থেকে আনলেন? তিনি বললেন, আল্লাহ পাক উনাদের জন্য যে জান্নাত নির্ধারণ করে রেখেছেন সে জান্নাত থেকে এ আঙ্গুর ফলগুলো আমি এনেছি। সুবহানাল্লাহ।
আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম! আপনার হয়তো কষ্ট হয়েছে, আপনি কিছু মনে করবেন না। তখন হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম বললেন, আপনি বলেন কি, আমি কেন কিছু মনে করবো, আমরা ফেরেশ্তারা তো উনাদের খাদিম।
কেননা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনারা যখন ঘুমিয়ে থাকেন, আর হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের যখন ঘুম আসেনা গরমের কারণে, তখন আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে আমরা ফেরেশতারা উনাদেরকে বাতাস করে থাকি ঘুমানোর জন্য।( সুবহানাল্লাহ) কাজেই, আমরা কেন কিছু মনে করবো।
সুতরাং, ফেরেশতা, জিন-ইনসান, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, তরু-লতা, জামাদাত-শাজারাত, হাজারাত যা কিছু রয়েছে সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে, ‘আহলে বাইতগণকে মুহব্বত করা। আহলে বাইতগণকে মুহব্বত করা সকলেরই নাযাতের কারণ। সেজন্য ফেরেশতারা মুহব্বত করেছেন, তাযীম-তাকরীম করেছেন, ইজ্জত-সম্মান করেছেন। সেটা জিন-ইনসানের উপরও ফরয করা হয়েছে। এখন যে যতটুকু মুহব্বত করবে, সে ততটুকু মর্যাদা লাভ করবে। আরো বর্ণিত রয়েছে, হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার প্রস্তাবিত বিষয়ে প্রায় ২২ খানা আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে। সেই হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ছাওয়ানেহ উমরীতে বর্ণিত রয়েছে, যখন আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় নেন তখন হযরত হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বয়স মুবারক ছিল সাড়ে সাত বছর আর হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিল সাড়ে ছয় বছর। দুজনের মধ্যে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম ছিলেন জালালী তবিয়ত। আর হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ারা আনহু ছিলেন জামালী তবিয়ত।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যিনি ছিলেন বিশিষ্ট ছাহাবী। কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, যাঁরা সুন্নতের ইত্তিবা করতেন, সুন্নতের ইত্তিবার মধ্যে যাঁরা মশহুর রয়েছেন, বেমেছাল রয়েছেন তাঁদের মধ্যে একজন হচ্ছেন হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। যার জন্য হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার শাহাদত বরণ করার সময় অনেক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম প্রস্তাব দিয়েছিলেন, হে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মুমিনীন! আপনি আপনার পরবর্তী খলীফা হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তয়ালা আনহুকে মনোনীত করুন, তাঁর যে যোগ্যতা রয়েছে, আমল-আখলাক্ব রয়েছে তা বেমেছাল।
কিন্তু হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যেহেতু ইলহাম-ইলক্বার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আর আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আগেই ফায়ছালা করেছেন, সে ফায়ছালা অনুযায়ী তিনি রায় দিয়েছেন হযরত উছমান যুন নুরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সম্পর্কে। সেই হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে চলাচল করতেন, উঠাবসা করতেন। কোন এক প্রসঙ্গে কোন এক কারণে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে বলেছিলেন গোলামের ছেলে গোলামএটা শুনে হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কিছুটা অপ্রস্তুত হলেন। তিনি বিষয়টা খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মুমিনীন যিনি উনার পিতা উনার কাছে জানালেন যে, হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম আমাকে গোলামের ছেলে গোলামবলেছেন। এখন এটার একটা ফায়ছালা করার প্রয়োজন রয়েছে। হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, বেশ, ভালো কথা। তিনি বলেছেন, তুমি ফায়ছালা চাচ্ছ, তাহলে মুখের কথায় তো হবেনা। এটা লিখিত আনতে হবে। কাগজে-কলমে থাকতে হবে।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট গিয়ে বললেন, হে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম! আপনি যে আমাকে বলেছেন, ‘গোলামের ছেলে গোলামএটা লিখিত দিতে হবে। আমি খলীফার কাছে ব্যাপারটা পেশ করেছি। তিনি বললেন ঠিক আছে, অসুবিধা নেই, আমি তো বলেছি, আমি লিখিত দিব, তিনি সত্যিই একটা কাগজে লিখে দিলেন, ‘গোলামের ছেলে গোলামসেটা নিয়ে পেশ করা হলো, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মুমিনীন, হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে। তিনি বললেন, ঠিক আছে, এটার যখন ফায়ছালা চাওয়া হয়েছে, আমি এটার ফায়ছালা করবো, তবে কবে করা হবে, কোথায় করা হবে, নির্দিষ্ট দিন, তারিখ, সময় ঘোষণা করা হলো। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ সকলেই চিন্তিত হলেন ব্যাপারটি নিয়ে। চিন্তিত হলেন যে, হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জালালী তবিয়তের, তিনি ইনছাফগার হিসেবে মশহুর, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবী, নবীদের পরে তিনি দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব।
একদিকে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম, আরেকদিকে হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। সকলেই চিন্তিত হলেন, বিষয়টি কি ফায়ছালা করা হবে? হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইনছাফ করে থাকেন, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিচার করে থাকেন। তিনি কি বিচার করবেন? নিদিষ্ট স্থান, সময়, তারিখ সব ঘোষণা করা হলো, হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ লোক সেখানে জমা হয়ে গেলেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম, হযরত তাবিয়ীনে কিরাম যাঁরা ছিলেন সকলেই সেখানে জমা হয়ে গেলেন যে, কি ফায়ছালা করা হয় সেটা জানতে হবে। এর কি ফয়ছালা রয়েছে?
এদিকে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি উপস্থিত হলেন। তিনি যখন উপস্থিত হলেন, হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাঁকে তাযীম-তাকরীম করে একটা সম্মানিত স্থানে বসালেন। আর হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন আসলেন উনাকেও বসতে বললেন। লোকজন সকলেই উপস্থিত। বিচারের নিদিষ্ট সময় যখন উপস্থিত হলো, তিনি তাঁর পকেট থেকে কাগজটা বের করে বললেন, দেখুন একটা কাগজ আমার কাছে পেঁৗঁছানো হয়েছে, এ কাগজের মধ্যে লিখিত রয়েছে গোলামের ছেলে গোলাম’, কাগজটা দিয়েছেন আমার ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তাঁর বক্তব্য হচ্ছে যে, হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি তাঁকে বলেছেন গোলামের ছেলে গোলাম
এ বিষয়ে ফায়ছালার জন্য এ কাগজটা আমার নিকট পেশ করা হয়েছে। তখন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, এটা কি আপনি লিখেছেন?
তিনি বললেন যে, হ্যাঁ। এটা আমার লিখিত, আমি বলেছি এবং লিখেছি। যখন জিজ্ঞাসা করা হলো, জবাব নেয়া হলো, বিষয়টা, সবাইকে জানানো হলো যে, হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন এবং লিখেছেন। এটা লোকজন শুনলেন। তখন হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন যে, এটা এখন ফায়ছালা করা হবে। কি ফায়ছালা করা হবে? সকলেই তো স্তব্ধ হয়ে গেলেন, মনে হয়েছে যেন বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, সকলেই একদৃষ্টিতে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার দিকে চেয়ে রয়েছেন। যে, এটা তিনি কি ফায়ছালা করেন, এটার কি ফায়ছালা রয়েছে?
হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ঘোষণা করলেন যে, এর ফায়ছালা হচ্ছে- এই যে কাগজটা, এতে লিখিত রয়েছে, ‘গোলামের ছেলে গোলাম।অর্থাৎ আহলে বাইতের যিনি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি আমার ছেলেকে বলেছেন, ‘গোলামের ছেলে গোলামএর অর্থ হচ্ছে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মুমিনীন তিনি হচ্ছেন গোলাম। আর উনার ছেলে হচ্ছেন গোলামের ছেলে গোলামএর ফায়ছালা হচ্ছে, আপনারা সকলেই সাক্ষী থাকুন, আমি আমার যিন্দেগীর অনেক সময় ব্যয় করেছি, অতিবাহিত করেছি, পূর্ববর্তী যিন্দেগী ত্যাগ করেছি, কুফরী যিন্দেগী বাদ দিয়েছি, আমার অতীতের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি যা ছিল সেটা আমি ত্যাগ করেছি, একাধিক স্ত্রী ছিল তাদেরকেও ত্যাগ করেছি আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টির জন্য। ত্যাগ করে আল্লাহ পাক উনার হাবীব-এর উম্মত হয়েছি, আমি ঈমান এনেছি, মুসলমান হয়েছি। আমার চাওয়া এবং পাওয়ার বিষয় এটাই ছিল যে, আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি এবং আল্লাহ পাক উনার হাবীব-এর সন্তুষ্টি। আল্লাহ পাক যতটুকু দিয়েছেন ততটুকু পাওয়া হয়েছে। তবে আমার একটা লিখিত দলীল প্রয়োজন ছিল, যে লিখিত দলীলের আমি প্রত্যাশা করেছিলাম, আজকে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম এটা লিখিত দিয়েছেন। এখন থেকে আমি নিশ্চিত হয়ে গেলাম আমি উনাদের গোলাম।
আমি ইন্তিকাল করলে এই কাগজখানা আমার কাফনের ভিতরে, আমার সিনার মধ্যে রেখে দিতে হবে। এটা আমার ওছীয়ত। আমি ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ পাক এবং আল্লাহ পাক উনার হাবীব-এর কাছে আরজু করবো, দাবী করবো যে, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার যিনি লখতে যিগার, যিনি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে লিখিত দিয়েছেন যে, ‘আমি গোলামকাজেই, আমার আমল যা কিছু রয়েছে কমপক্ষে এই দলীলের খাতিরে আমাকে গোলাম হিসেবে কবুল করা হোক। সুবহানাল্লাহ।

তিনি যখন এটা ফায়ছালা করলেন, সমস্ত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং তাবিয়ীনে কিরাম যারা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা লা জাওয়াব হয়ে গেলেন। যারা ছাহাবায়ে কিরাম তাঁরা আহলে বাইতকে কতটুক মুহব্বত করেছেন, তাযীম-তাকরীম করেছেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

কুরআন ও সুন্নাহ্র উপরোক্ত বর্ণনা থেকে আহলে বাইত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ যে সীমাহীন ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা, বুযূর্গী ও সম্মানের অধিকারী তা সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সাথে সাথে এটাও ফুটে উঠেছে যে, আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি-এর সন্তুষ্টি ও রেযামন্দি হাছিল করতে হলে প্রত্যেক উম্মতের জন্য দায়িত্ব হচ্ছে আহলে বাইতগণের প্রতি হুসনে জন তথা সুধারণা পোষণ করা, উনাদেরকে মুহব্বত করা এবং উনাদেরকে তাযীম-তাকরীম বা সম্মান-ইজ্জত করা ।
সুত্রঃ আত তারীখু ফাযিয়ুল ক্বালবি মিন কারবালা/কারবালার হৃদয় বিদারক ইতিহাস।

No comments

ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য।

  ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য। ডাল খাওয়ার ফলে কলব প্রসারিত হয় এবং চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়। পূর্ববর্তী হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উ...

Powered by Blogger.