Header Ads

Islamic Quotes Urdu Facebook Cover. QuotesGram

সাইয়্যিদুল আম্বিয়া, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারত জাগ্রত অবস্থায়



انا ارسلنك شاهدا ومبشرا ونذيرا.
অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে পাঠিয়েছি।” (সূরা ফাত্হ/৮)           আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন হায়াতুন্ নবী। তাঁর হায়াত মুবারকে মানুষ তাঁর জিয়ারত এবং ছোহবত লাভ করে যেমন অশেষ মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন, ঠিক দুনিয়ার যমিন থেকে বেছাল প্রাপ্তির পরও জাগ্রত এবং ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর জিয়ারত লাভ করে মানুষ অশেষ নিয়ামত, রহমত, বরকত, ছাকীনা ও সীমাহীন কল্যান লাভে ধন্য হয়ে থাকেন। এধরণের অসংখ্য ঘটনা কিতাবে বর্ণিত রয়েছে। নিম্নে এ ধরণের কতিপয় ঘটনা উল্লেখ করা হল।
শেখ আবূ সাঈদ কালবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন যে, “হযরত আব্দুল ক্বাদির জ্বিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহিসহ আমি কয়েকবার নবীয়ে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জিয়ারত লাভে ধন্য হয়েছি। অন্যান্য নবীগণের জিয়ারতও পেয়েছি। আর এ জিয়ারত ছিলো জাগ্রত অবস্থায়।”

এক ব্যক্তি এক জঙ্গলে একাকী ভ্রমণ করছিল। সে যে জন্তুটির উপর আরোহণ করেছিলো তার পা ভেঙ্গে গেলো। ঐ বিপদের মুহূর্তে সে দরূদ শরীফ পাঠ করতে লাগলো। একটু পরে সে তিনজন বুযূর্গ লোককে আগমন করতে দেখলো। একজন একটু দূরে দাঁড়িয়ে রইলেন আর দু’জন কাছে আসলেন এবং ঐ জন্তুটির পা ঠিক করে দিলেন। তখন ঐ ব্যক্তিটি জিজ্ঞেস করলেন, “জনাব আপনাদের পরিচয় জানতে পারি কি?” তখন তাঁরা বললেন, “আমরা হযরত হাসান ও হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা। এবং যিনি দাঁড়িয়ে আছেন তিনি আমাদের প্রাণপ্রিয় নানাজান দো’জাহানের বাদশাহ্, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” তখন সে ব্যক্তি ফরিয়াদ করলো, “ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে আপনার কদমবুছি থেকে কেন মাহরূম করছেন?” তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার মুখ হতে হুক্কার গন্ধ আসছে।”      

ইমাম আবু ওহাব সারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি ষোলশ খীষ্ট্রাব্দের শুরুতে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি ছিলেন সে যুগের বিশিষ্ট বুযূর্গ এবং বিখ্যাত আলিম। তিনি জাগ্রত অবস্থায় তাঁর আটজন সাথীসহ হযরত রসূলে করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সম্মুখে বুখারী শরীফ পাঠ করার সৌভাগ্য লাভে ধন্য হয়েছেন।         
হযরত ইমাম দুসুকী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি ছিলেন তৎকালীন সময়কার বিখ্যাত আলিম, সূফী এবং বুযূর্গ। ৪৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তিকাল করেন। তিনি জীব-জন্তু এবং পাখিদের ভাষা জানতেন। তাঁর অনেক কারামত ছিলো। তিনি জাগ্রত অবস্থায় রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জিয়ারত লাভে ধন্য হয়েছেন।    
শেখ আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবী জায়রা রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন ইমাম আহ্মদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর জামানার বিশিষ্ট বুযূর্গ। তিনি জাগ্রত অবস্থায় আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লৗাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জিয়ারত লাভে ধন্য হয়েছেন।   
কাজী শরফুদ্দীন আল বাজরী রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন যে, শেখ আব্দুল্লাহ্ ইবনে মূসা ইবনে নোমান রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন যে, “আমি ৬৩৭ হিজরীতে হাজীদের কাফেলায় ছিলাম। আমি উট থেকে নিচে অবতরণ করে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম এবং নিদ্রিত হলাম। জাগ্রত হয়ে দেখি কাফেলা সেখান থেকে চলে গেছে। একা থাকার কারণে আমার ভয় এবং পিপাসা পেয়ে বসলো। এমন অসহায় অবস্থায় আমি কাঁদতে লাগলাম। যে অবস্থায় বেঁচে থাকার আর কোন আশা রইলো না। মৃত্যু যেন আমার সম্মুখে হাযির হয়ে গেছে। তারপর আমি আল্লাহ্ পাক-এর দরবারে ক্রন্দনরত অবস্থায় এই বলে দোয়া করলাম, “হে পরওয়ার দিগারে আলম! আপনার প্রিয় হাবীব আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উছীলায় আমার প্রতি দয়া করুন এবং গায়েব থেকে আমার জন্য সাহায্য প্রেরণ করুন। এগুলো উচ্চারণ করার পরই পরম করুণাময় আল্লাহ্ পাক অসীম করুণা করে, মেহেরবাণী করে আমার জন্যে সাহায্য প্রেরণ করলেন। আমি তখন একটি শব্দ শ্রবণ করলাম। সঙ্গে সঙ্গে কোন বুযূর্গ আমার হাত ধরে ফেলেন। পরক্ষণেই আমার ভয় দূর হয়ে গেল  এবং পিপাসাও চলে গেল। ঐ ব্যক্তি আমাকে নিয়ে সামনে অগ্রসর হলেন এবং ক্ষণিকের মধ্যে আমাকে আমার কাফেলার উটের সামনে হাযির করলেন। তখন আমি এত খুশী হলাম যে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এরপর তিনি আমাকে উটের উপর আরোহন করিয়ে এ কথা বলে বিদায় হলেন- “যে ব্যক্তি আমার উছীলায় সাহায্য প্রার্থনা করে আল্লাহ্ পাক তাকে মাহরূম করেন না।” তখন তিনি প্রত্যাবর্তন করছিলেন। তাঁর নূরের কারণে অন্ধকার রাত আলোয় ঝলমল করছিলো। আমি এজন্য দুঃখিত হলাম এবং আক্ষেপ করলাম, হায়! কেন আমি তাঁর সম্মানিত কদম মুবারকে আমার এই অভাগা মুখের ঠোট দিয়ে চুমু খেলাম না! আমার মন আরও ব্যাকুল হয়ে গেল। এ যে আর এক বেদনা। এ বেদনা যে ভুলবার মত নয়। মূলতঃ তিনি ছিলেন আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।    

ইমাম আহমদ আবুল আব্বাস মারাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, বিগত চল্লিশ বছর যাবত কখনও আমি হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবার শরীফ থেকে আলাদা ছিলামনা। যদি ক্ষণিকের জন্য আমি আঁড়ালে চলে যাই এবং তাঁর দীদার নছিব না হয় তবে আমি নিজেকে মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত মনে করিনা।”  (হাক্বীক্বতে মুহম্মদী মীলাদে আহমদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
____________________________________________________________________________________
১লা মাহে মুহররম শরীফ, ১৪৩ হিজরী
২৩ রবি’, ১৩৮৫ শামসি
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ঈসায়ী
ইয়াওমুল জুমুয়া (শুক্রবার)

No comments

ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য।

  ডাল একটি বরকতময় পবিত্র খাদ্য। ডাল খাওয়ার ফলে কলব প্রসারিত হয় এবং চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়। পূর্ববর্তী হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উ...

Powered by Blogger.