প্রাণীর ছবির ক্ষেত্রে শরয়ী ফায়সালা --> পর্ব-১১ (সি.সি টিভি বা ক্লোজ সার্কিট টিভির শরয়ী ফায়সালাঃ নিরাপত্তার অজুহাতে সি.সি. টিভি লাগানো শরীয়তে জায়িয কি?)
পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর
মূর্তি তৈরী করা, কারানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ
ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে শরয়ী ফায়সালাঃ
►✒ সি.সি টিভি বা ক্লোজ সার্কিট টিভির শরয়ী ফায়সালাঃ
↓
শরীয়তের দৃষ্টিতে সি.সি. টিভি বা ক্লোজ সার্কিট টিভিও টেলিভিশনের ন্যায় সম্পূর্ণ হারাম| কারণ টেলিভিশনে প্রদর্শিত দৃশ্যাবলী যেরূপ ছবির অন্তর্ভূক্ত, তদ্রুপ সি.সি. টিভি বা ক্লোজ সার্কিট টিভিতে প্রদর্শিত দৃশ্যাবলীও ছবির অন্তর্ভূক্ত| সি.সি. টিভি বা ক্লোজ সার্কিট টিভির মাধ্যমে ধারণকৃত বা প্রদর্শিত দৃশ্যাবলী যে ছবি নিম্নোক্ত বর্ণনা দ্বারা তা সস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়|
T.V / Closed Circuit T.V / Video Cassette Recorder / Video Cassette player ইত্যাদির কার্যাবলীকে তিনভাগে ভাগ করা যায়| যথাঃ-
(১) Transmission বা প্রেরন,
(২) Medium বা মাধ্যম,
(৩) Reception বা গ্রহন|
T.V এবং V.C.R বা V.C.P এর ক্ষেত্রে প্রথমে কোন বস্তুর ছবি তুলে সেই ছবির বিভিন্ন অংশের, আর Closed circuit T.V এর ক্ষেত্রে কোন বস্তুর সরাসরি বিভিন্ন অংশের প্রতিফলিত ফোটনের Frequency অনুযায়ী এক ধরনের Electrical Signal তৈরী হয়| সেই Signal কে আরও Processing এরপর Transmit করা হয়| T.V. এর ক্ষেত্রে Transmit করা হয় বাতাসে| আর V.C.R এবং Closed Circuit T.V এর ক্ষেত্রে তারের মধ্যে| মাধ্যম বাতাসই হোক আর তারই হোক সেটা Receiver (অর্থাৎ T.V.) এ যখন আসে তখন সেটা Receive করার পর কিছু Processing করা হয়, এই Signal গুলো T.V. তে অবস্থিত একটি Electronic Gun কে নিয়ন্ত্রন করে| ফলে এই Gun টি T.V. এর পর্দার যে অংশে যতটুকু Electron ছাড়লে হুবহু Transmit করা ছবির মত হবে সে অংশে ততটুকু ইলেকট্রন ছাড়ে| এই Electron গুলো রাসায়নিক প্রলেপ পতিত হয়ে উজ্জল ও অনুজ্জল বিন্দুর সমন্বয়ে ছবি তৈরী করে| এই ছবি T.V. এর পর্দায় দেখা যায়| অর্থাৎ T.V. / V.C.R. / V.C.P. / Closed Circuit T.V সবক্ষেত্রেই পর্দায় যা আসছে সেটা সুস্পষ্ট এবং বিশেষভাবে অঙ্কিত ছবি|
উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, সি.সি. টিভি বা ক্লোজ সার্কিট টিভির প্রদর্শিত ও ধারণকৃত প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা, রাখা, ইত্যাদি সবই হারাম ও নাজায়িয|
√ এ সম্পর্কে মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ ২০১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
عن ابى معاوية رضى الله تعالى عنه ان من اشد اهل النار يوم القيمة عذابا المصورون.
অর্থঃ- হযরত আবূ মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত, “নিশ্চয় ক্বিয়ামতের দিন দোযখবাসীদের মধ্যে ঐ ব্যক্তির কঠিন আজাব হবে, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি আঁকে বা তোলে|”
√ মিশকাত শরীফ এর ৩৮৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
عن عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول اشد الناس عذابا عند الله المصورون.
অর্থঃ- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি- তিনি বলেছেন, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ঐ ব্যক্তিকে কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে|
√ উমদাতুল ক্বারী, ফতওয়ায়ে ছিদ্দীকিয়া ৩৭৮ পৃষ্ঠা, আজ জাওয়াজির ২য় জিঃ, ৩৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
‘তাওজীহ্’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা নিষেধ, বরং কঠোর নিষিদ্ধ কাজ (অর্থাৎ) এটা কবীরাহ্ গুনাহ্| চাই ওটাকে যত্ন বা সম্মান প্রদর্শন করুক কিংবা অন্য যে কোন উদ্দেশ্যেই বানায়ে থাকুক| এরূপ কাজে আল্লাহর সৃষ্টির অনুকরণ করা হয়| ওটা বস্ত্রে, বিছানায়, মোহরে, মুদ্রায়, পয়সায়, পাত্রে কিংবা প্রাচীন গাত্রে যে কোন স্থানে আঁকা বা নির্মাণ করা হারাম|”
√ শরহে মুসলিম, নববী ও ফতওয়ায়ে ছিদ্দিক্বিয়াহ্ কিতাবের ৩৭৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
“উক্ত হাদীছসমূহে প্রাণীর ছবি তৈরী করা বা মূর্তি নির্মাণ করা হারাম হওয়া সম্বন্ধে প্রকাশ্যেই বলা হয়েছে| এটা তৈরী বা নির্মাণ করা জঘন্যতম পাপের কাজ ও হারামও বটে| উক্ত কিতাবে আরও আছে, যদি কেউ মূর্তি বা প্রাণীর ছবি পূজা বা সৃষ্টির অনুকরণের জন্য নাও বানায়ে থাকে তবুও সে ফাসেক হবে এবং কবীরাহ্ গুনাহে গুনাহগার হবে|”
√ ফখরুল মুহাদ্দিছীন, আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত ব্যাখ্যা গ্রন্থ বুখারী শরীফের শরাহ্ “উমদাতুল ক্বারী”-এর ২২ খণ্ড ৭০ পৃষ্ঠায় লিখেন-
“প্রাণীর ছবি তৈরী করা শক্ত হারাম ও কবীরা গুনাহ| সম্মানের জন্য তৈরী করুক অথবা অন্য কারণে, সবটার একই হুকুম| অর্থাৎ প্রত্যেক অবস্থাতেই তা হারাম| কেননা, ছবি ও মূর্তি তৈরীর মধ্যে স্রষ্টার সাদৃশ্যতা রয়েছে|”
√ রঈসুল মুহাদ্দিছীন, আল্লামা ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ “শরহে নববী” ৭ম জিঃ ৮১ পৃষ্ঠায় লিখেন-
“প্রাণীর ছবি তৈরী করা শক্ত হারাম ও কবীরা গুনাহের অন্তর্ভূক্ত| কেননা হাদীছ শরীফ সমূহে এ ব্যাপারে কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে| প্রাণীর ছবি সম্মানের জন্য তৈরী করুক অথবা অন্য কোন উদ্দেশ্যে তার একই হুকুম| অর্থাৎ সর্বাবস্তায়ই প্রাণীর ছবি উঠানো হারাম| কেননা এতে স্রষ্টার সাদৃশ্যতা প্রকাশ পায়|”
√ উক্ত কিতাবের উক্ত খন্ডের ৮৪ পৃষ্ঠায় এ সম্পর্কে আরো উল্লেখ আছে যে-
“উলামা-ই-কিরামগণ বলেন, যে ঘরে প্রাণীর ছবি রয়েছে সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ না করার কারণ হলো ছবি তৈরী করা গুনাহ ও ফাহেশা কাজ এবং এতে স্রষ্টার সাদৃশ্যতা রয়েছে……….|”
সুতরাং শরীয়তে যেহেতু ছবি তোলা আঁকা, রাখা সম্পূর্ণই হারাম সেহেতু সি.সি. টিভি বা ক্লোজ সার্কিট টিভি ব্যবহার করাও শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম| এটা ইসলামী শরীয়তের ছহীহ ও গ্রহণযোগ্য ফতওয়া|
►✒ নিরাপত্তার অজুহাতে সি.সি. টিভি লাগানো শরীয়তে জায়িয কি?
↓
কেউ কেউ সি.সি টিভি বা ক্লোজ সার্কিট টিভিকে জায়িয করতে গিয়ে বলে থাকে যে সি.সি. টিভিতে ফায়দা রয়েছে| কারণ সি.সি টিভি মানুষের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে থাকে| নাউযুবিল্লাহ্|
► তাদের উক্ত বক্তব্যের জবাবে প্রথমতঃ বলতে হয় যে, কোন কিছুর মধ্যে ফায়দা থাকলেই যে তা শরীয়তে গ্রহণযোগ্য ও বৈধ হবে তা নয়| বরং শরীয়তের ফায়ছালা হলো যা হারাম তার মধ্যে বাহ্যিক দৃষ্টিতে যতই ফায়দা থাকুক না কেন তা সুস্পষ্ট হারাম| মহান আল্লাহ্ পাক নিজেই কালামুল্লাহ্ শরীফ উনার মধ্যে ফায়সালা দিয়েছেন| মহান আল্লাহ্ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,
“হে হাবীব! আপনাকে প্রশ্ন করা হয়, মদ ও জুয়া সম্পর্কে| আপনি বলে দিন, এ দু’টির মধ্যে রয়েছে কবীরাহ গুনাহ| এবং মানুষের জন্য ফায়দাও রয়েছে| তবে ফায়দার চেয়ে গুনাহই বড়|
√ দলীল- সূরা বাক্বারা/২১৯
এখানে লক্ষ্যণীয় যে, মহান আল্লাহ্ পাক নিজেই স্বীকার করেছেন যে, মদ ও জুয়ার মধ্যে দুনিয়াবী ফায়দা রয়েছে| মদ পান করলে স্বাস্থ্য ভাল হয়, জুয়া খেললে রাতারাতি অনেক টাকা পাওয়া যায়| তথাপি এগুলোর মধ্যে ফায়দার চেয়ে গুণাহ বেশী বলে এগুলোকে হারাম করা হয়েছে| সুতরাং মদ ও জুয়ার মধ্যে উপকারিতা থাকা সত্বেও এগুলো গ্রহণযোগ্য নয়, এগুলো হারাম|
মদ ও জুয়ার মধ্যে উপকারিতার জন্য কেউ যদি এটাকে জায়িয মনে করে, তবে সে কুফরী করলো| তদ্রুপ ছবির মাধ্যমে নিরাপত্তার বিষয়কে কেউ যদি জায়িয মনে করে তবে সেও কুফরী করলো|
সুতরাং ক্লোজ সার্কিট টিভির মধ্যে যতই ফায়দা থাকুক না কেন, যেহেতু তার মূলই হলো ছবি যা স্পষ্টতই হারাম ও নাজায়িয| তাই সমস্ত মুসলমানদের জন্য ক্লোজ সার্কিট টিভিও হারাম ও নাজায়িয|
► দ্বিতীয়তঃ বলতে হয় যে, সি.সি টিভি নিরাপত্তা দান করে একথা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত| কারণ কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বস্তু কাউকে নিরাপত্তা দিতে পারেনা বা হিফাজতও করতে পারে না| বরং নিরাপত্তা দেয়ার ও হিফাযত করার মালিক হচ্ছেন মহান আল্লাহ্ পাক| এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,
فالله خىر حافظا وهو ار حو الر احمىن
অর্থাৎ, “মহান আল্লাহ্ পাকই হচ্ছেন উত্তম হিফাযতকারী| নিরাপত্তা দানকারী এবং দয়ালু ও করুনাময়|”
যেমন- মহান আল্লাহ্ পাক পবিত্র মক্কা শরীফকে ধ্বংস করতে আসা হস্তিবাহিনীকে সমূলে ধ্বংস করে দিয়ে উনার ঘর কা’বা শরীফকে হিফাযত করেছেন| অনুরূপ বাদশা নূরুদ্দীনের সময় শিয়ারা যখন নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জিসম মুবারক চুরি করতে আসে, তখন মহান আল্লাহ্ পাক উনিই তাদেরকে কুদরতীভাবে ধরিয়ে পবিত্র জিসম মুবারক হিফাযত করেন|
পক্ষান্তরে সি.সি টিভির নিরাপত্তা দান করার বা হিফাযত করার কোনই ক্ষমতা নেই| কারণ একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরিত হলে এরূপ হাজার হাজার সি.সি টিভি নিমিষেউ উড়ে যাবে| এমনটি নয় যে, সি.সি টিভি বোমা বিস্ফোরণ ঠেকাতে পারবে| তাহলে সি.সি টিভি যে নিজেই নিজের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সে অন্যের নিরাপত্তা দিবে কিভাবে?
কাজেই, সি.সি টিভি হিফাযত করে বা নিরাপত্তা প্রদান করে একথা বলে তারা সাধারণ মুসলামনদের আক্বীদাকে বিনষ্ট করছে| অর্থাৎ মহান আল্লাহ্ পাক উনিই যে প্রকৃত হিফাযতকারী বা নিরাপত্তা প্রদানকারী এ আক্বীদা-বিশ্বাস থেকে মানুষকে সুকৌশলে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে|
► তৃতীয়তঃ বলতে হয় যে, হাক্বীক্বতেও সি.সি টিভি কোন প্রকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং কোন প্রকার নিরাপত্তাও দিতে পারে না| নিম্নোক্ত তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা থেকে তা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয়|
“বর্তমানে অনেক মানুষ মনে করে সিসিটিভি একটি শক্তিশালী অপরাধ নিয়ন্ত্রক| কিন্তু সিসিটিভির উপর অনেক গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে যে, অপরাধের মাত্রা কমানোর ক্ষেত্রে এর কোন প্রভাব নেই| উদাহরণতঃ ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার অপরাধ দমন বিভাগ এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, অপরাধ দমনের অস্ত্র হিসেবে সিসিটিভি কোন গুরুত্ব বহন করে না| আরো দেখা গেছে যে, যেখানে সিসিটিভি রয়েছে সেই জায়গা থেকে যেখানে সিসিটিভি নেই সেখানে অপরাধের মাত্রা কম| আবার যেখানে সিসিটিভি নেই সেখানে সিসিটিভি স্থাপন করার পর অপরাধের মাত্রা আরও বেড়ে যায়| এটা সুস্পষ্ট যে, সিসিটিভি ক্যামেরা কখনই অপরাধ প্রতিরোধ করতে পারে না|
শুধু তাই নয়, “সিসিটিভি ক্যামেরা বোমার বিষ্ফোরণ প্রতিরোধেও অক্ষম| বরং সমস্ত ক্যামেরাগুলিই বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায়| সিসিটিভিগুলির নিজেরই যেখানে কোন নিরাপত্তা নেই সেখানে কি করে মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারে?
সম্প্রতি ‘প্রাইভেসী ইন্টারন্যাশনাল ওয়েব সাইট’ (www.privacyinternationl.org) এর মাধ্যমে পাওয়া ৩টি সন্ত্রাস সম্পর্কিত রিপোর্টে সিসিটিভির কার্য্যকারীতা নিয়ে প্রচলিত চিন্তাধারার সমালোচনা করা হয়েছে| ‘দি স্কটিশ সেন্টার ফর ক্রিমিনোলজি’-র পরিচালক যুক্তি দিয়ে বলে যে, সিসিটিভির মাধ্যমে অপরাধ দমনের দাবি ফ্যান্টাসি ছাড়া আর কিছুই নয়| অদক্ষ এবং স্বপ্রণোদিত আইনজীবি দ্বারা স্ট্রেথক্লাইড ইউনিভার্সিটি ‘দি ব্রিটিশ জার্নাল অব ক্রিমিনোলজি’ হেডিংএ এক পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে| যাতে বলা হয়েছে, সিসিটিভি খুব সামান্যই অপরাধকে দমন করতে পারে| এখানে প্রমাণ করা হয়েছে যে, রাস্তার বাতির আলো সিসিটিভি থেকেও অনেক বেশী অপরাধের মাত্রা কমিয়ে দেয়|
২০০৫ সালের জুলাই মাসে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জন স্টেনহোপ বলেছিলেন, “শহরে আরও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের চেয়ে আরও পুলিশ নিয়োগ দেয়া আমি বেশী পছন্দ করি|”
২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব ক্রিমিনোলজির রিপোর্টে বলা হয়, সিসিটিভি পদ্ধতি স্থাপন করা, নিয়ন্ত্রণ করা ও তা পরিচালনা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল|
সিসিটিভি স্থাপনের খরচ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে কিন্তু পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা আরও বেশি ব্যয়বহুল| একটি সমীক্ষায় দেখা দেখে যে, ক্যামেরা স্থাপনের সার্বিক খরচের শতকরা ৭০ ভাগ খরচ হয় পর্যবেক্ষণকারী ব্যক্তিদের জন্য| ২০০৪ সালে হজ্জের সময় হজ্জের প্রশাসনিক সুবিধাদি বৃদ্ধি করতে গিয়ে মোট খরচ হয়েছিলো ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার| এর মধ্যে অনেক টাকাই খরচ হয়েছে হজ্জের সময় সিসিটিভি স্থাপন এবং তা পরিচালনা করতে|
সিসিটিভির ফুটেজে অনুমতিহীনভাবে যা সংরক্ষণ করা হয় তার জন্য খুব কমই আইন রয়েছে| গত বছর একটি মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে ধরা পড়ে যে, তথ্য সংরক্ষণ আইন (Data Protection Act) সিসিটিভির উপর প্রয়োগ করা যায় না যতক্ষণ পর্যন্ত না এটা নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে না হয়| সম্প্রতি একটি জরিপে দেখা গেছে, শতকরা ৯০ ভাগ সিসিটিভি তথ্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবহৃত হচ্ছে না|
বিভিন্ন জায়গায় সিসিটিভি স্থাপনের ফলে মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা কমে যাচ্ছে| বর্তমানে ইংল্যান্ডের হিথ্রু বিমানবন্দরে ৪নং টার্মিনালে এমন একটি স্ক্যানিং মেশিন দিয়ে বিমান যাত্রীদের পরীক্ষা করা হয় যা দ্বারা একজন মানুষের পরিহিত কাপড়ের ভিতরের শরীরকে স্পষ্টভাবে দেখা যায় নাউযুবিল্লাহ| এই ধরণের পরীক্ষা কি মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়ে তাদের অবাঞ্চিত প্রবেশ নয়? বর্তমান সৌদি সরকারও সীমালঙ্ঘন করে মুসলমানদের ব্যক্তি স্বাধীনতায় অবৈধ হস্তক্ষেপ করে যাচ্ছে| এটা সুস্পষ্টভাবে অন্যায় চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ| নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে, প্রকৃত উদ্দেশ্যকে গোপন করে ছবি তোলার বিষয়টি এমনই হয়ে গেছে যে সৌদি সরকার যখন যা চায় তাই করে যাচ্ছে| আজকে অনেক মুসলমান তাদের সাজানো এই প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে তাদের কার্যক্রমকে মেনে নিচ্ছে|
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, যারা দাবী করে থাকে যে, সি.সি টিভি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে বা নিরাপত্তা প্রদান করে তাদের এ দাবী সম্পূর্ণই মিথ্যা ও অবন্তর|
কাজেই, নিরাপত্তার ফায়দার অজুহাতে সি.সি টিভি ব্যবহার অর্থের অপচয়, অপরের ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর অবৈধ হস্তক্ষেপ ও পাপ বা হারাম কাজের বিস্তার বৈ কিছুই নয়| তাছাড়া যেখানে নিরাপত্তার বৈধ ব্যবস্থা রয়েছে| সেখানে হারাম পদ্ধতিতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা কি করে শরীয়তসম্মত হতে পারে?
মূলকথা হলো- নিরাপত্তার অজুহাতে হোক আর সাধারণভাবে হোক সর্বাবস্থায় মুসলমানদের জন্য সি.সি টিভি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়িয|


No comments