সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে কাফির-মুশরিক, মুনাফিকদের সাথে মুহব্বত কুফরী

========================
যিনি বা যারা মুসলমান হবেন তাঁদের জন্য কোন কাফির, মুশরিক, মুনাফিকের সাথে বন্ধুত্ব
করা জায়িয নেই, তাদেরকে মুহব্বত করা যাবে না, অনুসরণ করা যাবে না,
তাদের পরামর্শ
গ্রহণ করা যাবে না, তাদের সাথে উঠা-বসা করা
যাবে না, তাদেরকে ভাল বলা যাবে না, তাদের রান্না করা খাবার খাওয়া যাবে না।
কারণ তারা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার শত্রু, রহমাতুল্লিল আলামীন,
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
শত্রু এবং সম্মানিত মু’মিন-মুসলমান উনাদের শত্রু। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার
মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يٰاَيُّهَا
الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّـخِذُوْا عَدُوِّىْ وَعَدُوَّكُمْ اَوْلِيَاءَ
অর্থ: হে ঈমানদাররা! তোমরা আমার শত্রু এবং তোমাদের শত্রুদেরকে অর্থাৎ কাফির, মুশরিক, মুনাফিকদেরকে বন্ধু রূপে
গ্রহণ করো না। (পবিত্র সূরা মুমতাহিনাহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১)
অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَنْ
يَّتَوَلَّـهُمْ مِّنْكُمْ فَإِنَّهٗ مِنْهُمْ
অর্থ: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত
হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা মায়িদাহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫১)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَيْسَ مِنَّا
مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا،
অর্থ: ঐ ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয় বা ঐ ব্যক্তি আমাদের মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত
নয় যে বিধর্মী-বিজাতীয়দের অনুসরণ করে। নাউযুবিল্লাহ! (মিশকাত শরীফ)
আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ تَشَبَّهَ
بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
অর্থ: যে যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল বা সাদৃশ্য রাখে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। (আবু দাউদ শরীফ)
অতএব, সম্মানিত মুসলমান উনাদের জন্য
কোন কাফির, মুশরিক, মুনাফিক, ফাসিক, বিদআতী, বেশরা, বেআমল, বাতিল ৭২ ফিরক্বার লোকদের
সাথে মুহব্বত বা বন্ধুত্ব রাখা যাবে না,
তাদের অনুসরণ
করা যাবে না, তাদের নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীক্বা গ্রহণ করা ও মানা যাবে না, তাদের সাথে আত্মীয়তা করা যাবে না, তাদের সেমিনার,
মজলিস, অনুষ্ঠানে যাওয়া যাবে না, তাদের সাথে খাওয়া-দাওয়া করা যাবে না। এক কথায়, তাদের প্রতি মুহব্বত প্রকাশ পায় ও তাদের সাথে সাদৃশ্য হয় এমন কোন কিছু করা যাবে
না। এ সমস্ত থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় মুসলমানের মুসলমানিত্ব বজায়
থাকবে না।

No comments